sponsor

sponsor

Slider

বিশ্ব

নির্বাচন

জাতীয়

খেলাধুলা

বিনোদন

ফিচার

যাবতীয় খবর

জিওগ্রাফিক্যাল

ফেসবুকে মুজিবনগর খবর

» » ২০২১ সালে প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশে পৌঁছাবে: শেখ হাসিনা

বাংলাদেশের দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি পরবর্তী তিন বছরে নতুন গতি পাবে বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নিক্কেই এশিয়ান রিভিউকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আগামী তিন বছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশে পৌঁছাবে। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নিক্কেই এশিয়ান রিভিউকে সাক্ষাৎকার দেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় তিনি বলেন, ২০২৪ সালে ‘স্বল্পোন্নত দেশের’ তকমা থেকে বের হয়ে আসবে বাংলাদেশ। গত প্রায় এক দশক ধরে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার ৬ থেকে ৭ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। চলতি বছরের জুনে শেষ হওয়া অর্থবছরে এই হার ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশে পৌঁছে। শেখ হাসিনা বলেন, চলতি অর্থবছরে (২০১৮-১৯) প্রবৃদ্ধির হার ৮ দশমিক ২৫ শতাংশে পৌঁছাবে এবং এই হার বাড়তেই থাকবে। তিনি বলেন, ‘আমরা এমন সব কর্মসূচি গ্রহণ করেছি যে আবার নির্বাচিত হলে ২০২১ সালের মধ্যে ১০ শতাংশ পর্যন্ত প্রবৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব হবে।’ কয়েকটি নীতিমালা গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ এশিয়ার সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন শেখ হাসিনা। এর মধ্যে উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেছেন বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎসাহিত করতে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার কথা। বর্তমানে এই একশ অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে ১১টি অঞ্চল পুরোদমে কাজ করে যাচ্ছে এবং আরও ৭৯টি অঞ্চল তৈরির কাজ চলছে। নিক্কেই এশিয়ান রিভিউ বলছে, এই নির্বাচন শেখ হাসিনার জন্য কঠিন পরীক্ষা। আগের নির্বাচনে তার সরকার ক্ষমতা ধরে রাখলেও ওই নির্বাচন বর্জন করেছিল সবচেয়ে বড় বিরোধী দল বিএনপি। বিএনপির নেতৃত্বে থাকা খালেদা জিয়া জেলে অবস্থান করলেও এবার তারা নির্বাচনে অংশ নেবে। কিন্তু বিভিন্ন জনমত জরিপ বলছে, ৩০০ আসনের মধ্যে বড় ধরনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বিজয়ী হবে আওয়ামী লীগ। আগামী বছর দ্বিতীয় পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেবে বাংলাদেশ। দীর্ঘকালীন অর্থনৈতিক বিস্তারে দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতেই এমন পদক্ষেপ নেয়া হবে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ১৭ হাজার ৩৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে যার ৫৮ শতাংশই আসছে প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে। কিন্তু দেশীয় গ্যাস উৎপাদন কমছে। এ কারণেই জ্বালানির চাহিদা পূরণে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি ছাড়াও পারমাণবিক শক্তি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎসের দিকে জোর দিচ্ছে বাংলাদেশ। ২০০৯ সালের শুরুতেই ক্ষমতায় আসার পর থেকেই শেখ হাসিনা দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে ‍উচ্চাভিলাষী বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে শুরু করেন। এই সময়ের মধ্যে দেশে বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংখ্যা ২৭টি থেকে বেড়ে হয়েছে ১২১টি। এছাড়া, তিনি ক্ষমতায় আসার আগে দেশের ৪৭ শতাংশ মানুষের কাছে বিদ্যুৎ পৌঁছালেও তার দুই মেয়াদের শাসনামলের শেষ দিকে এসে এখন দেশের প্রায় ৯৩ শতাংশ মানুষের কাছে বিদ্যুৎ পৌঁছেছে। আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই দেশের শতভাগ মানুষের কাছে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্য রয়েছে শেখ হাসিনার। বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চল রূপপুরে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে সহায়তা করছে রাশিয়া ও ভারত। শেখ হাসিনা বলেন, দুটি রি-অ্যাকটরের মাধ্যমে এখান থেকে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। ২০২৪ সালে এর উৎপাদন শুরু হবে। দ্বিতীয় পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা এখনও উপযুক্ত স্থান খুঁজছি। এক্ষেত্রে দেশের সবচেয়ে দরিদ্রাঞ্চলগুলোর মধ্যে একটি দক্ষিণাঞ্চলে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হতে পারে বলে জানান তিনি। জমি অধিগ্রহণ হয়ে গেলে নির্বাচনের পর দ্বিতীয় পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য প্রস্তাবনা আহ্বান করবে বাংলাদেশ। স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর বরাত দিয়ে নিক্কেই এশিয়ান রিভিউ বলছে, এরই মধ্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সহায়তার আগ্রহ দেখিয়েছে চীন। চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বাংলাদেশ সফরে এসে বাংলাদেশে ৩ হাজার ৮০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সহায়তার আওতায় বাংলাদেশের বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়নে ২ হাজার ৪০০ কোটি ডলার এবং যৌথ উদ্যোগের আওতায় আরও এক হাজার ২৬০ কোটি ডলার সহায়তার কথা রয়েছে। এরই মধ্যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে ২৫ শতাংশ মালিকানার অংশীদার হয়েছে চীন। চীনের সামরিক অস্ত্রেরও অন্যতম বড় ক্রেতা বাংলাদেশ। তবে ক্ষমতাধর দেশগুলোর সঙ্গে ‘সুসম্পর্কে’র ওপর জোর দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, দ্বিতীয় পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ‘গ্রহণযোগ্য ও স্বস্তিকর’ প্রস্তাবকেই বিবেচনা করবে বাংলাদেশ, সেটা যে দেশেরই হোক না কেন। গত বছর মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে সংখ্যালঘু প্রায় ৮ লাখ মুসলিম রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশে আশ্রয়দানের বিষয়টির নির্বাচনে কোনও প্রভাব ফেলার আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রায় এক কোটি বাংলাদেশি নাগরিক উদ্বাস্তু হয়ে পড়েছিলেন। তাদের আশ্রয় দিয়েছিল ভারত। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই রোহিঙ্গা নাগরিকদের প্রতি বাংলাদেশ সহমর্মিতা দেখিয়ে তাদের আশ্রয় দিয়েছে। এ বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমি খুবই ভাগ্যবান যে মানুষ আমার ওপর আস্থা রেখেছে। আমি আমাদের জনগণকে বলেছিলাম প্রয়োজন হলে আমরা খাবার ভাগ করে খাবো। তারা এটা মেনে নিয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমরা আমাদের কাজ করেছি। আমরা তাদের আশ্রয় দিয়েছি, খাবার সরবরাহ করছি, স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছি এবং শিশু ও নারীদের যত্ন নিচ্ছি। নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়ে সম্মতিতে পৌঁছায়। কিন্তু প্রত্যাবাসনের জন্য নির্বাচিত রোহিঙ্গারা ফিরে যেতে অস্বীকৃতি জানানোয় সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। শেখ হাসিনা জানান, কিছু রোহিঙ্গাকে পাশের একটি দ্বীপে স্থানান্তরের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু বন্যাপ্রবণ এলাকা হিসেবে ওই দ্বীপটি রোহিঙ্গাদের জন্য কারাদ্বীপ হয়ে উঠবে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা। যদিও তিনি এই উদ্বেগ প্রত্যাখান করেছেন। শেখ হাসিনা বলেন, এই দ্বীপটি খুবই সুন্দর। গৃহপালিত পশুপালনের জন্য স্থানীয় জনগণ এই দ্বীপ ব্যবহার করে থাকে। রোহিঙ্গারা বরং এই দ্বীপে আরও ভালোভাবে বাঁচতে পারবে। তাদের সন্তানেরা শিক্ষা পাবে, স্বাস্থ্যসেবা পাবে। আমরা এরই মধ্যে একটি ওয়্যারহাউজ তৈরি করেছি, যেন সেখান থেকে তাদের জন্য ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দিতে পারি। বর্তমানে আমরা এক লাখ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর আবাসনের ব্যবস্থা করছি। তবে সেখানে ১০ লাখ রোহিঙ্গাকেও নিয়ে যেতে পারবো। কোনও রোহিঙ্গাকেই জোর করে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হবে না বলে আবারও নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়টি সুরাহা করার জন্য অন্যান্য দেশ ও বহুজাতিক সংস্থাগুলোকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, মিয়ানমার কিভাবে তাদের নাগরিকদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে পারে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এখন এ বিষয়ে সমাধানের পথ বের করতে হবে।

«
Next
Newer Post
»
Previous
Older Post

No comments:

Leave a Reply