sponsor

sponsor

Slider

বিশ্ব

নির্বাচন

জাতীয়

খেলাধুলা

বিনোদন

ফিচার

যাবতীয় খবর

জিওগ্রাফিক্যাল

ফেসবুকে মুজিবনগর খবর

» » কেন মুম্বাইয়ে ‘অবৈধ বাংলাদেশি’ খোঁজার হিড়িক?



ভারতের আসামে জাতীয় নাগরিক পঞ্জি বা এনআরসি নিয়ে তুমুল বিতর্কের মধ্যেই দেশের অন্য প্রান্তেও অবৈধ বিদেশিদের চিহ্নিত করার দাবি তুলছে বিজেপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। আর এমন পরিস্থিতিতে আরও একবার আক্রমণের নিশানায় মুম্বাইয়ের কথিত অবৈধ বাংলাদেশীরা।

কিন্তু এই ইস্যু নিয়ে মুম্বাইবাসী কী আদৌ চিন্তিত, নাকি নির্বাচনের আগে শ্রমজীবী এই গরিব মানুষগুলোকে আরও একবার রাজনৈতিক বলির পাঁঠা বানানোর চেষ্টা চলছে?



মুম্বাইয়ের শহরতলির ভায়ান্দার স্টেশন থেকে একটু দূরেই শহরের গরিব মানুষের এক বিশাল কলোনি, লোকের মুখে মুখে যার নাম 'বাংলাদেশ বস্তি'।

সম্প্রতি ভায়ান্দারের এই বস্তির নাম উঠে এসেছে দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবের আলোচনাতেও। শাসক বিজেপির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও এমপি বিনয় সহস্রবুদ্ধে জানাচ্ছেন, সুদূর বাংলাদেশ থেকে অসংখ্য লোকজন অবৈধভাবে ভারতে ঢুকে ভায়ান্দারে পাড়ি দিচ্ছে। মুম্বাইয়ের আশেপাশে টিলা-জঙ্গলগুলো দখল করে তারা গড়ে তুলছে বসতি, চালাচ্ছে নানা বেআইনি ধান্দা। এমন কী পুলিশ হানা দিতে গেলেও তাদের পাথর ছুঁড়ে তাড়িয়ে দিচ্ছে এই বাংলাদেশিরা!

বিজেপির এই দাপুটে নেতার হুঁশিয়ারি, অবৈধ বাংলাদেশির সমস্যা শুধু আসামের নয়, মুম্বাইসহ পুরো দেশেই যা 'টাইম বোমার মতো টিক-টিক' করছে।

কিন্তু সত্যিই কী বাংলাদেশিরা ছেয়ে ফেলছেন মুম্বাই শহরতলির বস্তিগুলো?

ভায়ান্দারের তথাকথিত 'বাংলাদেশ বস্তি'তে খোঁজ নিয়ে চমকপ্রদ তথ্য জানা গেল। বস্তির বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, তাদের কলোনির নাম বাংলাদেশের নামে হলেও সেখানে একঘর বাঙালি পর্যন্ত নেই।

কিন্তু তাহলে কেন এই কলোনির নাম বাংলাদেশের নামে হলো? বস্তির পুরনো বাসিন্দারা জানান, ৪০ থেকে ৫০ বছর আগে পুরনো ঝোপড়পট্টি ভেঙে এই কলোনি গড়ে তোলা হয়। তখন বাংলাদেশ যুদ্ধে জেতার সম্মানেই কলোনির নামকরণ করা হয়েছিল দেশটির নামে। কিন্তু এখানে কখনই কোনও বাঙালি ছিল না বলে জানাচ্ছেন তারা।

তবে আগামী বছর ভারতে লোকসভা নির্বাচন। তাই নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন করে আবারও এই ইস্যুতে তোলা হচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে। যেমনটা বলছিলেন কবি, সাংবাদিক, চিত্রনির্মাতা ও শিবসেনার সাবেক এমপি প্রীতীশ নন্দী।

তিনি বলেন, আসলে ভোটের জন্য মাঝে মাঝে কিছু পার্টি চেঁচামেচি করে এই ইস্যুটা নিয়ে। কারণ তারা জানে, যদি ঘৃণা ছড়ানো যায় তাহলে সেটা রাগের জন্ম দেবে - আর সেই রাগটা নাগরিকদের ভোটিং প্যাটার্ন বদলে দেবে।

কিন্তু কাজের সুযোগ থাকলে বাইরে থেকে মানুষের ঢল ঠেকানো যাবে না বলেও মনে করেন কেউ কেউ। তাদেরই একজন ভারতে রয়েল ব্যাংক অব স্কটল্যান্ডের সাবেক প্রধান ও মুম্বাইয়ের রাজনীতিবিদ মীরা সান্যাল।

তিনি বলেন, এই সিস্টেমটাকেই আসলে 'রেগুলারাইজ' করা বা বৈধতার আওতায় আনা দরকার।

সান্যালের কথায়, মুম্বাই শহরটাই তো গড়ে তুলেছে বাইরে থেকে আসা লোকজন। শুধু ভারতের নয়, ভারতের বাইরে থেকেও এখানে এসেছে আর্মেনিয়ান ইহুদীরা, পার্সি বা ইরানিরা। জল যেমন নিজের লেভেল খুঁজে নেয়, তেমনি কাজের সুযোগ থাকলে বাইরের মানুষ মুম্বাইতে আসবেই - বাংলাদেশিরা ব্যতিক্রম হতে যাবে কেন?

তিনি আরও বলেন, সিঙ্গাপুর বা হংকংয়ে তো ঠিক এই জিনিসই আছে, এই পারমিটের মাধ্যমেই সেখানে বহু বিদেশি গৃহপরিচারিকার কাজ করে থাকেন।

প্রীতীশ নন্দীও বিশ্বাস করেন, মুম্বাইয়েরও উচিত বাংলাদেশিসহ সব বিদেশি অভিবাসীদের জন্য দরজা খুলে দেয়া।

তার ভাষায়, নিউ ইয়র্ক বলুন বা মুম্বাই, পৃথিবীর সব বড় বড় শহর গড়ে তুলেছে ইমিগ্র্যান্টরা। আপনি যদি ইমিগ্র্যান্টদের ঢুকতে না দেন, তাদের সংস্কৃতিকে আপন করে না নেন, কিছুতেই কোনও শহরের উন্নতি হবে না।

«
Next
Newer Post
»
Previous
Older Post

No comments:

Leave a Reply