sponsor

sponsor

Slider

বিশ্ব

জাতীয়

রাজনীতি

খেলাধুলা

বিনোদন

ফিচার

যাবতীয় খবর

জিওগ্রাফিক্যাল

ফেসবুকে মুজিবনগর খবর

» » » » মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন প্রক্রিয়ার জানার বিষয়




 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন প্রক্রিয়ার জানার বিষয় ডেমোক্র্যাট পার্টির প্রতীক গাধা (বায়ে) এবং রিপাবলিকান পার্টির প্রতীক হাতি (ডানে)। ছবি: ডেমোক্র্যাট পার্টির প্রতীক গাধা (বায়ে) এবং রিপাবলিকান পার্টির প্রতীক হাতি (ডানে)। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রভাব থাকে গোটা বিশ্বজুড়ে। তাই দেশটির নির্বাচন নিয়ে আগ্রহের কমতি নেই বিশ্বের প্রতিটি দেশের আনাচে-কানাচে। বিশ্বজুড়ে মহামারি, জলবায়ু পরিবর্তন অথবা অর্থনৈতিক সংকট বা মূল্যস্ফীতি, যুদ্ধ-বিগ্রহে দেশটির ইতিবাচক বা নেতিবাচক ভূমিকা থাকে। তাই দেশটিতে কে প্রেসিডেন্ট হলেন সেটি নিয়েও আগ্রহ থাকা স্বাভাবিক। সময় ঘনিয়ে আসলে নির্বাচনী বিতর্ক থেকে শুরু করে সব কিছুতেই গণমাধ্যমের সজাগ দৃষ্টি যেমন থাকে তেমনি ঘটনা প্রবাহ থাকে শীর্ষ খবরের তালিকায়। কিন্তু একজন প্রেসিডেন্ট কীভাবে নির্বাচিত হন দেশটিতে? এই প্রশ্নের উত্তর জানাতে একটি বিশ্লেষণ করেছে বিবিসি। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী একটি নির্বাচিত সরকারের মেয়াদ ৪ বছর। প্রতি চার বছর পর দেশটিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনের তারিখও ঠিক করা থাকে। সেটি হচ্ছে নভেম্বর মাসের প্রথম মঙ্গলবার। অর্থাৎ চার বছর পর নভেম্বর মাসের প্রথম মঙ্গলবার অনুযায়ী এবছর ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। অন্য দেশের তুলনায় এদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থা একটু আলাদা। কারণ দেশটিতে রাজনীতি প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে। এখান থেকেই প্রার্থী ঠিক করা হয়। দল দুটি হচ্ছে রিপাবলিকান পার্টি ও ডেমোক্র্যাট পার্টি। নির্বাচনের পর নতুন প্রেসিডেন্ট দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন ২০২১ সালের জানুয়ারির ২০ তারিখে। যেটি অভিষেক অনুষ্ঠান নামেই বেশি পরিচিত। ওয়াশিংটন ডিসির ক্যাপিটাল বিল্ডিংয়ের বাইরে এই অনুষ্ঠান হবে। ওই অনুষ্ঠানের পর নতুন প্রেসিডেন্ট হোয়াইট হাউজের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন এবং তার চার বছরের দায়িত্বভার শুরু করবেন। জো বাইডেন যদি বিজয়ী হন, তাহলেও তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের বদলে দায়িত্ব পাবেন না। কারণ নতুন নেতার জন্য মন্ত্রিসভার সদস্য বাছাই ও পরিকল্পনা তৈরি করতে হয়। এই কাজের জন্য একটি অন্তর্বর্তীকালীন সময় রয়েছে। এর আগে আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেও মন্ত্রিসভা চূড়ান্ত হওয়ার পরই নতুন প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব গ্রহণ করে থাকেন। রিপাবলিকান পার্টি রক্ষণশীল রাজনৈতিক দল। দলটির আরো একটি পরিচিতি হচ্ছে জিওপি বা গ্রান্ড ওল্ড পার্টি নামে। জজ ডব্লিউ বুশ এই দল থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এই দল থেকেই নির্বাচিত হন। এ বছর তিনি (ট্রাম্প) আবারো প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়বেন। কম ট্যাক্স হার, বন্দুক রাখার ক্ষেত্রে অবাধ স্বাধীনতা ও কঠোর অভিবাসননীতির কারণে প্রত্যন্ত অঞ্চলে দলটির জনপ্রিয়তা বেড়েছে বলে মনে করা হয়। তবে একই নীতির কারণে দলটির সমালোচনাও রয়েছে উল্লেখযোগ্য। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট পার্টি উদারনীতির রাজনৈতিক দল। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক হোসেন ওবামা এই দল থেকে দুইবার নির্বাচিত হয়েছিলেন। এ বছর দলটি থেকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন জো বাইডেন। তিনি (বাইডেন) বারাক হোসেন ওবামার মেয়াদে ভাইস-প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অন্য অনেক ছোট ছোট রাজনৈতিক দলও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী দিয়ে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচন শুধু দুই প্রেসিডেন্টের মধ্যে নয়। কিন্তু এটা সত্য যে, সবার নজর দুই প্রার্থীর (ট্রাম্প-বাইডেন) দিকেই থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সঙ্গে কংগ্রেসের নির্বাচনও হবে। কিন্তু ভোট দেয়ার সময় ভোটাররা কংগ্রেসের নতুন সদস্যদেরও নির্বাচিত করবেন। প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ বর্তমানে ডেমোক্র্যাটদের হাতে। সেটা তারা ধরে রাখার পাশাপাশি সিনেটের নিয়ন্ত্রণও নিতে চাইবেন। আর এটি সম্ভব হলে (দুই চেম্বারের নিয়ন্ত্রণ) তারা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী না হলে ট্রাম্পের যেকোনো পরিকল্পনা আটকে দেয়া বা দেরি করিয়ে দিতে পারবেন। প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনে এই বছর নির্বাচন হবে। সেই সঙ্গে ৩৩টি সিনেট আসনেও ভোট হবে। সাধারণত নির্বাচনে যিনি বেশি ভোট পান তিনিই হন প্রেসিডেন্ট। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে এই নিয়মটি নেই। এখানে নাটকীয়তা রয়েছে। এই নাটকীয়তার কারণেই ২০১৬ সালে সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েও নির্বাচিত হতে পারেননি ডেমোক্র্যাট পার্টি’র প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন। এখানে প্রতিটি রাজ্যের জনসংখ্যার বিচারে নির্দিষ্ট সংখ্যক ইলেক্টোরাল ভোট রয়েছে। সব মিলিয়ে ৫৩৮টি ইলেক্টোরাল ভোট রয়েছে। ফলে বিজয়ী প্রার্থীকে অন্তত ২৭০ বা তার বেশি ইলেক্টোরাল ভোট পেতে হবে। ২০১৬ সালের নির্বাচনে হিলারি ক্লিনটন মোট ভোট পেয়েছেন ৫ কোটি ৯৭ লাখ ৯৬ হাজার ২৬৫টি। ডোনাল্ড ট্রাম্প পেয়েছেন ৫ কোটি ৯৫ লাখ ৮৯ হাজার ৮০৬ ভোট। অর্থাৎ ট্রাম্প হিলারির চেয়ে ২ লাক ৬ হাজার ৪৫৯ ভোট কম পেয়েছেন। কিন্তু ইলেক্টোরাল কলেজের ভোটে এগিয়ে ছিলেন ট্রাম্প। সেখানে দেখা যায় ডোনাল্ড ট্রাম্প পেয়েছেন ২৭৯টি, আর হিলারির পক্ষে গেছে ২২৮টি। অর্থাৎ হিলারির চেয়ে ৫১ ভোট বেশি পেয়েছেন ট্রাম্প। ফলে বেশি ভোট পাওয়ার পরও হিলারি ক্লিনটন নির্বাচিত হতে পারেননি। পক্ষান্তরে কম ভোট পেয়েও ইলেক্টরাল ভোটে এগিয়ে থেকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হন ডোনাল্ড ট্রাম্প। দেশটির ভোটের এই নিয়মের কারণে বেশ বিপাকেই পড়তে হয় ভোটারদের। কারণ তারা জাতীয়ভাবে নয়, ভোট দেন স্থানীয়ভাবে রাজ্যের ইলেক্টোরাল কলেজ নির্বাচনে। দুটি বাদে অন্য সব রাজ্যের আইন অনুযায়ী যে প্রার্থী বেশি ভোট পাবেন সব ইলেক্টোরাল তার পক্ষে যাবে। তাই ভোটাররা থাকেন উভয় সংকটে। আর প্রার্থীদেরও এসব রাজ্যকে বেশি গুরুত্ব দিতে হয়। যেখানে তাদের যেকোনো জনই বিজয়ী হতে পারেন। তাই এগুলোকে যুদ্ধক্ষেত্রের সঙ্গে তুলনা করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে ভোট দিতে হলে একজন নাগরিকের বয়স হতে হয় ১৮ বছর। কয়েকটি রাজ্যে ভোটাদেয়ার সময় নাগরিকত্ব ও বয়সের প্রমাণপত্র সঙ্গে রাখতে হয়। এই প্রক্রিয়া নিয়ে বেশ বিতর্ক রয়েছে দেশটিতে। এটিকে রিপাবলিকানরা ভোট জালিয়াতির বিরুদ্ধে একটি রক্ষাকবচ হিসেবে বিবেচনা করেন আর ডেমোক্র্যাটরা ভোটারদের নিরুৎসাহী করার প্রচেষ্টা হিসেবে গণ্য করে। আইনটি রিপাবলিকান সরকারের আমলেই করা। অন্যদিকে এই প্রমাণ পত্রের বিষয়টি অনেক অনুন্নত। অনেক ভোটার রয়েছেন যাদের আদতে ড্রাইভিং লাইসেন্স বা অনুরূপ কাগজপত্র নেই নিজের বয়স বা নাগরিকত্ব প্রমাণের। সরকারও আলাদা করে ভোট দেয়ার জন্য কোনো দালিলিক প্রমাণ সরবরাহ করে না। ভোট দেয়া যায় ডাক যোগেও। গত নির্বাচনে (২০১৬ সাল) ২১ শতাংশ ভোটার নির্বাচন কেন্দ্রে না এসে ডাক যোগে ভোট দিয়েছেন। করোনাভাইরাসের কারণে এ বছর কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ভোট গ্রহণ হবে তা নিয়ে রয়েছে নানা বিতর্ক। অনেকেই ডাকযোগে ভোটের ব্যবস্থা বৃদ্ধির কথা বলেছেন। তবে এর বিপক্ষে মত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি মনে করেন এর মাধ্যমে জাল ভোটের আধিক্য দেখা দিতে পারে। তবে তার এই বক্তব্যকে যুক্তিহীন বলে দাবি করেছেন সমালোচকরা। পক্ষান্তরে ট্রাম্পও কোনো তথ্য প্রমাণ হাজির করতে পারেননি তার বক্তব্যের পক্ষে। নির্বাচন শেষে ভোট গণনা শেষ হতে বেশ কয়েকদিন লেগে যায়। তবে নির্বাচনের পরের দিন ফল আশা শুরু করে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে। ফলে মোটামুটি পরিষ্কার একটা ধারণা পাওয়া যায় কে বিজয়ী হতে যাচ্ছেন। ২০১৬ সালে ভোর রাত তিনটায় নিজের যুব সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বিজয়ীর ভাষণ দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও কর্মকর্তারা সতর্ক করে দেন পোস্টাল ভোট বেশি হওয়ায় ফল পেতে দেরি হতে পারে। করোনার কারণে এ বছর ডাকযোগে ভোটের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বিশে দেরি হতে পারে এবারের নির্বাচনের ফল পেতে। সর্বশেষ ২০০০ সালে ফলাফল পেতে দেরি হয়েছিল। প্রায় একমাস পরে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে সিদ্ধান্ত আসে।






«
Next
Newer Post
»
Previous
Older Post

No comments:

Leave a Reply