sponsor

sponsor

Slider

বিশ্ব

জাতীয়

রাজনীতি

খেলাধুলা

বিনোদন

ফিচার

যাবতীয় খবর

জিওগ্রাফিক্যাল

ফেসবুকে মুজিবনগর খবর

নিউজিল্যান্ডকে ২৪২ রানের টার্গেট দিল দ.আফ্রিকা

আগের পাঁচ ম্যাচে তিনটিতে হেরে খাঁদের কিনায় দাঁড়িয়ে আছে দক্ষিণ আফ্রিকা। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চলমান এই ম্যাচটি দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য অঘোষিত সেমিফাইনালের মতো। হারলেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হবে। এমন কঠিন সমীকরণের ম্যাচেও চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়তে পারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা। বৃষ্টির কারণে কার্টল ওভারে ম্যাচের দৈর্ঘ্য নির্ধারিত হয় ৪৯ ওভারে। নির্ধারিত ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ২৪১ রান সংগ্রহ করে ফাফ ডু প্লেসিসের নেতৃত্বাধীন দলটি। বুধবার ইংল্যান্ডের বার্মিংহামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামার আগে বৃষ্টির বাগড়ায় পড়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। বৃষ্টি ভেজা ম্যাচে ব্যাটিংয়ে নেমে দলীয় ৯ রানে ট্রেন্ট বোল্টের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন কুইন্টন ডি কক। এরপর দ্বিতীয় উইকেটে অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসিসের সঙ্গে ৫০ রানের জুটি গড়েন আমলা। ৩৫ বলে ২৩ রান করে লুকি ফার্গুনসনের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসিস। ব্যাটসম্যানদের আসা-যাওয়ার মধ্যে দায়িত্বশীল ব্যাটিং করে যান আমলা। তবে ফিফটির পর নিজের ইনিংসটা লম্বা করতে পারেননি। মিসেল স্ট্যান্টনারের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন আমলা। তার আগে ৮৩ বলে চারটি চারের সাহায্যে ৫৫ রান করেন তিনি। এই রান করার পথে ওয়ানডে ক্রিকেটে দ্বিতীয় দ্রুততম (১৭৬ ম্যাচ) ৮ হাজার রান সংগ্রহ করেন আমলা। দক্ষিণ আফ্রিকান চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে ৮ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। আমলার বিদায়ের পর দ্রুত আউট হন অ্যাডাম মার্কওরাম। তিনি ৫৫ বলে ৩৮ রান করে ফেরেন। তবে রিশি ভ্যান দার ডুসেনের অপরাজিত ৬৪ বলে তিনটি ছক্বা ও দুটি চারে গড়া ৬৭ রানের ইনিংসে ভর করে ২৪১ রান তুলতে সক্ষম হয় দক্ষিণ আফ্রিকা। এছাড়া ৩৭ বরে ৩৬ রান করেন ডেভিড মিলার। নিউজিল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট শিকার করেন লুুকি ফার্গুনসন। সংক্ষিপ্ত স্কোর দক্ষিণ আফ্রিকা: ৪৯ ওভারে ২৪১/৬ (ডুসেন ৬৭, আমলা ৫৫, মার্কওরাম ৩৮, মিলার ৩৭, ডু প্লেসিস ২৩; ফার্গুনসন ৩/৫৯)।

পরকীয়ার কারণেই মসজিদের মুয়াজ্জিন খুন: পুলিশ সুপার

ঝিনাইদহ সদর উপজেলা নলডাঙ্গা ইউনিয়নে সকালে বানিয়াবহু বাগুটিয়া গ্রামের ভোতন ব্রিজের কাছে একটি পাট ক্ষেত থেকে এক অজ্ঞাত যুবকের গলাকাটা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয় এলাকাবাসী। পরে তার মরদেহ মর্গে পাঠালে তার মা এসে মরদেহ সনাক্ত করেন। পরে জানা যায়, যে ব্যক্তি খুন হয়েছেন তার নাম সোহেল রানা। গ্রামের বাড়ি কোটচাঁদপুর উপজেলার সাব্দারপুর ইউনিয়নের লক্ষীকুন্ডু গ্রামের জোয়ারদার পাড়ার বখতিয়ার রহমানের ছেলে। সোহেল রানা কালীগঞ্জের চাপালি গ্রামের মসজিদে দীর্ঘদিন ধরে মুয়াজ্জিনের দায়িত্বে পালন করছিলেন। বুধবার সাড়ে ১২টার দিকে ঝিনাইদহ পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান পিপিএম তার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, গতকাল বেলা ৯টার দিকে পুলিশ একজনের মরদেহ পাওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায়। পরে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশ ভিকটিমের পরিচয় উদ্ধার করে। তিনি জানান, গোপন সংবাদের মাধ্যমে পুলিশ জানতে পারে যে জুলিয়া খাতুন নামে একজন নারীর সঙ্গে প্রেম ছিল সোহেল রানার। এ বিষয়ে জুলিয়া খাতুনকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তার কাছ থেকে জানা যায় জুলিয়া খাতুনের সঙ্গে বেশ কিছু দিন আগে সোহেল রানার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরে বিয়ে হয় রাজু আহামেদ নামে অন্য একটি ছেলের সঙ্গে। বিয়ের পরে রাজু জানতে পারেন তার স্ত্রী আগের প্রেমিকের সঙ্গে পরকীয়া করছে। ঘটনাটি স্বামীর কাছে স্বীকারও করেন জুলিয়া। পরে রাজু তার স্ত্রীকে দিয়ে ঘটনার আগের দিন কৌশলে ঘটনাস্থলে সোহেলকে নিয়ে আসে এবং তার দুই সহযোগী নাজমুল ও সুমনের সহযোগিতায় তাকে হত্যা করেন। তিনি বলেন, এই মরদেহ পাওয়ার পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে জুলিয়া খাতুনকে আমারা গ্রেপ্তার করি এবং আদালতে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। রাজুকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। খুনের সঙ্গে জড়িত বাকিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চান না প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প: পম্পেও

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছেন, ইরানের যুদ্ধে জড়াতে চায় না তার দেশ। তিনি বলেছেন, ইরানের ওপর চাপ অব্যাহত রাখবে যুক্তরাষ্ট্র এবং আরব অঞ্চলে কোনও ধরনের আগ্রাসন ঠেকাতে কাজ করে যাবে। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের ম্যাকডিল এয়ারফোর্স ঘাঁটিতে গতকাল সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন পম্পেও। এসময় তিনি ইরানকে ‘আগ্রাসন’ চালানোর জন্য অভিযুক্ত করেন। পম্পেও বলেন, মার্কিন স্বার্থ রক্ষার জন্য মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা সেনা মোতায়েন করেছে। মাইক পম্পেও দাবি করে বলেন, আমরা অনেক বার্তা আদান-প্রদান করেছি, এমনকি এই মুহূর্তেও আমরা ইরানকে বলেছি যে, আমরা আগ্রাসন মোকাবেলার জন্য মধ্যপ্রাচ্য রয়েছি।সিডেন্ট ট্রাম্প যুদ্ধ চান না- আমরা সে বার্তা দেয়া অব্যাহত রাখবো। তবে ওই এলাকায় মার্কিন স্বার্থ রক্ষার জন্য আমরা সবকিছু করবো। এজন্য আমরা ইরানের ওপর এক বছরের বেশি সময় ধরে চাপ সৃষ্টি করে চলেছি। মধ্যপ্রাচ্যে আরও এক হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েনের ব্যাপারে পেন্টাগনের ঘোষণার পর পম্পেও ওই ঘাঁটিতে যান। তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের কূটনীতিক ও সামরিক প্রচেষ্টার মধ্যে সমন্বয় রয়েছে সেটা দেখতেই তিনি ফ্লোরিডার কমান্ডারদের সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্টও বলেছেন, তিনি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চান না। কিন্তু তেহরানের সঙ্গে উত্তেজনা সৃষ্টি করে মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তি সেনা মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

মুক্তিযোদ্ধাদের কবর সংরক্ষণে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিবিজড়িত গণকবরগুলো সংরক্ষণ করার বিষয়ে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। তবে স্বাধীনতা যুদ্ধে সারাদেশে ত্রিশ লাখ শহীদদের চিহ্নিত করা এখনও সম্ভব হয়নি। বললেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার একাদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। সরকার দলীয় সংসদ সদস্য অসীম কুমার উকিলের তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সারাদেশে মুক্তিযুদ্ধকালীন বধ্যভূমি ও গণকবর চিহ্নিতকরণে 'শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধাদের সমাধিস্থল সংরক্ষণ ও উন্নয়ন' শীর্ষক প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও পরবর্তী সময়ে পরলোকগত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ২০ হাজার সমাধিস্থল সংরক্ষণ করা হবে। ৪৪২ কোটি ৪০ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ের গৃহীত এ প্রকল্পের মাধ্যমে সারাদেশের ২৮১টি বধ্যভূমি সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করা হবে। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তথ্য সংগ্রহ করে ডাটাবেইজ তৈরি করে মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। এ তালিকার বাইরে কোনো মুক্তিযোদ্ধা থেকে থাকলে তাদের চিহ্নিত করে তালিকায় অন্ত্মর্ভূক্ত করা হবে। এ লক্ষ্যে সারাদেশে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। এ কার্যক্রম শেষ হলে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রকাশ করা সম্ভব হবে। শেখ হাসিনা জানান, এ তালিকার অংশ হিসেবে ৫ হাজার ৭৯৫ জন শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধার নাম ও ঠিকানাসম্বলিত পূর্ণাঙ্গ তথ্যও মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। এদের মধ্যে বেসামরিক শহীদ ২ হাজার ৯২২ জন, গেজেটভূক্ত সশস্ত্র বাহিনীর শহীদ ১ হাজার ৬২৮ জন, গেজেটভূক্ত বিজিবি শহীদ ৮৩২ জন এবং গেজেটভুক্ত শহীদ পুলিশ ৪১৩ জন। সরকার দলীয় সংসদ সদস্য বেনজীর আহমদের আরেক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা অনুধাবন করেছিলেন, গ্রামীণ উন্নয়ন ছাড়া উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণ সম্ভব নয়। জাতির পিতার অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করতে তার সরকার পরিকল্পিত ও সুষম উন্নয়নের মাধ্যমে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত মধ্যমআয়ের বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষে 'রূপকল্প-২০২১' ঘোষণা করেছিল। এ রূপকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে গ্রামীণ দারিদ্র্য উলেতখযোগ্য হারে কমিয়ে আনা। তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের 'নির্বাচনী ইশতেহার ২০১৮, সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ'-এ প্রতিটি গ্রামে আধুনিক নগর সুবিধা সম্প্রসারণের অঙ্গীকার করা হয়েছে। যার স্লোগান হচ্ছে 'আমার গ্রাম- আমার শহর'। এ লক্ষ্য পূরণে সরকার গ্রামাঞ্চলে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করছে। গ্রামীণ সড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধনী ও গরীবের মধ্যে বৈষম্য হ্রাস এবং প্রান্তিক জনগণের সুরক্ষয় সরকার ব্যপক কার্যক্রম নিয়েছে। সরকারের উন্নয়ন ভাবনা হচ্ছে, 'সবাইকে নিয়ে উন্নয়ন এবং সবার উন্নয়ন'। এ আদর্শ সামনে রেখে সরকার দারিদ্র্য বিমোচন ও ধনী-গরীবের মধ্যে বৈষম্য কমাতে 'জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশলপত্র, ২০১৫' প্রণয়ন করেছে।

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার আভাস দিয়েছেন নেত্রী: কাদের

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার আভাস দিয়েছেন জানিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন: দলীয় সিদ্ধান্ত যারা মানেননি তাদের বিষয়ে আমি নেত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। নেত্রী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার আভাস দিয়েছেন। পরবর্তী ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নেব। বুধবার দুপুরে গুলিস্তানে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক বর্ধিত সভায় তিনি এ কথা বলেন। ২৩ জুন আওয়ামী লীগের ৭০ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এই বর্ধিত সভার আয়োজন করে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ। তবে উপজেলা পর্যায়ে খুব বেশি বিদ্রোহী ছিলেন না দাবি করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন: আমরা জাতীয় নির্বাচনে ইতিহাসের এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছি। শেষ পর্যন্ত মাঠে মাত্র দু’জন বিদ্রোহী ছিল। আগে কয়েকজন বিদ্রোহী ছিল ঠিক কিন্তু তারা নির্বাচনের আগেই নিজেদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছে। যোগ করেন: উপজেলা স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচন। এখানে কিছু বিদ্রোহ-কলহ রয়েছে। গতকাল আমরা যে নির্বাচন করেছি, সে নির্বাচনে ৬ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছে। কাজেই এখানে অর্ধেকই বিদ্রোহী এ কথা বলার কোন কারণ নেই। আগেই ৬ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত এর অর্থ হচ্ছে দলের মধ্যে কেউ বিদ্রোহী হয়নি। তবে এ নির্বাচনে সব মিলিয়ে সাত জন বিদ্রোহী প্রার্থী ছিল। বিদ্রোহীদের বিষয়ে আরও বেশি কঠোর হবার ঘোষণা দিয়ে কাদের বলেন: তাদের নিয়ে আমি নেত্রীর সঙ্গে আলাপ আলোচনা করেছি। নেক্সট ওয়ার্কিং কমিটির মিটিংয়ে আমরা শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিষয়ে আরো বেশি কঠোর হবো। শৃঙ্খলা যারা ভঙ্গ করেছেন তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করব। নেত্রী এমনটাই আভাস দিয়েছেন। নেক্সট ওয়ার্কিং কমিটির মিটিংয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নেব। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্যের কারণেই খালেদা জিয়া মুক্তি পাচ্ছে না বিএনপি নেতাদের এমন দাবি হাস্যকর দাবি করে কাদের বলেন: আমি বলেছি বেগম জিয়ার জামিন-মুক্তি সবই আদালতের বিষয়। আর আমার বক্তব্যের কারণে বেগম জিয়ার মুক্তি হচ্ছে না এমন হাস্যকর মন্তব্য বিএনপি নেতারা কেমন করে করছেন আমার জানা নেই। সরকার কখনই আদালতের ওপর হস্তক্ষেপ করে না। আদালত স্বাধীনভাবে কাজ করছে। যার প্রমাণ এর মধ্যে বেগম জিয়া ৩০-৩২টি মামলায় জামিন পেয়েছেন।

যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানিতে অগ্রিম কর প্রত্যাহার চায় বিটিএমএ

২০১৯-২০২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বস্ত্রকলের যন্ত্রপাতি, কিছু কাঁচামাল ও উপকরণ আমদানির ওপর ৫ শতাংশ অগ্রিম কর কর্তনের প্রস্তাব প্রত্যাহরের আবেদন জানিয়েছে বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বিটিএমএ। সংগঠনটি বলছে, এই কর আদায় করা হলে বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত ও বাধাগ্রস্ত হবে। তাই এই কর প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বিটিএমএ। বুধবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেল আয়োজিত বাজেট–পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে বিটিএমএ’র সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন এই আবেদন করেন। বিটিএমএর সভাপতি বলেন, ‘বস্ত্রকলের যন্ত্রপাতি আমদানিতে ১ শতাংশ শুল্ক দিতে হয়; যা একধরনের প্রণোদনা। সরকার শিল্প খাতের বিনিয়োগকে উৎসাহিত করতে চাইছে। কিন্তু বস্ত্রকল যন্ত্রপাতি আমদানির ওপর অগ্রিম কর ৫ শতাংশ আরোপ করাকে আমরা মনে করি বিনিয়োগকে ব্যয়বহুল ও অলাভজনক করবে। ফলে বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত ও বাধাগ্রস্ত হবে। এককথায় বিষয়টি খাজনার চেয়ে বাজনা বেশির মতো। তাই এই কর প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।’ অনুষ্ঠানে প্রস্তাবিত বাজেটে টেক্সটাইল মিলের আয়কর হার ১৫ শতাংশ নির্ধারণ করে তা ৩ বছরের জন্য বহালসহ টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাকের রপ্তানি বাড়াতে সব খাতে ১ শতাংশ হারে রপ্তানি প্রণোদনা বাড়ানোর প্রস্তাব এবং একই সাথে স্থানীয় উইভিং ও ডাইং-প্রিন্টিং-ফিনিশিং ও ক্যান্ডারিং উপ-খাতকে ভ্যাটের আওতা বহির্ভূত রাখার প্রস্তাব করায় সরকারকে ধন্যবাদ জানায় বিটিএমএ। ন প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারের জন্য উৎপাদিত সুতার ওপর ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। এটি প্রত্যাহার করে প্রতি কেজি সুতার ওপর ৪ টাকা ভ্যাট আরোপের আহ্বান জানান বিটিএমএ সভাপতি। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে আমরা প্রতি কেজি সুতায় তিন টাকা ভ্যাট দেই। ৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হলে গড়ে প্রতি কেজি সুতার দাম ১৫ থেকে ১৬ টাকা করে বাড়বে। ৮০ কাউন্টের সুতায় সর্বোচ্চ বাড়বে সাড়ে ২৩ টাকা। সেটি হলে দেশের প্রান্তিক তাঁতিরা ক্ষতির মুখে পড়বে। এমনকি সুতার বাজার বিদেশিদের দখলে চলে যেতে পারে।’ এ ছাড়া বস্ত্র রপ্তানিতে উৎসে কর বর্তমানের মতো দশমিক ২৫ শতাংশ অব্যাহত রাখা এবং রপ্তানিতে ৩ শতাংশ নগদ প্রণোদনা দেওয়ার দাবি করেছে বিটিএমএ। মোহাম্মদ আলী খোকন বলেন, সরকার নির্ধারিত রপ্তানি মূল্যের উপর দীর্ঘদিন যাবত উৎসে কর কর্তন করে আসছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটেও রপ্তানি মূল্যের ওপর উৎসে আয়কর কর্তনের হার শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ বহাল আছে। রপ্তানি মূল্যের উপর বিদ্যমান উৎসে আয়কর হারটি অত্যন্ত উৎসাহজনক ও সহনীয়। কিন্তু প্রস্তাবিত বাজেটে এটি বহাল আছে কিনা এ বিষয়ে উল্লেখ নেই। এতে করে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। তাই প্রস্তাবিত বাজেটেও এটি আগের মত বহাল রাখার দাবি জানাচ্ছি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহসভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন, আব্দুল্লাহ আল মামুন, আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, সাবেক সহসভাপতি হোসেন মেহমুদ প্রমুখ।

প্রস্তাবিত বাজেট ধনীর স্বার্থ রক্ষায়: মেনন

প্রস্তাবিত বাজেট ধনীর স্বার্থ রক্ষায়: মেনন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেছেন: প্রস্তাবিত বাজেট ধনীর স্বার্থ রক্ষায়, এটা বুঝতে অর্থনীতিতে অভিজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন: বাজেটে রাজস্ব সংগ্রহসহ অন্যান্য বিষয়ে ধনীদের প্রতি পক্ষপাতিত্বের বিষয়টি খালি চোখেই দেখা যায়, এজন্য অর্থনীতিতে অভিজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। বুধবার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০১৯-২০ অর্থ বছরের বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। মেনন বলেন: অপ্রদর্শিত আয়ের টাকা দিয়ে জমি ক্রয়, ফ্লাট ক্রয়ের সুযোগ দেওয়া হলেও বিদেশে পাচারকৃত অর্থ দেশে ফেরত আনার জন্য কোন প্রক্রিয়া প্রস্তাবিত বজেটে নেই। এগুলো যাদের জন্য, তারা হচ্ছে এদেশের ধনীরা। এর ফলে বিকাশমান মধ্যবিত্ত চাপের মধ্যে থাকবে। তিনি বলেন: প্রস্তাবিত বাজেটে ফলে মধ্যবিত্তদের অ-প্রত্যক্ষ কর আরো বেশি ভাবে বহন করতে হবে। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, সাধারণ পণ্যের দাম বাড়বে না। কিন্তু চিনি, এলপিজি, প্লাস্টিক সামগ্রী, অ্যালুমিনিয়ামের হাড়ি-পাতিলের দাম বাড়ছে। এসবই তো মধ্যবিত্তের গৃহস্থলীর জিনিস। দেশের যে উন্নয়ন হচ্ছে তার ফল গুটি কয়েক মানুষ ভোগ করছেন দাবি করে বিগত সরকারের এ মন্ত্রী বলেন: উন্নয়ন হচ্ছে। এই উন্নয়ন যারা দেখতে পারছেন না তারা জেগে ঘুমিয়ে আছেন। তবে এ উন্নয়নের ফল শুধু কিছু লোক পাচ্ছে, জনগণ পাচ্ছে না। চার কোটি লোক দরিদ্র, দু’কোটি লোক পুষ্টি পায় না। বঙ্গবন্ধু কন্যার এ প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে যদি আমরা শুধু পরিসংখ্যানের দিকে তাকিয়ে দেখি। সম্পদ গুটি কয়েক লোকের হাতে কুক্ষিগত দাবি করে স্বপক্ষে পরিসংখ্যান তুলে ধরে রাশেদ খান মেনন বলেন: যেখানে ১৯৯১-৯২ সালে গরিব ৫ শতাংশের হাতে সম্পদের এক শতাংশ ছিলো। সেটা ২০১৫-১৬ সালের এসে ঠেকেছে ০.২৩ শতাংশে। এ সময়ে বেড়েছে শীর্ষ ৫ শতাংশের সম্পদ বেড়েছে ১২১ গুণ। সম্পদ পুঞ্জীভূত হয়েছে কিছু হাতে, একটি দল সৃষ্টি হয়েছে যারা সুপার ধনী। যারা চীনের ধনীদের তুলনায় বেশি সম্পদের মালিক। এদের মধ্যে ১০ শতাংশ ধনী মোট সম্পদের ৯০ শতাংশ সম্পদ নিয়ন্ত্রণ করছেন। বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন তিনি আরও যোগ করেন: এসক ধনীরা মূলত ক্ষমতার চারপাশে বলয় গড়ে তুলে বিভিন্ন লুন্ঠন, দখল-বেদখল, জোর জবরদস্তি মারপ্যাঁচের মাধ্যমে সম্পদ সংগ্রহ করছে। দেশের সব ব্যাংক, বীমা, আবাসন এমনকি প্রবাসী লোক পাঠানো এদের হাতে। সাবেক অর্থমন্ত্রী ধারাবাহিকভাবে অস্বীকার করে আসলেও তার শেষ বাজেট ভাষণে স্বীকার করেছিলেন, উচ্চ প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সমতায় নজর দেওয়া যায়নি। বর্তমান অর্থমন্ত্রী অসমতা দূর করতে ভিন্ন কৌশলের কথা বলেছেন। বাজেটে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতা বৃদ্ধির জন্য আমি অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। দেশে বর্তমান যে অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বিদ্যমান তার ফল শুধু পাঁচ শতাংশ মানুষ পাচ্ছে দাবি করে বামপন্থী এ নেতা বলেন: একবিংশ শতাব্দীতে বিশ্বায়ন এবং নয়া উদারনীতিবাদই বিশ্ব জুড়ে লুটেরাদের একক আধিপত্য কায়েমের সুযোগ দিয়েছে। এসময় তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন: এই মারাত্মক উন্নয়ন প্রবণতা থেকে অর্থনীতিকে বের করে আনতে হবে। বঙ্গবন্ধু সারা জীবন এই বৈষম্য-দারিদ্র এবং বঞ্চনার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছেন। এবং জীবনের শেষ ভাগে এই লুটপাটের অর্থনীতি সম্পর্কে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছিলেন, সেটা যদি হয়; সেটাই হবে আমার দ্বিতীয় মৃত্যু। কালো টাকা সাদা করতে দেওয়ার যে সুযোগ এবারের বাজেটে রাখা হয়েছে তাতে খুব একটা সুফল পাওয়া যাবে না দাবি করে এসময় মেনন বলেন: জিয়া-এরশাদ প্রবর্তিত কালো টাকা সাদা করার বিধান নব্বই পরবর্তী সময়ে কিছু দিনের জন্য বন্ধ থাকলেও আবার চালু করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই সুযোগে বেগম জিয়া-সাইফুর রহমানরা কিভাবে কালো টাকা সাদা করেছিল, সেই হিসাব আমাদের কাছে আছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন এই টাকা বিনিয়োগে নিয়ে আসার জন্য এ ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু মনে রাখতে হবে এ যাবৎ এ ব্যবস্থা থেকে বিশেষ কোনো সাফল্য পাওয়া যায়নি। এতে ফ্ল্যাট জমির দাম মধ্যবিত্তের আওতার বাইরে চলে যাবে। অনৈতিকতায় উৎসাহিত হবে। আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুকে ভুলে বসে আছে দাবি করে বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি বলেন: কৃষক আজ উৎপাদিত পণ্যের দাম পাচ্ছে না। বঙ্গবন্ধু বাধ্যতামূলক সমবায়ের কথা বলেছিলেন, যা আওয়ামী লীগ একেবারেই ভুলে বসে আছে। ভূমি সংস্কারের কথা ২০০৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে বলা ছিল। কৃষি উৎপাদনকে যদি আমরা সুরক্ষা করতে চাই; তাহলে ভূমি সংস্কার এখনই করতে হবে। শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব বঙ্গবন্ধুকে আরও শক্তিশালী রুপে আমাদের মাঝে হাজির করেছে মন্তব্য করে প্রবীণ এ রাজনীতিবিদ আরও বলেন: নির্বাচন সম্পর্কে মানুষ যে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে উপজেলা নির্বাচনে তার প্রমাণ আমরা পাই। আমার দল পেয়েছে, আপনার দল পেয়েছে। মসজিদে ঘোষণা দিয়েও ভোটারদের আনা যায়নি। শুধু নির্বাচনের জন্য নয় গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক। রাশেদ খান মেনন বলেন: আমরা যেন মুষ্টিমেয় পাঁচজনের অর্থনীতি, বড়লোকদের উপর নির্ভরশীল না হয়ে পড়ি। দুর্নীতি-দুর্বৃত্তায়ন-অসহিষ্ণুতা এবং সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে যে স্বপ্ন বঙ্গবন্ধুর ছিলো তার সমাধি যেন না ঘটে। বঙ্গবন্ধু বেঁচে আছেন, শুধু শতবর্ষ নয়; হাজার বছর তিনি বেঁচে থাকবেন। বাঙালির হৃদয়ে আমাদের সঠিক কর্ম ধারার মধ্যদিয়ে।