Sponsor



Slider

বিশ্ব

জাতীয়

রাজনীতি


খেলাধুলা

বিনোদন

ফিচার


যাবতীয় খবর

জিওগ্রাফিক্যাল

ফেসবুকে মুজিবনগর খবর

» » » » ৯ মে পুতিনের মুখ রক্ষার দিন




আগামী ৯ মে রাশিয়ার বিজয় দিবস। দিবসটি উদ্‌যাপনে কয়েকদিন ধরেই প্রস্তুতি নিচ্ছে রাশিয়া। দেশটির ৭৭তম বিজয় দিবসে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন কী বার্তা দেবেন? ইউক্রেন যুদ্ধে লিপ্ত থাকা পুতিন সেদিন নিশ্চয়ই নিজের মুখ রক্ষা করতে চাইবেন। পশ্চিমা গোয়েন্দারা পুতিনকে উসকানি দিয়ে বলেন, আগামী ৯ মে ইউক্রেন যুদ্ধে পুতিনের ফলাফল দেখানোর সময়। তার জনপ্রিয়তা প্রমাণের সময়। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি পুতিনের নির্দেশে রুশ সেনারা ইউক্রেন আক্রমণ করে। তার দাবি, ইউক্রেনকে নিরস্ত্র ও এর ওপর পশ্চিমাদের প্রভাব দূর করতে তিনি এই বিশেষ অভিযান শুরু করেন। কিন্তু অভিযান শুরুর পর রাশিয়া দেখল, ইউক্রেনে দ্রুত বিজয় ছিনিয়ে আনা সম্ভব নয়। রুশ সেনারা দেশটির বিভিন্ন অংশ থেকে সরে যাচ্ছে, পশ্চিমা মিত্ররা রাশিয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে এবং একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। আগামী ৯ মে রাশিয়ার সামরিক বাহিনী বার্ষিক শক্তি প্রদর্শনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার প্যারেডে ইউক্রেন যুদ্ধে উল্লেখযোগ্য পরিণতি নিয়ে আসতে পারে। রাশিয়ার বিজয় দিবস প্যারেড দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে শহীদদের স্মরণে ৯ মে দিবসটি পালন করবে রাশিয়া। ১৯৪৫ সালে নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে জয় ছিনিয়ে এনেছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন। মস্কোর রেড স্কয়ারজুড়ে সেনাদের কুচকাওয়াজ এবং সামরিক অস্ত্রাগার ও আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শর করে তারা। ২০২১ সালে ১২ হাজারের বেশি সৈন্য প্যারেডে অংশ নিয়েছিল এবং ৮০টিরও বেশি সামরিক বিমানসহ ১৯০টিরও বেশি সামরিক হার্ডওয়্যার প্রদর্শন করা হয়েছিল। মারিওপোল দখলের দাবি রাশিয়ার পুতিন ভেবেছিলেন, তিনি খুব সহজেই ইউক্রেন জয় করে ফেলবেন। কিন্তু দুই মাসের বেশি সময় ধরে দেখা গেছে তার দুর্বল নেতৃত্বে রাশিয়া খুব কম এগোতে পেরেছে। ইউক্রেনের দাবি, এ যুদ্ধে ২১ হাজারের বেশি সেনা হারিয়েছে রাশিয়া। কিন্তু মস্কো সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। পুতিন বাহিনী রাজধানী কিয়েভ দখলের চেষ্টা করেছিল। মোটামুটি তারা কিয়েভ ঘিরেও ফেলেছিল। তবে পরে তারা উত্তর দিকে পিছু হটতে বাধ্য হয়। পরবর্তী সময়ে রাশিয়া জানায়, তার সেনাদল ইউক্রেনের পূর্বে কেন্দ্রীভূত হয়েছে এবং গত সপ্তাহে দাবি করে, তারা মারিওপোল শহর পুরোপুরি দখল করেছে। আরও পড়ুন: রাশিয়ার পথে হাঁটতে পারে চীন: ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিওপোল রাশিয়ার বোমার আঘাতে ধ্বংসবিধ্বস্ত হলেও পরাজয় অস্বীকার করে ইউক্রেনের দাবি ছিল, কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ আজভস্তাইল ইস্পাত কারখানায় তাদের হাজারো সেনা রয়েছে। গত শুক্রবার (২২ এপ্রিল) দোনবাস ও দক্ষিণ ইউক্রেন দখলে নিতে দ্বিতীয় দফায় যুদ্ধের ঘোষণা দেয় রাশিয়া। প্যারেডে কী বার্তা দেবে রাশিয়া বিজয় প্যারেড অনুষ্ঠানে পুতিনকে ইউক্রেন যুদ্ধের ফলাফল দেখাতে হবে। তিনি ইউক্রেন যুদ্ধে কী পেলেন, সেই বার্তা দিতে হবে। ইতোমধ্যে ৯ মে লক্ষ্য রেখে রুশ জেনারেলরা খুব চাপ নিয়েই এ অভিযান পরিচালনা শুরু করেন। এ বিষয়ে ব্রিটিশ সেনা কর্মকর্তারা জানান, প্যারেড লক্ষ্য করে রাশিয়া তাদের কার্যক্রম আরও ত্বরান্বিত করবে। রাশিয়ার প্রত্যাশা, বার্ষিক বিজয় দিবসে তারা সফলতার খবরই দেবেন। আরও পড়ুন: চাপে পড়ে ইউক্রেনকে শক্তিশালী ট্যাংক দিচ্ছে জার্মানি পূর্ব দোনবাস অঞ্চল থেকে রুশ বাহিনীকে অগ্রসর হতে দেখা গেছে। মার্কিন গোয়েন্দারা জানিয়েছে, পুতিনের বাহিনী পুনরায় সংগঠিত হয়েছে এবং পূর্ব ইউক্রেনে বড় ধরণের আক্রমণের জন্য প্রয়োজনীয় সরবরাহ এবং কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল সক্ষমতা তৈরি করছে। যুদ্ধ অধ্যয়নের ইনস্টিটিউট (আইএসডব্লিউ) জানিয়েছে, রাশিয়ান বাহিনী মারিওপোলে বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজ করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। পুতিন কি মুখ রক্ষা করতে পারবেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি শুরু থেকেই দৃঢ়ভাবে বলে আসছেন, ‘আমরা হারব না। আমরা শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ করব। যেকোনো মূল্যেই হোক, আমরা জিতবই। আমি শুধু এই জয়ের জন্য, এই ন্যায়ের ও গণতন্ত্রের যুদ্ধের জন্য সভ্য বিশ্বের সমর্থন চাই।’ মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিংকেন বলেন, ‘আমরা দেখছি যে রাশিয়া তার যুদ্ধের লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে। আর ইউক্রেন সফল হচ্ছে। ইউক্রেনকে সম্পূর্ণভাবে পরাধীন করা, তার সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া মস্কোর প্রধান লক্ষ্য হলেও রাশিয়া সেই লক্ষ্যে ব্যর্থ হয়েছে।’ যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিজ ট্রাস বলেছেন, গ্রেট ব্রিটেন ও তার মিত্রদের উচিত দ্রুতই ইউক্রেন থেকে রুশ বাহিনীকে তাড়িয়ে দেওয়া। তাদের কোনোভাবে জয়ের পথে যেতে দেখা উচিত হবে না। আরও পড়ুন: ইউক্রেনকে অস্ত্র দেওয়ার বিরোধিতা বাড়ছে এদিকে ইউক্রেনে হস্তক্ষেপের ব্যাপারে পুতিন একের পর এক হুমকি-ধমকি দিয়ে যাচ্ছেন। কখনো পারমাণবিক অস্ত্রের, কখনো জ্বালানির। পুতিন বলেন, তার ‘কৌশলগত নিরাপত্তা’ হুমকির মুখে পড়লে রাশিয়া পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারেও পিছপা হবেন না। সর্বোপরি আগামী ৯ মে-র আগে ইউক্রেনে জয় পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন পুতিন। পুরো ইউক্রেন না হোক, আপাতত দোনবাস জয় করতে চান তিনি। তবে ইউক্রেন ও পশ্চিমাদের প্রতিরোধে এই অল্প সময়ে তার খায়েশ পূরণ হওয়াটা চ্যালেঞ্জিং।






«
Next
Newer Post
»
Previous
Older Post

No comments:

Leave a Reply