Sponsor



Slider

বিশ্ব

জাতীয়

রাজনীতি


খেলাধুলা

বিনোদন

ফিচার


যাবতীয় খবর

জিওগ্রাফিক্যাল

ফেসবুকে মুজিবনগর খবর

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পাকিস্তানের হাতে আছে মাত্র তিন সপ্তাহের টাকা

অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত পাকিস্তানে বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ কমে ৩০০ কোটি ডলারে নেমেছে। এতে আগামী তিন সপ্তাহের আমদানি ব্যয় মেটানোও সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এদিকে, আইএমএফ ঋণ সহায়তার সঙ্গে কঠিন শর্ত জুড়ে দিয়ে আরও কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে ফেলে দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। টালমাটাল অর্থনীতিতে নাভিশ্বাস পাকিস্তানবাসীর। চলতি সপ্তাহেই দেশটির মুদ্রা রুপির মান ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। পাকিস্তানের বার্ষিক মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে ৪৮ বছরের মধ্যে বর্তমানে সর্বোচ্চ পর্যায়ে। এ অবস্থায় মৌলিক চাহিদা মেটাতেও হিমশিম অবস্থা সাধারণ মানুষের। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ডলার সংকটে দীর্ঘদিন ঋণ পরিশোধসহ বৈদেশিক লেনদেনে ভারসাম্য রাখতে পারছে না পাকিস্তান। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও কমে ৩১০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। এই অর্থ দিয়ে তিন সপ্তাহের বেশি আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব নয় বলেও জানানো হয়েছে। আরও পড়ুন: আইএমএফের ‘অকল্পনীয়’ শর্তেও ঋণ নিতে বাধ্য পাকিস্তান: শাহবাজ পাকিস্তানের স্টেট ব্যাংকের দেয়া তথ্যানুসারে, বিদেশি ঋণের কিস্তি পরিশোধের পর এখন পাকিস্তানের রিজার্ভের পরিমাণ ১৬ শতাংশ কমে ৩০৯ কোটি ডলারে নেমেছে। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক টানাপোড়েনে হিমশিম খাওয়া পাকিস্তানের জন্য মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সহায়তা। ভেঙে পড়া অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে স্থবিরতা কাটিয়ে আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা চলছে পাকিস্তান সরকারের। গত সপ্তাহে আইএমএফের একটি প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদে পৌঁছায়। এতে বেশ কিছু কঠিন শর্ত জুড়ে দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল। এরই ধারাবাহিকতায় আইএমএফের প্রাথমিক শর্ত পূরণে শাহবাজ সরকার ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ কার্যকর করতে শুরুও করেছে। এতে রয়েছে কর বাড়ানো ও ভর্তুকি কমানোসহ বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় হারের ওপর মূল্যসীমা তুলে নেয়া, জ্বালানি তেলের দাম ১৬ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো এবং এলপিজির দাম ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি করা। আরও পড়ুন: কাজ নেই, দেশ ছাড়ছেন পাকিস্তানের শিক্ষিত তরুণরা এ অবস্থায় আইএমএফ যেসব শর্ত দিয়েছে, তা ধারণাতীত বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তারপরও সেসব শর্ত বাস্তবায়ন করা ছাড়া সরকারের হাতে কোনো বিকল্প নেই বলেও স্বীকার করেছেন তিনি।

