sponsor

sponsor

Slider

বিশ্ব

জাতীয়

রাজনীতি

খেলাধুলা

বিনোদন

ফিচার

যাবতীয় খবর

জিওগ্রাফিক্যাল

ফেসবুকে মুজিবনগর খবর

» » চাঁদের মাটিতেই বিক্রম থার্মাল ইমেজ পাঠাল অরবিটার, যোগাযোগের মরিয়া চেষ্টা ইসরোর




‘বিক্রম’ অবতরণ করেছে চাঁদের দক্ষিণ অংশেই। রবিবার সকালে চন্দ্রযান-২’এর অরবিটার যে থার্মাল ইমেজ পাঠিয়েছে, তাতে হতাশা ঝেড়ে উঠে দাঁড়িয়েছে ইসরো। আশায় বুক বাঁধতে শুরু করেছে গোটা দেশ। শুক্রবার রাত ১টা ৫২ মিনিটে শেষবার দেখা গিয়েছিল ‘বিক্রম’ ল্যান্ডারকে। সফট ল্যান্ডিংয়ের আশায় প্রহর গুনছিলেন বিজ্ঞানীরা। হঠাৎই তার সঙ্গে যাবতীয় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় ইসরোর স্যাটেলাইট কন্ট্রোল সেন্টারের। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাঁধে মাথা রেখে ইসরো চেয়ারম্যান কে সিভানের কান্নার ছবি এখনও ফিকে হয়ে যায়নি। মাঝে কেটেছে ৩৬ ঘণ্টা। তারপরই খোঁজ মিলল তার। আর সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয়ে গিয়েছে বিক্রমের সঙ্গে যোগাযোগের মরিয়া চেষ্টা। রবিবার দুপুরে সিভান সংবাদমাধ্যমকে জানান, এদিন সকালে চন্দ্রযান-২’এর অরবিটার চাঁদের মাটিতে পড়ে থাকা বিক্রম ল্যান্ডারের ছবি পাঠিয়েছে। সেটি থার্মাল ইমেজ। বিজ্ঞানীরা সেই ছবি বিশ্লেষণ করছেন। তবে বিক্রম সুস্থ এবং অক্ষত রয়েছে কি না, সেবিষয়ে এখনও ইসরোর পক্ষ থেকে সরকারিভাবে কিছু জানানো হয়নি। সিভান আরও জানান, বিক্রমের সঙ্গে যোগাযোগের সবরকম চেষ্টা করা হচ্ছে। এর আগে শনিবার রাতেই অবশ্য ইসরোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, আগামী ১৪ দিন বিক্রমের সঙ্গে ক্রমাগত যোগাযোগের চেষ্টা করে যাওয়া হবে। কারণ কোনও একটি সময়েও বিক্রমের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হলে, রোভারকে সক্রিয় করে চাঁদের মাটিতে নামানোর চেষ্টা করবেন বিজ্ঞানীরা। তাই যোগাযোগ স্থাপনের সবরকম চেষ্টা চলছে। তবে রবিবার রাত পর্যন্ত একটি থার্মাল ছবি ছাড়া অন্য কিছুই পাওয়া যায়নি। ইসরো সূত্রের খবর, যেহেতু সেটি একটি সাদা-কালো ছবি, তাই বিক্রম অক্ষত রয়েছে কি না, তা ওই থার্মাল ইমেজ দেখে নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব হচ্ছে না। তাই ছবির বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি অন্য ছবিও আনানোর চেষ্টা করছেন বিজ্ঞানীরা। এদিকে, বিক্রমের ছবি পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই গোটা দেশ তথা বিশ্ব আশায় বুক বাঁধছে। তবে এখনই অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস দেখাতে নারাজ ইসরো। বিজ্ঞানীদের একাংশ মনে করছেন, হার্ড ল্যান্ডিং হওয়াতেই বিক্রম তিন টুকরোতে ভেঙে গিয়েছে। অ্যান্টেনা, পায়ের অংশ এবং মূল যন্ত্রাংশের অংশবিশেষ তিনভাগে ভাগ হয়ে গিয়েছে। তাই সেটিকে আবার সক্রিয় করা প্রায় অসম্ভব। নিজে থেকে সক্রিয় হওয়ার থাকলে এরমধ্যেই বিক্রম কাজ করতে শুরু করত এবং ‘প্রজ্ঞান’ রোভারও বেরিয়ে আসত। তার থেকে ছবি এসে পৌঁছত ইসরোর বিজ্ঞানীদের কাছে। তবে তাঁরা এটাও জানিয়েছেন, এরকম কঠিন পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই বিক্রমের ভিতরে একটি ব্যাক-আপ কন্ট্রোল ব্যবস্থা আগে থেকেই রাখা হয়েছে। তার মাধ্যমেই বিক্রমের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে ইসরো। ব্যাক-আপের মাধ্যমেও যদি বিক্রম ল্যান্ডারকে কোনওভাবে চালু করা যায়, তাহলে গোটা বিষয়টা শুক্রবার ১টা ৫২ মিনিটে যেখানে থমকে গিয়েছিল, সেখান থেকেই আবার শুরু করা যাবে। অর্থাৎ, বিক্রম এবং প্রজ্ঞান চাঁদের অন্ধকার অংশের ছবি তুলবে। তবে সূর্যের আলোর মুখে পড়লেও প্রজ্ঞান বেরিয়ে না আসা পর্যন্ত তা কাজে লাগার সম্ভাবনা ক্ষীণ। কারণ, প্রজ্ঞান রোভারের গায়েই রয়েছে সোলার প্যানেল। তবে আশার আলোও রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিজ্ঞানী জানিয়েছেন, বিক্রমের যেখানে নামার কথা ছিল, সেখান থেকে মাত্র ৫০০ মিটার দূরে তাকে পাওয়া গিয়েছে। অর্থাৎ এর থেকেই প্রমাণিত, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেও বিক্রম একেবারে দিগভ্রষ্ট হয়ে যায়নি। এক্ষেত্রে ভবিষ্যতের অভিযানের সময় কী কী সতর্কতা আরও বেশি করে নিতে হবে, সেবিষয়ে অনেক কিছু শেখা যাবে বলেই ইসরোর বিজ্ঞানীরা মনে করছেন। চন্দ্রযান-১’এর মিশন ডিরেক্টর ইসরোর প্রাক্তন বিজ্ঞানী আন্নাদুরাই বলেন, ‘আগামী ১৪ দিনই বিক্রমের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে যাবে ইসরো। কারণ এখন না হলেও, যে কোনও সময় তার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন হয়ে যেতেই পারে।’ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এদিনও হরিয়ানার সভায় বলেছেন, ‘চন্দ্র অভিযান গোটা দেশকে এক সূত্রে বেঁধেছে।’ বিক্রমের অবতরণের আশায় সত্যিই শুক্রবার রাত জেগেছিল গোটা দেশ। ইতিহাস গড়বে ভারত, এই বিশ্বাস নিয়ে। বিক্রমের হার্ড ল্যান্ডিং সত্ত্বেও সেই আশা-বিশ্বাস আবার জিইয়ে উঠেছে। এখন অলৌকিক কিছুর অপেক্ষাতেই রয়েছে গোটা ভারত।  বিক্রমের কাল্পনিক চিত্র। সূত্র: ইসরো






«
Next
Newer Post
»
Previous
Older Post

No comments:

Leave a Reply