Sponsor



Slider

বিশ্ব

জাতীয়

রাজনীতি


খেলাধুলা

বিনোদন

ফিচার


যাবতীয় খবর

জিওগ্রাফিক্যাল

ফেসবুকে মুজিবনগর খবর

» » » মেয়েলী সমস্যা সমূহ ১৭টি ফিচার এর টিপস দেয়া হলো জেনে নিন






মেয়েলী সমস্যা সমূহ  ১৭টি ফিচার িএর টিপস দেয়া হলো জেনে নিন












2 নারীর একান্ত সমস্যা সংগ্রহ
3 একটি বিব্রতকর সমস্যা
4 ডিম্বাণু বেরোনোর সময় ব্যথা হওয়া স্বাভাবিক
5 ডিজমেনোরিয়া – ঋতুকালীন ব্যথা
6 জরায়ুমুখের ক্যানসার
7 মেয়েদের মুত্রনালির সংক্রমণ
8 নারীদের চুল পড়া
9 স্তন-ক্যান্সার চিকিৎসায় রেডিওথেরাপি ডাঃ ওসমাণ গনি
10 মেয়েদের প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া
11 স্তন বোটার প্যাজেটস রোগ
12 স্তনের বোটা ভেতরে ঢুকে যাওয়া
13 স্তনের লাইপোমা (Lipoma of the Breast)
14 স্তনের ক্যান্সার (Breast Cancer)
15 কিশোরীর স্তন বিশাল বড় হয়ে যাওয়া
16 ঋতুচক্রে স্তনে ব্যথা বা সাইক্লিকাল মাস্টালজিয়া
17 জরায়ু-মুখ ক্যান্সার

লিউকোরিয়া


leukorrhealeukorrheaলিউকোরিয়া হচ্ছে সাদা স্রাব। নারীর যোনি থেকে ক্রমাগত সাদা তরলের ক্ষরণ হলে তাকে লিউকোরিয়া বলা হয়। আমাদের দেশে গ্রামাঞ্চলের নারীদের এই রোগে আক্রান্ত হতে দেখা যায় বেশি। ভারতের উত্তর প্রদেশের নারীরা এই রোগে আক্রান্ত হয় বেশি।

লিউকোরিয়ার সাধারণ কারণ-
ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ।
যোনিতে সেপ্রর ব্যবহার ।
রক্তাল্পতা এবং দীর্ঘ সময় অসুস্থ থাকা ।
ট্রিকমোনাল ইনফেকশন ।
মনিলিয়াল ইফেকশন ।
কারভিকটিজ ।

লিউকোরিয়া প্রতিরোধের কয়েকটি উপায়-
সুতির প্যান্টি ব্যবহার করা ।
যৌনতায় পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা ।
যৌনমিলনের আগে এবং পরে যৌনাঙ্গ ধৌত করা ।
যোনির পিচ্ছিলতা বাড়াতে কেওয়াই জেলি ব্যবহার ।
যোনিতে কোনো প্রকার সেপ্র ব্যবহার না করা ।
জন্ম নিরোধক পিল সেবনের পূর্বে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সর্ম্পকে জেনে নেয়া ।
সুষম খাদ্য গ্রহণ ।




একটি বিব্রতকর সমস্যা


রুমানা চট্টগ্রাম থেকে বাসে ঢাকা ফিরছিলেন। কুমিল্লায় হাইওয়ে রেস্টুরেন্টে নাশতা করে টয়লেট সেরে নিয়েছিলেন, কিন্তু আধঘণ্টা না পেরোতেই প্রস্রাবের বেগ চাপল। ক্রমেই বেগ বাড়তে লাগল। রুমানা বাসের জানালা দিয়ে অন্ধকারে চোখ রেখে খুঁজতে থাকেন পেট্রলপাম্প, টয়লেটের আশায়। তলপেটে অস্বস্তি অনুভব হচ্ছে, আর বেশিক্ষণ ধরে রাখা কঠিন, অস্থির হয়ে উঠছেন রুমানা। গাড়ি মেঘনা সেতুর টোল প্লাজায় থামতেই চালককে অনুরোধ করে গাড়ি থামান। পাশে ঘুমিয়ে থাকা ভাইকে কিছু না বলেই দ্রুত নেমে প্রায় দৌড়ে পেট্রলপাম্পের টয়লেটে পৌঁছান। প্রস্রাব সেরে বাসে ফিরতেই ভাই অবাক হয়ে জানতে চায় হন্তদন্ত হয়ে নামার কারণ।
রুমানা প্রস্রাবের যে সমস্যায় ভুগছেন, তা অত্যন্ত বিরক্তিকর এবং একই সঙ্গে বিব্রতকর একটি সমস্যা। চিকিৎসা পরিভাষায় একে বলা হয় ওভার অ্যাক্টিভ ব্লাডার বা অতি ক্রিয়াশীল মূত্রাশয়। এ সমস্যায় রোগীকে দিনের বেলায় ঘন ঘন প্রস্রাব করতে হয়, হঠাৎ প্রবল বেগ পায়, দ্রুত টয়লেটে যেতে হয় এবং মূত্র ত্যাগ বিলম্বিত করা কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়, এমনকি টয়লেটে যেতে যেতে অনেক সময় নিয়ন্ত্রণহীনভাবে কাপড়ে প্রস্রাব হয়ে যায়। এ ছাড়া রাতে একাধিকবার ঘুম ভেঙে প্রস্রাব করতে উঠতে হয়। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি (ক্রনিক) সমস্যা, যা বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে। রোগের তীব্রতা কিছুদিন বেড়ে যায়, আবার কিছুদিন একটু সহনীয় পর্যায়ে আসে। আমাদের দেশে কত শতাংশ মহিলা এ রোগে ভুগছেন, তার কোনো পরিসংখ্যান আমাদের হাতে নেই। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, এশীয় মহিলারা স্থান বা দেশভেদে ১৬ থেকে ৫৩ শতাংশ ওভার অ্যাক্টিভ ব্লাডারের সমস্যায় ভুগছেন। আমেরিকায় ২০ মিলিয়ন প্রাপ্তবয়স্ক মহিলার এ সমস্যা রয়েছে।
স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় মূত্রাশয়ে বৃক্কদ্বয় (কিডনি) থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে আসা মূত্র জমা হতে থাকে। একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ জমা হলে আমাদের প্রস্রাবের বেগ হয় এবং যথাযথ সুযোগ ও স্থান না পেলে বেশ কিছু সময় পর্যন্ত প্রস্রাব ধরে রাখা যায়। কিন্তু অতি ক্রিয়াশীল মূত্রাশয় রোগে মূত্রথলিতে সামান্য প্রস্রাব জমলেই মূত্র ত্যাগের প্রবল তাড়া অনুভূত হয়, যা দমন করা কষ্টকর। ফলে রোগী এই তাড়া বা আর্জেন্সি থেকে মুক্তি পেতে ঘন ঘন প্রস্রাব করে। এ সমস্যা রোগীর জীবনে অত্যন্ত নেতিবাচক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। প্রথম প্রথম বাইরে বের হলেই কাছাকাছি টয়লেট খুঁজে রাখে। ধীরে ধীরে বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়াতে বাইরে বেরোনো কমে যায়। কর্মজীবী মহিলাদের বারবার টয়লেটে যাওয়ার ফলে অফিসের স্বাভাবিক কাজে বিঘ্ন ঘটে এবং সমস্যা আরও প্রকট হলে কর্মদক্ষতা কমে আসে, এমনকি কর্মস্থলে অনুপস্থিতি বেড়ে যায়।

স্ট্রেট ইনকন্টিনেন্সের মতো অতি ক্রিয়াশীল মূত্রাশয়ের বিষয়েও আমাদের রয়েছে ভ্রান্ত ধারণা ও সংস্কার। অনেকে মনে করেন, বাচ্চা প্রসবের কারণে বা বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এটি একটি স্বাভাবিক দুর্বলতা। আবার অনেকে সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করলেও মনে করেন, এ রোগের ভালো চিকিৎসা নেই বা লজ্জার কারণে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন না। কেউ কেউ চিকিৎসাসহায়তা নেওয়ার বদলে অভ্যাস ও জীবনাচরণে পরিবর্তন এনে এ সমস্যার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। যেমন—কেউ পানি খাওয়া কমিয়ে দেন, কেউ বা আবার পানি বেশি খেলে ভালোভাবে প্রস্রাব হয়ে যাবে ভেবে অতিরিক্ত পানি পান করেন এবং তাড়া এড়ানোর জন্য বেগ হওয়ার আগেই মূত্র ত্যাগের অভ্যাস করেন। অনেকে কোথাও যাওয়ার আগে সেই স্থানে টয়লেট আছে কি না, জেনে নেন, এমনকি যেসব জায়গায় টয়লেট নেই, এমন স্থানে যাওয়া বন্ধ করে দেন। আর যাঁদের বেগ এলেই নিয়ন্ত্রণহীনভাবে কাপড়ে প্রস্রাব হয়ে যায়, তাঁরা প্যাড বা কাপড় ব্যবহারের অভ্যাস করেন। গবেষণায় দেখা গেছে, দুই-তৃতীয়াংশ রোগী চিকিৎসাসহায়তা নেওয়ার আগে অন্তত দুই বছর অতি ক্রিয়াশীল মূত্রাশয়ের উপসর্গে ভোগেন।

চিকিৎসা
চিকিৎসার শুরুতেই যথাযথ রোগ মূল্যায়নের জন্য রোগীকে তিন থেকে পাঁচ দিনের ব্লাডার ডায়েরি বা পানীয় গ্রহণ এবং মূত্র নিঃসরণের তালিকা তৈরি করতে দেওয়া হয়। এ রোগের চিকিৎসায় এই চার্ট বা তালিকা অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে। রোগী আগে থেকে যেসব ওষুধ খান, তাও ভালোভাবে নিরীক্ষা করতে হয়। রোগের ইতিহাস ও শারীরিক পরীক্ষার পর এবং ব্লাডার ডায়েরি বিশ্লেষণ করে ও প্রস্রাব পরীক্ষা করেই চিকিৎসক এ রোগের অন্য কোনো কারণ থাকলে তা চিহ্নিত করতে পারেন। প্রয়োজনে আলট্রাসনোগ্রাফির সহায়তা নেওয়া হয়।
অন্য কোনো কারণ না পাওয়া গেলে ওভার অ্যাক্টিভ ব্লাডারের চিকিৎসা শুরু করা হয়। প্রথমত, রোগীর জীবনাচরণ ও অভ্যাসে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের মাধ্যমে। যেমন—ধূমপান পরিহার করা, অতিরিক্ত ওজন কমিয়ে ফেলা, কোষ্ঠ পরিষ্কার রাখা ইত্যাদি। প্রস্রাবের পরিমাণ ও আবহাওয়ার উষ্ণতার ওপর নির্ভর করে পরিমিত পানি পান (কখনোই অতিরিক্ত নয়), যেসব পানীয়তে প্রস্রাবের মাত্রা বেড়ে যায়, যেমন—চা, কফি, কিছু ফলের রস, বিভিন্ন কোমল পানীয় ইত্যাদি পান করা কমিয়ে দিতে হবে। বহুমূত্র রোগ থাকলে তা অবশ্যই নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। এর সঙ্গে রোগীকে তাঁর মূত্রদ্বার, যোনিপথ ও মলদ্বারের চারপাশের মাংশপেশিগুলোকে (পেরিনিয়াল মাংশপেশি) নিয়মিত বিরতিতে সংকোচন ও প্রসারণের ব্যায়াম শিখতে হবে। এ ছাড়া মূত্রাশয়ের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মূত্রাশয়ের পুনঃপ্রশিক্ষণের জন্য রোগীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এ প্রশিক্ষণে রোগী ধীরে ধীরে প্রস্রাব বেশিক্ষণ ধরে রাখা এবং মূত্র ত্যাগের মধ্যবর্তী সময় বাড়ানোর অভ্যাস করেন।
ছয় সপ্তাহের মধ্যে উপসর্গের যথেষ্ট উন্নতি না হলে উপরিউক্ত চিকিৎসা বা থেরাপির সঙ্গে ওষুধ ব্যবহার শুরু করা হয়। এ রোগের চিকিৎসায় বিভিন্ন ওষুধ ব্যবহার করা হয়, আর অতিসম্প্রতি কিছু ভালো ওষুধ বাজারে এসেছে। যে ওষুধ বা ব্যবস্থাপত্রই দেওয়া হোক না কেন, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তা দীর্ঘদিন খেতে হবে। ওভার অ্যাক্টিভ ব্লাডারে যেসব ওষুধ ব্যবহার করা হয়, সেসব ওষুধের সবগুলোরই কমবেশি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে। এর মধ্যে মুখ ও গলা শুকিয়ে যাওয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, চোখে ঝাপসা দেখা অন্যতম।
নতুন ওষুধগুলোর এসব পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কিছুটা কম হলেও একেবারে মুক্ত নয়। আর বড় কথা হলো, ওষুধ খাওয়া শুরু করার পর থেকে উপসর্গের উন্নতি দেখা দিতে বেশ সময় লাগে, ফলে অনেক সময়ই রোগীরা ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন। তাই এ রোগের চিকিৎসায় প্রয়োজন মনোবল ও ধৈর্য। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জীবনাচরণ ও অভ্যাসে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনুন এবং নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সঠিক নিয়মে ওষুধ সেবন করুন।

ডিম্বাণু বেরোনোর সময় ব্যথা হওয়া স্বাভাবিক


নারীর প্রজনন অঙ্গগুলোর মধ্যে জরায়ু এবং দুটি ডিম্বাশয়ও অন্তর্ভুক্ত। বয়ঃসন্ধির পর থেকে মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়া (মেনোপোজ) পর্যন্ত গর্ভকাল ছাড়া প্রতিটি নারীর মাসিক চক্র চলতে থাকে। প্রতি মাসে একটির বেশি ডিম্বাণু বড় হতে থাকে এবং মাসের মাঝামাঝি সময়ে একটি পরিণত অবস্থায় স্ফুরিত হয়। ডিম্বাশয় থেকে বের হয়ে আসা ডিম্বাণুটি শুক্রাণু দ্বারা নিষিক্ত হলে ভ্রূণ তৈরি হয়, আর তা না হলে ডিম্বাণুটি ধীরে ধীরে অকার্যকর হয়ে মিলিয়ে যায়। আবার নতুন ডিম্বাণু বড় হতে থাকে। ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বাণুটি বের হওয়ার সময় কিছুটা তরল পদার্থ বের হয়ে আসে, যা তলপেটের ভেতরে পড়ে তীব্র ব্যথার অনুভূতি তৈরি করতে পারে। ডিম্বাণু বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শারীরিক কিছু পরিবর্তন দেখা দেয়। হরমোনের পরিবর্তনের কারণে যা কেউ কেউ রোগের উপসর্গ মনে করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে থাকেন। ডিম্বাণু বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যোনিপথে পিচ্ছিল জাতীয় স্রাবের পরিমাণ বেড়ে যায়—এটা শরীরের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কয়েক দিনের মধ্যেই এই স্রাবের মাত্রা ধীরে ধীরে কমে আসে। এ জন্য চিকিৎসার প্রয়োজন নেই। স্রাবের সঙ্গে যদি চুলকানি বা প্রদাহ থাকে, তবেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন।
এ সময়ে আরও একটি কারণে ভয় পেয়ে মহিলারা চিকিৎসকের কাছে যান, তা হলো, ওভুলেশন পেইন অর্থাৎ ডিম ফোটার ব্যথা। মাসিক শুরু হওয়ার দিন থেকে হিসাব করে চতুর্দশ দিনে সাধারণত ডিম্বাণুু ডিম্বাশয় থেকে বের হয়ে আসে। যাঁদের মাসিক অনিয়মিত, তাঁদের প্রতি মাসে ডিম্বাণুর স্ফুরণ নাও হতে পারে; তাই তাদের কোনো মাসে ব্যথা হতে পারে আবার কোনো মাসে এই ব্যথা নাও হতে পারে। যাঁরা জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি খান, তাঁদের ডিম্বাণু বড় হয় না। তাই তাঁদের এই ব্যথা হয় না। স্বাভাবিক ক্ষেত্রেও অনেক মহিলা ব্যথা অনুভব করেন না। ডিম্বাণু স্ফুরণের সময় হঠাৎ করে তীব্র ব্যথা তলপেটের যেকোনো এক পাশে শুরু হয়ে পুরো তলপেটে এমনকি প্রস্রাব-পায়খানার রাস্তা পর্যন্ত ছড়িয়ে যেতে পারে। বসতে, হাঁটতে বা রিকশায় চলাচল করতে কষ্ট হতে পারে। এ অবস্থায় ব্যথা তীব্র হলে একটি বা দুটি প্যারাসিটামল খেলেই ব্যথা সেরে যায়। কোনো ওষুধ না খেলেও দু-তিন দিনের মধ্যেই তা সেরে যায়। ব্যথার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের তাপমাত্রাও একটু বাড়তে পারে। ভয়ের কোনো কারণ নেই। এই তাপমাত্রার পরিবর্তন হরমোনের পরিবর্তনের জন্য। এ ধরনের ব্যথা বিবাহিত-অবিবাহিত যে কারোরই হতে পারে। কাজেই ঘাবড়াবেন না। মাসিক চক্রের মাঝামাঝি সময়ে অতিরিক্ত সাদা স্রাব এবং হঠাৎ তলপেটে ব্যথা হলে ওভুলেশন পেইন এবং ওভুলেশনকালীন শারীরিক পরিবর্তনের কথা মাথায় রাখুন। একজন নারী হিসেবে আপনার নিয়মিত ডিম্বাণু তৈরি হচ্ছে জেনে খুশি হন।

ডিজমেনোরিয়া – ঋতুকালীন ব্যথা


ব্যথাযুক্ত ঋতুস্রাব—প্রতিকার ও চিকিৎসা
ঋতুস্রাব বা মাসিকের সময় তলপেটে কোনো ব্যথা বা কষ্টদায়ক অনুভূতি হয় না, এমন নারীর সংখ্যা কম। পরিমাণগত দিক দিয়ে এ ব্যথা সামান্য থেকে তীব্র যেকোনো মাত্রায় হতে পারে। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায় এ ব্যথার পরিমাণ যখন এমন হয় যে তা দৈনন্দিন স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত করে, তখনই কেবল এটাকে অসুস্থতা বা ডিজমেনোরিয়া বলে গণ্য করা হয়। ডিজমেনোরিয়া দুই ধরনের—প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি।

প্রাইমারি ডিজমেনোরিয়া
সাধারণত ১৮ থেকে ২৪ বছরের তরুণীরা এতে বেশি ভোগেন। এর নির্দিষ্ট কোনো কারণ জানা নেই, তবু কারণ হিসেবে কিছু বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়ে থাকে। যেমন, মাসিকের সময় ব্যথার প্রতি সংবেদনশীলতা বেড়ে যাওয়া, ঘরে-বাইরে অশান্তি, পরীক্ষার চাপ, বেকারত্ব, ভগ্নস্বাস্থ্য ইত্যাদি। এ ছাড়া গবেষণায় কিছু হরমোনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে, যেমন-প্রোজেস্টেরন, প্রোস্টাগ্লান্ডিন, ভেসোপ্রেসিন ইত্যাদি। আরেকটি চমকপ্রদ তথ্য হলো, অন্তত একবার গর্ভধারণ এবং স্বাভাবিক প্রসবের পর এ সমস্যাটি আপনাআপনি সেরে যায়। গর্ভধারণ ও প্রসবের মাধ্যমে জরায়ু পরিপক্বতা লাভ করে এবং সাধারণত এরপর ডিজমেনোরিয়া হয় না। মাসিক শুরুর সঙ্গে এ ব্যথা শুরু হয় এবং প্রথম দিনের পর আর ব্যথা থাকে না। তলপেটে মোচড়ানো ধরনের ব্যথা হয়। কোমরে ব্যথা হতে পারে। ঊরু বা থাইয়ের ভেতরের অংশেও ব্যথা হতে পারে। এ ব্যথা কখনো ঊরুর পেছনে বা হাঁটুর নিচে যায় না (তেমন ক্ষেত্রে বুঝতে হবে অন্য সমস্যা রয়েছে)। এ সময় ব্যথার প্রভাবে রোগীকে বিমর্ষ দেখায়। তার বমি ভাব অথবা বমি হতে পারে; ডায়রিয়া কিংবা প্রস্রাবে ব্যথাও হতে পারে।

প্রতিকার
কিশোরী বয়সে মাসিক সম্পর্কে সম্যক ধারণা দেওয়া জরুরি। এ ক্ষেত্রে মা, বড় বোন কিংবা অন্য নিকটাত্মীয়ের দায়িত্ব অনেক। বিষয়টি সেকেন্ডারি স্কুলপর্যায়ে পাঠ্য রয়েছে ঠিকই, তবে শ্রেণীকক্ষে শিক্ষিকার খোলামেলা বৈজ্ঞানিক আলোচনা খুব গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক তথ্য জানা থাকলে ভীতি কমবে। ভীতি কমলে ব্যথার তীব্রতা কম অনুভূত হবে। এ ছাড়া নিয়মিত ব্যায়াম, ভগ্নস্বাস্থ্যের উন্নয়ন, অশান্তির সঠিক সমাধান ইত্যাদি বিষয়ও আমলে আনতে হবে।

চিকিৎসা
বাজারে যেসব ব্যথানাশক (এনএসএআইডি) ওষুধ পাওয়া যায়, তার সবই শরীরে প্রোস্টাগ্লান্ডিন উৎপাদন কমায় এবং ডিজমেনোরিয়ার বিরুদ্ধে কার্যকর। তবে গাইনি ডাক্তারদের প্রথম পছন্দ মেফেনামিক এসিড ট্যাবলেট। আজকাল ল্যাপারোস্কোপির মাধ্যমেও এ রোগের বিবিধ চিকিৎসা রয়েছে।

সেকেন্ডারি ডিজমেনোরিয়া
অনেক গাইনি রোগের কারণে মাসিকের সময় ব্যথা হতে পারে, যেমন-তলপেটের ইনফেকশন, জরায়ুর টিউমার, পলিপ, জন্মগত ত্রুটি, এন্ডোমেট্রিয়োসিস ইত্যাদি। বিবিধ কারণ থাকায় মাসিকের সময় ব্যথার ধরনও ভিন্ন হয়ে থাকে। সাধারণত মাসিক চক্রের শেষ সপ্তাহে তলপেটে ভার ভার অনুভূত হয়। মাসিক শুরুর তিন-চার দিন আগে থেকেই ব্যথা হয়। মাসিক শুরু হলে ব্যথা কমতে থাকে। সেকেন্ডারি ডিজমেনোরিয়ার জন্য আলাদা কোনো চিকিৎসা নেই। প্রথমে অন্তর্নিহিত রোগটি সঠিকভাবে নির্ণয় করতে হবে। এরপর সে রোগের চিকিৎসাতেই ভালো হবে প্রতি মাসের এ













জরায়ুমুখের ক্যানসার


জরায়ুমুখের ক্যানসার আজও বাংলাদেশের নারীদের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। নারী ক্যানসার রোগীদের ২৫ শতাংশ অর্থাৎ প্রতি চারজনে একজন এ রোগে আক্রান্ত।

উন্নত দেশে কীভাবে এ রোগ নিয়ন্ত্রণে এসেছে?
নারীশিক্ষার প্রসার, উন্নত জীবনযাপন, স্বাস্থ্যসচেতনতা সর্বোপরি যুগান্তকারী ‘পেপস স্মেয়ার টেস্ট’ আবিষ্কার। এর ফলে ওই সব দেশে এ রোগের প্রকোপ কমে এসেছে এবং এ রোগজনিত মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছে।

পেপস স্মেয়ার টেস্ট কী?
এটি একটি সহজ পরীক্ষা। জরায়ুমুখ থেকে রস নিয়ে অণুবীক্ষণযন্ত্র দিয়ে পরীক্ষা। এ পরীক্ষা দিয়ে ক্যানসার, ক্যানসার হওয়ার পূর্বাবস্থা ও জরায়ুমুখের অন্যান্য রোগ যেমন প্রদাহ (ইনফ্লামেশন) শনাক্ত করা যায়। এতে কোনো ব্যথা হয় না। এই টেস্টের খরচও কম। সাধারণত বিবাহিত নারীদের ২১ বছরের পর থেকে এ টেস্ট শুরু করা যেতে পারে। ৩০ থেকে ৬৪ বছর বয়স পর্যন্ত প্রতি তিন বছর পর পর এই টেস্ট করা উচিত। তবে চিকিৎসকের পরামর্শে এ রুটিনের পরিবর্তন হতে পারে।

জরায়ুমুখের ক্যানসার
খুব ধীরে ধীরে সৃষ্টি হওয়া এক রোগ। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে জরায়ুমুখের স্বাভাবিক কোষ পরিবর্তিত হতে থাকে। একসময় তা ক্যানসারে রূপ নেয়। ২০ বছরের কম বয়সীদের নিচে এ রোগ হয় না। এ রোগে আক্রান্তরা সাধারণত ৩৫ থেকে ৫৫ বছর বয়সী হয়ে থাকেন। ৬০ বছরের পরও এ রোগ হতে পারে, তবে তাঁদের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। উপযুক্ত চিকিৎসায় এ রোগ শতভাগ নিরাময় করা যায়।

হিউম্যান পেপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি)
হিউম্যান পেপিলোমা বা এইচপি ভাইরাস জরায়ুমুখের ক্যানসারের একটি অন্যতম কারণ, তবে একমাত্র নয়। যৌন সংযোগে এর সংক্রমণ ঘটে। এযাবৎ ১০০ ধরনের এইচপি ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এদের বেশির ভাগই জরায়ু ক্যানসারের জন্য তেমন ঝুঁকিপূর্ণ নয়। এইচপিভি-১৬, এইচপিভি ১৮, এইচপিভি-৬, এইচপিভি-১১ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। তবে হিউম্যান পেপিলোমা ভাইরাসের আক্রমণ হলেই যে ক্যানসারের সৃষ্টি হয়, তা নয়। স্বাভাবিক জীবনযাপনে অভ্যস্ত নারীদের জরায়ু প্রায়ই এইচপি ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়ে থাকে। এতে কোনো উপসর্গ থাকে না বা শারীরিক পরীক্ষায় কোনো চিহ্ন বা ক্ষত পাওয়া যায় না। এর জন্য কোনো চিকিৎসারও প্রয়োজন নেই। শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতাবলে ১৮-২৪ মাসের মধ্যে জরায়ু প্রায় সব এইচপি ভাইরাস থেকে মুক্ত হয়ে যায়। জরায়ুতে এইচপি ভাইরাস দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে, জরায়ু কোষে পরিবর্তনের সূচনা করে। একসময় তা ক্যানসারে রূপ নেয়। এইচপিভির প্রতিষেধক টিকা এইচপিভি-১৬, এইচপিভি-১৮, এইচপিভি-৬, এইচপিভি-১১-এর প্রতিষেধক টিকা আবিষ্কৃত হয়েছে।

কত বয়সে এ টিকা দিতে হবে?
এ টিকা এইচপিভির প্রতিষেধক। তাই এ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার আগেই টিকা দিতে হয়। আমেরিকার ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) নিয়মানুযায়ী নয় থেকে ২৫ বছর বয়সে এ টিকা কার্যকর হয়। গর্ভাবস্থায় এ টিকা প্রদান এখনো অনুমোদন পায়নি। এইচপিভি ইনফেকশন হয়ে যাওয়ার পর বা ক্যানসার হয়ে যাওয়ার পর টিকা দিলে কোনো কাজে আসে না। আর এ টিকা গ্রহণকারীকেও নিয়মিত পেপস স্মেয়ার টেস্টে অংশ নিতে হবে।

জরায়ুমুখের ক্যানসার প্রতিরোধে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

 বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে বাংলাদেশের প্রচলিত আইন (মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ বছর) মেনে চলা।
 অধিক সন্তান নেওয়া থেকে বিরত থাকা।
 ধূমপান বন্ধ করতে হবে। অন্যের ধূমপানে যাতে নিজের ক্ষতি না হয়, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে, অর্থাৎ পরোক্ষ ধূমপানের শিকার না হওয়া।
 বন্ধ করতে হবে পানের সঙ্গে জর্দা ও সাদা পাতা খাওয়া, দাঁতের গোড়ায় গুল (তামাকের গুঁড়া) লাগানো।
 সুষম খাবার খেতে হবে। প্রতিদিন তিন-চারবার ফল, শাকসবজি ও তরকারি খেতে হবে।
 পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যসম্মত ও সুশৃঙ্খল জীবনযাপন করা। সামাজিক অনুশাসন মেনে চলা।
 নিয়মিত পেপস স্মেয়ার টেস্টে অংশ নেওয়া।

উল্লিখিত বিষয়গুলো বেশি বেশি প্রচার করলে এবং ঘরে ঘরে এসব তথ্য পৌঁছে দিতে পারলে উন্নত দেশের মতো বাংলাদেশেও জরায়ুমুখের ক্যানসার এবং এ ক্যানসারজনিত মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। এর সঙ্গে যদি সঠিকভাবে এইচপিভি টিকা দেওয়া যায়, তাহলে এ রোগ প্রতিকারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মেয়েদের মুত্রনালির সংক্রমণ


মুত্রনালির সংক্রমণ ও প্রদাহ বলতে সাধারণত মুত্রথলির ও মুত্রদ্বারের সংক্রমণকে বোঝায়, যা সময়মতো চিকিৎসা না করালে মুত্রনালি বা ইউরেটার এবং বৃক্ক বা কিডনির সংক্রমণ ও প্রদাহে রুপ নিতে পারে।

মুত্রনালির সংক্রমণ খুব বেশি দেখা দেয় মেয়েদের মধ্যে। কারণ, মেয়েদের ক্ষেত্রে মুত্রদ্বার ও যোনিপথ খুব কাছাকাছি অবস্হান করে। মেয়েদের যোনিপথে নানা কারণে সংক্রমণ ও প্রদাহের সৃষ্টি হয় খুব সহজেই। যেমন ধরুন মাসিক ঋতুস্রাবের সময় যোনিপথে রক্তক্ষরণ হয় এটা একটা স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় ব্যাপার। কিন্তু রক্তে ব্যাকটেরিয়া বা জীবাণুর বংশবৃদ্ধির জন্য খুবই উপযুক্ত মাধ্যম। মাসিক ঋতুস্রাবের সময় অনেকক্ষেত্রে মেয়েরা ময়লা, ছেঁড়া ও নোংরা নেকড়া জাতীয় কাপড় স্ত্রী-অঙ্গে ব্যবহার করেন, এতে জীবাণু প্রথমে যোনিপথে ও পরে তৎসংলগ্ন মুত্রনালিকে সংক্রমিত করে।

এরপর আসুন প্রসবজনিত স্বাস্হ্যসমস্যা প্রসঙ্গে। এ সময় যোনিপথে সন্তান প্রসবের কারণে নানা প্রকার ক্ষতের সৃষ্টি হয় এবং রক্তক্ষরণ ও রস নিঃসৃত হয়। শারীরিক দুর্বলতার জন্যও এ সময় জীবাণু সহজেই শরীরকে কাবু করে ফেলে। আগেই বলেছি রক্তমিশ্রিত রস জীবাণুর বংশবৃদ্ধি ও বিস্তারে অত্যন্ত সহায়ক। তাই এ সময় জরায়ু ও যোনিপথের প্রদাহ ও সংক্রমণের সঙ্গে মুত্রনালির সংক্রমণটা ঘটা খুবই স্বাভাবিক।

গর্ভবতী অবস্হায় ও প্রসব-পরবর্তী প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা উচিত। এ সময় পানি কম খেলে মুত্রনালির প্রদাহ ও সংক্রমণ বেড়ে যায়। কারণ গর্ভকালে মেয়েদের শরীরের প্রোজেসটেরন (Progesteron) নামক এক প্রকার স্ত্রী হরমোন খুব বেশি পরিমাণে নিঃসৃত হয়। এ হরমোনের প্রভাবে শরীরের নরম ও মসৃণ মাংসযুক্ত নালিগুলো সম্প্রসারিত হয়, ফলে মুত্রবাহী নালিও সম্প্রসারিত হয়। এর ফলে ওই সময় পানি কম খেলে প্রস্রাবের বেগ আরো কমে যাবে এবং প্রস্রাবের কিছুটা তলানি (Residual urine) সবসময় মুত্রবাহী নালিতে জমে থাকার আশঙ্কা থাকবে, যা জীবাণু বৃদ্ধির জন্য খুবই সহায়ক। তাই গর্ভাবস্হায় প্রস্রাবের প্রদাহ এবং মুত্রনালির সংক্রমণ ও প্রদাহ বেশি হয় অন্য সময়ের চেয়ে।

লক্ষণ
–মুত্রনালি এবং বৃক্ক বা মুত্রগ্রন্হির বা মুত্রথলির প্রদাহ হলে প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া করবে।

–প্রস্রাব পরিমাণে কম হতে পারে।

–খুব ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ হবে।

–তলপেটে ব্যথা ও যন্ত্রণা হবে। প্রস্রাব করার পরও রোগিনী অস্বস্তি ও যন্ত্রণা থেকে রেহাই পাবে না এবং বারবার সে বাথরুমে ছুটে যাবে কিংবা দীর্ঘসময় প্রস্রাবের জন্য বসে থাকবে।

–কাঁপুনি দিয়ে জ্বর হবে এবং জ্বরের সময় বেশ শীত ভাব অনুভুত হবে।

–রোগিনী বেশ অসুস্হ ও দুর্বল থাকবে।

প্রতিকার কী?
এ প্রদাহ বা সংক্রমণের প্রকোপকে অতি সহজেই প্রতিকার করা সম্ভব। আর তা হলো একটিমাত্র সহজ উপায়ে এবং এতে কোনো টাকা-পয়সাও খরচ করতে হয় না। আজকের দুর্মুল্যের বাজারে টাকা-পয়সার কথাটাও ভাবতে হবে বৈকি। এ আপাত সহজ অথচ মারাত্মক পরিণতির হাত থেকে রেহাই পাবার একমাত্র উপায় প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা। সারাদিন অন্তত ১৫/২০ গ্লাস পানি বা পানিজাতীয় খাবার খাবেন, যেমন ধরুন শরবত, ডাবের পানি, ফলের রস ইত্যাদি। ডাব প্রস্রাবের বা মুত্রনালির সংক্রমণ প্রতিকারে খুবই উপকারী।

এছাড়া মাঝে মধ্যে প্রস্রাবের প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা করে দেখা উচিত কোনো প্রকার জীবাণু সংক্রমণ আছে কি না। বিশেষ করে গর্ভাবস্হায় নিয়মিত চেকআপ করানো এবং প্রস্রাবে অ্যালবুমিন এবং সুগার আছে কি না তাও অবশ্যই দেখতে হবে।

মুত্রনালির সংক্রমণে ক্ষতির আশঙ্কা
মুত্রনালির প্রদাহে ও সংক্রমণে শরীরে সমুহ ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এ জাতীয় প্রদাহ ও সংক্রমণে আস্তে আস্তে কিডনি বা বৃক্ক আক্রান্ত হয়ে কিডনির কার্যক্ষমতা নষ্ট করে ফেলতে পারে। এছাড়া জ্বরের প্রকোপে ও প্রস্রাবের অসহ্য জ্বালা যন্ত্রণায় রোগিনী খুব দুর্বল ও ভগ্নস্বাস্হ্য হয়ে পড়ে। এটি বিশেষভাবে মনে রাখতে হবে যে, মুত্রনালি সংক্রমণের চিকিৎসা যথাসময়ে না করালে কিডনি নষ্ট হয়ে যাবার এবং রোগিনীর প্রাণনাশের সমুহ আশঙ্কা থাকে।

উপসংহার
মুত্রনালি প্রদাহ ও সংক্রমণ খুবই ছোঁয়াচে রোগ এবং এ রোগের জীবাণু খুব সহজেই সংক্রমিত হতে পারে। মুত্রনালির, মুত্রথলির বা কিডনির কোনো প্রকার প্রদাহ ও সংক্রমণ যাতে না হয় সেজন্য সামান্য সতর্কতাই যথেষ্ট। যেমন সব সময় প্রচুর পানি পান করা, গর্ভবতী মায়েদের নিয়মিত চেকআপ করানো এবং প্রদাহ বা সংক্রমণের সামান্য লক্ষণ প্রকাশ পেলে সত্বর চিকিৎসার ব্যবস্হা নেয়া উচিত। এতে আমরা সুস্হ থাকব এবং কিডনি হারানোর মতো গুরুতর বিপত্তির হাত থেকে রক্ষা পাব।

নারীদের চুল পড়া


নারীদের চুল পড়া একটি অস্বস্তিকর সমস্যা। পুরুষদের যেভাবে টাক পড়ে সেভাবে চুল না ঝরে পড়লেও নারীদের চুল পাতলা হয়ে যাওয়ার প্রবণতা খুব বেশি। আমাদের সমাজে সুন্দর স্বাস্থ্যোজ্জ্বল চুল না হলে নারীদের সুন্দরী বা সুশ্রী বলা মুশকিল। অল্প বয়সে চুল না ঝরে পড়লেও বয়স বাড়ার সাথে সাথে চুল পড়ে যাওয়ার সম্মুখীন হন নারীরা। নানা কারণে মেয়েদের চুল পড়তে পারে-

হরমোন

হরমোনের তারতম্যের কারণে চুল পড়া একটি প্রধান সমস্যা। হাইরয়েড হরমোনোর তারতম্যের কারণে চুল পড়ে। এ ছাড়া ইস্ট্রোজেনের কারণেও চুল পড়তে পারে। তবে হরমোনজনিত সমস্যায় চিকিৎসা করালে চুল পড়া বন্ধ হয়।

সন্তান জন্মদান

সন্তান জন্মদানের পর তিন মাস নারীদের প্রচুর চুল পড়তে পারে। এটিও হরমোনোর কারণেই হয়ে থাকে। তবে প্রাকৃতিকভাবেই হরমোন সঠিক মাত্রায় চলে আসার পর চুল পড়া বন্ধ হয়ে যায়। তবে খুব বেশি চুল পড়ে পাতলা হয়ে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া প্রয়োজন।

রজঃনিবৃত্তি

মাসিক বন্ধ হওয়ার পরে মহিলারা চুলের সমস্যা নিয়ে বেশি ভোগেন। এ সময় ৩৭ শতাংশ মহিলার চুল বেশি মাত্রায় ঝরে পড়ে। এ ছাড়া হরমোন থেরাপি নেয়ার কারণেও চুল পড়তে পারে।