টায়ার নিকোলস হত্যা: ছয় মার্কিন পুলিশ কর্মকর্তা বরখাস্ত

যুক্তরাষ্ট্রে আলোচিত টায়ার নিকোলস হত্যার ঘটনায় মোট ছয় পুলিশ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। ওই ছয় পুলিশ কর্মকর্তা ২৯ বছর বয়সী কৃষ্ণাঙ্গ যুবক নিকোলসের গ্রেফতার ও অকথ্য নির্যাতনে জড়িত ছিলেন। গত মাসের প্রথম দিকে (৭ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি রাজ্যের মেমফিসে বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানোর অভিযোগে কৃষ্ণাঙ্গ যুবক টায়ার নিকোলসকে গ্রেফতার করা হয়। এর তিন দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। প্রায় এক মাস পর গত বুধবার (২ ফেব্রুয়ারি) তাকে সমাহিত করা হয়। শুক্রবার (৩ ফেব্রুয়ারি) মেমফিস পুলিশ বিভাগের (এমপিডি) পক্ষ থেকে বলা হয়, টায়ার নিকোলসের গ্রেফতার ও ভয়াবহ নির্যাতনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছয় কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়, পাঁচজনকে আগেই চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল। তাদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগও আনা হয়েছে। সবশেষ প্রেসটন হেমফিল নামে এক কর্মকর্তাকে ‘ব্যক্তিগত আচরণ, বিশ্বস্ততা ও টেজার গান ব্যবহার সম্পর্কিত একাধিক পুলিশি নীতি লংঘনের কারণে বরখাস্ত করা হয়েছে। আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশের গুলিতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নিহত যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশি নির্যাতনে মৃত্যুর ঘটনা নতুন নয়। আর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদও আজকের নয়। গত মাসে টায়ার নিকোলস হত্যার পরও বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিবাদের মুখে প্রায় ২০ দিন পর গত শুক্রবার (২৭ জানুয়ারি) নিকোলসের নির্যাতনের হৃদয়বিদারক ঘটনার ভিডিও প্রকাশ করে কর্তৃপক্ষ। নিকোলসের গ্রেফতারে জড়িত পুলিশের শরীরে থাকা ক্যামেরা ও ড্যাশবোর্ডের ক্যামেরা থেকে ওই ভিডিও সংগ্রহ করা হয়। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, পুলিশ সদস্যরা গাড়ি থেকে নিকোলসকে বের করার পর লাথি–ঘুষি মারছে। কয়েক মিনিট ধরে চলতে থাকে এই মারধর। পুলিশের মারধরের একপর্যায়ে তীব্র যন্ত্রণায় ‘মা’ বলে ডেকে ওঠেন নিকোলস। ভিডিও ক্লিপ অনুসারে, পুলিশ কর্মকর্তারা প্রথমে নিকোলসকে গাড়ির ড্রাইভিং সিট থেকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে আনে। ওই সময় নিকোলস বলছিলেন, ‘আমি কিছুই করিনি, আমি বাড়ি যাওয়ার চেষ্টা করছিলাম’। কিন্তু তার কোনো কথা শুনেই গাড়ির বাইরে এনে মাটিতে ফেলে দেয়া হয় আর মুখে ছিটিয়ে দেয়া হয় পিপার স্প্রে। আরও পড়ুন: এবার ঘুমন্ত কৃষ্ণাঙ্গ যুবককে পুলিশের গুলি একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘মাটিতে শুয়ে থাক।’ আর অন্য একজন বলেন, ‘চেপে ধরো।’ এ সময় নিকোলসকে বলতে দেখা যায়, ‘ঠিক আছে, আমি মাটিতে শুয়ে পড়েছি।’ পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, ‘হাত ভেঙে দেয়ার আগে সেগুলো শরীরের পিছনে নাও।’ এ সময় নিকোলস বলে ওঠেন, ‘আপনারা একটু বেশি করছেন, আমি কেবল বাড়িতে যেতে চাইছি।’ এর কিছুক্ষণ পর ক্যামেরা ঝাপসা হয়ে আসে ও নিকোলসকে দৌড়াতে দেখা যায়। এরপর একজন পুলিশ কর্মকর্তা তাকে লক্ষ্য করে টেসার (শরীর অবশ করে দেয়ার জন্য বিশেষ বৈদ্যুতিক গুলি) চালায়। এরপর ওই পুলিশ কর্মকর্তা নিকোলসকে মারতে থাকে। প্রথক আরেক ভিডিওতে দেখা যায়, নিকোলসকে ধরে ফেলার পর ধস্তাধস্তি হয় ও পুলিশ কর্মকর্তারা তাকে পেটাতে থাকে। এ সময় দুজন নিকোলসকে ধরে রাখে ও আরেকজন তাকে লাথি মারতে থাকে। আরেকজন একটি রড দিয়ে নিকোলসকে আঘাত করে। অন্যজন নিকোলসকে ঘুষি মারতে থাকে। আরও পড়ুন: কৃষ্ণাঙ্গ যুবকের গায়ে ৯০ রাউন্ড গুলি চালায় পুলিশ! কয়েক মিনিট পর নিকোলস নিজের গাড়ির কাছেই রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন। এ ঘটনার তিন দিন পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নিকোলস। নিকোলসের পরিবার এই ঘটনাকে ১৯৯১ সালে লস এঞ্জেলেসের গাড়িচালক রডনি কিংকে পেটানোর ঘটনার সঙ্গে তুলনা করেছেন। ভিডিও ফুটেজ সামনে আসার পরদিন শনিবার (২৮ জানুয়ারি) পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। একই সঙ্গে তাদেরকে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। ভিডিওগুলো প্রকাশের পর প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেন, এ ঘটনায় তিনি ক্ষুব্ধ ও খুবই কষ্ট পেয়েছেন। টায়ার নিকোলসের মা ও সৎবাবার সঙ্গে ফোনেও কথা বলেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন। ১০ থেকে ১৫ মিনিটের ওই ফোনালাপের বিষয়ে তিনি বলেন, নিকোলাসের মা রোভন ওয়েলস অবশ্যই বড় বেদনার মধ্যে রয়েছেন। ছেলের মৃত্যুর জন্য তাকে সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি। আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশের গুলিতে বাড়ছে মৃত্যু টায়ার নিকোলস যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বৈশ্বিক পণ্য আদান-প্রদানের জন্য সবচেয়ে বড় কোম্পানিগুলোর একটি ফেডএক্সের একজন কর্মী ছিলেন। পুলিশের হাতে তার অকাল মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষুব্ধ মার্কিনীরা। তার এ হত্যার সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে ২০২০ সালে জর্জ ফ্লয়েড (৪৬) নামের আরেক কৃষ্ণাঙ্গ যুবকের পুলিশ কর্মকর্তাদের হাতে হত্যার শিকার হওয়ার ঘটনাটি। জাল নোট ব্যবহারের অভিযোগ এনে ওই বছরের ২৫ মে ফ্লয়েডকে আটক করে মিনেসোটা রাজ্যের মিনিয়াপোলিস শহরের পুলিশ। আটকের পর হাঁটু দিয়ে সড়কে তার ঘাড় চেপে ধরেন পুলিশ কর্মকর্তারা। এ সময় নিশ্বাস নিতে পারছেন না বলে জানালেও ছাড়েননি তারা। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

ইউক্রেনের যুদ্ধ বন্ধে বাইডেনের শান্তি প্রস্তাব, বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস

ইউক্রেনে যুদ্ধ থামাতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে শান্তি প্রস্তাব দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন- এমনই এক বিস্ফোরক তথ্য হাজির করেছে সুইস-জার্মানভিত্তিক এক সংবাদপত্র এনজেডজেডে। তাদের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার (২ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজইউক জানায়, মধ্য জানুয়ারিতে সিআইএ’র একজন পরিচালক সি উইলিয়াম বার্নস জো বাইডেনের পক্ষ থেকে শান্তি প্রস্তাব নিয়ে ইউক্রেন ও রাশিয়া সফর করেন। ওই সংবাদমাধ্যমের দাবি, বার্নস ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় রাশিয়াকে ইউক্রেনের দখল করা ২০ শতাংশ ভূমি দিয়ে যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব দেন। তিনি দুই পক্ষকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। তবে কিয়েভ বা মস্কো কেউ তার এই প্রস্তাবে রাজি হয়নি। উভয় পক্ষই তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। ইউক্রেন বলেছে, তারা কোনভাবেই তাদের ভূখন্ড রাশিয়াকে দিতে রাজি নয়। আর রাশিয়া জানিয়েছে, এই যুদ্ধ দীর্ঘমেয়াদী হবে। আর এতে জয়ী হবে রাশিয়া। তবে ওই সংবাদমাধ্যমের খবর ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন সি উইলিয়াম বার্নস। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, ‘আমাকে নিয়ে যে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।’ এছাড়া হোয়াইট হাউসের সিকিউরিটি কাউন্সীলের উপমুখপাত্র সিয়ান ডাভেট বলেন, ‘এই প্রতিবেদন সত্য নয়।’ আরও পড়ুন: জব্দ করা রাশিয়ান অর্থ ইউক্রেনকে দেবে যুক্তরাষ্ট্র জার্মানির এক রাজনীতিবিদের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার (২ ফেব্রুয়ারি) এনজেডজেডে তাদের প্রতিবেদনে আরো জানায়, সিআইএর পরিচালক সি উইলিয়াম বার্নস ও বাইডেনের ন্যাশানাল সিকিউরিটি উপদেষ্টা জেক সুলিভিয়ান এই যুদ্ধের দ্রুত ইতি টানতে চান। কারণ তারা এখন চীনের দিকে দৃষ্টি দিতে চান। এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন চান না যে, রাশিয়া আর ধংসাত্মক যুদ্ধ চলমান রাখুক । ওই জার্মান রাজনীতিবিদ এনজেডজেডেকে বলেছেন, এটি ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি দীর্ঘ যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘এই যুদ্ধের ফলে জার্মানি অর্থনৈতিক এবং সামরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

তুরস্ক-পশ্চিমা সম্পর্কের অবনতি কীসের ইঙ্গিত?

চলতি বছর তুরস্কের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আগামী মে মাসেই দেশটিতে পার্লামেন্ট ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। আবার এ বছরেই পূর্ণ হবে বহুল আলোচিত লুজান চুক্তির ১০০ বছর। তুরস্ক-পশ্চিমা সম্পর্কের অবনতি কীসের ইঙ্গিত? এরই মধ্যে তুরস্কের রাজনীতির মাঠ ধীরে ধীরে গরম হতে শুরু করেছে। ৬ দলীয় জোট তাদের আগামী সরকারের রূপরেখা ও নির্বাচনী ইশতেহারঘোষণা করেছে। প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের বিরুদ্ধে যাকে মাঠে নামানোর কথা ভাবা হচ্ছে আগামী সপ্তাহেই (১৩ ফেব্রুয়ারি) ঘোষণা করা হবে তার নাম। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, তারপরই দেশটির রাজনীতির মাঠ টগবগ করেফুটতে থাকবে। এদিকে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে আঙ্কারার সম্পর্ক ক্রমেই অবনতি হচ্ছে। এফ-১৬ যুদ্ধবিমান নিয়ে গত কয়েক বছর ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করে আসছিল তুরস্ক। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ওয়াশিংটন যে আঙ্কারাকেএফ-১৬ যুদ্ধবিমান দেবেনা তা মোটামুটি নিশ্চিত।এদিকে তুরস্কের সামরিক খাতে আরও কিছুনিষেধাজ্ঞা দেয়ার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্রসহ কিছুপশ্চিমা দেশ। আরও পড়ুন: কোরআন অবমাননার জের /তুরস্কে দূতাবাস বন্ধ করছে ইউরোপীয়রা তুরস্কেরবায়রাকতার ড্রোনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়ারকথা বলছে জোরেশোরেই। সেই সঙ্গে রাশিয়ার সঙ্গেসম্পর্ক ছিন্ন না করলে তুরস্কেরওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দেয়া উচিৎ বলেকিছু পশ্চিমা দেশ ইইউকে পরামর্শদিচ্ছে। এদিকে সুইডেন, ডেনমার্ক ও নেদারল্যান্ডসে পবিত্রকুরআন পোড়ানোর ঘটনার রেশ ধরে আঙ্কারসঙ্গে পশ্চিমের সম্পর্ক ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে। তুরস্কে সন্ত্রাসী হামলা হতে পারে বলেকয়েকদিন আগেই সতর্কতা জারিকরেছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডা। শুধুতাই নয়, নিজ নিজদেশের নাগরিকদের তুরস্ক ভ্রমণের ব্যাপারে সতর্ক করেছে। সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার হলো, সন্ত্রাসী হামলাহতে পারে, এমন সতর্কতার পরযুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জার্মানি, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য নেদারল্যান্ডস তুরস্কে অবস্থিত কূটনৈতিক মিশন (দূতাবাস/কনস্যুলেট) বন্ধ করে দিয়েছে।এমনকি ইস্তাম্বুলে ফ্রান্সের মালিকানাধীন একটি কলেজও বন্ধকরে দেয়া হয়েছে। আরও পড়ুন: ইরাকে তুরস্কের সামরিক ঘাঁটিতে রকেট হামলা শুধু তাই নয়, তুরস্কের পশ্চিমেগ্রিস ও তুরস্কের মাঝেএজিয়ান সাগগরে বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত কয়েক বছরধরেই এই গ্রিস, গ্রিকসাইপ্রাস ও সিরিয়ার সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো ব্যাপক অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে সজ্জিত করছে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দুই নির্বাচন ও লুজান চুক্তির শেষ হওয়ার বিষয়টি সামনে রেখে এসব ঘটনা কিসের ইঙ্গিত দিচ্ছে, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব ঘটনার মধ্যদিয়ে তুরস্কের আকাশে কালবৈশাখী ঝড়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। দেশটির পশ্চিমা আকাশের কোণে যে কালোমেঘজমাট বেধে তা এখনজানান দিতে শুরু করেছে।ঠাণ্ডা বাতাস বইতে শুরু করেছে।সে বাতাসের তীব্রতাও ক্রমেই বাড়ছে। এটা এখন শেষ পর্যন্ত বিশালকোনো কালবৈশাখী ঝড়ে রুপ নেবেনাকি নির্বাচন পর্যন্ত তা কালোমেঘ হয়েইথাকবে এখনই বলা যাচ্ছেনা। তবে এটা যেশুভলক্ষণ না তা নিশ্চিত। তুরস্কে ইউরোপীয় দেশগুলোর কনস্যুলেট বন্ধ সম্প্রতি আঙ্কারা সুইডেন ও ফিনল্যান্ডের ন্যাটোসদস্যপদ প্রস্তাবে ভেটো দেয়ার পরথেকে তুরস্ক ও পশ্চিমা দেশগুলোরমধ্যে উত্তেজনা বাড়ছিল। এরপর সুইডেন, ডেনমার্ক ও নেদারল্যান্ডসে পবিত্রকুরআন পোড়ানোর ঘটনার জের ধরে পশ্চিমের সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্ক ক্রমেই শীতল হচ্ছে। এছাড়া পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোয় সুইডেনও ফিনল্যান্ডের যোগ দেয়া নিয়েও তুরস্কেরসঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর বিরোধ দেখা দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান ফিনল্যান্ডের ন্যাটোয় যোগ দেয়ার বিষয় রাজি থাকলেওসুইডেনের বিষয়ে আপত্তি তুলেছেন। তুরস্ক ভেটো দিলে ন্যাটোয়সুইডেন ও ফিনল্যান্ডের যোগদানআটকে যাবে। এই পরিস্থিতিতে তুরস্ককে চাপ দেয়ার কৌশল বেছে নিয়েছে পশ্চিমারা। মূলত এ কারণে সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে গত বুধবার (১ ফেব্রুয়ারি) জার্মানি, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশ ইস্তাম্বুলে তাদের কনস্যুলেট বন্ধ করে দেয়। আরও পড়ুন: ন্যাটোর সদস্য হিসেবে ফিনল্যান্ডকে মানবে তুরস্ক, সুইডেনকে নয় এর প্রতিক্রিয়ায় বৃহস্পতিবার (২ ফেব্রুয়ার) নয়টি দেশের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে তুরস্ক।আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন মতে, জার্মানি, বেলজিয়াম, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, সুইজারল্যান্ড, সুইডেন ও যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতদেরপররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডাকা হয়। তুরস্কের পার্লামেন্ট ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পাশাপাশি লুজান চুক্তির ১০০ বছর পূর্ণ হওয়া ঘটনা সামনে রেখেছেন পশ্চিমের সঙ্গে আঙ্কারার সম্পর্কের অবনতি হওয়ার বিষয়টিকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। পার্লামেন্ট ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচন তুরস্কে আগামী ১৪ মে পার্লামেন্টও প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হবে বলে ইতোমধ্যে ঘোষণা করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। গত মাসে (২১ জানুয়ারি) উত্তরপশ্চিম তুরস্কের বুরসায় এক যুব সম্মেলনেএ ঘোষণা দেন তিনি। প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান বলেন, ‘নির্বাচন হবে ১৪ মে। আমি সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ দিচ্ছি, তার পূর্বনির্দিষ্ট পথেআমরা হাঁটছি। আমাদের যে যুবরা এবারভোটাধিকার পেয়েছেন, তাদের জানিয়ে দিতে চাই, নির্বাচনহবে ১৪ মে। তখনতারা ভোট দিতে পারবেন।’ এরদোয়ান জানান, আগামী ১০ মার্চ তিনিচূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবেন। এরপর তুরস্কের সুপ্রিমইলেকশন কাউন্সিল নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করবে।যদি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কোনো প্রার্থী ৫০শতাংশ ভোট না পান, তাহলে ২৮ মে দ্বিতীয়পর্বের ভোটগ্রহণ হবে। এরদোগানের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ ২০০৩ সাল থেকে তুরস্কের ক্ষমতায় রয়েছেন এরদোয়ান। প্রথম তিনি প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। এরপর ২০১৪ সালের আগস্ট মাসে প্রেসিডেন্ট হন তিনি। তার নেতৃত্বে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোরগুরুত্বপূর্ণ সদস্য, ওই অঞ্চলে বড়সামরিক শক্তি ও সেই সঙ্গে ক্রমশ বড় অর্থনৈতিক শক্তিওহয়ে ওঠার পথে তুরস্ক। ২০১৮ সালে এরদোয়ান একটি নতুন শাসনব্যবস্থা চালু করেন। এই ব্যবস্থা দেশটির প্রেসিডেন্টের হাতে বেশির ভাগ ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করে। আগে প্রেসিডেন্টের পদটি ছিল মূলত আনুষ্ঠানিক পদ। নতুন ব্যবস্থায় প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচন একই দিনে অনুষ্ঠানের নিয়ম করা হয়। আরও পড়ুন: কোরআন অবমাননা: সুইডেনকে সমর্থন না দেয়ার ঘোষণা তুরস্কের তুরস্কের অর্থনৈতিক মন্দা, নাগরিক অধিকার ও স্বাধীনতা সংকুচিত করার জন্য ৬৮ বছর বয়সী এরদোয়ানকে দায়ী করছে বিরোধীরা। তারা তার বিরুদ্ধে ‘এক ব্যক্তির শাসন’ব্যবস্থা চালুর অভিযোগও করছে। তবে এবার তার সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছেবলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ছয় দলেরবিরোধী জোট এখনও প্রেসিডেন্টপদপ্রার্থীর নাম জানায়নি। তবে আগামী সপ্তাহেই তা ঘোষণা করা হবে বলে জানা গেছে। এছাড়া কুর্দিদের প্রতি সহানুভূতিশীল রাজনৈতিক দল জানিয়েছে, তারা আলাদা করে প্রার্থী দেবে। লুজান চুক্তি কী, কী আছে তাতে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে উসমানীয় সাম্রাজ্যের পতন ঘটে। যুদ্ধশেষ হওয়ার পর সমাপ্তকারী চূড়ান্ত চুক্তি হিসেবে সুইজারল্যান্ডের লুজান শহরে এই চুক্তিসই হয়েছিল। চুক্তিতে একদিকে ছিলেন উসমানীয় সাম্রাজ্যের উত্তরসূরি তুরস্কের প্রতিনিধিরা। অন্যদিকেব্রিটেন, ফ্রান্স, ইতালি, জাপান, গ্রিস, রোমানিয়া এবং যুগোস্লাভিয়ার প্রতিনিধিরাছিলেন। সাত মাস ধরেআলোচনার পর ১৯২৩ সালের২৪ জুলাই চুক্তিটিতে সই হয়। আরও পড়ুন: দ্য ইকোনমিস্টের বিশ্লেষণ /একনায়কতন্ত্রের দ্বারপ্রান্তে তুরস্ক চলতি ২০২৩ সালের ২৪ জুলাই সেইচুক্তির মেয়াদ শেষ হবে। ওইদিন পশ্চিমাদের সব শর্তের শিকলছিঁড়ে যাবে। গত সেই শিকল ছেঁড়ার মুক্তি ইতোমধ্যে উদ্‌যাপনশুরু করেছে তুরস্ক। দেশটির নেতাদের বিশ্বাস, লুজান চুক্তিরনাগপাশ থেকে মুক্তির পরতুর্কিরা ফের উসমানীয় সাম্রাজ্যফিরিয়ে আনতে পারবে না। কিন্তু তুরস্ক এমন এক পরাশক্তিহিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারবে, যা হারানো গৌরবের কথা গোটা দুনিয়াকে মনে করিয়ে দেবে।

