Sponsor



Slider

দেশ

মেহেরপুর জেলা খবর

মেহেরপুর সদর উপজেলা


গাংনী উপজেলা

মুজিবনগর উপজেলা

ফিচার

খেলা

যাবতীয়

ছবি

ফেসবুকে মুজিবনগর খবর

ইউরোপীয় ইউনিয়নের বক্তব্যে ‍যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন

লাদেশে বিরোধীদলের নেতাকর্মী গ্রেপ্তার নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান জোসেপ বোরেল উদ্বেগ প্রকাশ করে গতকাল রোববার (৫ নভেম্বর) বিবৃতি দেন। একইসঙ্গে সব পক্ষকে তিনি সহিংসতা থেকে বিরত থেকে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের উপায় বের করার কথা জানান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এমন মন্তব্যে সমর্থন জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। নিজেদের এক্স ভেরিফায়েড আইডিতে বোরেলের পোস্টকে শেয়ার করে বাংলাদেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস ‘সমর্থন’ জানায়। আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টা ৩৪ মিনিটে শেষ বার সম্পাদিত ওই পোস্টে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস বিচার বিভাগ, জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা, কলোনি ফাউন্ডেশন ফর জাস্টিস, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, ট্রায়েল ওয়াচ, সংবাদ সংস্থা এএফপিসহ ৪৪টি সংস্থাকে মেনশন এবং মানবাধিকার সংস্থাকে হ্যাশ ট্যাগ করেছে। দূতাবাস জোসেপ বোরেলের পোস্টটি শেয়ার দেওয়ার সময় লিখেছে, আমরা সমর্থন জানাচ্ছি। জোসেপ বোরেলে গতকাল তার পোস্টে লেখেন, ‘বাংলাদেশে আট হাজারের বেশি বিরোধী দলের নেতাকর্মী গ্রেপ্তারে উদ্বেগ জানাচ্ছি।’ ‘সব ক্ষেত্রেই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে’ জানিয়ে জোসেপ বোরেল লিখেছেন, ‘আমরা সব পক্ষকে সহিংসতা থেকে বিরত থাকতে উৎসাহিত করি।’ তিনি আরও লিখেছেন, ‘অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য একটি শান্তিপূর্ণ উপায় বের করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, যা গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতার জন্য সহায়ক হবে

মেহেরপুর থানা রোডে ডেনের বেজ ঢালায় পরিদর্শনে মেয়র রিটন

মেহেরপুর বড়বাজার থানা রোডে ডেনের বেজ ঢালায় চলাকালীন পরিদর্শনে আসেন পৌরপিতা জনাব মোঃ মাহফুজুর রহমান রিটন

মেহেরপুর বড়বাজারের বিশিষ্ট সারও বিষ ব্যবসায়ী োয়াজ্জেম হোসেন ইন্তেকাল করেছেন

মেহেরপুর বড়বাজারের বিশিষ্ট সারও বিষ ব্যবসায়ী ২ নং ওয়ার্ড মুখার্জি পাড়া নিবাসী মরহুম গিয়াসউদ্দিন এর সেজো ভাই, শহীদ রোভার মাসুম ও ব্যবসায়ী মনিরা খুকুর পিতা এবং মুজিবনগর খবর ডটকম এর উপদেষ্টা সম্পাদক মোহাঃ আসফারুল হাসান সুমন এর সেজো চাচা মোয়াজ্জেম হোসেন (৭৮) বুধবার ভোর সাড়ে ৬ টার সময় ঢাকার বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন ( ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন) ।

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলায় কেউ ঠিকানাহীন থাকবে না : প্রধানমন্ত্রী

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলায় কেউ ঠিকানাহীন থাকবে না : প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বুধবার গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমিসহ ঘর হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। ছবি : ফোকাস বাংলা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলায় কোনো মানুষ ঠিকানাহীন থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ বুধবার (২২ মার্চ) গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি চতুর্থ ধাপে ৩৯ হাজার ৩৬৫টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমিসহ ঘর হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। এ সময় জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আরও যদি কেউ ভূমিহীন, গৃহহীন থাকে আপনারা তার তালিকা করবেন। আমরা তাদেরও ঘর করে দেব।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘কোনো মানুষ ঠিকানাবিহীন থাকবে না, সে ব্যবস্থা আমরা করে দিচ্ছি। আমরা শুধু ঘরবাড়িই যে তৈরি করে দিচ্ছি তা কিন্তু নয়, সেই সঙ্গে পানির ব্যবস্থা, সুপেয় পানি, বিদ্যুতের ব্যবস্থা আমরা করে দিচ্ছি। ভূমিহীন-গৃহহীনদের ঋণ দেওয়া হচ্ছে। তারা যে কাজ করতে চায় সে কাজ যেন তারা করতে পারে, সেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমাদের এই পদক্ষেপের ফলে ১৫৯টি উপজেলা সম্পূর্ণ ভূমিহীন-গৃহহীন মুক্ত হয়ে গেছে। এর আগে পঞ্চগড় ছাড়াও মাগুরা জেলার সব উপজেলাসহ ৫২টি উপজেলা ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত করেছি। ইনশাআল্লাহ, বাংলাদেশের একটি উপজেলাও বাকি থাকবে না

গ্যাটকো দুর্নীতি মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি ১৩ মার্চ

গ্যাটকো দুর্নীতি মামলার অন্যতম আসামি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে করা গ্যাটকো দুর্নীতি মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আগামী ২৪ জুলাই দিন ধার্য করেছেন আদালত। আজ রোববার কেরাণীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত ঢাকার ৩ নম্বর বিশেষ জজ বিচারক আলী হোসাইন এ দিন ধার্য করেন। খালেদা জিয়ার আইনজীবী হান্নান ভূঁইয়া এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘আজ খালেদা জিয়া আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরা দাখিল করেন। এরপরে দুদকের আইনজীবীরা অভিযোগ গঠনের শুনানি করে। এদিন রাষ্ট্রপক্ষের শুনানি শেষ হওয়ায় বিচারক পরবর্তী তারিখে আসামিপক্ষের শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন। ২০১৬ সালের ৫ এপ্রিল এ মামলায় খালেদা জিয়া আত্মসমর্পণ করে জামিন পান। মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপপরিচালক গোলাম শাহরিয়ার বাদী হয়ে ১৩ জনের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় গ্যাটকো দুর্নীতি মামলা দায়ের করেন। পরে ২০০৮ সালের ১৩ মে খালেদা জিয়াসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের (সিএমএম) আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপপরিচালক মো. জহিরুল হুদা। মামলার ২৪ আসামির মধ্যে খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো, সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান, বিএনপির সাবেক মহাসচিব আবদুল মান্নান ভূঁইয়া, জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামী মারা গেছেন। ফলে তাঁদের নাম মামলা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এখন আসামির সংখ্যা ২০ জন। গত ১৭ অক্টোবর সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন মারা গেছেন। মৃত্যুর প্রতিবেদন এলে আইন অনুযায়ী তাঁকেও এ মামলা থেকে বাদ দেওয়া হবে। মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা দরপত্রের শর্ত ভঙ্গ ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গ্যাটকোর সঙ্গে চুক্তি সইয়ের ফলে সরকারের ১৪ কোটি ৫৬ লাখ ৩৭ হাজার ৬১৬ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়। এ ছাড়া গ্যাটকোকে ঠিকাদারি কাজ পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে অবৈধভাবে আরাফাত রহমান কোকো ও ইসমাইল হোসেন সায়মন দুই কোটি ১৯ লাখ ৯৯ হাজার ৭৩৬ টাকার আর্থিক সুবিধা নেন বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়।

আমি গর্বিত আমি মেহেরপুরের

আমি গর্বিত আমি মেহেরপুরের আমি গর্বিত আমি মেহেরপুরের এই কর্মময় যান্ত্রিক জীবনে চলার পথে কত মানুষের ভালোবাসা, সাহস ও পরামর্শে জীবন আলোকিত হয়, তা গভীর ভাবে উপলব্ধি করার ক্ষমতা আজকের দিনে আমাদের অনেকের থাকে না। মানুষ তার শেকড়, পরিবার ও সমাজ এমনকি নিজের কাছে থেকেও ক্রমাগত বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে, ভুলে যায় নিজ পরিচয়। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে কেনো জানি তার বিপরীতটা হয়েছে। প্রায় একযুগ হয়ে গেলো দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক এসেছি । কখনো কাজের প্রয়োজনে বা একান্ত ব্যক্তিগত প্রশান্তির জন্য বহুদেশ ঘুরেছি কিন্তু আমার দেশের মতো আমার মেহেরপুরের মতো এতোটা শান্তি আমি উপলব্ধি করতে পারিনি। এতটো অনুপ্রেরণা আমি আর কোথা থেকে পাইনি । আমি যতোটা গর্বিত বাংলাদেশী হয়ে ততোটা গর্বিত মেহেরপুরের হয়ে যদিও বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিম সীমান্তের ছোট্ট একটি জেলা আমাদের মেহেরপুর। তবে এ জেলার রয়েছে প্রায় ২ হাজার বছরের প্রাচীন ইতিহাস ও ঐতিহ্য। রয়েছে রাজনৈতিক গুরুত্ব। আমি খুব অহংকার করে বলতে পারি ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ঘটনায় মেহেরপুরের মুজিবনগর সূতিকাগারের ভূমিকা পালন করেছে। আমার এ জেলার ইতিহাস হয়েছে অত্যন্ত দীপ্ত গৌরবোজ্জ্বল। মুক্তিযুদ্ধের সময়ে মেহেরপুর জেলায় মুজিবনগরের বিশাল আম্রকাননের ছায়ায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম সরকার শপথ গ্রহণ করে এবং মেহেরপুরের মুজিবনগরকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের অস্থায়ী রাজধানী ঘোষণা করে। আর সেই দিনই বঙ্গবন্ধুর নাম অনুসারে এই জায়গার পূর্বনাম বৈদ্যনাথতলা পরিবর্তন করে নাম রাখা হয় মুজিবনগর। প্রাচীন আমল থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে এ অঞ্চলে গড়ে উঠেছে নানান স্থাপনা।তাছাড়া সামাজিক রাজনৈতিক অর্থনৈতিক সংস্কৃতিক সব মিলিয়ে ইতিহাস এবং ঐতিহ্য বাংলাদেশের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। বাংলাদেশের প্রাচীন জনপদের আদলে এখানকার বসতিগুলো গড়ে উঠেছে ভৈরব, কাজলা, ছেউটি, মাথাভাঙ্গা প্রভৃতি নদীর উভয় তীরে অপেক্ষাকৃত উচূঁ জায়গায় এবং আধুনিককালে সড়কপথের দুধারে। এ ছাড়া বিল বা হাওড় অঞ্চলে পুঞ্জিভূত বা গুচ্ছ বসতিও দেখা যায়। আবাসন ব্যবস্থার ক্ষেত্রে শহর ও ব্যবসা কেন্দ্রগুলোতে ৮৪% এবং গ্রামীণ জনপদে ৪২% পাকা ও সেমিপাকা আবাসন লক্ষ্য করা যায় । বাংলারেশের দর্শনীয় ও ঐতিহাসিক স্থান গুলোর মধ্যে ও আমাদের মেহেরপুর অনেকটা পরিচিত তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো; মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ, মেহেরপুর শহীদ স্মৃতিসৌধ, মেহেরপুর শহরের কবরস্থান, ভাটপাড়া ও আমঝুপি নীলকুঠি, ভবানন্দপুর মন্দির, বল্লভপুর চার্চ, ভবরপাড়া রোমান ক্যাথলিক চার্চ, নায়েব বাড়ি মন্দির, বাঘুয়াল পীরের দরগা ইত্যাদি। আমাদের মেহেরপুরে রয়েছে বাংলাদেশের ইতিহাসের সাথে জড়িত বহু মুক্তিযোদ্বা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব লেখক কবি সাহিত্যিক ধর্মসংস্কারক এবং ক্রীড়াঙ্গনে বহুলোক প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন তাদের ভিতরে উল্লেখযোগ্য এম. এ. হান্নান – মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার প্রাপ্ত; মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক সংসদ সদস্য মরহুম ছহিউদ্দীন আহম্মদ, সাবেক সাংসদ ভাষাসৈনিক মরহুম আহমদ আলী, এমএনএ মরহুম নুরুল হক। ছাত্রনেতা আব্দুল মান্নান, এম এ এস ইমন ‍যিনি মেহেরপুর প্রতিদিন নামে একমাত্র পত্রিকার একজন সফল প্রকাশক। শাহ আলম – ক্রীড়াক্ষেত্রে অবদানের জন্য মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার প্রাপ্ত; ইমরুল কায়েস- ক্রিকেটার, বাংলাদেশ জাতীয় দল।আশরাফ মাহমুদ বিশিষ্ট রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী। সিলন সুপার সিংগার প্রথম রানার্স আপ সুমনা রহমান। সফটওয়্যার আবিষ্কারক সাদ্দাম হোসেন।দীনেন্দ্রকুমার রায় – লেখক; কথা সাহিত্যিক অধ্যাপক রফিকুর রশিদ, আব্দুল্লাহ আল আমিন, অধ্যাপক আনিসুর রহমান, মোজাফ্ফর হোসেন, সাংবাদিক কবি রফিকুল আলম যার লেখা কবিতা আমাজন ডট কমেও পাওয়া যায়। স্বামী নিগমানন্দ – ধর্মসংস্কারক; আবদুল মোমিন – বাংলায় শ্রমিক আন্দোলনের নেতা; ওয়ালিল হোসেন – বীর প্রতীক খেতাব প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা। অরো অনেক গুনীজন আছেন এই আমার প্রিয় মেহেরপুর জেলায়। বর্তমানে স্বাধীনতার পর এই প্রথম আমরা পেয়েছি জনাব ফরহাদ হোসেনকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসাবে। অনেক কৃতি সন্তানের মধ্যে আমরা পেয়েছি একজন রাষ্ট্রদূত জনাব জাহাঙ্গীর আলমকে। যিনি এখন উজবেকিস্তানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্ব্বল দৃষ্টান্ত হলো আমাদের জেলা যেখানে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জনপ্রতিনিধি সহ সমস্ত জনগণ সুস্থ সুন্দর ভাবে জীবনযাপন করে। আমাদের এই গৌরবগাঁথা মেহেরপুরের সুন্দর স্মৃতি ও অহংকার নিয়ে বাস করি আমেরিকাতে আর মন পড়ে থাকে মেহেরপুরে। এই কারলেই আমি গর্বিত আমি মেহেরপুরের।

