sponsor

sponsor

Slider

বিশ্ব

জাতীয়

রাজনীতি

খেলাধুলা

বিনোদন

ফিচার

যাবতীয় খবর

জিওগ্রাফিক্যাল

ফেসবুকে মুজিবনগর খবর

» » নাটোরে অবাধে চলছে কৃষি জমিতে পুকুর খনন




সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নাটোরে কৃষি জমিতে চলছে অবাধে পুকুর খনন। সরকারি অফিসের কিছু অসৎ কর্মকর্তাদের যোগসাজশে কৃষি জমির ধ্বংসযজ্ঞ চললেও প্রশাসনের ভূমিকা রহস্যজনক। নামমাত্র কিছু অভিযান চললেও প্রভাবশালীরা থেকে যাচ্ছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। তাই দিনে-রাতে অবাধে চলছে পুকুর খননের কাজ। এতে করে শুধু কৃষি জমিই নষ্ট হচ্ছে না পরিবেশের ওপরও বিরূপ প্রভাবের আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া মাটি বহনকারী ট্রাক্টর চলাচলের কারণে সড়ক-মহাসড়কেরও ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। দ্রুত এর অবসান না হলে জলাবদ্ধতাসহ পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ারও আশঙ্কা করছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা। তবে জেলা প্রশাসনের দাবি পুকুর খনন বন্ধে জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন তারা। এদিকে নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুসও চান ফসলি জমি ধ্বংসের এমন অপকর্ম বন্ধ হোক। ইতোমধ্যে তিনি নিজেই প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে অভিযান পরিচালনা করে পুকুর খনন বন্ধ করে দেন। এছাড়া তার পক্ষ থেকে উপজেলা জুড়ে মাইকিং করা হচ্ছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার মাঝগাঁও ইউনিয়নের গুড়-মশৈল এলাকার রাস্তাসংলগ্ন বনলতা অটো ব্রিকস এর মালিক সামসুল মল্লিকের নিজস্ব ছয় বিঘা ও কৃষকের কাছ থেকে বার্ষিক লিজ নেয়া প্রায় ছয় একর জমির সবুজ ধান কেটে অবৈধভাবে তিনটি এস্কেভেটর গাড়ি দিয়ে অবাধে খনন করা হচ্ছে পুকুর। তার পাশাপাশি জোয়াড়ী ইউনিয়নের জোয়াড়ী মাঠে অনেকেই প্রশাসনকে ম্যানেজ করে খনন করছে পুকুর। বড়াইগ্রাম উপজেলার কেল্লা মাঠ, আহমেদপুর, কামারদহ, রাজাপুর, বড়াইগ্রাম, মহানন্দগাছাসহ গুরুদাসপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চলছে অবাধে পুকুর খনন। এদিকে লালপুর উপজেলার কদমচিলান, সেকচিলান, পানঘাটা এলাকায় অনেকেই অবাধে কেটে যাচ্ছেন পুকুর। পুকুরপাড় চিলান এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কৃষি জমিতে পুকুর খনন করছেন স্থানীয় এক কৃষক। ওই গ্রামের সিরাজ উদ্দিনের ছেলে ইয়াকুব আলী প্রায় পনের বিঘা জমিতে পুকুর খনন করছেন এবং এই পুকুরের মাটি বিক্রি হচ্ছে বড়াইগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন ইটভাটায়। সেইসঙ্গে কাঁচা-পাকা এবং মহাসড়ক ব্যবহার করছে মাটি বহনকারী ট্রাক্টর। এতে ক্ষতি হচ্ছে রাস্তা-ঘাট। ঘটছে দুর্ঘটনা ও নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ। ট্রাক্টর মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিটি গাড়ির মাটি বিক্রি হচ্ছে সাত থেকে আটশত টাকায়। সেইসঙ্গে যারা গাড়িগুলো চালাচ্ছেন তাদের অধিকাংশই অপ্রাপ্ত বয়স্ক। তাদের বয়স পনের থেকে বিশের মধ্যে। এদের কোনও ড্রাইভিং লাইসেন্স বা গাড়ি চালানোর কোনও বৈধ কাগজপত্র নেই। এছাড়া অনেকেই ভিটেমাটিতে করা আম, লিচু, কাঁঠালবাগান কেটে সাময়িক লাভের আশায় পুকুর খনন করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসী জানান, মাঝে মধ্যে প্রশাসনের দুই একটি অভিযান চললেও কোনোভাবেই বন্ধ হচ্ছে না কৃষি জমির এমন ধ্বংসযজ্ঞ। এরসঙ্গে উপজেলা প্রশাসনের কিছু অসৎ কর্মকর্তা জড়িত থাকায় কোনও পদক্ষেপই কার্যকর হচ্ছে না। ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রভাবশালীরা সব সময়ই থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। পুকুর খননে উদ্বিগ্ন নাটোর-৪ (বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস (এমপি) বলেন, কোনও অবস্থাতেই কৃষি জমি, ফসলি জমি কেটে পুকুর বানানো যাবে না। রাস্তার ওপর দিয়ে কোনও মাটি বহনকারী ট্রাক্টর বা ড্রাম ট্রাক চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে। সরকারি নিষেধাজ্ঞা না মানলে প্রয়োজনে প্রতিদিনই ভ্রাম্যমাণ আদালত দিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নাটোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রফিকুল ইসলাম আরটিভি অনলাইনকে বলেন, একদিকে পুকুর খনন যেমন আইনবিরোধী তেমনি কৃষি ফসল বিনষ্ট করে পুকুর খনন করা আরও একটি বড় অপরাধ। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন তিনি। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শাহরিয়াজ আরটিভি অনলাইনকে বলেন, পুকুর খনন বন্ধে জোর প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। আর্থিক জরিমানার সঙ্গে জেল প্রদানও করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে ফসলি জমিতে পুকুর খনন জিরো টলারেন্স নিয়ে আসা সম্ভব হবে।






«
Next
Newer Post
»
Previous
Older Post

No comments:

Leave a Reply