করোনার ভ্যাকসিন উৎপাদন শুরু করতে যাচ্ছে ভারত
সিরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, সব ঠিকঠাক থাকলে আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে ভারতে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন উৎপাদন শুরু হয়ে যাবে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে ভারতে কোভিড-১৯-এর ভ্যাকসিন তৈরি করার কথা জানিয়েছে ডোজ উৎপাদনের দিক থেকে বিশ্বের সর্ববৃহৎ এ ভ্যাকসিন ও ওষুধ নির্মাতা সংস্থাটি। আর পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ এগোলে আগামী অক্টোবরের মধ্যেই করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন বাজারে চলে আসবে বলেও গতকাল রোববার আশ্বস্ত করেছে তারা।
নভেল করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিনের অপেক্ষায় রয়েছে সারা বিশ্ব। ভ্যাকসিন আবিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত করোনাজনিত কোভিড-১৯ রোগ থেকে মুক্তির কোনো আশা নেই বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের প্রধান। এমনই এক পরিস্থিতিতে আশা জাগিয়ে করোনার ভ্যাকসিন তৈরির লক্ষ্যে এরই মধ্যে অনেকটা পথ এগিয়ে গেছেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা। তাঁদের তৈরি একটি সম্ভাব্য ভ্যাকসিনের মানবদেহে পরীক্ষা (ট্রায়াল) শুরু হয়ে গেছে। অক্সফোর্ডের এ গবেষণায় বিশ্বের যে সাতটি প্রতিষ্ঠান যুক্ত হয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট। অক্সফোর্ডের গবেষকদের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন পুনের এ সংস্থার বিজ্ঞানীরাও।
এ প্রসঙ্গে সিরাম ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আদর পুনাওয়ালা বলেন, ‘অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ ড. হিলের (অধ্যাপক অ্যাড্রিয়ান হিল) সঙ্গে আমাদের গবেষক দল কাজ শুরু করেছে। আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে ভ্যাকসিন উৎপাদন শুরু করা সম্ভব বলে আশা করছি। এরপর প্রাথমিকভাবে প্রথম ছয় মাস আমরা প্রতি মাসে ৫০ লাখ ডোজ উৎপাদন করতে পারব। এরপর আমরা মাসে এক কোটি ডোজ করোনার ভ্যাকসিন উৎপাদন করার সক্ষমতা অর্জন করব বলে আমাদের প্রত্যাশা।’
পুনাওয়ালা আরো বলেন, ‘মানব শরীরে অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিনের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ প্রক্রিয়া সব মানদণ্ডে সফলভাবে উতরে গেলে আগামী সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবরের মধ্যে বাজারে করোনার ভ্যাকসিন চলে আসবে বলে আশা রাখি। আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহ পরে আমরা এ ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু করতে পারব বলে আশা করা যায়।’
ভারতের আইন অনুসারে ভ্যাকসিনের ট্রায়াল শুরুর আগে বিভিন্ন সরকারি ছাড়পত্র নিতে হবে সিরাম ইনস্টিটিউটকে। এখন সেসব ছাড়পত্র জোগাড়ের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন পুনাওয়ালা।
Tag: world

No comments: