Sponsor



Slider

বিশ্ব

জাতীয়

রাজনীতি


খেলাধুলা

বিনোদন

ফিচার


যাবতীয় খবর

জিওগ্রাফিক্যাল

ফেসবুকে মুজিবনগর খবর

» » » মেহেরপুর বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলা হলেও নানা প্রতিবন্ধকতায় থমকে আছে




মেহেরপুর বিসিক শিল্পনগরী এলাকায় বর্জ্য সরানোর ব্যবস্থা না থাকায় এভাবেই ফেলে রাখা হয়েছে আবর্জনা। ছবি : কালের কণ্ঠ উদ্যোক্তা গড়ে তোলার অনেক প্রত্যাশা নিয়ে মেহেরপুরে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) শিল্পনগরী গড়ে তোলা হলেও নানা প্রতিবন্ধকতায় তা এখন অনেকটাই থমকে আছে। কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা, জমির মূল্যবৃদ্ধি, নিরাপত্তার অভাব, বর্জ্য ফেলার ডাস্টবিন না থাকাসহ আরো বেশ কিছু কারণেই এ শিল্পাঞ্চল এগোচ্ছে না বলে অভিযোগ উদ্যোক্তাদের। বিসিক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ৩০ বছর আগে ১৯৮৭ সালে মেহেরপুরে বিসিকের কার্যক্রম শুরু হয়। শুরুর দিকে এখানে উদ্যোক্তা তৈরি, ঋণ বিতরণ, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালানো হতো। ২০০৬ সালে মেহেরপুর-কুষ্টিয়া সড়কের খড়ের মাঠ এলাকায় ১০ একর জমি নিয়ে বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলা হয়। ২০০৬ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ২১ হাজার টাকা শতক হিসেবে জমি বরাদ্দ দেওয়া হলে ৭০টি প্লটের মধ্যে ৬৪টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব হয়। ২০১৪ সালে জমির দাম ৫ গুণ বাড়িয়ে ১ লাখ ৬ হাজার টাকা করা হলে নতুন কোনো উদ্যাক্তা এখানে শিল্প-কারখানা গড়ে তুলতে আর আগ্রহ দেখাননি। আবার প্লট বরাদ্দ পাওয়া অনেকে বিক্রি করতে গিয়েও ক্রেতা খুঁজে পাচ্ছেন না। ফলে অনেকটা খালি পড়ে থাকা শিল্পনগরীতে গত ১১ বছরে মাত্র ১১টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলেও নানা কারণে এর মধ্যে ৬টি মাসের পর মাস বন্ধ রয়েছে। উদ্যোক্তাদের অভিযোগ বন্ধ কারখানা চালু বা পতিত জমিতে শিল্প-কারখানা প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে বিসিক উদ্যোগী হচ্ছে না। এ ছাড়া সীমানাপ্রাচীর না থাকায় নিরাপত্তার অভাব, কাঁচামালের অভাব, সহজ শর্তে শিল্পঋণ না পাওয়া ও দক্ষ কারিগরের ঘাটতির কারণেই অনেককে কারখানা বন্ধ করে দিতে হয়েছে। বিসিকে থাকা শিল্পপ্রতিষ্ঠান শাপলা বোর্ড মিলের মালিক আসিফ রাইহান কালের কণ্ঠকে বলেন, বিসিক শিল্পনগরী এলাকায় কারখানার বর্জ্য ফেলার কোনো ডাস্টবিনের ব্যবস্থা করা হয়নি। ফলে আমাদের মতো অনেকেই ছোট কারখানার বর্জ্য ফেলা নিয়ে ঝামেলায় আছি। পাশের একটি প্লটে ফেলে রাখতে হয়েছে। এ ব্যাপারে বারবার বলা হলেও বিসিকের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। মেসার্স মোমিনুল ম্যানুফ্যাকচারিং কম্পানির স্বত্বাধিকারী মো. আজিজুল ইসলাম বলেন, ২০১৬ সালে যে শিল্পনীতি প্রণয়ন করা হয়েছে তার কিছুই মানে না বিসিক। প্রতি ২ মাস পর পর সভা করার কথা থাকলেও ২০০৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত মাত্র ১৭টি সভা হয়েছে। একটি শিল্প গড়ে তুলতে বিসিক কর্মকর্তাদের যে ধরনের উদ্যোগ নেওয়া দরকার তার কিছুই তারা নেয় না। আমরা অনেক কষ্টে শিল্প-কারখানা গড়ে তুলছি। আর বিসিক কর্মকর্তারা সেগুলোকে বাঁচিয়ে রাখার কোনো উদ্যোগ নেন না। তিনি বলেন, শিল্পনগরীতে রাত এলেই অন্ধকার পরিবেশ তৈরি হয়, ফলে এখানে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়, যা আমাদের জন্য আতঙ্কের কারণ। এ ছাড়া এখানে ড্রেনগুলো পরিষ্কার না করায় পানি নিষ্কাশন হয় না। বাংলাদেশ জাতীয় ক্ষুদ্র কুটির শিল্প সমিতি (নাসিব) মেহেরপুর জেলা শাখার সভাপতি মো. নাইমুর রহমান বলেন, ‘ক্ষুদ্র শিল্প গড়ে তুলতে যেসব প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা দরকার তার মধ্যে অন্যতম বিসিক। কিন্তু তাদের খুব একটা সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না। এ ছাড়া ব্যাংকগুলোও এসএমই ঋণ দিচ্ছে না। ফলে মেহেরপুরে শিল্পোদ্যোক্তা গড়ে তোলা কঠিন হয়ে পড়েছে। ’ নাসিব সভাপতি আরো বলেন, ‘এমনিতেই উদ্যোক্তার অভাব, তারপর মেহেরপুরের মতো স্থানে এক শতক জমির মূল্য ৫ গুণ বাড়িয়ে করা হয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার টাকা, যা শিল্প-কারখানা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বড় অন্তরায়। ’ এসব অভিযোগের ব্যাপারে বিসিক শিল্পনগরীর উপব্যবস্থাপক ও ব্যবস্থাপনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. রবিউল ইসলাম বলেন, ‘উদ্যোক্তারা যেসব অভিযোগ করেছেন তা ঠিক নয়। ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা আগে নিয়মিত না হলেও এখন থেকে প্রতি দুই মাস পর পর করা হবে। বর্জ্য সরানোর ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘বর্জ্য নিষ্কাশনের কাজ মেহেরপুর পৌরসভার। কারখানার মালিকরা নিজ দায়িত্বে পৌরসভার মাধ্যমে সেগুলো সরাবেন। ’ মেহেপুরের জেলা প্রশাসক বলেন, ‘শিল্পনগরী এলাকায় নিরাপত্তা সমস্যাসহ বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে। সেগুলো সমাধানের চেষ্টা চলছে। এ ছাড়া ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা নিয়মিত করার ব্যাপারে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, জমির দাম কমিটির পক্ষ থেকে বাড়ানো হয়নি। এটি ঊর্ধ্বতন কার্যালয়ের নির্দেশে বাড়ানো হয়েছে






«
Next
Newer Post
»
Previous
Older Post

No comments:

Leave a Reply