রাশিয়ার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে ইস্পাত কারখানা

রাশিয়ার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে ইস্পাত কারখানা মারিউপুলের আজভস্তাল ইস্পাত কারখানায় লুকিয়ে থাকা সর্বশেষ ইউক্রেনীয় সেনারা আত্মসমর্পণ করেছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এমন দাবি করেছে। রাশিয়ার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে ইস্পাত কারখানা এরমধ্য দিয়ে কয়েক মাস ধরে লড়াই চলা বন্দরনগরী মারিউপুলে বিজয় ঘোষণা করেছে রাশিয়া। এতদিন কারখানার বিশাল কমপ্লেক্সে ইউক্রেনীয় সেনারা লুকিয়ে ছিল। যে কারণে শহরটিতে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ঘোষণা করতে পারেনি রুশ বাহিনী। রুশ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হলেও মারিউপুল পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, শুক্রবার (২০ মে) মস্কোর সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক অবরোধের অবসান ঘটেছে। রাশিয়া এখন ইউক্রেনের দোনবাস অঞ্চলে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা জোরদার করেছে। এরআগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, ইস্পাত কারখানায় লুকিয়ে থাকা সর্বশেষ যোদ্ধাদের বলা হয়েছে, তারা যাতে বের হয়ে নিজেদের জীবন রক্ষা করে। রাশিয়া জানিয়েছে, এবারে ৫৩১ ইউক্রেনীয় কারখানা থেকে বেরিয়ে এসেছে। আজভস্তাল ধাতুশিল্প স্থাপনার ভূখণ্ড পুরোপুরি মুক্ত করা হয়েছে। গেল কয়েক দিনে দুই হাজার ৪৩৯ প্রতিরোধ যোদ্ধা আত্মসমর্পণ করেছে। তবে আত্মসমর্পণের এই সংখ্যা নিশ্চিত করেনি ইউক্রেনের কর্তৃপক্ষ। লুহানস্ক প্রদেশে ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রিত সর্বশেষ ভূখণ্ডটি দখলে নিতে বড় ধরনের হামলা চালায় রাশিয়ার সামরিক বাহিনী। পূর্ব ইউক্রেনের দুটো অঞ্চলকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে রাশিয়া। তার মধ্যে একটি লুহানস্ক। টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেওয়া এক বার্তায় লুহানস্কের গভর্নর সেরহি গাইডেই বলেন, সিভিয়ারোদোনেস্ক শহরে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে রাশিয়ার সামরিক বাহিনী। গোলাবর্ষণ দ্বিগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে তারা। আবাসিক এলাকাতে হামলা চালিয়ে বাড়িঘর ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে। আরও পড়ুন: মারিউপোল দখলের দাবি রাশিয়ার তিনি বলেন, আমরা জানি না, কী পরিমাণ মানুষ হতাহত হয়েছে। এ বিষয়ে সঠিক ধারণা পাওয়া অসম্ভব। হতাহতের সংখ্যা তদন্ত করতে প্রতিটি অ্যাপার্টমেন্টে যেতে হবে। মধ্য-এপ্রিল থেকেই ইউক্রেনের পূর্ব অংশ থেকে সিভারেস্কি দোনেৎস নদীর ওপারে সিভিয়ারোদোনেস্ক ও তার জমজ শহর রিশচানস্ক দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে রুশ সামরিক বাহিনী। এরআগে রাজধানী কিয়েভ দখলে ব্যর্থ হয়ে পূর্ব ইউক্রেনে সামরিক অভিযান পরিচালনার কথা জানিয়েছে মস্কো। ইউক্রেনের জেনারেল স্টাফ জানিয়েছে, সিভিয়ারোদোনেস্কে একটি হামলা প্রতিরোধ করা হয়েছে। সম্মুখসারিতে এটি রাশিয়ার বড় অভিযান ছিল। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে প্রতিবেশী দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যর্থ হলেও লুহানস্কে অগ্রসর হচ্ছে রুশ বাহিনী। বিশ্লেষকরা বলছেন, রুশপন্থী বিদ্রোহীদের দাবি করা আরও ভূখণ্ড দখল করতে রুশ বাহিনীর বড় অগ্রগতি হয়েছে। এর আগে কিয়েভ দখলের চেষ্টা থেকে পিছিয়ে এসে দোনবাসে পুরোদমে সামরিক অভিযানের ঘোষণা দেয় রাশিয়া। লন্ডনভিত্তিক থিংকট্যাংক চাথাম হাউসের বিশেষজ্ঞ মাথিও বোলিগ বলেন, এই সংঘাতের পরবর্তী কয়েক সপ্তাহ বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এটি নির্ভর করছে, রাশিয়া কতটা কার্যকরভাবে সিভিয়ারোদোনেস্ক ও তার আশপাশের এলাকা দখল করতে পারে, তার ওপর। রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই সোইগু বলেন, দ্রুতই লুহানস্ক গণপ্রজাতন্ত্রকে মুক্ত করা হবে। মারিউপুল অবরোধের অবসান রাশিয়ার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকী মুহূর্ত। দোনবাসের পরিস্থিতিকে ‘নরক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন জেলেনস্কি। অঞ্চলটি রুশ বাহিনী পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

১৪ বছরের মধ্যে সবচেয়ে চাপে অর্থনীতি

১৪ বছরের মধ্যে সবচেয়ে চাপে অর্থনীতি রাজস্ব ঘাটতির সঙ্গে এবার যোগ হয়েছে বৈশ্বিক চাপ * অর্থকষ্টে মানুষ সঞ্চয় ভেঙে খাচ্ছে * ব্যাংকে টাকা রাখলে বছরে ২ শতাংশ হারে কমে যাচ্ছে গত ১৩-১৪ বছরের মধ্যে সবচেয়ে চাপে রয়েছে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি। রাজস্ব আয়ে ঘাটতির পাশাপাশি নতুন করে যোগ হয়েছে বিশ্ব সংকট। বিশেষ করে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, রপ্তানি এবং রেমিট্যান্স আয়ে ঘাটতির কারণে বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যে বড় ধরনের সমস্যা হচ্ছে। টাকার বিপরীতে মার্কিন ডলারের দাম বৃদ্ধিসহ নানা কারণে অসহনীয় হয়ে উঠছে জিনিসপত্রের দাম। মনে হচ্ছে, আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও বেসামাল হয়ে উঠবে। এ অবস্থায় ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, মানুষের আয় ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। সোমবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফরম আয়োজিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে বক্তারা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সংগঠনের আহ্বায়ক ও বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, সিপিডির আরেকজন বিশেষ ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান, ওয়ার্ল্ড ভিশনের পরিচালক টনি মাইকেল গোমেজ এবং কর্ডএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ শাকিব নবী প্রমুখ। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ক্রমেই দেশের জাতীয় সঞ্চয় কমছে। এ অবস্থায় বাজারমুখী দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে হবে। এছাড়াও করমুক্ত আয়সীমা ৫০ হাজার টাকা বাড়িয়ে সাড়ে ৩ লাখ টাকা করার সুপারিশ করা হয়। ড. দেবপ্রিয় বলেন, প্রতিটি বাজেটের একটি প্রেক্ষিত থাকে। সেক্ষেত্রে এ বছরের বাজেটের তিনটি প্রেক্ষিত রয়েছে। প্রথমত, করোনার আগে সর্বশেষ অর্থবছর ছিল ২০১৮-১৯। বর্তমানে করোনা উত্তরণের কথা বলা হলেও অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকগুলো এখনো আগের অবস্থায় ফিরে যায়নি। এই ঘাটতি নিয়েই আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করা হচ্ছে। দ্বিতীয় বিষয় হলো-আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের সংকট চলছে। এক্ষেত্রে জ্বালানি তেল এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়ছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এই পরিস্থিতি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এক ধরনের অস্থিতিশীল ও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। তৃতীয়ত, ২০০৮-০৯ সালে বিশ্ব অর্থনীতি ও ব্যাংকিং খাতে বড় সংকটের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি হয়েছিল। এরপর ১৩-১৪ বছরে এবারই সবচেয়ে চাপে বা টানাপোড়েনে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি। অর্থাৎ এখনো করোনা-উত্তর পরিস্থিতিতে ফিরে যাওয়া সম্ভব হয়নি। এর মধ্যেই বিশ্ব অর্থনীতিতে সংকট আমাদের সামষ্টিক অর্থনীতিকে বড় ধরনের চাপে ফেলেছে। তিনি বলেন, বিগত বছরগুলোয় দেশের আর্থিক দায়-দেনা পরিস্থিতির কাঠামোটি সর্বদাই দুর্বল ছিল। এটি এখনো অব্যাহত রয়েছে। আর দুর্বলতার লক্ষণ হলো কর-জিডিপি (মোট দেশজ উৎপাদন) অনুপাত ১০-এর ওপরে ওঠেনি। অর্থাৎ জিডিপির আকার ১০০ টাকা হলে বর্তমানে কর আদায় মাত্র ৯ টাকা ৪০ পয়সা। দক্ষিণ এশিয়ায় যা সবচেয়ে কম। একই সঙ্গে সরকারি ব্যয়ের ক্ষেত্রে উন্নয়ন কর্মসূচির চেয়ে পরিচালন ব্যয় অনেক বেশি। তিনি বলেন, দেশে বাজেট ঘাটতিও বাড়ছে না। এর মূল কারণ হলো দুটি। প্রথমত, সম্পদের অভাব এবং দ্বিতীয়ত, সম্পদ থাকলেও এর গুণগতমান সম্পূর্ণ ব্যয় করতে না পারা। আর বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এটি একটি কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা বা ব্যর্থতা। অর্থাৎ কর আদায় কম, ব্যয়ও কম এবং নিয়ন্ত্রিত বাজেট ঘাটতি। এটি কোনো অবস্থাতেই অর্থনীতির শক্তির লক্ষণ নয়। ড. দেবপ্রিয় বলেন, এবারের পরিস্থিতি আরও ভিন্ন। গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে শক্তির জায়গা ছিল বৈদেশিক খাত। রপ্তানি, রেমিট্যান্স, বৈদেশিক সাহায্য এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতে বৈদেশিক বিনিয়োগ শক্তিশালী ছিল। এতে বৈদেশিক আয়-ব্যয় বা চলতি হিসাবের ভারসাম্য শক্ত অবস্থানে ছিল। এই অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। গত বছরের মার্চ পর্যন্ত চলতি হিসাবের ভারসাম্যে ৫৫ কোটি ডলার ঘাটতি ছিল। এ বছরে মার্চে ওই ঘাটতি ১ হাজার ৪০৭ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। এই সংকট আরও বেশি পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে। অনেকে লেখেন বা বলে থাকেন, বাংলাদেশের রপ্তানি আয় এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে। কিন্তু আমি বলব, এখানে অর্থনীতি বোঝার ক্ষেত্রে সমস্যা রয়েছে। কারণ রপ্তানির যে উল্লম্ফন, এটি আমদানীকৃত উপকরণের দাম বৃদ্ধির কারণে হয়েছে। ফলে এত রপ্তানি বৃদ্ধির পরও দেশের বাণিজ্য ঘাটতি ২৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। আর গত বছর এই ঘাটতি ছিল এর অর্ধেকের কাছাকাছি। অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নিয়ে আমরা এত আত্মতুষ্টিতে ভুগছি; কিন্তু এটি ক্রমান্বয়ে কমে আসছে। গত বছরের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর থেকে রিজার্ভ কমতে শুরু করে। এখনো এই কমা অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে যে রিজার্ভ আছে (৪১ বিলিয়ন ডলার), তা নিয়ে ৪-৫ মাসের বেশি আমদানি ব্যয় মেটানো যাবে না। একটি উদাহরণ থেকে এটি পরিষ্কার বোঝা যায়। বর্তমানে টাকার মান ধরে রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ডলার ছাড়ার সক্ষমতা কমে যাচ্ছে। এতে ডলারের বিপরীতে টাকার মান ৭-৮ টাকা কমে গেছে। এরপর বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম বাড়তে থাকলে রিজার্ভে বড় ধরনের টান পড়বে। ফলে টাকার মান আরও কমতে থাকবে। এক্ষেত্রে প্রতি মার্কিন ডলার ১০০ টাকার কাছাকাছি চলে যাওয়া অনেকের কাছে যুক্তিযুক্ত মনে হতে পারে। অর্থাৎ এ বছরে অর্থনীতির নতুন বিষয় হলো রাজস্ব খাতের সঙ্গে বৈদেশিক খাতের দুর্বলতা বাড়ছে। সিপিডির এই বিশেষ ফেলো বলেন, আরেকটি বড় বিষয় হলো মূল্যস্ফীতি। এক্ষেত্রে ৬ দশমিক ২২ শতাংশ মূল্যস্ফীতির কথা বলছে। কিন্তু এটি বাস্তবতার সঙ্গে আদৌ সংগতিপূর্ণ নয়। এক্ষেত্রে সরকারের তথ্যে আরও কৌতূহলের বিষয় হলো শহরের চেয়ে গ্রামে মূল্যস্ফীতি বেশি। গ্রামে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ৭ শতাংশ। মোট মূল্যস্ফীতির চেয়ে বেশি। একই সঙ্গে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের চেয়ে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি বেশি। তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতির তথ্য যে বাস্তবতার সঙ্গে মিল নেই, এর একটি উদাহরণ হলো সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ বা টিসিবির তথ্য। ওই তথ্যে দেখা যাচ্ছে এক বছরে পাম অয়েলের দাম ৬১ শতাংশ বেড়েছে। আটা-ময়দার দাম বেড়েছে ৫৮ শতাংশ, সয়াবিন তেল ৫৬ শতাংশ, মসুর ডালের দাম ৪৭ শতাংশ, অ্যাঙ্কর ৩১ শতাংশ এবং ডিমের দাম বেড়েছে ২৯ শতাংশ। টিসিবির এই তথ্যই বলে দিচ্ছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো বা বিবিএস প্রকাশিত মূল্যস্ফীতির তথ্যের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। ড. দেবপ্রিয়র মতে, অনেকেই বলেন বাংলাদেশের আমদানীকৃত পণ্যের দাম প্রতিবেশী দেশের তুলনায় কম। কিন্তু এই তথ্যও সঠিক নয়। কারণ বর্তমানে দেশে প্রতি কেজি পাম অয়েলের দাম ১৮৩ টাকা। ভারতের সঙ্গে তুলনা করে দেখা যায়, সেখানে দাম ১৭৩ টাকা। অর্থাৎ দেশটির চেয়ে বাংলাদেশে দাম কেজিতে ১০ টাকা বেশি। এছাড়াও আটা-ময়দায় ভারতের সঙ্গে পার্থক্য ৯ টাকা এবং মশুর ডালে ১০ টাকা। তবে বাংলাদেশের চেয়ে ভারতে জ্বালানি তেল ও ডিজেলের দাম বেশি। তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতির ক্ষেত্রে বিবিএস ২০০৫-০৬ ভিত্তিবছর ধরে। অর্থাৎ ২০০৫-০৬ অর্থবছরে ভোক্তারা যে পণ্য ও সেবা ব্যবহার করতেন, একে ভিত্তি ধরে মূল্যস্ফীতির হিসাব করছে। কিন্তু গত ১৭ বছরে মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা ও খাদ্যাভ্যাসের অনেক পরিবর্তন হয়েছে। ফলে ৬ শতাংশ মূল্যস্ফীতির যে কথা বলা হচ্ছে, বাস্তবে এটি ১২ শতাংশ হওয়া অসম্ভব কিছু না। আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও কঠিন হবে। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম যে হারে বেড়েছে, সেই উচ্চমূল্যের পণ্য এখনো বাংলাদেশে আসেনি। এছাড়াও মুদ্রার বিনিময় হার আরও বাড়লে তা পণ্যমূল্যে প্রভাব পড়বে। তাই সবকিছু মিলে পরিষ্কারভাবে বলছি, বিবিএস প্রকাশিত মূল্যস্ফীতির হিসাব বাস্তব ও বিজ্ঞানসম্মত নয়। ড. দেবপ্রিয় আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সরকার জ্বালানি তেলের দাম আরও বাড়াতে চাচ্ছে। আর সরকার এই মুহূর্তে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিলে তা বাস্তবসম্মত হবে না। এক্ষেত্রে আমাদের পরামর্শ হলো-সরকার যেসব খাতে ভতুর্কি দিচ্ছে, সেই ভতুর্কি না দিয়ে অর্থ সমন্বয় করা হলে জ্বালানির দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হবে না। তিনি বলেন, একটি দেশের অর্থনীতির ব্যবস্থাপনা কতটা সুসংহত, তা বোঝার জন্য তিনটি সূচক খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো মূল্যস্ফীতি হার, মুদ্রার বিনিময় হার এবং ঋণের সুদের হার। এই তিনটি সূচকের মধ্যে সমন্বয় থাকা জরুরি। সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতায় যে বিষয়টি জোর দিয়ে বলতে চাচ্ছি, তা হলো মূল্যস্ফীতির সঙ্গে টাকার মূল্যমান কমে যাচ্ছে। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে সুদের হার আটকে রাখা হচ্ছে। এক্ষেত্রে বলা হচ্ছে, সুদের হার কম থাকলে বিনিয়োগ বাড়বে। কিন্তু ঋণের সুদের হার ৯ শতাংশ এবং আমানতের সুদের হার ৬ শতাংশ করা হয়েছিল। এতে গত কয়েক বছরে বিনিয়োগ বেড়েছে-এমন তথ্য আমরা পাইনি। কারণ সুদ ছাড়াও বাংলাদেশে বিনিয়োগে অনেক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। এগুলো দূর করতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমানে আমাদের গড় সুদ ৪ দশমিক ০১ শতাংশ। কিন্তু মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ২২ শতাংশ। এর মানে হলো ব্যাংকে টাকা রাখলে অর্থের প্রকৃত মূল্য প্রতিবছর ২ শতাংশ হারে কমে যাচ্ছে। এটিকে আমরা বড় ধরনের সঞ্চয়বিরোধী নীতি বলছি। ড. দেবপ্রিয়র মতে, সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্য আমরা মূল্যস্ফীতিকে কেন্দ্রীয় সূচক হিসাবে বিবেচনার সুপারিশ করছি। অন্য সূচকগুলোকে সহযোগী হিসাবে বিবেচনায় নিতে হবে। কারণ অর্থনীতির স্থিতিশীলতা নষ্ট হলে নিু আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এর পরের বিষয় হলো বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান। গত কয়েক বছরে দেখা যাচ্ছে, বিনিয়োগ কোনোভাবেই ৩৩ শতাংশের বেশি বাড়ানো যাচ্ছে না। এর মধ্যে বেসরকারি বিনিয়োগের হার হলো ২৩-২৪ শতাংশ। কিন্তু করোনার আগে ২০১৯ অর্থবছরে বিনিয়োগ ছিল জিডিপির ২৫ শতাংশ। অর্থাৎ এখনো আমরা আগের অবস্থায় ফিরে যেতে পারিনি। এরপরও জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়ছে। এখানেও আমরা বলছি জিডিপি প্রবৃদ্ধির সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই। অন্যদিকে সরকার বলছে, বৃহৎ শিল্পে জিডিপির ১২ দশমিক ৮৭ শতাংশ বিনিয়োগ হয়েছে। এক্ষেত্রে ছোট ও মাঝারি শিল্পে ১১ দশমিক ৭১ এবং কুটিরশিল্পে ১১ দশমিক ৭৫ শতাংশ। এখানেও দেখা যাচ্ছে বড় শিল্প বেশি সুবিধা পাচ্ছে। কিন্তু সাধারণ নিয়মে ছোট শিল্পে বিনিয়োগ হলে কর্মসংস্থান বাড়ে। এখানেও বৈষম্য হচ্ছে। ফলে করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এবারের বাজেটে দেশীয় বাজারমুখী শিল্পকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। ড. দেবপ্রিয় বলেন, আরেকটি বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ-আমাদের সঞ্চয় কমে যাচ্ছে। করোনার মধ্যেও ২০২০ সালে আমাদের সঞ্চয়ের হার জিডিপির ৩১ দশমিক ৪২ শতাংশ, ২০২১ সালে তা কমে ৩০ দশমিক ৭৯ শতাংশে নেমে আসে। সর্বশেষ চলতি বছর তা আরও কমে ২৫ দশমিক ৪৫ শতাংশে নেমে এসেছে। এ সময়ে অভ্যন্তরীণ সঞ্চয় ২৭ দশমিক ০৮ শতাংশ থেকে কমে ২১ দশমিক ৫৬ শতাংশে নেমে এসেছে। এর মানে হলো-মানুষ আর্থিক কষ্টের কারণে সঞ্চয় ভেঙে খাচ্ছে। এটি অর্থনৈতিক দুর্বলতার অন্যতম লক্ষণ। তিনি বলেন, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে (এডিপি) আমরা শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষার বিষয়টিকে পর্যালোচনা করেছি। এখানে আমরা দেখেছি, মোট এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে ৪১ দশমিক ২২ শতাংশ। কিন্তু এই তিন খাতে বাস্তবায়ন ৩৪ দশমিক ৭১ শতাংশ। আগের অর্থবছরও যা ছিল ৩৭ দশমিক ২৫ শতাংশ। অর্থাৎ মানবসম্পদ উন্নয়নে বিনিয়োগ কমছে। তিনি বলেন, বর্তমানে করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ টাকা। কিন্তু সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে তা সাড়ে ৩ লাখ টাকা করা উচিত। পাশাপাশি দুস্থ মানুষের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখতে হবে। সামগ্রিকভাবে বাজেট হবে মানুষের আয় বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানমুখী।