sponsor

sponsor

Slider

বিশ্ব

জাতীয়

রাজনীতি

খেলাধুলা

বিনোদন

ফিচার

যাবতীয় খবর

জিওগ্রাফিক্যাল

ফেসবুকে মুজিবনগর খবর

» » » » ইউরোপের ‘পুতিন’ হয়ে উঠছেন এরদোয়ান




 

ইউরোপের ‘পুতিন’ হয়ে উঠছেন এরদোয়ান ইউরোপের
‘পুতিন’ হয়ে উঠছেন এরদোয়ান তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেফ এরদোয়ান ক্রমেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের ভূমিকায় অবতীর্ণ হচ্ছেন। তুরস্কের পররাষ্ট্রনীতিতে অনুসরণ করে যাচ্ছেন ভ্লাদিমির পুতিনকে। তার নতুন পররাষ্ট্রনীতি এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্কগুলো বিশ্লেষণ করলে এটা স্পষ্ট হয়ে উঠবে যে কারো কাছে। এরদোয়ানের আচরণ ক্রমেই পরিবর্তন হচ্ছে। এ পরিবর্তনের ফলে ইউরোপের নেতারা ধরে নিতে পারেন যে, তুরস্ককে আর আগের মতো সঙ্গে পাচ্ছেন না তারা। তুরস্কের অভ্যন্তরীণ নানা বিষয়ে পরিবর্তনের কারণে পশ্চিমা ধাঁচের সঙ্গে আর মিলছে না তুরস্কের রীতি-নীতি। এখন প্রশ্ন উঠছে তুরস্ক কি নতুন রাশিয়া হতে চলল? এই প্রশ্নটি ইউরোপে দিন দিন চড়াও হচ্ছে। এর পেছনে কারণ হচ্ছে তুর্কি প্রেসিডেন্টের আগ্রাসী পররাষ্ট্রনীতি। এরই মধ্যে এরদোয়ানের অভিবাসী নীতি নিয়ে সমালোচনা চলছে গোটা ইউরোপ জুড়ে। ইউরোপকে চাপে রাখতে তিনি ব্যবহার করছেন অভিবাসীদের। অন্যদিকে তিনি সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করছেন প্রতিবেশীদের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে এবং চেষ্টা চালাচ্ছেন সীমান্তে বিতর্কিত ভূমির দখল নিতে। স্নায়ুযুদ্ধ (১৯৪০-এর দশক থেকে ৮০ দশক পর্যন্ত বিশ্বে স্নায়ুযুদ্ধকাল বিবেচনা করা হয়) শেষ হওয়ার পর থেকে ইউরোপিয়ানরা পশ্চিমাদের চোখেই নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়টি দেখতো। যদিও সামরিক নিশ্চয়তার জন্য ইউরোপ ন্যাটোর ওপর আস্থা রাখছে। ন্যাটো সুরক্ষা নিশ্চয়তার ওপর ভর করে ইউরোপ ৮০ হাজার পৃষ্ঠার একটি নিয়ম-কানুনের (rulebook) বই প্রকাশ করে। যেখানে সমকামীদের অধিকার বিষয়েও বিস্তারিত নির্দেশনা দেয়া রয়েছে। পরবর্তীতে এটি আইনে রূপান্তরিত হয়। যদিও ১৯৯০ সালের দিকে ধরেই নেয়া হয়েছিল রাশিয়া ও তুরস্ক দুই অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তারের দৌড়ে এগিয়ে যাচ্ছে। পশ্চিমাদের বাইরে এ দুটি (সোভিয়েত ইউনিয়ন ও ওসমানী খেলাফত) দেশেরই ইতিহাস রয়েছে বিশ্বে আধিপত্য বিস্তারের এবং বিশ্বের বেশিরভাগ অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার। কিন্তু গত ১৫ বছর ধরে ইউরোপের আন্তর্জাতিক রাজনীতি, শক্তির সমতা (Balance of power) স্বপ্ন পূরণের পথ কঠিন হতে থাকে। কারণ সংস্কৃতি, অর্থনীতি এবং সামরিক শক্তির চর্চার পরিকল্পনা নানা জটিলতার কারণে ঠিকভাবে এগোতে পারেনি। অন্যদিকে রাশিয়া ও তুরস্ক বলতে গেলে একই চরিত্রের। দেশ দুটির ইউরোপের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সংঘর্ষ, নিয়ন্ত্রণ, ঘৃণা-ভালোবাসা আর বন্ধুত্বের সম্পর্ক রয়েছে। তবে দেশ দুটির (রাশিয়া ও তুরস্ক) জাতীয় নেতাদের ইউরোপের প্রতি এক ধরনের জেদের সম্পর্ক রয়েছে। এসব নেতা ইউরোপের সঙ্গে দূরত্বটা একটু বাড়িয়ে দিয়েছেন। তবে রাশিয়া ও ইউরোপের সম্পর্কের ভাঙন দৃশ্যমান। সে তুলনায় তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ততটা নয়। তবে ন্যাটোভুক্ত দেশ হলেও ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধের সময় থেকে সংস্থাটির সঙ্গে এরদোয়ানদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এতে ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্কের গতি পরিবর্তন ঘটে। দূরত্ব বাড়তে থাকে প্রকাশ্যে। এতে তুরস্ক নিজেদের পথ তৈরি করতে থাকে সিরিয়া, ইরান, লিবিয়াকে কাছে টানে আঙ্কারা। সম্পর্কের নতুন ধারার সূচনা ঘটে রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে। এটা মানতে হচ্ছে যে তুরস্ক ও সিরিয়ার সম্পর্কও কম জটিল নয়। কারণ সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে পুতিন ও এরদোয়ান পর্দার আড়ালে যে কলকাঠি নাড়ছেন তাতে একে অন্যের প্রতিপক্ষ। অবনতি দৃশ্যমান হয় ২০১৫ সালে যখন তুরস্ক একটি রাশিয়ান বিমান গুলি করে ভূপাতিত করে তখন। প্রতিক্রিয়ায় পুতিন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। এতে তুরস্কের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে থাকে। যার ফলশ্রুতিতে এরদোয়ানকে নতি স্বীকার করতে হয়েছিল। এদিকে ন্যাটোভুক্ত দেশ হওয়া সত্ত্বেও তুরস্ক যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা না মেনে রাশিয়া থেকে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্রয় করেছে। এতে সিরিয়া সংঘাত অব্যাহত থাকলেও রাশিয়া থেকে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্রয় করার মাধ্যমে এরদোয়ান আফ্রিকা, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে গুরুত্বপূর্ণ একজন খেলোয়াড় হয়ে ওঠেন। সিরিয়ার মাটিতে রাশিয়ার প্রতিপক্ষ হওয়ার পরও খুব সহজেই রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নই প্রমাণ করে এরদোয়ান একজন পোক্ত রাজনীতিবিদ। পূর্ব ইউক্রেনে পুতিন বড় ধরনের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন। এতে দেশের মধ্যে তার জনপ্রিয়তায় ধস নামে। তবে সিরিয়ায় বেশি কিছু সফল অভিযান ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তার সফল কর্তৃত্বের কারণে মনে হয়েছিল তিনি দেশের ভেতর আবার আস্থা অর্জন করতে পেরেছেন। পশ্চিমারা সিরিয়া সংঘাতে বাশার আল-আসাদের পদত্যাগ ছাড়া কোনো সমাধান নেই বলে ৫ বছর যুদ্ধ চালিয়ে গিয়েছিল। আল-আসাদ যখন ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার কিনারায় ঠিক তখনই রাশিয়ার জঙ্গিবিমান হাজির হয় আল-আসাদের সহযোগিতায়। তবে সিরিয়া সমস্যা নিয়ে