Sponsor



Slider

বিশ্ব

জাতীয়

রাজনীতি


খেলাধুলা

বিনোদন

ফিচার


যাবতীয় খবর

জিওগ্রাফিক্যাল

ফেসবুকে মুজিবনগর খবর

» » » » » ‘রাজপুত্র’ থেকে চীনের প্রেসিডেন্ট




বিশ্বের নজর এখন চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের তিয়েন আনমেন স্কয়ারের গ্রেট হলের দিকে। রোববার (১৬ অক্টোবর) এখানেই শুরু হচ্ছে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির ২০তম কংগ্রেস বা সম্মেলন। ধারণা করা হচ্ছে, সপ্তাহব্যাপী এই সম্মেলনেই চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে তৃতীয় দফায় আরও পাঁচ বছরের জন্য ক্ষমতায় থাকার বন্দোবস্ত করা হবে। যা চীনের চীনা সংবিধানে দুইবারের বেশি প্রেসিডেন্ট হওয়ার ব্যাপারে বিধিনিষেধ ছিল। যা ১৯৯০-এর দশক থেকে কার্যকর ছিল। কিন্তু ২০১৮ সালে দুবারের সেই সীমা সরিয়ে ফেলা হয়। ফলে জিনপিংয়ের তৃতীয়বার প্রেসিডেন্ট হওয়ার দরজা অবারিত হয়ে যায়। বিশ্লেষকরা বলছেন, জিনপিং এখনই আধুনিক চীনের প্রতিষ্ঠাতা মাও সেতুংয়ের পর সবচেয়ে ক্ষমতাধর চীনা নেতা। তৃতীয়বারের মতো প্রেসিডেন্ট হলে জিনপিং চীনের ক্ষমতায় নিজেকে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে যাবেন। সেই সঙ্গে চীনা রাষ্ট্র ও সমাজের ওপর তার নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত হবে। অনেকেই মনে করেন, এমনও হতে পারে, ৬৯ বছর বয়সী জিনপিং আজীবন ক্ষমতা ধরে রাখবেন। আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই ক্ষমতাসীন চীনা কমিউনিস্ট পার্টির ঐতিহাসিক সম্মেলন উদ্বোধন করবেন প্রেসিডেন্ট জিনপিং। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, কংগ্রেসে দলের নেতা হিসেবে তৃতীয় মেয়াদে জিনপিংয়ের জয় অনেকটা নিশ্চিত। এর মাধ্যমে তার হাতেই থাকছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশের শাসন। অবশ্য কংগ্রেস সামনে করে বেইজিংয়ে জিনপিংয়ের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়েছে। জিনপিংকে আর প্রেসিডেন্ট হিসেবে চান না এমন স্লোগান আর প্ল্যাকার্ড নিয়ে শুক্রবার (১৪ অক্টোবর) রাজধানীতে জড়ো হন নাগরিকরা। যাকে অনেকেই ‘বিরল’ বলেই উল্লেখ করেছেন। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির টানা অবনতি, ‘জিরো কোভিড’ নীতি’, আবাসন খাতে ধস, ইউক্রেন সংকটে রাশিয়ার প্রতি অব্যাহত সমর্থন আর তাইওয়ান ইস্যুতে পশ্চিমা চাপ- সব মিলিয়ে এই মুহূর্তে মহাচ্যালেঞ্জ অতিক্রম করছে চীন। কূটনীতিক ও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, নানামুখী সংকট সত্ত্বেও ক্ষমতায় নিজের অবস্থান সুসংহত করতেই ব্যস্ত জিনপিং। ‘রাজপুত্র’ থেকে কৃষক, কৃষক থেকে প্রেসিডেন্ট জিনপিংয়ের জন্ম ১৯৫৩ সালে বেইজিংয়ে। তিনি বিপ্লবী নেতা শি ঝংশানের পুত্র। ঝংশান কমিউনিস্ট পার্টির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। মা কি জিনও ছিলেন কমিউনিস্ট পার্টির সক্রিয় সদস্য। ১৯৪৯ সালে মাও সেতুংয়ের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হয় পিপলস রিপাবলিক অব চায়না। এরপর উপপ্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ঝংশান। অভিজাত ঘরে জন্ম নেয়ায় ছেলেবেলায় জিনপিংকে ‘রাজপুত্র’ হিসেবে অভিহিত করা হতো। কিন্তু কয়েক বছর পরই জিনপিংদের পরিবারের সম্পদ নাটকীয়ভাবে কমতে থাকে। দল ও সরকারের সঙ্গে বারবার মতানৈক্যে জড়ান ঝংশান। তার মাশুলও দিতে হয় তাকে। ১৯৬৩ সালে তাকে দল থেকে বহিষ্কার ও কারাবন্দি করা হয়। পাঠিয়ে দেয়া হয় হেনান প্রদেশে একটি কারখানায়। ফলে বাবার সঙ্গে কয়েক বছরের জন্য যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর ১৯৬৬ সালে চীন উত্তাল হয়ে ওঠে। শুরু হয় তথাকথিত ‘সাংস্কৃতিক বিপ্লব’। লাখ লাখ নাগরিককে ‘চীনা সংস্কৃতি’র শত্রু আখ্যা দেয়া হয়। সারাদেশে তাদের ওপর চালানো হয় সহিংস হামলা। এতে বিপাকে পড়ে জিনপিংয়ের পরিবারও। তার এক সৎবোনকে হত্যা করা হয়। ব্যাহত হয় কিশোর জিনপিংয়ের লেখাপড়াও। অভিজাত স্কুল থেকে ঝরে পড়েন জিনপিং। আরও মাত্র ১৫ বছর বয়সে তাকে ছাড়তে হয় বেইজিং। ষাটের দশকের শেষের দিকে শুরু হয় ‘ডাউন টু দ্য কান্ট্রিসাইড মুভমেন্ট’। কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তরুণ জিনপিংকে পাঠানো হয় শানজি প্রদেশের লিয়াংজিয়াহে গ্রামের ‘পুনঃশিখন কেন্দ্রে’। সেখানে একটানা সাত বছর কৃষকের কাজ করতে হয় ‘রাজপুত্র‘ জিনপিংকে। শৈশব ও কৈশোর ঝঞ্ঝা বিক্ষুদ্ধ হলেও উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন জিনপিং। বেইজিংয়ের শিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি কেমিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ পাস করেন তিনি। এ সময় তার পরিচয় ছিল কর্মী-কৃষক-সেনা-ছাত্র। এত পরিশ্রম ও কষ্ট সত্ত্বেও কমিউনিস্ট পার্টি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়ার বদলে বারবারই দলে যোগ দিতে চাইতেন জিনপিং। তবে প্রতিবারই বাবার কারণে তা ভেস্তে যায়। অবশেষে ১৯৭৪ সালে কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য হিসেবে গ্রহণ করা হয়। দায়িত্ব শুরু হয় হিবে প্রদেশ থেকে। কয়েক বছর অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের পরে বাড়ে দায়িত্বভার। ১৯৮৯ সালে ৩৫ বছর বয়সে তার পদোন্নতি হয়। দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ ফুজিয়ানের নিংদে শহরের দলীয় প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হন তিনি। ওই বছরই বৃহত্তর রাজনৈতিক স্বাধীনতার দাবিতে বেইজিংয়ের তিয়েনআনমেন স্কয়ারে ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়। সরকারের দুর্নীতি বন্ধ ও গণতন্ত্রের দাবিতে ১৯৮৯ সালের এপ্রিল থেকে শিক্ষার্থীরা ঐতিহাসিক তিয়েনআনমেন স্কয়ারে অনশন শুরু করে। তার সঙ্গে যোগ দেন শ্রমিকেরা। মাও সেতুংয়ের ছবির সামনে গণতন্ত্রের দেবীর মূর্তি খাড়া করে ক্ষমতাসীন সরকারকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। রাজধানী বেইজিং থেকে অনেক দূরে ফুজিয়ান প্রদেশ। কিন্তু রাজধানী বিক্ষোভের উত্তাপ সেখানেও ছড়িয়ে পড়ে। সেখানেও শুরু হয় বিক্ষোভ। দলের অন্য নেতাদের সঙ্গে নিয়েও সেই বিক্ষোভ মোকাবিলায় হিমশিম খেতে হয় জিনপিংকে। বিক্ষোভ প্রধানত শান্তিপূর্ণ হলেও দমনে কঠোর অভিযান চালায় সরকার। বিক্ষোভকারীদের উৎখাতে ৩ জুন রাতে রাজধানী বেইজিংয়ে সেনা ও ট্যাংক নামানো হয়। পরদিন ৪ জুন মধ্যরাতে সব দিক থেকে ঘিরে ফেলা হয় তিয়েনআনমেন স্কয়ার। বেয়নেট হাতে সেনাদের সামনে সার বেঁধে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীরা তিয়েনআনমেন স্কয়ার ত্যাগ করে। তবে স্কয়ারের বাইরে সেনাদের নির্বিচার গুলিতে ততক্ষণে নিহত হন শত শত ছাত্র-শ্রমিক। ওই ঘটনার পর এ নিয়ে কোনোরকম আলোচনা নিষিদ্ধ করে চীন। এমনকি প্রায় ৩০ বছর পরও এ নিয়ে কথা বলা নিষেধ। সেই ঘটনা দেশটির ইতিহাস বই ও সরকারি নথি থেকে মুছে ফেলা হয়েছে। তিয়েনআনমেন হত্যাযজ্ঞের কোনো সরকারি পরিসংখ্যান এখন পর্যন্ত প্রকাশ করেনি চীন। তবে প্রত্যক্ষদর্শী, মানবাধিকার সংস্থা ও গবেষকদের মতে, তিয়েনআনমেনে সেদিন হাজারের ওপর লোককে হত্যা করেছিল সেনারা। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমসের এক নিবন্ধে সম্প্রতি বলা হয়, ১৯৮৯ সালে তিয়েনআনমেনের ঘটনাই চীনের সঙ্গে অন্য সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোর পার্থক্য গড়ে দিয়েছে। সোভিয়েত ইউনিয়ন ও যুগোস্লাভিয়া যেখানে ভেঙে টুকরো টুকরো হয়েছে, সেখানে অখণ্ডতা ধরে রেখে উন্নতি করেছে চীন। ওই ঘটনার পর জিনপিংকেও আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। প্রায় দুই দশক পর ২০০৮ সালে বেইজিংয়ে গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক অনুষ্ঠিত হয়। যার পুরো আয়োজনের দায়িত্ব পান জিনপিং। এর মধ্য দিয়ে চীনও নিজেকে দেখানোর সুযোগ পায় যে, সেও এতদিনে অনেকটা এগিয়েছে এবং অলিম্পিকের মতো গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক আসরেরও আয়োজন করতে সক্ষম। এবং এক্ষেত্রে সফলতাও দেখায় চীন যা তার ক্রমবর্ধমান শক্তি হয়ে ওঠার প্রতীক হয়ে ওঠে। এর মধ্যদিয়ে দলে জিনপিংয়ের গুরুত্ব ও প্রভাব বাড়ে। যা তাকে দলের শীর্ষ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী নেতাদের কাতারে নিয়ে যায়। ২০০৭ সালে সপ্তদশ পার্টি কংগ্রেসে তিনি চীনের কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যুরো স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য হন। এর পরের বছর তিনি চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ২০১২ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। মাও সেতুংয়ের পর সবচেয়ে কর্তৃত্ববাদী নেতা প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে দলের নিচ থেকে সর্বোচ্চ পর্যন্ত ব্যাপক দুর্নীতিবিরোধী অভিযান চালিয়ে আসছেন জিনপিং। এটাকে অনেকেই ‘রাজনৈতিক শুদ্ধি অভিযান’ বলেও অভিহিত করে থাকে। তবে তার শাসনামলে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও বিরোধীদের ওপরও দমনপীড়ন ক্রমেই বেড়েই চলেছে। সংখ্যাগুরু নাগরিকদের পাশাপাশি সংখ্যালঘুদের ওপর দমনপীড়নের জন্য ব্যাপক সমালোচিত জিনপিং। তার আমলে সংখ্যালঘু নিপীড়নের সবচেয়ে বড় দৃষ্টান্ত হয়েছে উইঘুর মুসলিম নির্যাতন। পশ্চিমাঞ্চলীয় শিনজিয়াং প্রদেশে দশ লক্ষাধিক উইঘুর মুসলিমকে কয়েক বছর ধরে বন্দি করে রেখেছে তার সরকার। যেসব বন্দিশিবিরে এ বিশাল সংখ্যক মানুষকে আটকে রাখা হয়েছে, সেগুলোকে ‘রি-এডুকেশন ক্যাম্প’ বলে থাকে জিনপিং প্রশাসন। তার আমলেই হংকংয়ের ওপর বেইজিংয়ের নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর হয়েছে। ন্যাশনাল সিকিউরিটি ল’ নামে আইন পাস করে ২০২০ সালে নজিরবিহীন গণতন্ত্রপন্থি বিক্ষোভকেও বশে এনেছেন জিনপিং। বিতর্কিত ওই আইন প্রয়োগ করে গণতন্ত্রপন্থি খ্যাতনামা নেতা ও রাজনীতিকদের সবাইকে গণহারে গ্রেফতার করা হয়। শুধু তাই নয়, আন্দোলনের পক্ষ নিয়ে মতামত প্রকাশ করায় হংকংয়ের প্রাচীন সংবাদমাধ্যম আপেল ডেইলি ও স্ট্যান্ড নিউজসহ অসংখ্য সংবাদমাধ্যম বন্ধ করে দেয়া হয়। চরম বিতর্কিত এসব কর্মকাণ্ডের কারণে তাকে মাও জে দংয়ের পর চীনের সবচেয়ে কর্তৃত্ববাদী নেতা মনে করা হয়ে থাকে। জিনপিংয়ের অধীনে চীনের ১০ বছর প্রেসিডেন্ট হিসেবে দুই মেয়াদে ১০ বছর পূর্ণ করতে যাচ্ছেন জিনপিং। ক্ষমতার এই এক দশকে দারিদ্র্য দূরীকরণ, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন প্রতিরোধে বেশ সফলতা দেখিয়েছেন তিনি। দলীয় একচ্ছত্র আধিপত্যের কথা বাদ দিলে কয়েকটি ক্ষেত্রে তার এ অর্জনই তাকে তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় বসতে সহায়তা করবে বলে মনে করা হচ্ছে। ‘জনগণের সেবায় নিজেদের উৎসর্গ করা’ চীনের কমিউনিস্ট পার্টির অন্যতম গর্বের বিষয়। জিনপিংয়ের অধীনে চীন দারিদ্র্য বিমোচনে বড় সাফল্য দেখিয়েছে। ২০২০ সালেই দেশটি নিজেকে ‘চরম দারিদ্র্য মুক্ত’ ঘোষণা করে, যা জিনপিং সরকারের জন্য একটি মাইলফলক। এ ছাড়া জনগণের জীবনযাত্রার মান, শিক্ষার অধিকার ও তাদের গবাদি পশুগুলোর অবস্থা মূল্যায়ন করে সরকার জানিয়েছে, তারা ২০১৩ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে ১.৬ ট্রিলিয়ন ইউয়ান (২৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) বিনিয়োগ করেছে। রাস্তাঘাট, বাড়িঘর নির্মাণ এবং অবকাঠামো উন্নয়নে খরচ হয়েছে বাজেটের অধিকাংশ অর্থ। লাখ লাখ গ্রামীণ পরিবারকে উন্নত অর্থনৈতিক সুযোগসহ তাদের বাস্তুসংস্থান করেছে। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, শি নেতা হওয়ার এক বছর পর, ৮২ মিলিয়ন চীনা মানুষ চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বাস করত। ২০১৯ সালের মধ্যে সংখ্যাটি ছিল ছয় মিলিয়ন। চীনের জাতীয় গর্বের উৎস তাদের মহাকাশ কর্মসূচি। আর এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া এবং ইউরোপের সঙ্গে চীনের ব্যবধান কমেছে অনেকখানি। রোভার্স ২০১৩ এবং ২০১৯ সালে চাঁদে পৌঁছেছিল। পরে আরেকটি মনুষ্যবিহীন মহাকাশযান ২০২০ সালে চার দশকের মধ্যে প্রথম চাঁদের নমুনা সংগ্রহ করে পৃথিবীতে ফিরে আসে। সেন্ট্রাল কমিশন ফর ডিসিপ্লিন ইন্সপেকশন বলছে, ২০১২ থেকে ২০২২ এর মধ্যে বেসামরিক কর্মচারী থেকে সরকারি মন্ত্রী, সেনা জেনারেল থেকে ব্যাংক ম্যানেজার পর্যন্ত এক কোটি ১৩ লাখ লোককে শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল। গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে ৪৭ লাখ লোকের অপরাধ তদন্ত করা হয়েছিল। কমপক্ষে ১৫ লাখ লোককে চরম শাস্তি দেয়া হয়েছিল। যার মধ্যে ছিল মৃত্যুদণ্ডও। বেইজিং ২০১৬ সালে প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল এবং ২০২০ সালে শি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তার দেশ ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ সর্বোচ্চ কমাবে এবং ২০৬০ সালের মধ্যে কার্বন নিরপেক্ষ দেশে পরিণত হবে চীন। পরিবহন খাতেও ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন শি। হাই-স্পিড রেল নেটওয়ার্কের দৈর্ঘ্য বেড়েছে চার গুণ। ২০১২ সালে ৯ হাজার ৩০০ কিলোমিটার থেকে এটি ২০২১ সালে বেড়ে হয়েছে ৪০ হাজার কিলোমিটার। চীনে এখন ২৫০টি বেসামরিক বিমানবন্দর রয়েছে-যার মধ্যে ৮২টি নির্মিত হয়েছে গত দশকে। ২০১২ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে বিমানযাত্রীর সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে।






«
Next
Newer Post
»
Previous
Older Post

No comments:

Leave a Reply