sponsor

sponsor

Slider

বিশ্ব

জাতীয়

রাজনীতি

খেলাধুলা

বিনোদন

ফিচার

যাবতীয় খবর

জিওগ্রাফিক্যাল

ফেসবুকে মুজিবনগর খবর

» » শ্রীহস্তিনী বা হাতিশুঁড় গাছ গাছের কয়েকটি সেরা সাস্থ্য উপকারিতা।




শ্রীহস্তিনী বা হাতিশুঁড় গাছ


biggangaachh (Small)কয়েক সপ্তাহ আগে একদিন সকালেই বেরিয়ে পড়েছিলাম ইলামবাজার যাব বলে। উদ্দেশ্য ওখানের পুরানো পোড়ামাটির মন্দির দেখা। ইলামবাজার পৌঁছে প্রথমে হাটতলায় বাজারের মধ্যে অষ্টকোণাকৃতি দেউল দেখে বামুনপাড়ার মন্দির দেখতে চলেছি। বামুনপাড়া পৌঁছে সামনেই পড়ল শিবের দেউল। সুন্দর মন্দিরটির চারপাশ ঘুরে দেখতে দেখতে হঠাৎ চোখে পড়ল রাস্তার ধারেই অন্য আগাছার মাঝে একটি গাছে বাঁকানো পুষ্পদণ্ডে ফুটে রয়েছে সাদা সাদা ফুল, গজদন্তের মত শুভ্র এই ফুল। হাতিশুঁড় গাছ। পুষ্প দণ্ড বাঁকানো হাতির শুঁড়ের মত, তাই গাছটির এই নাম। সংস্কৃত নাম শ্রীহস্তিনী। মনে পড়ল কয়েক দশক আগে কলেজের এক অধ্যাপক বলেছিলেন, চোখ টকটকে লাল হয়েছে, কড় কড় করছে মনে হচ্ছে বালি পড়েছে। এমনটা হলে হাতিশুঁড় গাছের পাতার রস অব্যর্থ ওষুধ। এই গাছটিকে ওড়িয়া ভাষায় হাতিশুন্ডা আর তেলেগুতে বলে নাগদন্তী।

এই ভেষজ গাছটি বর্ষজীবী ছোট গুল্ম। গাছটি আগাছার সঙ্গে এখানে সেখানে জন্মায় তাই সাধারণের দৃষ্টি এড়িয়ে যায়। মোটামুটি এক দেড় ফুট লম্বা, গাছের কাণ্ড ফাঁপা, নরম, সারা দেহে ছোট ছোট রোম আছে। গাছের উপরের দিকের কাণ্ড চৌকো, নীচের দিকে অপেক্ষাকৃত গোলাকার। পাতা খসখসে, একের বিপরীত অন্য পাতাটির অবস্থান। ডালের নীচের দিকের পাতা বড়, পত্রবৃন্ত লম্বা। বড় পাতাগুলি দেখতে বর্শার ফলার মত; বড় পাতার মাপ ২১/২ x ২ ইঞ্চি। পাতাগুলি আঙুল দিয়ে ঘষলে গন্ধ পাওয়া যায়। ফুলগুলি শ্বেতশুভ্র। পত্রদন্ডে ছোট ছোট ফুলগুলি দুই সারিতে পর পর সাজান থাকে। বড়ই মনোরম দেখতে।

চরক সংহিতা সহ অন্যান্য প্রাচীন পুস্তকে এর উল্লেখ আছে। এই গাছটি বিভিন্ন রোগে ব্যবহৃত হয়ঃ-

১) ফোলায় – পাতা বেঁটে অল্প গরম করে ফোলায় লাগালে, ফোলা কমে যায়।

২) আঘাতজনিত ফোলায় – পাতা বেঁটে অল্প গরম করে লাগালে, ফোলা এবং ব্যাথা কমে যায়।

৩) রিউম্যাটিক বাতে – রেড়ির তেলের সঙ্গে পাতার রস মিশিয়ে পাক করে গাঁটে লাগাতে হয়।

৪) বিষাক্ত পোকার কামড়ে – পাতার রস লাগালে জ্বালা এবং ফোলা কমে যায়।

৫) টাইফয়েড জ্বরে – পাতার রস গরম করে, ছেঁকে নিয়ে জল মিশিয়ে খাওয়ানোর বিধি আছে।

৬) ফ্যারিঞ্জাইটিস রোগে – পাতার রস অল্প গরম জলে মিশিয়ে গার্গল করা।

৭) একজিমা – একজিমা স্থানে পাতার রস মেশানো হয়।

৮) দাঁতের মাড়ি ফোলায় এই গাছের ব্যবহার রয়েছে

৯) দেহে ছত্রাকজনিত সংক্রমণে লাল চাকা চাকা দাগ নিরাময়ে এর পাতার রস ব্যবহার করা হয়।

১০) জ্বর ও কাশিতে এই গাছের মূল জলের সঙ্গে ফুটিয়ে ক্বাথও তৈরি করে ব্যবহার করা হয়।

১১) কাটা ছেঁড়া ও আঘাত প্রশমনে এই গাছের ব্যবহার রয়েছে।

শ্রীহস্তিনী বা হাতিশুঁড় গাছের বৈজ্ঞানিক নাম Heliotropium indicum এবং গাছটি বোরাজিনেসি পরিবারভুক্ত। Heliotropium শব্দের অর্থটি সুন্দর (helios –সূর্য trope – দিকে); এর অর্থ ফুলগুলি সূর্যের দিকে মুখ করে রয়েছে।

আধুনিক কালের বিজ্ঞানীরা এই গাছটির ভেষজগুণ নিয়ে নিরন্তর গবেষণা করে চলেছেন। আশা রাখি অদূর ভবিষ্যতে এই গাছ থেকে নানা রোগের ঔষধ তৈ্রি হবে।







«
Next
Newer Post
»
Previous
Older Post