জাতিসংঘ যখন জেনেভায় বৈঠক ডাকে তখন কাজাখাস্তানের আস্তানা শহরে বৈঠক ডাকে রাশিয়া। এ বৈঠকে তুরস্ক ও ইরানকে পশ্চিমা শক্তিকে প্রতিহতের বিষয়ে এক টেবিলে আনে সিরিয়া। ক্রেমেনিলের (মস্কোর দুর্গপ্রাসাদ) ছাই থেকে আবারও রাশিয়ার আধিপত্যের পুনর্জন্ম হয়েছে বলে মন্তব্য করতে থাকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। তখনই বিশ্বে সুপার পাওয়ার নিয়ে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার দৃশ্যমান কার্যক্রম শুরু হয় রাশিয়ার। ঘরের মধ্যে (দেশের ভেতরে) ক্রমেই শক্তিশালী হতে থাকা প্রতিপক্ষকে ঘায়েলে পুতিনকে অনুসরণ করেছেন এরদোয়ান। অন্যদিকে লিবিয়ায় পশ্চিমারা আবারও সামরিক হস্তক্ষেপ করতে আগ্রহী না হওয়ার কারণে সুযোগ পান এরদোয়ান। সেখানে তিনি একাই কোনো জোটবদ্ধ না হয়ে সামরিক হস্তক্ষেপ শুরু করেন এবং লিবিয়া সরকারের সঙ্গে একটি চুক্তি সম্পন্ন করেন। এ ক্ষেত্রে সিরিয়ায় রাশিয়ার নেয়া পদক্ষেপগুলোকে অনুসরণ করেন তিনি। গত বছরের শেষের দিক থেকেই তুরস্ক বেশি আগ্রহী হয়ে ওঠে লিবিয়া নিয়ে। এ সময় তিনি সহজেই দেশের ভেতরেও নিজের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে সক্ষম হন। আর লিবিয়ার সঙ্গে নতুন চুক্তি অনুযায়ী গ্রিস, সাইপ্রাস, মিশর ও ইসরায়েলের তলদেশের তেল ও গ্যাস ক্ষেত্রেগুলো উন্নয়নের সুযোগ পাবেন। সে অনুযায়ী দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে নতুন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন। সে সময় ইইই ও জাতিংঘের উদ্যোগে বার্লিনে শান্তি আলোচনার ডাক দেয়া হয় সিরিয়ায়। আহ্বান জানানো হয় সিরিয়ায় যুদ্ধ বন্ধের। কিন্তু তুরস্কের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয় এটি সিরিয়ায় আধিপত্য, আর নিয়ন্ত্রণের ধারা পরিবর্তন করে দেবে। সেখানে মার্কিন একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার লাভ করবে। এতেই বাশার আল আসাদকে সরানোর বিপক্ষে মত দেয় তুরস্ক। এর পর সিরিয়ায় নতুন উদ্যমে শুরু হয় রাশিয়া ও তুরস্কের আধিপত্য। দেশটির ভবিষ্যত ঝুলে যায় তুরস্কের হাতে। এ নিয়ন্ত্রণের খেলায় পিছ পা হয়নি রাশিয়াও। সংঘাত হয়ে ওঠে দীর্ঘস্থায়ী। অন্যদিকে এরদোয়ান ইয়োরোপে বিভক্তি ও জয়ের নীতি হাতে নিয়েছেন। এই নীতির বিষয়ে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তিনি মস্কো থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে এই পদ্ধতি হাতে নিয়েছেন। এ পদ্ধিতিটি ঠিক পুতিনের অস্ত্র নীতির সঙ্গে তুলনা করা যায়। পুতিন যেমন জ্বালানি (তেল, গ্যাস) ব্যবসার জন্য মধ্যপ্রাচ্যে নানা আগ্রাসন চালিয়ে আসছেন এবং অস্ত্র সরবরাহ করছেন তেমনি এরদোয়ান ইউরোপকে চাপে ফেলতে অভিবাসীদের ব্যবহার করছেন। আর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধে থেমে গেলে অভিবাসীদের ঢল (ইউরোপের বিরুদ্ধে এরদোয়ানের অস্ত্র) বন্ধ হয়ে যাবে। এর একটি উদাহরণ দেখা যায় লিবিয়ায়। ইউরোপ যখন দেশটিতে অস্ত্র সরবরাহ আটকানোর জন্য নানা ফন্দিফিকির আঁটছে তখনই এরদোয়ান অভিবাসীদের ইউরোপের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। যা ইউরোপীয় কাউন্সিলকে বিপদে ফেলে দেয়। আর তখনই এরদোয়ানের সামনে সুযোগ চলে আসে অস্ত্র আটকানোর মিশনে ইউরোপের যে কোনো পদক্ষেপে ভেটো দেয়ার এবং অর্থায়ন আটকে দেয়ার। বছরের পর বছর ধরে ইউরোপীয় নেতারা বলে আসছেন রাশিয়া বেইমান পুত্রের মতো। তাদের এ প্রচারণা মনে রাখার মতো কারণ এটি ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে যে, রাশিয়া কখনোই নিজের স্বার্থে কোনো নীতিই পরিবর্তন করতে সময় ক্ষেপণ করছে না। রাশিয়ার এমন আগ্রাসী মনোভাব থামাতে নিষেধাজ্ঞার মতো পদক্ষেপ নিয়েছিল ইউরোপ। তার পরও স্বার্থসিদ্ধির বিষয়ে জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানোয়েল ম্যাক্রোঁ রাশিয়ার সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ স্থাপনে ব্যর্থ হয়। তুরস্ককে নতুন রাশিয়া বলার সময় এখনো আসেনি। তবে এরদোয়ানকে সঠিক সময়ে নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে তুরস্ক নতুন রাশিয়া হয়ে উঠবে। এখনো বেশিরভাগ ইউরোপিয়ান তুরস্ককে ‘সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বী’ না ভেবে জটিল সমীকরণের মাধ্যমে তাদের সঙ্গে থাকার পক্ষেই মত দিয়ে থাকেন। তবে গত ১৫ বছরে রাশিয়ার বিপক্ষে ইইউর নানা সমীকরণে বিজয়ের বিষয়গুলোকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে সামনে এগোনো লাগবে। তবে এ অঞ্চলে (ইউরোপ) তুরস্কের সঙ্গে ইইউর সম্ভাব্য সংঘাত রোধে একটি নতুন পারস্পরিক সমঝোতায় পৌঁছানো খুবই প্রয়োজন। এ জন্য দু’পক্ষেরই উচিত তাদের বিস্তার এবং কার্যক্রমের একটি সীমানা ঠিক করা। না হলে বিপদ বাড়বে গোটা বিশ্বের জন্য। সে লক্ষ্যে ইউরোপিয়ানদের স্পষ্ট করে দেয়া উচিত যে, হয়তো অভিবাসীদের তুরস্ক আর ইইউতে পাঠাতে পারবে না; নয়তো পাঠানোর পর ইইউ তাদের ফেরত পাঠাবে। অর্থাৎ ইউরোপকে ‘লাঠি অথবা গাজর’ যেকোনো একটি ‍ বেছে নিতে হবে। লাঠিকে গাজর ভাবলে বড় ভুল হবে ইইউর জন্য। তবে এটি করতে পারা একটি বড় চ্যালেঞ্জ এটি অস্বীকার করার কিছু নেই। সব শেষে বলতে গেলে শুধু তুরস্ক দ্বারা নয়, বরং রাশিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সম্ভাব্য পরাশক্তি হয়ে ‍ওঠা চীনের দ্বারাও যেন কোনো অঞ্চলে ইইউ নিজেদের অংশীদারিত্বের বিষয়গুলো সংঘাতের দিকে না যায়, সেদিকে খেয়াল রাখা। এর জন্য দূরদর্শী নীতি গ্রহণ করতে হবে। তা না হলে বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা যুগের পর যুগ চলতেই থাকবে। লেখক: মার্ক লিওনার্ড, পরিচালক, ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের বৈদেশিক সম্পর্ক বিভাগ।






«
Next
Newer Post
»
Previous
Older Post

No comments:

Leave a Reply