বগুড়ায় বাস ও প্রাইভেটকার উল্টে নিহত ৩, আহত ২০

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে ট্রাকের সঙ্গে প্রাইভেটকারের সংঘর্ষে এক নারীসহ দু’জন নিহত হয়েছেন। এদিকে, জেলার মাটিঢালি এলাকায় বাস উল্টে একজন নিহত হয়েছেন। উভয় দুর্ঘটনায় ২০ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) পৃথক দুর্ঘটনায় এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এসআই আলী জাহান মোকামতলার সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তিনজনকে বহন করা প্রাইভেটকারটি রংপুরের দিকে যাওয়ার পথে রাত সোয়া নয়টার দিকে মহাসড়কের চকপাড়া এলাকায় এলে এটির চাকা ফেটে যায়। এসময় প্রাইভেটকারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সামনে থাকা ট্রাককে ধাক্কা দেয়। পরে প্রাইভেটকারে থাকা তিনজনকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক কুহেলী ও সিয়াম নামের দু’জনকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত কুহেলী বরিশাল জেলার হরিনাথপুর এলাকার হুমায়ুন কবিরের স্ত্রী ও সিয়াম কুহেলীর ছোট ভাই। এসময় গুরুতর আহত হন হুমায়ুন নামে আরও একজন। এ ব্যাপারে মেডিকেল ফাঁড়ির এএসআই রকিবুল হাসান বলেন, নিহত দু’জনের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা আছে। এ ব্যাপারে হাইওয়ে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নেবে। অন্যদিকে, রাত সোয়া ১১টার দিকে জেলার মাটিঢালি দ্বিতীয় বাইপাস এলাকায় গাইবান্ধা থেকে ঢাকাগামী সৈকত পরিহনের একটি বাস অন্য একটি বাসকে ওভারটেক করতে গেলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায় (এমনটাই জানিয়েছে বাসের যাত্রীরা)। এসময় ঘটনাস্থলে মিলন (৪০) নামে একজন মারা যান। নিহত মিলন গাইবান্ধা জেলা সদর এলাকার বাসিন্দা। এ ঘটনায় নারী সহ মোট ২০ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৬ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

চীনা গোয়েন্দা বেলুন ভূপাতিত করল যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শনিবার ক্যারোলিনা উপকূলে একটি সন্দেহভাজন চীনা গোয়েন্দা বেলুন ভূপাতিত করেছে। বেলুনটি বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমান দিয়ে ভূপাতিত করা হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুজন কর্মকর্তা জানান, বেলুনটি প্রায় ৬০ হাজার ফুট ওপরে উড়ছিল। আনুমানিক এটি প্রায় তিনটি স্কুল বাসের সমান। খবর বার্তা সংস্থা এপির। খবরে বলা হয়, আটলান্টিক মহাসাগরে মার্কিন আঞ্চলিক জলসীমায় বেলুনের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধারে অভিযান চালানো হয়। টেলিভিশনের ফুটেজে দেখা গেছে, একটি ছোট বিস্ফোরণের পর বেলুনটি পানির দিকে নেমে আসে। এ সময় মার্কিন সামরিক জেটগুলোকে আশপাশে উড়তে দেখা যায়। পুনরুদ্ধার অভিযানের জন্য জাহাজগুলোকে ব্যবহার করা হয়েছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়, বেলুনটি সমুদ্রে ডুবে যাওয়ার আগে যতটা সম্ভব ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করার লক্ষ্য ছিল। শনিবার সকালে বেলুনটি ক্যারোলিনাসে দেখা যায়। একে ভূপাতিত করতে চালানো অভিযানের জন্য ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ক্যারোলিনার আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। যার মধ্যে চার্লসটন ও মার্টল বিচ, দক্ষিণ ক্যারোলিনা ও উইলমিংটন, উত্তর ক্যারোলিনার বিমানবন্দর রয়েছে। এছাড়া উপকূলরক্ষী বাহিনী নাবিকদের অবিলম্বে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। এর আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে ওড়া সন্দেহভাজন চীনা গোয়েন্দা বেলুনের ওপর বিশেষ নজর রাখা হবে বলে জানিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি। তবে বেলুনে গুলি চালানোর জন্য তিনি অভ্যন্তরীণভাবে তীব্র চাপের সম্মুখীন হচ্ছেন বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। গত বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে সন্দেহভাজন চীনা গোয়েন্দা বেলুন শনাক্ত করা হয়েছে। বেলুনটিকে উত্তর-পশ্চিম আমেরিকায় উড়তে দেখা গেছে। ওই অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর বিমানঘাঁটি, ভূগর্ভস্থ কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্র রয়েছে। বেলুনটির গতিবিধি ও কার্যক্রম যাচাই করতে যুদ্ধবিমান পাঠানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ‘অত্যন্ত সংবেদনশীল’ সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনার ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়া বেলুন নিয়ে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। চীনের দাবি, এটি আবহাওয়া সংক্রান্ত বিষয়ে গবেষণার বেলুন। যুক্তরাষ্ট্রের আকাশসীমায় প্রবেশ করায় দুঃখ প্রকাশ করেছে দেশটি। এ প্রেক্ষাপটে নির্ধারিত চীন সফর স্থগিত করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন।

মোমেন–হিনা বৈঠক : বাংলাদেশ-পাকিস্তান বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা

শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোয় আজ শনিবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিনা রাব্বানি খার সঙ্গে বৈঠক করেন। ছবি : টুইটার থেকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিনা রাব্বানি খার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। আজ শনিবার শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোয় এ বৈঠক হয়। শ্রীলঙ্কার ৭৫তম স্বাধীনতা দিবস উদ্‌যাপন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে অনুষ্ঠানের ফাঁকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে বৈঠক করেন। বৈঠকে তাঁরা অর্থনীতি, বাণিজ্যসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে আলোচনা করেছেন। আজ বিকেলে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মুমতাজ জাহরা বালুচ টুইট করে এ তথ্য জানিয়েছেন। প্রসঙ্গত, শ্রীলঙ্কার ৭৫তম স্বাধীনতা দিবস উদ্‌যাপন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন গতকাল শুক্রবার থেকে কলম্বো সফর করছেন। রেডিও পাকিস্তানের এক খবরে বলা হয়েছে, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সম্পর্ক গতিশীল হওয়ায় হিনা রাব্বানি সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি দুই দেশের অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও বিনিয়োগ সংযোগ জোরদারের পাশাপাশি পর্যটন এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।