sponsor

sponsor

Slider

বিশ্ব

জাতীয়

রাজনীতি

খেলাধুলা

বিনোদন

ফিচার

যাবতীয় খবর

জিওগ্রাফিক্যাল

ফেসবুকে মুজিবনগর খবর

» » » খসড়া হিন্দু উত্তরাধিকার আইন’ আলোচনার জন্য উপস্থাপন




বর্তমানে প্রচলিত হিন্দু উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী অনেকক্ষেত্রেই হিন্দু নারী ও মেয়েরা পিতা-মাতা ও স্বামীর সম্পত্তির অংশ পায় না। তারা পিতা ও স্বামীর সম্পত্তিতে যে অংশটুকু পেয়ে থাকেন তা কোনভাবেই পরিবারের পুরুষ সদস্যদের সমান অংশ নয়। আইনের এই অসম প্রেক্ষিতকে সামনে রেখে সম্পত্তিতে হিন্দু নারী ও পুরুষের সমান অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে প্রস্তাবনা আকারে ‘খসড়া হিন্দু উত্তরাধিকার আইন-২০২০’ আলোচনার জন্য উপস্থাপন করা হয়েছে। আইনটি তৈরির ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের সমান অধিকারকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নতুন এই খসড়া আইনে উত্তরাধিকার সম্পত্তিতে নারী-পুরুষ ও তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তির সমান অধিকারের কথা বলা হয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে গঠিত ‘হিন্দু আইন প্রণয়নে নাগরিক উদ্যোগ’ কোয়ালিশন এই আইনটির খসড়া প্রস্তাবনা পরামর্শ আকারে তৈরি করেছে। বর্তমানে হিন্দু উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী যদি কারো পুত্র সন্তান থাকে, তাহলে কন্যা সন্তানরা তাদের উত্তরাধিকার সম্পত্তি পায় না। তবে পুত্র না থাকলে পুত্র রয়েছে এমন কন্যারা মৃত ব্যাক্তির সম্পত্তির অংশ পেয়ে থাকে। যদিও নারীর অর্জিত সম্পত্তির অংশ তার পরিবারের পুরুষ সদস্যরা ঠিকই পেয়ে থাকেন। এই খসড়া আইনে নারী-পুরুষ, পুত্র বা কন্যা সন্তান, স্বামী-স্ত্রী, ভাই-বোন অথবা বাবা-মায়ের মধ্যে সম্পত্তি বন্টনের ক্ষেত্রে অসম বিভাজন করা হয়নি। অবশ্য কোন ব্যক্তির নিজের অর্জিত সম্পত্তি সম্পূর্ণভাবে তার নিজের সম্পত্তি হবে এবং কোন কোন ব্যক্তি সম্পত্তির উত্তরাধিকারের যোগ্য হবেন না, সে বিষয়টিও সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে প্রস্তাবনায়। বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত ওয়েবিনারে বক্তব্য রেখেছেন বাংলাদেশ হাইকোর্ট ডিভিশনের বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ, সংসদ সদস্য আরোমা দত্ত, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য কাজল দেবনাথ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মিলন কান্তি দত্ত এবং বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খিস্টান মহিলা ঐক্য পরিষদের দিপালী চত্রুবর্তী। বর্তমান আইনে বিধবা নারীরা জীবনস্বত্বে যে সম্পত্তি পান, তা তিনি বিক্রি বা উইল করতে পারেন না। ভারত ১৯৫৬ সালে ‘হিন্দু সাকসেশন এ্যাক্ট’ পাশ করেছে এবং এই আইনের মাধ্যমে হিন্দু নারী ও পুরুষের উক্তরাধিকার সম্পত্তিতে সমান অংশ নিশ্চিত করেছে। এবং পরবর্তীতে ২০০৫ ও ২০০৭ সালে তারা আইনটি সংশোধনের মাধ্যমে আরও যুগোপযোগী করেছে। বাংলাদেশের সংবিধান-১৯৭২ এর ২৭ ও ২৮ অনুচ্ছেদ অনুসারে সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান ও রাষ্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্রে নারী পুরুষের সমান অধিকারের কথা বলা হয়েছে। এছাড়াও নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ সনদ-১৯৭৯ এ বাংলাদেশ সরকার ১৯৮৪ সালে স্বাক্ষর করেছে। যেখানে নারীর অধিকার ভোগ ও চর্চার প্রতিটি ক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করার কথা বলা হয়েছে। অথচ সম্পত্তিতে সমান অধিকার না থাকার কারণে হিন্দু নারী ও মেয়েরা বিভিন্নভাবে বঞ্চনা, বৈষম্য ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। ইতোমধ্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিন্দু নারীদের এই বৈষম্যমূলক অবস্থা বিবেচনা করে ২০১৮ সালে ২৮ এপ্রিল জাতীয় লিগ্যাল এইড দিবস, জন্মাষ্টমি সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে হিন্দু নেতৃবৃন্দকে আহ্বান জানিয়েছেন হিন্দু উত্তরাধিকার আইন প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণের জন্য। এরই ধারাবাহিকতায় এ উদ্যোগ। এ প্রস্তাবনাটি নিয়ে সাতটি বিভাগীয় শহরে হিন্দু আইনজীবী সহ বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধি, হিন্দু ধর্মীয় সংগঠনের প্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় করা হয়েছে এবং তাদের মতামত খসড়া আইনটিতে যুক্ত করা হয়েছে। ওয়েবিনারে ‘খসড়া হিন্দু উত্তরাধিকার আইন’ প্রণয়নের প্রেক্ষাপট আলোচনা করেন এমজেএফের পরিচালক রীনা রায়, আইনটি সংক্রান্ত প্রস্তাবমা উপস্থাপন করেন এমজেএফের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর অর্পিতা দাস, বাংলাদেশে হিন্দু উত্তরাধিকার আইন না থাকার ফলে প্রতিবন্ধকতা নিয়ে কথা বলেছেন নারীপক্ষের রীতা দাস রায়, কেইস স্টাডি উপস্থাপন করেছেন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের ডেপুটি ডিরেক্টর নীনা গোস্বামী, ডেপুটি ডিরেক্টর, খসড়া হিন্দু উত্তরাধিকার আইন প্রণয়নের চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করেছেন ব্লাস্টের এডভাইজার এডভোকেট তাজুল ইসলাম এবং হিন্দু ধর্মের আলোকে উত্তরাধিকার আইন বিষয়ে কথা বলেছেন অধ্যাপক ময়না তালুকদার, সংস্কৃতি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। অনুষ্ঠানে সভাপ্রধান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এমজেএফ এর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম।






«
Next
Newer Post
»
Previous
Older Post

No comments:

Leave a Reply