রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ সংগঠিত করেছে নিরাপত্তা বাহিনী: আইসিওই’র চূড়ান্ত প্রতিবেদন
২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে ৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে মিয়ানমারের রাখাইনে মুসলিমদের (রোহিঙ্গা) বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং অভ্যন্তরীন আইন লঙ্ঘন হয়েছে। তবে মুসলিমদের বিরুদ্ধে জেনোসাইড হয়েছে এমন কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
মিয়ানমার সরকার গঠিত স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন তথ্য। আজ সোমবার (২০ জানুয়ারি) এই কমিশন মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট ইউ উইন মিন্ট এবং স্টেট কাউন্সিলর অং সান সুচির কাছে তাদেও চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।
মিয়ানমারের রাখাইনে মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন অপরাধের তদন্তের জন্য দেশটি ২০১৮ সালের ৩০ জুলাই এই স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করে। এই কমিশন চার সদস্য বিশিষ্ট। কমিটির সদস্যরা হলেন- ফিলিপাইনের সাবেক ডেপুটি পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোজারিও মানালো, যিনি এই কমিশনের চেয়ারপারসন। অন্য সদস্যরা হলেন- মিয়ানমারের সংবিধান ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রধান ইউ মায়া থেইন, জাতিসংঘে জাপানের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি কেনজো ওশিমা, ইউনিসেফ’র সাবেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা অং তুন থেট।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি মিয়ানমারের রাখাইনের বেশ কয়েকটি পুলিশ আউটপোস্ট এবং মিলিটারি স্থাপনায় হামলা চালায়। এরই প্রেক্ষিতে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান পরিচালনা করে। ফলে মুসলিমদেরর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং অভ্যন্তরীন আইন লঙ্ঘন হয়েছে। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, এটা বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ আছে এইসব অপরাধের সাথে নিরাপত্ত বাহিনীর সদস্যরা জড়িত। এয়াড়া নিরাপরাধ গ্রামবাসীদেও হত্যা এবং তাদেও ঘরবাড়ি ধ্বংস করার সাথেও তারা জড়িত। তবে এনসব অপরাধের সাথে জেনোসাইডের কোন সম্পর্ক নাই। এছাড়া এইসব অপরাধের মাধ্যমে এটি গোষ্ঠীকে নির্মূল করার কোন উদ্দেশ্য বা পরিকল্পনার কোন প্রমাণ নেই বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে রাখাইনের মুসলিম, রাখাইন, স্থানীয় এবং সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যসহ ১৫০০ জনের সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে।
২৩ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক বিচার আদালত রোহিঙ্গা জেনোসাইড নিয়ে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গাম্বিয়ার মামলার বিষয়ে আদেশ দেবেন। এর আগে এমন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলো।
Tag: world
No comments: