দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রথমবারের মতো ৩৩ বিলিয়ন ডলারের (তিন হাজার ৩০০ কোটি টাকা) ঘর অতিক্রম করেছে।
বৃহস্পতিবার দিন শেষে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৩ দশমিক শূন্য ১৮ বিলিয়ন ডলার। দেশের ইতিহাসে এটি সর্বোচ্চ। এ পরিমাণ অর্থ দিয়ে প্রায় ৯ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। রফতানিতে প্রবৃদ্ধি, বিদেশি ঋণ ও রেমিট্যান্স প্রবাহ বজায় থাকায় রিজার্ভ বাড়ছে।
গত বছরের নভেম্বরে বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ প্রথমবারের মতো ৩২ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করে। পরে রিজার্ভ বাড়া-কমার মধ্যে থেকে বৃহস্পতিবার ৩৩ বিলিয়ন ডলারের ঘর ছাড়াল। গত বছরের একই দিনে রিজার্ভ ছিল ২ হাজার ৯৮৭ কোটি ডলার। এ হিসাবে গত এক বছরে রিজার্ভ বেড়েছে শূন্য দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার।
চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে (জুলাই-মে) দেশে তিন হাজার ১৭৯ কোটি ডলারের রফতানি আয় এসেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় যা ১১৩ কোটি ডলার বা ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ বেশি। আর এপ্রিল পর্যন্ত আমদানি বেড়েছে ১১ দশমিক ৭৪ শতাংশ। রফতানির তুলনায় আমদানি ব্যয় বাড়লে রিজার্ভ কমার কথা। তবে আমদানি দায়ের উল্লেখযোগ্য অংশ এখন মেটানো হচ্ছে বিদেশ থেকে ঋণ নিয়ে। এর বাইরে প্রবাসী আয় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে যুক্ত হয়ে রিজার্ভ বাড়ছে।
অবশ্য সাম্প্রতিক সময়ে প্রবাসী আয়ে নেতিবাচক প্রবাহ না থাকলে রিজার্ভ আরও দ্রুত বাড়তো। গত মে পর্যন্ত ১১ মাসে ব্যাংকিং চ্যানেলে ১ হাজার ১৫৫ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় দেশে এসেছে। এ পরিমাণ অর্থ আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৪ দশমিক ১৯ শতাংশ কম। অবশ্য গত এপ্রিল পর্যন্ত ১০ মাসে রেমিট্যান্সে আরও বেশি নেতিবাচক প্রবাহ ছিল। তবে গত মে মাসে ১২৬ কোটি ৭৬ লাখ ডলার আসায় সেই ব্যবধান কিছুটা কমেছে।
