নওগাঁর মান্দায় ভেঙ্গে যাওয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে । বালি ও পলি মাটি দিয়ে নির্মাণ করা বাঁধে গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে ধসে গেছে। এতে আবারো বন্যা আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। স্থানীয় জন প্রতিনিধিরা বলছেন, বাঁধ রক্ষায় শক্ত ভূমিকা না নেয়া হলে আবারো বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে এলাকাবাসী ।
গলে বছর ১৩ আগস্ট উজান থেকে নেমে আসা ঢলে নওগাঁর মান্দায় আত্রাই নদীর সাতটি স্থানে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙ্গে যায়। ফলে উপজেলার নূরুল্ল্যাবাদ, বিষ্ণপুর, প্রসাদপুর, মান্দা ও কালিকাপুরসহ ৮ ইউনিয়নের বেশিরভাগ এলাকা প্লাবিত হয়। এতে ব্যাপক ফসলহানিসহ চরম দুর্ভোগে পড়ে কয়েক হাজার মানুষ। বন্যা পরবর্তী এসব ভাঙ্গা জায়গায় ব্লক বসিয়ে মজবুত বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান এলাকাবাসী ।
সুজন সুখি নামক এলাকায় ভাঙ্গন কবলিত ১২০ মিটার জুড়ে বাঁধ নির্মাণ কাজে ব্যয় ধরা হয় ৪২ লাখ টাকা। ঠিকাদারের মাধ্যমে বাঁধ নির্মাণ কাজ শেষ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড । কিন্তু অভিযোগ উঠে দায়সারা ভাবে বালু দিয়ে বাঁধের কাজ সম্পন্ন করায় বেশ কয়েকটি জায়গায় মাটি ধসে গেছে। এতে আবারো বাঁধ ভাঙ্গন আতঙ্কে আছেন এলাকাবাসী। স্থানীয়রা বলেন, 'এই বাঁধ শুধু বালু দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। যদি বৃষ্টি হয় তাহলে বাঁধ আবার ভেঙ্গে যাবে। গত বছর ভেঙ্গে আমাদের বাড়িঘর নষ্ট হয়ে গেছে এখনো ঠিক করা সম্ভব হয়নি। আবার হলে আমাদের অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে।'
গেল বছরের বন্যার ধকল কাটিয়ে উঠতে পারেননি ক্ষতিগ্রস্তরা। তাই বাঁধ রক্ষায় যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার দাবি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের। মান্দা প্রসাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বলেন, 'এই মুহূর্তে নদীর পানি বাড়লে বাঁধ গলে যাবে। এই বাঁধ জরুরী ভিত্তিতে ঠিক করা দরকার।'
তবে বাঁধ নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে পানি উন্নয়নের কর্মকর্তা বলেন, টেকসই বাঁধ তৈরির জন্য ৫০ লাখ টাকার প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে । পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, 'এখানে বালি ও ক্লে এবং সিল্টের সমন্বয়ে মাটি। আর স্থানীয় ভাবে যে মাটি পাওয়া যায় তাই ব্যবহার করা হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে এটা ঠিক আছে।'
No comments: