sponsor

sponsor

Slider

বিশ্ব

জাতীয়

রাজনীতি

খেলাধুলা

বিনোদন

ফিচার

যাবতীয় খবর

জিওগ্রাফিক্যাল

ফেসবুকে মুজিবনগর খবর

» » » » আন্তর্জাতিক গ্যাস পাইপলাইন ঘিরে রুশ, জার্মান, মার্কিন ত্রিমুখী দ্বন্দ্ব




সাগরের তলদেশ দিয়ে নর্ড স্ট্রিম-২ গ্যাস পাইপলাইন বসানো হচ্ছে। ছবি : সংগৃহীত জার্মান সানডে পত্রিকায় সম্প্রতি এক খবরে ছোট্ট একটি বাক্য ছাপা হয়েছিল। কিন্তু আন্তর্জাতিক গ্যাস পাইপলাইন ‘নর্ড স্ট্রিম-২’ যাঁরা নির্মাণ করছিলেন, তাদের জন্য ওই বাক্যটি ছিল ভূমিকম্পের মতো। রাশিয়ার বিরোধীদলীয় নেতা অ্যালেক্সি নাভালনির ওপর বিষ দিয়ে হামলার ঘটনা নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেইকো মাস। সে সময় তিনি মন্তব্য করেন, ‘আমি আশা করছি নর্ড স্ট্রিম-২ নিয়ে আমাদের অবস্থান পরিবর্তনে রাশিয়া আমাদের বাধ্য করবে না।’ ইউরোপে রাশিয়ার অর্থনৈতিক ও সামরিক প্রভাবকে ঘিরে যে রাজনীতি চলছে, তাতে এই নর্ড স্ট্রিম গ্যাস পাইপলাইনকে দাবার ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। আর, এই রাজনীতিতে রাশিয়া, জার্মানি ছাড়াও রয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের পূর্বাঞ্চলীয় কয়েকটি দেশ। সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে। নর্ড স্ট্রিম প্রকল্প কী? কয়লা ও পরমাণু জ্বালানি শক্তির ব্যবহার কমিয়ে আনতে চেষ্টা করছে জার্মানি। বাল্টিক সাগরের তলদেশ দিয়ে নর্ড স্ট্রিম পাইপলাইনের মাধ্যমে রাশিয়া সরাসরি জার্মানিতে গ্যাস সরবরাহ করে। তবে, নর্ড স্ট্রিম-২ রাশিয়া থেকে জার্মানিতে গ্যাস সরবরাহের প্রথম প্রকল্প নয়। এর আগে নর্ড স্ট্রিম-১ নামের একটি পাইপলাইন নির্মাণ করা হয়েছিল, যেটি চালু আছে। নর্ড স্ট্রিম-১-এর নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০১১ সালে। দ্বিতীয় প্রকল্পটি চালু হওয়ার কথা রয়েছে ২০২১ সালে। এটির দৈর্ঘ্য দুই হাজার ৪৬০ কিলোমিটার; যার মধ্যে দুই হাজার ৩০০ কিলোমিটার লাইন এরই মধ্যে বসানো হয়ে গেছে। রাশিয়া তার বিপুল পরিমাণ জ্বালানি সম্পদ নানাভাবে বিদেশে রপ্তানি করতে চাইছে। তারা ইউক্রেইনের মাধ্যমে ইউরোপের কাছে গ্যাস বিক্রি করছে। সাইবেরিয়া থেকে তারা চীনে গ্যাসের পাইপলাইন বসাচ্ছে। অন্যদিকে তারা কৃষ্ণ সাগর দিয়ে তুরস্কের কাছে গ্যাস পৌঁছে দিচ্ছে। পাইপলাইন নিয়ে রাজনৈতিক সংকট সমালোচকরা বলছেন, নর্ড স্ট্রিম-২ প্রকল্পের মাধ্যমে জার্মানি গ্যাসের জন্য রাশিয়ার ওপর খুব বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়বে। মডার্ন ডিপ্লোম্যাসি সাময়িকীতে এক নিবন্ধে পিটার করজন উল্লেখ করছেন, বাল্টিক দেশগুলো এই প্রকল্পের বিরোধিতা করছে, কারণ এই পাইপলাইনকে রক্ষার জন্য রুশ নৌবাহিনী পুরো অঞ্চলজুড়ে টহল দিতে থাকবে। এমনকি রাশিয়া তার সামরিক অভিযানের জন্য একে ব্যবহারের সুযোগ পাবে। এতে এসব দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়তে পারে। জার্মানি কেন কঠোর হলো জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেইকো মাস অ্যালেক্সি নাভালনির ওপর হামলার তদন্ত করার জন্য রুশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানান; তা না হলে নর্ড স্ট্রিম-২ প্রকল্প বাতিল হতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত করেন। নাভালনি বার্লিনের হাসপাতালে যখন কোমা থেকে বেরিয়ে আসছিলেন, তার কয়েক ঘণ্টা আগে জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেল জানিয়েছিলেন, ওই পাইপলাইনের প্রতি সমর্থন তিনি পুনর্বিবেচনা করতে প্রস্তুত আছেন। পরে মেরকেলের একজন মুখপাত্র বলেন, ‘পররাষ্ট্রমন্ত্রী যা বলেছেন, মেরকেল তার সঙ্গে একমত।’ চলতি সপ্তাহ পর্যন্ত জার্মান সরকারের অবস্থান ছিল—নর্ড স্ট্রিম-২ প্রকল্পের সঙ্গে নাভালনির ওপর বিষপ্রয়োগের ঘটনাটিকে এক করে দেখা ঠিক হবে না। কিন্তু জার্মান নেতাদের সাম্প্রতিক কথাবার্তায় নর্ড স্ট্রিম-২ প্রকল্প সম্পর্কে মনোভাব কঠোর হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তবে মেরকেল সরকার যে নর্ড স্ট্রিম-২ প্রকল্প নিয়ে আগে থেকেই খুব উৎসাহী ছিলেন এমন নয়। এই প্রকল্পটি মেরকেলের আগের মধ্য-বামপন্থী চ্যান্সেলর গেরহার্ড শ্রোয়েডারের আমলে শুরু হয়। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে শ্রওয়েডারের সম্পর্ক ছিল খুবই উষ্ণ। তিনি একবার রুশ প্রেসিডেন্টকে 'আগাগোড়া খাঁটি গণতন্ত্রী' বলে বর্ণনা করেছিলেন। শ্রোয়েডার পরবর্তী সময়ে রুশ জ্বালানি কোম্পানিগুলোতে একের পর এক লোভনীয় চাকরি পান; এবং তা নিয়ে জার্মানিতে মহা হইচই পড়ে গিয়েছিল। এর মধ্যে একটি চাকরি ছিল নর্ড স্ট্রিম কোম্পানিতে। শ্রোয়েডারকে পুতিনের ধামাধরা হিসেবে মনে করা হয়; এবং স্বাভাবিক কারণেই তিনি নর্ড স্ট্রিম-২ প্রকল্প নিয়ে খুব উৎসাহ দেখান। কিন্তু, কিছুদিন ধরে তিনি এই প্রকল্প নিয়ে টুঁ শব্দটি করেননি। প্রকল্প নিয়ে চাপের মুখে জার্মানি নর্ড স্ট্রিম-২ প্রকল্প নিয়ে মেরকেল সরকার ইউরোপীয় দেশগুলোর পক্ষ থেকে বেশ চাপের মুখে পড়েছেন। ইউরোপীয় দেশগুলোর যুক্তি—জ্বালানি নিশ্চয়তার জন্য রাশিয়ার মতো রাজনৈতিকভাবে নড়বড়ে একটি দেশের ওপর নির্ভর করা যায় না। তবে এই প্রকল্পের সবচেয়ে জোর বিরোধিতা এসেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে। এ ছাড়া প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে ট্রাম্প সরকার নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছে। এখন নাভালনির ঘটনাকে কেন্দ্র করে নর্ড স্ট্রিম-২ প্রকল্প নিয়ে জার্মানিতে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। শীর্ষ পর্যায়ের কনজারভেটিভ ও গ্রিন পার্টি নেতারা প্রকল্পটি বাতিল করার দাবি তুলেছেন। কিন্তু প্রকল্পটি এ মুহূর্তে প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং ইতোমধ্যেই এর পেছনে প্রায় এক হাজার কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে। এ পর্যায়ে প্রকল্পটি বাতিল করার যুক্তি নিয়ে বিতর্ক চলছে। প্রকল্পের সমর্থকরা বলছেন, এখন প্রকল্পটি বাতিল হলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন যে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে স্থিতিশীল একটি অঞ্চল— সে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হবে। গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাসের দামও বেড়ে যাবে। তাদের আরো যুক্তি, প্রকল্প বাতিল হলে বিকল্প কোনো উৎস থেকে জার্মানিকে গ্যাস আনতে হবে। বিবিসির সংবাদদাতা ডমিনিক ম্যাকগিনেস এ বিষয়ে বলেন, পরিহাসের বিষয় হলো অনেক জার্মান এ প্রকল্পকে সমর্থন করেন। এর কারণ, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রকল্পটির বিরোধী। অনেক জার্মান ট্রাম্পকে খুব অপছন্দ করেন; এবং এই পাইপলাইনের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের কথাবার্তা এই প্রকল্পের প্রতি জার্মানবাসীর সমর্থন আরো বাড়াতে সাহায্য করেছে। জার্মানির অনেক ভোটার মনে করেন ট্রাম্প প্রকল্পটি বাতিল করে তার জায়গায় আমেরিকান গ্যাস রপ্তানির সুযোগ খুঁজছেন। তাই অনেক জার্মানবাসী মনে করেন, মেরকেলকে দেখাতে হবে যে তিনি কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার না করেই প্রকল্পটি বাতিল করছেন। কিন্তু ফলাফল শেষ পর্যন্ত যাই হোক না কেন, নর্ড স্ট্রিম-২ প্রকল্পের দায়ভার জার্মানিকেই নিতে হবে। এবং এর জন্য বিরাট অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি স্বীকার করতে হবে। আর, সেকারণেই নর্ড স্ট্রিম-২ নিয়ে মার্কিন ও ইউরোপীয় বিরোধিতা মেরকেলের জন্য নতুন একটি সুবিধা তৈরি করে দিতে পারে। মেরকেল যদি সত্যিই প্রকল্পটি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেন, সেজন্য সবচেয়ে সহজ কৌশল হবে নিরবে প্রকল্প থেকে সরে আসা। মার্কিন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিরোধিতা প্রকল্পটিকে একেবারে শেষ করে দেবে। আর তাতে সম্ভবত এর ব্যয়ভারও জার্মানির ওপর বর্তাবে না।






«
Next
Newer Post
»
Previous
Older Post

No comments:

Leave a Reply