sponsor

sponsor

Slider

বিশ্ব

জাতীয়

রাজনীতি

খেলাধুলা

বিনোদন

ফিচার

যাবতীয় খবর

জিওগ্রাফিক্যাল

ফেসবুকে মুজিবনগর খবর

» » নেহরুর জমানায় আর্থিক কেলেঙ্কারির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিলেন জামাই ফিরোজ




সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায়: জামাই হিসেবে ফিরোজ গান্ধীকে কখনই তেমন পছন্দ করতেন না জহরলাল নেহরু৷ তেমনই আবার জামাইকে দেখা যেত নানা সময়ে শ্বশুর অথবা তাঁর সরকারের কাজের ত্রুটি বিচ্যুতির সমালোচনা করতে৷ এটা ঘটনা, স্বাধীনতা লাভের পর থেকেই বহু দেশিয় বাণিজ্যিক গোষ্ঠী ক্রমশ রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে থাকে ৷ বাণিজ্যের সঙ্গে রাজনীতির এই যোগাযোগ বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশে আর্থিক অনিময় মাথাচাড়া দিতে থাকে৷ আর একজন সাংসদ তথা ন্যাশনাল হেরাল্ডের মতো কাগজের দায়িত্বে থাকায় সুবাদে ফিরোজ গান্ধীও সেই সব আর্থিক অনিয়মই তুলে ধরতে সক্রিয় হন৷ A জামাইয়ের এহেন আচরণের ফলে শ্বশুর প্রধানমন্ত্রী নেহরুর বিড়ম্বনা বাড়তে থাকে৷ সেই সময় দুর্নীতি বিরোধিতায় প্রায়শই সংসদে সবর হতে দেখা যেত ফিরোজ গান্ধীকে ৷ বিশেষত,সরকার নিয়ন্ত্রিত জীবন বিমা সংস্থা (এলআইসি) ঘিরে হরিদাস মু্ন্দ্রার কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে এনে গোটা দেশ তোলপাড় করেছিলেন তিনি৷ কলকাতা স্টক এক্সচেঞ্জের ফাটকাবাজ হরিদাস মুন্দ্রার সেদিনের কাণ্ডকারখানাই স্বাধীন ভারতের প্রথম আর্থিক কেলেঙ্কারি৷ যার ফলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জহরলাল নেহরু সরকারের ভাবমূর্তি চরম ভাবে ধাক্কা খায়৷ পরিস্থিতি সামাল দিতে তৎকালীন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী টি টি কৃষ্ণমাচারি পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন৷ ১৯৩৩ সালে ফিরোজ প্রথম ইন্দিরাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন তখন ইন্দিরা মাত্র ১৬ বছরের৷ অত কম বয়েস হওয়ায় ইন্দিরা এবং তাঁর মা কমলা নেহরু ওই প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য মনে করেননি৷ যদিও নেহরু পরিবারের যথেষ্ঠ ঘনিষ্ঠ ছিলেন এই পার্সী যুবক৷ বিশেষত কমলা নেহরু টিবি-তে আক্রান্ত হলে সেই সময় তাঁর চিকিৎসার জন্য স্যানেটোরিয়ামে নিয়ে যাওয়া সময় পাশেই থাকতেন ফিরোজ৷ ইউরোপে তাঁর চিকিৎসার জন্য যাওয়ার ব্যাপারে তিনি উদ্যোগী হয়ে সব ব্যবস্থা করে দেন৷ ১৯৩৬ সালে কমলা নেহরু মারা যান৷ এরপর ইংল্যান্ডে থাকাকালীন ইন্দিরা এবং ফিরোজ ক্রমশ ঘনিষ্ঠ হন এবং ১৯৪২ সালে তাঁদের বিয়ে হয়৷ তবে বিয়ে মেনে নিতে পারেননি জহরলাল৷ ফিরোজ এবং ইন্দিরার বিয়ে ভাঙার জন্যে খোদ মহাত্মা গান্ধীর শরণাপন্ন হয়েছিলেন তিনি বলে শোনা যায়৷ দেশ স্বাধীন হলে নেহরু হন প্রধানমন্ত্রী অন্যদিকে ফিরোজ-ইন্দিরা তাঁদের দুই সন্তান রাজীব ও সঞ্জয়কে নিয়ে প্রথমে এলাহাবাদে সংসার শুরু করেন৷ তখন নেহরু প্রতিষ্ঠিত ন্যাশনাল হেরাল্ড কাগজের ম্যানেজিং ডিরেক্টরের দায়িত্ব দেওয়া হয় ফিরোজকে৷ ১৯৫২ সালে উত্তরপ্রদেশের রায়বেরিলি থেকে সাংসদ হন ফিরোজ গান্ধী৷ সাংসদ হওয়ার পর থেকেই ফিরোজ সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হতে থাকেন৷ ১৯৫৫ সালে ফিরোজ গান্ধী প্রকাশ করেন একটি ব্যাংক এবং একটি বিমা সংস্থার চেয়ারম্যান হওয়ার সুবাদে রামকৃষ্ণ ডালমিয়া কেমন করে ওই সব সংস্থার তহবিলকে বেআইনি পথে তাঁর ব্যক্তিগত কাজে লাগানো হয়েছে ৷ এরজন্য ডালমিয়ার দু’বছরের জেল হয়৷ তাঁকে তিহার জেলে পাঠান হলেও তিনি অবশ্য ওই সময়ের বেশির ভাগটাই অসুস্থতার দোহাই দিয়ে হাসপাতালেই কাটান৷ এরপর ফিরোজকে সক্রিয় হতে দেখা যায় সেই সময় বেশ কিছু সংস্থাকেই রাষ্ট্রায়ত্ত করার জন্য৷ যার ফলে গড়ে উঠল জীবন বিমা নিগম৷ সেই সময় তিনি টাটা গোষ্ঠীর টেলকো-কে রাষ্ট্রায়ত্ত করার পরামর্শ দিয়েছিলেন, কারণ তিনি লক্ষ্য করেছিলেন টাটারা জাপানি ইঞ্জিনের দ্বিগুণ দাম চার্জ করত৷ এই নিয়ে পার্সী সম্প্রদায়ের মধ্যে একটা গোল বাধে৷ ফিরোজের মতো টাটারাও তো পার্সী ছিলেন৷ ১৯৫২ সালের মতোই ফের ১৯৫৭ সালেও রায়বেরিলি থেকে ফের জিতে সংসদে আসেন ফিরোজ গান্ধী৷ তারপরে ১৯৫৮ সালে নজরে আসে কলকাতা স্টক এক্সচেঞ্জের ফাটকাবাজ হরিদাস মুন্দ্রা কেমন ভাবে জীবন বিমা নিগমে তার প্রভাব খাটাচ্ছেন৷ ফলে একেবারে মু্ন্দ্রার কাজকর্ম নিয়ে একেবারে সংসদে প্রশ্ন তোলেন তিনি৷ ট্রেজারি বেঞ্চে বসেই তিনি সরকারের কাছে জানতে চান- নতুন করে গড়ে ওঠা জীবন বিমা নিগম আদৌ কি তাদের সাড়ে পাঁচ কোটি পলিসি হোল্ডারকে জানিয়ে বাজার দরের চেয়ে বেশি দামে শেয়ার কিনেছে ? তাঁর অভিযোগ ছিল, এই সংস্থাগুলির নিয়ন্ত্রণ করেন কুখ্যাত ফাটকাবাজ হরিদাস মু্ন্দ্রা৷ ফলে এমন জটিল পরিস্থিতিতে সংসদে একেবারে জামাইয়ে মুখোমুখি প্রধানমন্ত্রী নেহরু৷ ক্ষুব্ধ স্বয়ং অর্থমন্ত্রী কৃষ্ণমাচারি, যিনি নিজে একজন শিল্পপতি ৷ তিনি প্রথমে ওই ঘটনা ধামাচাপা দিতে চাইলেও পরে স্বীকার করে নেন তেমন ঘটনা ঘটেছে৷ এই দুর্নীতি জানাজানি হওয়ার পর সরকার বাধ্য হয় তদন্ত কমিটি গড়তে৷ বম্বে হাই কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এম সি চাগলাকে নিয়ে এক সদস্যে তদন্ত কমিটি গড়া হয়৷






«
Next
Newer Post
»
Previous
Older Post

No comments:

Leave a Reply