নানা ধরনের অসুস্থতা বা অসুস্থতার পরেও চুল ঝরে পড়া সমস্যা হতে পারে। তবে যে কারণেই চুল ঝরে পড়ুক তার চিকিৎসা করা প্রয়োজন। কেননা এতে সৌন্দর্যহানী ঘটে যা খুবই বিরক্তিকর। মহিলাদের ক্ষেত্রে অনেক সময় চুলের নানা ফ্যাশন যেমন- রিবন্ডিং, স্টেইট, পার্ম, ডাই, ব্লোয়ার ড্রাই ইত্যাদি করার কারণে চুল ঝরে পড়তে পারে।

এ ব্যাপারে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। এ ছাড়া অনেকে নিজে থেকে ওজন কমানোর জন্য কম খান কিংবা পুষ্টিকর খাবার খান না। এতে করেও চুলের ক্ষতি হয়। ওজন কমাতে নিজে নিজে খাওয়া বন্ধ না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। চুল পড়া হলে অবশ্যই এর কারণ অনুযায়ী চিকিৎসা করা প্রয়োজন।












 স্তন-ক্যান্সার চিকিৎসায় রেডিওথেরাপি


স্তন-ক্যান্সার নির্ণয় হওয়ার পরের সময়টা রোগী ও তার পরিবারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক রোগী ও তার পরিবার সহজে এ রোগ মেনে নিতে পারে না। এ ছাড়া রোগী নিজে ক্যান্সার রোগের ভয়ে ও শোকে এতই কাতর হয়ে থাকে যে তার নাওয়া-খাওয়া, ঘুম, স্বাভাবিক কাজকর্ম বন্ধ হয়ে যায়। ফলে রোগী মানসিক ও শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে যায়।
রোগীর প্রিয়জনকে তাই এ সময় কাছে কাছে থাকতে হবে ও সাহস দিতে হবে। রোগীকে সঠিক তথ্য দিতে হবে। সম্ভব হলে রোগীর সঙ্গে সব বিষয়ে আলোচনা করা উচিত, যাতে চিকিৎসা গ্রহণ করার জন্য রোগী শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে পারে।
এ বিষয়ে আলোচনা করতে পারে পরিবারের অভিজ্ঞজন, সমাজকর্মী, নার্স, চিকিৎসক কিংবা ভুক্তভোগী যারা চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ জীবন যাপন করছে।
আক্রান্ত রোগী ও তার পরিবারের কয়েকটি তথ্য অবশ্যই জানা উচিতঃ
স্তন-ক্যান্সার একটি নিরাময়যোগ্য রোগ। এ রোগ যেকোনো পর্যায়ে শনাক্ত হলে, কোনো না কোনো চিকিৎসা দেওয়া যায়, জীবনকে দীর্ঘায়িত করা যায় এবং জীবনের মান বাড়ানো যায়।
কোন পর্যায়ে রোগ নির্ণয় হয়েছে, কী কী চিকিৎসাপদ্ধতির প্রয়োজন ও চিকিৎসার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কী কী এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার উপশম বা কমানোর উপায়, চিকিৎসার সময়কাল ও খরচ, চিকিৎসা-পরবর্তী যত্ন প্রভৃতি অবশ্যই জানতে হবে।
স্তন-ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য কয়েকটি বিষয় বিবেচনা করা হয়। যেমন রোগের পর্যায়, বয়স, শারীরিক অবস্থা, অন্য কোনো অসুখে আক্রান্ত কি না ইত্যাদি। স্তন-ক্যান্সারের প্রচলিত চিকিৎসাপদ্ধতিগুলো হলো সার্জারি বা শল্যচিকিৎসা, কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি ও হরমোনথেরাপি।

রেডিওথেরাপি কী
রেডিওথেরাপি হচ্ছে আয়ন প্রস্তুতকারী অদৃশ্য শক্তি যেমন এক্স-রে, গামা-রে, ইলেকট্রন, প্রোটন, নিউট্রন দিয়ে ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করা।
গামা-রে বা রশ্মির উৎস কোবাল্ট৬০ টেলিথেরাপি মেশিন এবং এক্স-রে, ইলেকট্রন, প্রোটন, নিউট্রন শক্তির উৎস লিনিয়ার এক্সিলারেটর মেশিন।
কোবাল্ট৬০ ও লিনিয়ার এক্সিলারেটর মেশিন দিয়ে রেডিওথেরাপি চিকিৎসা করা হয়। এতে ঠান্ডা বা গরম কিছুই অনুভূত হয় না। ব্যথাও হয় না। অনেকটা এক্স-রে করানোর মতো।

রেডিওথেরাপি চিকিৎসাপদ্ধতি
রেডিয়েশন অনকোলজিস্ট (রেডিওথেরাপি চিকিৎসায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক) রেডিওথেরাপি চিকিৎসার মূল দায়িত্ব পালন করে থাকেন। এ চিকিৎসা আক্রান্ত স্থানে দেওয়া হয়। রেডিওথেরাপি মেশিন দিয়ে চিকিৎসার আগে সিমুলেটর মেশিনের সাহায্যে চিকিৎসার স্থান নির্ধêারণ করে চিহ্নিত করা হয়।
পরে মার্কার কলম দিয়ে চিকিৎসার স্থানে দাগ দেওয়া হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এ দাগ কোনোভাবেই মোছা যাবে না। কলমের এ দাগ সাময়িক। তবে তা মুছে গেলেও যাতে চিকিৎসার স্থান সহজেই চেনা যায়, সে জন্য চিকিৎসার সীমানায় টাট্টু (সুই ফুটিয়ে ও কালি দিয়ে যা করা হয়) করা হয়।
স্তন-ক্যান্সার অপারেশনের পর রেডিওথেরাপি চিকিৎসা (অ্যাডজুভেন্ট রেডিওথেরাপি) প্রতিদিন তিন-চারটি ধাপে দেওয়া হয়। প্রতিটি ধাপে চিকিৎসার সময় খুবই কম। মাত্র দুই-এক মিনিট বা তারও কম। তবে রেডিওথেরাপি চিকিৎসার প্রস্তুতিতে বেশ সময় লেগে যায়। একটি লম্বা সময় নিয়ে রেডিওথেরাপি চিকিৎসা দেওয়া হয়। রেডিওথেরাপি চিকিৎসার মাত্রা (ডোজ) ২৫-৩০টি অংশে ভাগ করে দেওয়া হয়।
সপ্তাহে পাঁচ দিন করে পাঁচ-ছয় সপ্তাহ চিকিৎসা দিতে হয়। প্রয়োজনে রেডিওথেরাপি ডোজ বাড়িয়ে বুস্টার ডোজ দেওয়া হয়।

মেশিনে রেডিওথেরাপি চিকিৎসা

প্রথম দিন চিকিৎসা দিতে একটু দেরি হয়। কারণ, রেডিয়েশন অনকোলজিস্ট তাঁর দল নিয়ে রেডিওথেরাপি চিকিৎসার জন্য রোগীকে পরিকল্পনা অনুযায়ী রেডিওথেরাপি মেশিনে সেট করে থাকেন। পরে রেডিওথেরাপি টেকনোলজিস্ট (রেডিওথেরাপি মেশিন যিনি চালনা করেন) পরামর্শপত্র অনুযায়ী চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। রেডিওথেরাপি চিকিৎসার সময় রোগীকে মেশিন রুমে একা থাকতে হয়।
ক্লোজসার্কিট মনিটরে কন্ট্রোল রুম থেকে টেকনোলজিস্ট ও অন্যরা তা পর্যবেক্ষণ করে থাকেন। প্রয়োজনে কন্ট্রোল রুম থেকে রোগীর সঙ্গে কথাও বলা যায়। রেডিওথেরাপি চিকিৎসারত রোগীর শরীর থেকে অন্যের শরীরে রেডিওথেরাপি ছড়ায় না। তাই পরিবারের সঙ্গে স্বাভাবিক জীবন যাপন করে এ চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া যায়। প্রতি সপ্তাহে রেডিয়েশন অনকোলজিস্ট রোগীকে পরীক্ষা করে থাকেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী রক্ত ও অন্যান্য পরীক্ষা করানো হয়।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
রেডিওথেরাপি চিকিৎসা অপেক্ষাকৃত কম ঝুঁকিপূর্ণ এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও কম হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অল্প দিনেই তা সেরে যায়।

ক্লান্তি লাগা
রেডিওথেরাপি চিকিৎসায় ক্লান্তি শুরু হয় চিকিৎসার দুই-তিন সপ্তাহ পর থেকে। এ চিকিৎসায় শরীরের ক্ষয়রোধে কিছুটা শক্তি ব্যয় হয়। চিকিৎসাকালে শারীরিক পরিশ্রম কমিয়ে একটু বেশি সময় বিশ্রাম নিলে, পুষ্টিকর খাবার খেলে, রাতে বেশি সময় ঘুমালে ক্লান্তি দূর হয়।

ত্বকের পরিবর্তন
রেডিওথেরাপি চিকিৎসা ত্বকের ওপর দিয়ে দিতে হয়। কখনো কখনো ত্বকে চুলকানো ভাব থাকে। চিকিৎসার তিন-চার সপ্তাহ পর সূর্যতাপে ত্বক পোড়ার মতো লাল হয়ে ওঠে।

রেডিওথেরাপি চিকিৎসার সময় ত্বকের যত্ন
চিকিৎসা-স্থানের আলাদা করে যত্ন নিতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া চিকিৎসা-স্থানে কোনো ধরনের সাবান, লোশন, সুগন্ধি, ট্যালকম পাউডার, কসমেটিকস, ওষুধ বা অন্য কিছু ব্যবহার করা যাবে না। চিকিৎসা-স্থানের ত্বক ঘষামাজা করা যাবে না।
ত্বকে লেগে থাকে এমন কোনো ধরনের টেপ ব্যবহার করা যাবে না।
অতিরিক্ত গরম বা ঠান্ডা কোনো কিছুই চিকিৎসার স্থানে ব্যবহার করা যাবে না। এমনকি গরম পানি ত্বকের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। গোসলে স্বাভাবিক অথবা কুসুম গরম পানি ব্যবহার করা যেতে পারে। গোসলের পর নরম কাপড় বা তোয়ালে দিয়ে হালকা চাপ দিয়ে পানি শুকাতে হবে।
বগলের নিচে ও সংলগ্ন স্থানে শেভ করার জন্য ইলেকট্রিক শেভার বা রেজর ব্যবহার করা যেতে পারে; অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী। তবে শেভিং লোশন কিংবা হেয়ার রিমুভাল ক্রিম ব্যবহার করা যাবে না।
প্রয়োজন না হলে রোদে ঘোরাঘুরি না করাই ভালো। বাইরে বের হওয়ার সময় শরীর ভালোভাবে ঢেকে নিতে হবে, যাতে চিকিৎসা-স্থান রোদে পুড়তে না পারে। রেডিওথেরাপি চিকিৎসাকালে ঢিলেঢালা সুতির পোশাক পরতে হবে।

অন্যান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

রেডিওথেরাপি চিকিৎসাকালে স্তন সামান্য স্কীত হয়ে উঠতে পারে। তাতে অল্প ব্যথা হতে পারে। অনেক সময় উপুড় হয়ে ঘুমাতে অসুবিধা হতে পারে।
তবে চিকিৎসার পর এ সমস্যা সেরে যায়। চিকিৎসা শেষ হওয়ার দীর্ঘদিন পরও (কয়েক মাস থেকে বছর) স্তনে সামান্য ব্যথা হতে পারে এবং আকারে কিছুটা ছোট বা বড় হতে পারে।


মেয়েদের প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া


মেয়েদের স্বাস্থ্য সমস্যার প্রধান একটি সমস্যা প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া। প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করার প্রধান জীবাণুটি হলো ব্যাকটেরিয়া। তবে ছত্রাক এবং ভাইরাসও এ ধরনের প্রদাহ ঘটায়। মেয়েদের মূত্রনালী পায়ুপথের খুব কাছে থাকে বলে সহজেই জীবাণু প্রবেশ করতে পারে। ই-কলাই নামক জীবাণু শতকরা ৭০-৮০ ভাগ প্রস্রাবের প্রদাহের কারণ। অনেক সময় যৌন সঙ্গমের কারণেও জীবাণু মূত্রনালীতে প্রবেশ করে। এসব জীবাণু মূত্রনালীপথে মূত্রথলিতে ও কিডনিতে প্রবেশ করে।

এড়্গেত্রে শুধু প্রস্রাবে জ্বালাপোড়াই করে না, বার বার প্রস্রাবের বেগ হয়, ফোঁটায় ফোঁটায় প্রস্রাব পড়ে। প্রস্রাবের রঙ ধোঁয়াটে, দুর্গন্ধযুক্ত ও পরিমাণে কম হয়। মাঝে মাঝে তলপেটে ব্যথা হতে পারে। যৌনকাজে অনিচ্ছা জাগে। অনেক সময় শরীরে জ্বর আসে। মাঝে মাঝে বমি হতে পারে। নববিবাহিত মেয়েদের মধুচন্দ্রিমা যাপনকালে প্রস্রাবের প্রদাহ হতে পারে। গর্ভবতী মহিলারা প্রস্রাবের প্রদাহে আক্রান্তô হন। চিকিৎসা ড়্গেত্রে প্রচুর পানি খেতে হবে। অ্যান্টিবায়োটিক খেতে হবে চিকিৎসকের পরামর্শমতো। এ সময় সহবাস থেকে বিরত থাকতে হবে। গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া প্রতিরোধে কী ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে?

০ প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে পানি খেতে হবে। পানির পরিমাণ এত বেশি হতে হবে যাতে দৈনিক কমপক্ষে দুই লিটার প্রস্রাব তৈরি হয়। দিনের মধ্যে দুই থেকে তিন ঘন্টার মধ্যে প্রস্রাব করতে হবে। কখনো প্রস্রাব আটকে রাখা যাবে না।

০ ঘুমোতে যাওয়ার আগে এবং ঘুম থেকে জাগার পর প্রস্রাব করতে হবে।

০ সহবাসের পর পানি দিয়ে ভালোভাবে প্রস্রাবের রাস্তôা ধুয়ে ফেলতে হবে।

০ মলত্যাগের পর শৌচকাজ সতর্কতার সাথে করতে হবে যাতে ঐ পানি প্রস্রাবের রাস্তায় না আসে


স্তন বোটার প্যাজেটস রোগ
ইমেইল প্রিন্ট পিডিএফ
অনেক সময় স্তনে ক্যান্সার হলে এর বোটা বা নিপল এ পাঁচড়ার মতো একধরনের ঘা হয়। একজিমা হিসেবে দীর্ঘদিন এর চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া হলেও তা নিপল বা এর চারপাশের গাঢ় বর্নের ত্বক (Areola) থেকে সেরে যায়না। একসময় নিপল এর ক্ষত (Erosion of nipple) বাড়তে থাকে এবং তা স্তনের গা থেকে খুলে পরে যায় (disappear) । ঐ একজিমা যে স্তন ক্যান্সার এর কারনে হচ্ছিল তখন সেটাও পরিস্কার হয়ে উঠে। তাই স্তনের বোটায় কখনো একজিমা হয়েছে সন্দেহ হলে অবশ্যই তার বায়োপসি করিয়ে দেখা উচিত অন্যথায় তা রোগীর জীবন বিপন্ন করে তুলতে পারে।









স্তনের বোটা ভেতরে ঢুকে যাওয়া

বয়োসন্ধিতে স্তনের পরিপূর্ণতা ও বৃদ্ধির সময় অনেক মেয়ের স্তনের বোটা (Nipple) স্তনের ভিতরের দিকে ঢুকে যায়। বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই শুধু একপাশের স্তন এই ধরনের সমস্যায় পরে। এর জন্য বিশেষ কোনো চিকিৎসার প্রয়োজন নেই। সাধারণত গর্ভধারন অথবা দুগ্ধদানের সময় নিজে নিজেই এই সমস্যা ভালো হয়ে যায়। যদি দুগ্ধদানের সময় এই সমস্যা ভালো না হয়ে যায় সেক্ষেত্রে তা শিশুকে দুগ্ধদানে বাধা সৃষ্টি করে। একধরনের মেকানিকাল সাকশন ডিভাইস ব্যবহার করে এই সমস্যা থেকে পরিত্রান পাওয়া যেতে পারে। তাতেও কাজ না হলে কসমেটিক সার্জারির মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব কিন্ত এতে অনেক সময় স্তনের ডাক্ট কেটে যেতে পারে এবং তখন নতুন সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।

পরিণত বয়সে নতুন করে কারো স্তনের বোটা ভিতরে ঢুকে যাওয়া স্তনের আভ্যন্তরিন জটিল কোনো সমস্যা নির্দেশ করে থাকে। ডাক্ট এক্টেশিয়া, মাসটাইটিস বা টিউমার হলে এমনটি হতে পারে। অনেক সময় ক্যান্সার হলেও নতুন করে স্বাভাবিক স্তনের বোটা ভিতরের দিকে ঢুকে যেতে পারে। তাই পরিণত বয়সে নতুন করে এই সমস্যা দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের স্মরনাপন্ন হতে হবে।







স্তনের বোটা ভেতরে ঢুকে যাওয়া

বয়োসন্ধিতে স্তনের পরিপূর্ণতা ও বৃদ্ধির সময় অনেক মেয়ের স্তনের বোটা (Nipple) স্তনের ভিতরের দিকে ঢুকে যায়। বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই শুধু একপাশের স্তন এই ধরনের সমস্যায় পরে। এর জন্য বিশেষ কোনো চিকিৎসার প্রয়োজন নেই। সাধারণত গর্ভধারন অথবা দুগ্ধদানের সময় নিজে নিজেই এই সমস্যা ভালো হয়ে যায়। যদি দুগ্ধদানের সময় এই সমস্যা ভালো না হয়ে যায় সেক্ষেত্রে তা শিশুকে দুগ্ধদানে বাধা সৃষ্টি করে। একধরনের মেকানিকাল সাকশন ডিভাইস ব্যবহার করে এই সমস্যা থেকে পরিত্রান পাওয়া যেতে পারে। তাতেও কাজ না হলে কসমেটিক সার্জারির মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব কিন্ত এতে অনেক সময় স্তনের ডাক্ট কেটে যেতে পারে এবং তখন নতুন সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।

পরিণত বয়সে নতুন করে কারো স্তনের বোটা ভিতরে ঢুকে যাওয়া স্তনের আভ্যন্তরিন জটিল কোনো সমস্যা নির্দেশ করে থাকে। ডাক্ট এক্টেশিয়া, মাসটাইটিস বা টিউমার হলে এমনটি হতে পারে। অনেক সময় ক্যান্সার হলেও নতুন করে স্বাভাবিক স্তনের বোটা ভিতরের দিকে ঢুকে যেতে পারে। তাই পরিণত বয়সে নতুন করে এই সমস্যা দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের স্মরনাপন্ন হতে হবে।

স্তনের লাইপোমা (Lipoma of the Breast)

এটা স্তনের একটি নিরীহ টিউমার, স্তনে এই ধরনের টিউমার খুব একটা হতে দেখা যায়না। স্তনে অবস্থিত পরিণত চর্বি কোষ এর অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধির কারনে এই টিউমারটি হতে পারে। টিউমারটি রোগীর মনে অস্বস্তি এবং আতংক সৃষ্টি করতে পারে তাই বায়োপসি করে নিশ্চিত হওয়া উচিত যে এটা লাইপোমা। লাইপোমা হলে এর জন্য কোনো চিকিৎসা নেবার প্রয়োজন হয়না। তবে রোগী খুব অস্বস্তি বোধ করলে breast surgeon বা কসমেটিক সার্জন দ্বারা অপারেশন (Enucleation) করিয়ে নিতে পারেন।
তনের ক্যান্সার (Breast Cancer)

উন্নত বিশ্বে মধ্য বয়স্ক মহিলাদের মৃত্যুর প্রধান কারন হলো স্তন ক্যান্সার। অনুন্নত বিশ্বেও এই হার আশংকাজনক। যুক্তরাজ্যে প্রতি ১২ জন মহিলার ১ জন স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়। ২০ বছর বয়সের নীচের মহিলাদের এই ক্যান্সার হয়না বললেই চলে। পুরুষদেরও স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা খুবই কম (০.৫%)। উন্নত বিশ্বের আধুনিক খাদ্যাভ্যাস নাগরিকদের অনেক সমস্যায় ফেলে, স্তন ক্যান্সার সেই খাদ্যাভ্যাসের কারনেই পশ্চিমা বিশ্বে বেশী দেখা যায় বলে ধরা হয়।বলে রাখা ভালো জাপান উন্নত বিশ্বের তালিকায় পরলেও সেখানে স্তন ক্যান্সার কিন্ত ইউরোপ আমেরিকার মতো অতো বেশী নয়। তবে যেকোনো দেশেই অতিরিক্ত মদ্যপায়ীদের স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হবার হার যে অনেক বেশী এটা এখন একটা পরীক্ষিত সত্য। বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গেছে, যে সকল মা তাদের সন্তান কে নিয়মিত স্তন্য পান করিয়েছেন তাদের স্তন ক্যান্সার হবার হার তুলনামুলক হারে অনেক কম, তেমনি যে সকল মা কম বয়সে বাচ্চা নিয়েছেন এবং যেসকল মহিলার মাসিক একটু দেরিতে শুরু হয়েছে (Late menarche) এবং আগে বন্ধ হয়ে গেছে (Early menopause) তাদের মধ্যেও এই হার বেশ কম। অন্য দিকে যে সকল মহিলা একটিও সন্তান নেননি অথবা যারা menopause এর পরে স্থুলকায় (Obese) হয়ে গেছেন তাদের এই ক্যান্সার হবার হার তুলনামুলক হারে বেশী।

সমীক্ষা যাই বলুক না কেন ৩০ বছরের পরে যে কোনো মহিলারই নিয়মিত স্তন পরীক্ষা করে দেখা উচিত তার স্তনে গোটার মতো কিছু পাওয়া যায় কিনা। এই জন্য আয়না (Mirror) এর সামনে দুই বুক খুলে দাঁড়িয়ে নিজে নিজেই তা ভালো করে চেপে পরীক্ষা করে দেখা উচিত এবং সন্দেহ জনক কিছু পাওয়া গেলে সাথে সাথে Breast surgeon এর সাথে যোগাযোগ করা উচিত। এই পরিস্থিতিতে আল্ট্রাসনোগ্রাম বা ম্যামোগ্রাম পরীক্ষা করিয়ে স্তন এ টিউমার আছে কিনা তা নিশ্চিত করা উচিত। টিউমার থাকলে তা ক্যান্সার না নিরীহ শ্রেনীর তা ১০০% নিশ্চিত করতে অবশ্যই বায়োপসি করে হিস্টপ্যাথলজি করতে হবে।

শুরুতে স্তন ক্যান্সার একটা ছোট্ট দানার মতো হাতে লাগতে পারে তবে অনেক সময় তা হাতে নাও লাগতে পারে। অনেক সময় এই রোগে স্তনের বোটা বা নিপ্যল (Nipple) কিছুটা ভিতরের দিকে ঢুকে যায় (Nipple retraction), কারো কারো আবার টিউমারের ঠিক উপড়ের স্তনের ত্বক কমলার খোসার মতো ছিদ্র ছিদ্র আকার ধারন করে (Peau d’orange)। এসব চিহ্ন স্তন ক্যান্সার যে বেশ অগ্রবর্তী পর্যায়ে চলে গেছে তা নির্দেশ করে। তবে এই ক্যান্সার অগ্রবর্তী হলে গোটার মতো টিউমারটি বুকের মাংসপেশীর সাথে লেগে যায় এবং বুকে ব্যথা করতে থাকে সেই সাথে বগলের লসিকা গ্রন্থিগুলো (Lymph node) ফুলে বড় হয়ে উঠতে থাকে। রোগের এক পর্যায়ে রোগীর স্বাস্থ্য খারাপ হয়ে যায়, তিনি দ্রুত ওজন হারাতে থাকেন, সেই সাথে ক্ষুদামন্দা, বমি বমি ভাব, ফুসফুসে পানি জমে শ্বাস কষ্ট, লিভার আক্রান্ত হয়ে পেটে পানি জমা এই সমস্যা গুলোও একে একে যোগ হতে থাকে।

জেনে রাখা ভালো যেদিন প্রথম স্তন ক্যান্সার ধরা পরলো সেদিন সম্ভবত তা সমস্ত শরীরে ছড়িয়ে পরেছে। স্তন ক্যান্সার খুব দ্রুত হারে সমস্ত শরীরে ছড়িয়ে পরতে পারে, তাই রোগের সন্দেহ হবার পরপরই এর চিকিৎসা শুরু করা উচিত। এমন কোনো অসুধ এখনো আবিস্কৃত হয়নি যা স্তন ক্যান্সার কে পুরোপুরি ভালো করে দিতে পারে, তবে বিভিন্ন মডালিটির চিকিৎসা একই সাথে চালিয়ে গেলে এই রোগ নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব।

অধিকাংশ ক্ষেত্রে ক্যান্সার ধরা পরার পরপরই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগন রোগীকে একই সাথে কিংবা ভিন্ন ভিন্ন ভাবে কেমোথেরাপি / রেডিওথেরাপি (নিওএডজুভেন্ট থেরাপি) শুরু করে প্রথমেই রোগটিকে নিয়ন্ত্রনে নিয়ে নেন। এরপর অবস্থা বুঝে অপারেশন করে টিউমার আক্রান্ত পুরো স্তন (Mastectomy) এবং সেইসাথে বগলের লিম্ফ গ্রন্থি ফেলে দেয়া হয়। এর পরে রোগীকে নির্দিষ্ট মাত্রার রেডিওথেরাপি এবং কেমোথেরাপি দিয়ে রোগীর দেহ থেকে ক্যান্সার আক্রান্ত সকল কোষ মেরে ফেলার পদক্ষেপ নেয়া হয়। তবে চিকিৎসার এই পদক্ষেপ গুলো নির্ভর করে রোগী ক্যান্সার এর কোন পর্যায়ে চিকিৎসক এর কাছে এসেছে তার উপর। বেশী দেরি করে আসলে এর কার্যকরী চিকিৎসার সুযোগ একদমই কমে আসে।

স্তন ক্যান্সার এর কেমোথেরাপি তে টেমোক্সিফেন, সাইক্লোফসফামাইড, টেক্সেডিওল, ক্যাপাসিটাবিওন, এনস্ট্রাজল ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের হরমোন বা বিষ জাতীয় অসুধ বিভিন্ন মাত্রায় ব্যবহার করা হয়। এসব নির্ভর করে রোগীর কোন ধরনের ক্যান্সার হয়েছে এবং সেই ক্যান্সার কোষের স্পর্শকাতরতার উপর। এসব অসুধ বেশ ব্যয়বহুল এবং এদের কার্যকারিতা এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও ভিন্ন ভিন্ন বটে, তাই সব রোগীকে একই ধরনের অসুধ দেয়া সম্ভব হয়না। তাই রোগীর উচিত চিকিৎসার শুরুতেই এসব ব্যাপারে খোলামনে তার চিকিৎসক এর সাথে আলাপ করে নেয়া।

পরিবারে মা, খালা, ফুপু, বড় বোন এমন কারো স্তন ক্যান্সার থেকে থাকলে অন্য সদস্যদের ক্যান্সার হবার সম্ভাবনা অনেক বেশী থাকে, তাই এসব ক্ষেত্রে বাড়তি সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। এসব পরিবারের সদস্যাদের অল্প বয়স থেকেই নিয়মিত স্তন পরীক্ষা করানো উচিত এবং দীর্ঘায়ু হবার লক্ষে স্তন ক্যান্সার ধরা পড়ার সাথে সাথেই স্তনের অপারেশন সহ অন্য চিকিৎসা পদ্ধতিগুলো দ্রুত গ্রহন করা উচিত।

স্তন ক্যান্সার হবার পরে অপারেশন করানো এবং কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি নেবার পরও রোগী পুরোপুরি মৃত্যুর ঝুকি থেকে মুক্ত হয়ে যায়না যদিও সব ধরনের উপসর্গ থেকে তিনি মুক্ত থাকতে পারেন। সমীক্ষায় দেখা গেছে সাধারনত রোগের যে সকল অবস্থায় বা স্টেজ (stage II/III) এ রোগীরা চিকিৎসক এর কাছে আসেন তার পুর্নাঙ্গ চিকিৎসা করা হলেও রোগীর ৫ বছর বেচে থাকার সম্ভাবনা থাকে শতকরা ৫০ থেকে ৭০ ভাগ। খুব প্রাথমিক অবস্থায় বা স্টেজ (stage I) এ আসলে এটা বেড়ে ৮৫% পর্যন্ত হতে পারে তেমনি খুব শেষ পর্যায় (stage IV) এ আসলে ৫ বছর বাচার সম্ভাবনা কমে গিয়ে থাকে মাত্র ২৫%।

তাই পরিশেষে এই বলতে হয় স্তন ক্যান্সার বেশ খারাপ ধরনের একটি রোগ, এ রোগ হওয়া অর্থ মৃত্যু ঘনিয়ে আসা, তবে কেউ যদি খুব প্রাথমিক পর্যায়ে এই রাগের চিকিৎসা নিতে পারেন তার দীর্ঘায়ু হবার সম্ভাবনা খুব প্রবল। তাই প্রত্যেক পরিণত মহিলার উচিত নিয়মিত স্তন পরীক্ষা করে দেখা এবং কোনো প্রকার সন্দেহ হলেই চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া।


কিশোরীর স্তন বিশাল বড় হয়ে যাওয়া

অনেক সময় কিশোরী বয়সে অর্থাৎ মেয়েদের বয়োসন্ধির সময় স্তন বিশাল বড় হয়ে যেতে দেখা যায়। অনেক মেয়ে প্রথম গর্ভধারনের সময় ও এমন সমস্যায় পরতে পারে। বয়োসন্ধির সময় ইস্ট্রোজেন (Oestrogen) হরমোনের প্রভাবে মেয়েদের স্তন এর স্বাভাবিক পূর্ণতাপ্রাপ্তি ও বৃদ্ধি শুরু হয়। কোনো মেয়ের যদি এই ইস্ট্রোজেন এর প্রতি অস্বাভাবিক স্পর্শকাতরতা (altered sensitivity) থাকে তাহলে স্তনের এমন অস্বাভাবিক ও অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধি শুরু হয়। এমনটি হলে স্তন এতো বড় হয়ে যায় যে বসা অবস্থায় দুই পাশের স্তনই মেয়েটির হাটু পর্যন্ত এসে পৌছতে পারে। প্রায় সব ক্ষেত্রেই দুই পাশের স্তন এই সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে থাকে। এই সমস্যাটি অস্বস্তিকর এবং অনেক সময় তা দৃষ্টিকটু হিসেবে বিবেচনা করা হয় তাই এর চিকিৎসা করানোর প্রয়োজন আছে। অনেক সময় ইস্ট্রোজেন বিরোধী (Antioestrogen) অসুধ ব্যবহার করে এই সমস্যায় ভালো ফলাফল পাওয়া যায়। এতে যদি স্তন ছোটো হয়ে না আসে তা হলে রিডাকশন ম্যামোপ্লাস্টি (Reduction mammoplasty) নামক অপারেশন করিয়েই এর স্থায়ী চিকিৎসা করাতে হবে।



ঋতুচক্রে স্তনে ব্যথা বা সাইক্লিকাল মাস্টালজিয়া

অনেক মেয়েরাই ঋতুচক্রের সময় তাদের স্তনে তীব্র ব্যথা অনুভব করে। একে মাস্টালজিয়া বলা হয়। এ ধরনের ব্যথার কারনে তার স্বাভাবিক জীবন যাত্রা অনেক সময় অচল হয়ে পরে, মেয়েটি নিদ্রাহীনতায় ভোগে এবং তার স্বাভাবিক যৌন জীবনও ব্যহত হয়। মাস্টালজিয়া এসব মেয়েদের মনে তীব্র ভীতির সঞ্চার করে থাকে।

অনেক মেয়েই ধারনা করে যে স্তনের এই ব্যথা বুঝিবা স্তন ক্যান্সার এর কারনে হয়; কিন্ত তাদের এই ধারনা একদমই ঠিক নয়।ঋতুচক্র বা মাসিকের সময় ইসট্রোজেন হরমোনের প্রতি তাদের স্তনের বাড়তি স্পর্শকাতরতার কারনেই অনেক সময় এই সমস্যাটির সৃষ্টি হয়। স্তন ক্যান্সার বা অন্য কোনো জটিল রোগে এমন ব্যথা হবার কোনোই সুযোগ নেই।

কারো মাস্টালজিয়া হচ্ছে চিন্তা করলে চিকিৎসক (ব্রেস্ট সার্জন) এর পরামর্শ নেয়া উচিত। এই সময় মেয়েটিকে সারাদিন একদম সঠিক মাপের (Appropriately fitting) একটি ব্রা (Supportive bra) পরে থাকতে হয় এবং রাতের বেলা একটি তুলতুলে নরম ব্রা (Sports bra) পরে থাকতে হয়। এসময় কফি পান করলে ব্যথার তীব্রতা বাড়তে পারে তাই এই সকল পানীয় এড়িয়ে চলতে হবে।

চিকিৎসক শুরুতেই জানতে চাইতে পারেন মাসের ঠিক কয়দিন এবং কি মাত্রায় এই ব্যথা থাকে। তাই ভুক্তভোগীকে অবশ্যই এর সঠিক বর্ণনা দিতে হবে। প্রথমেই মনে রাখতে হবে এটা কোনো রোগ নয়, শুধু একটি উপসর্গ, এজন্য স্তন বা মেয়েটি কারোরই কোনো ক্ষতি হচ্ছেনা। ব্যথার স্থায়ী নিবারনের জন্য চিকিৎসকগন অয়েল অব ইভিনিং প্রিম্রোজ নামক একধরনের অসুধ তিন মাসের জন্য সেবন করার উপদেশ দিয়ে থাকেন এবং এতে ৩৫ উর্ধ্ব বেশীর ভাগ মহিলাই ভালো অনুভব করেন। যাদের খুব তীব্র ব্যথা থাকে তাদের ইস্ট্রোজেন বিরোধী অসুধ যেমন ডানাজল বা টেমোক্সিফেন অথবা প্রলাকটিন বিরোধী ব্রোমোক্রিপটিন বা এল,এইচ,আর,এইচ এগোনিস্ট সেবন করার পরামর্শ দেয়া হয়।

যাদের স্তনের ব্যথা ঋতুচক্রের সাথে সম্পর্কিত নয় তাদের চিকিৎসা কিন্ত ভিন্ন। এসব মহিলার ক্ষেত্রে প্রথমেই জেনে নিতে হবে এটা সত্যি সত্যিই স্তনের ব্যথা না বুকের মাংশ পেশী বা অন্য কোথাও এর উৎস। যদি সত্যিই স্তনের ব্যথা হয় তাহলে অবশ্যই স্তন বায়োপসি করে নিশ্চিত হতে হবে যে তার স্তন ক্যান্সার হয়নি। এটা নিশ্চিত করতে পারলে এসব ক্ষেত্রে ব্যথানাশক অসুধ সেবন অথবা ব্যথার স্থানে অবশ করা ইঞ্জেকশন ব্যবহার করে এই সমস্যা থেকে নিস্তার পাওয়া যেতে পারে।
1








জরায়ু-মুখ ক্যান্সার

জরায়ু বা বাচ্চাদানির সবচেয়ে নিচের অংশ হলো জরায়ু মুখ যা প্রসবের পথ বা যোনিতে গিয়ে মিশেছে, জরায়ুর বিভিন্ন অংশের মধ্যে এই অংশে ক্যন্সার এর আশংকা সবচেয়ে বেশি। অতিরিক্ত সাদাস্রাব, দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব, অতিরিক্ত অথবা অনিয়মিত রক্তস্রাব, সহবাসের পর রক্তপাত, মাসিক পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবার পর পুনরায় রক্তপাত, কোমড়-তলপেট বা উড়ুতে ব্যথা ইত্যাদি উপসর্গগুলো জরায়ু মুখ ক্যান্সার এর লক্ষন।


অল্পবয়সেই যারা যৌনাচারে অভ্যস্ত হয়ে থাকে তাদের এই ক্যান্সার হবার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশী। একাধিক পুরুষ সঙ্গী থাকা, বা পুরুষ সঙ্গীটির একাধিক নারী সঙ্গী থাকা কিংবা ঘন ঘন বাচ্চা নেয়া ইত্যাদি কারনেও জরায়ূ মুখ ক্যান্সার হতে পারে। বাল্য বিবাহ হওয়া মেয়েদের এই রোগ হবার সম্ভাবনা বেশী।


একদিন বা একমাসে হঠাৎ করে এই ক্যান্সার হয়না স্বাভাবিক কোষ থেকে জরায়ু মুখের ক্যান্সার হতে প্রায় ১০-১৫ বছর সময় লাগে। প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে চিকিৎসার দ্বারা শতকরা ১০০ ভাগ রোগীই ভালোহয়ে যেতে পারে। রোগের শুরুতে উপসর্গ গুলো অল্পমাত্রায় থাকে দেখে একে কেউ গুরুত্ব দিতে চান না। এজন্য রোগীদের পক্ষে অনেক সময়ই প্রাথমিক পর্যায়ে আসা সম্ভব হয়না। দেরীতে আসলে রোগটি ছড়িয়ে পরে তখন জীবন বাঁচাতে বড় ধরনের অপারেশন এবং রেডিওথেরাপীর (Radiotherapy) প্রয়োজন হয় কিন্ত তাতেও পূর্ণ নিরাময় সম্ভব হয়না।


নিয়মিত পরীক্ষা করানোর মাধ্যমে জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব। এই রোগ থেকে মুক্ত থাকতে যে সকল মহিলার বয়স ৩০ এর বেশী (বাল্য বিবাহ হলে ২৫ এর বেশী) তাদের প্রতি তিন বছর পর পর স্ত্রী রোগ চিকিৎসক বা স্বাস্থ্য কর্মী দ্বারা জরায়ু মুখ পরীক্ষা করানো উচিত। ভায়া -VIA (Visual Inspection of Cervix with Acetic acid), প্যাপ স্মেয়ার (PAP smear) ইত্যাদি পরীক্ষার মাধ্যমে রোগের প্রাথমিক পর্যায়েই রোগটি সনাক্ত করা সম্ভব।






«
Next
Newer Post
»
Previous
Older Post

No comments:

Leave a Reply