রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ৭ বছরে কতটা বদলেছে কর্মপরিবেশ?
রানাপ্লাজা দুর্ঘটনার পর কারখানার কর্মপরিবেশের উন্নয়ন হয়েছে। সুরক্ষিত হয়েছে শ্রমিক অধিকার। এমনটা দাবি করে শিল্প মালিকরা বলছেন, অ্যাকর্ড অ্যালায়েন্সের শর্ত পূরণ করা হলেও কথা রাখছেন না ক্রেতারা। বরং তাদের অনৈতিক ক্রয় কৌশলের কারণে বাজারে টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছে বাংলাদেশ।
এদিকে শ্রমিক নেতারা বলছেন, গেল ৭ বছরে প্রেক্ষাপট বদলেছে কিন্তু অধিকার বঞ্চিতই থেকে গেছেন শ্রমিকরা। আর এসব সংকট মোকাবিলায় বাজার বুঝে পণ্য উৎপাদন করার পরামর্শ দিচ্ছেন অর্থনীতিবিদরা।
২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল। সেদিন সকালে ধসে পড়ে সাভারের রানাপ্লাজা। কর্মরত অবস্থায় নিভে যায় হাজারেরও বেশি পোশাক শ্রমিকের প্রাণপ্রদীপ। এরপর ক্রেতাদের চাপ আর নিজেদের দৃঢ়তায় ঘুরে দাঁড়ায় এ খাতের উদ্যোক্তারা। ফলাফল বতর্মানে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সংখ্যক সবুজ কারখানা বাংলাদেশে। এরপরও শিল্প মালিকদের দাবি, বিশ্ব বাজারে টিকতে পারছেন না তারা। একের পর এক বন্ধ হচ্ছে কারখানা। আর করোনার কারণে নতুন করে অনিশ্চয়তায় মুখে এখন এখাতের ভবিষ্যৎ।
বিকেএমইএ প্রথম সহ সভাপতি মোহাম্মাদ হাতেম বলেন, আমরা অ্যার্কড অ্যালায়েন্সের শর্ত মেনে কারখানাগুলোকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করেছি। ক্রেতারা এখানে আনএথিক্যাল বায়িং প্রাকটিস করছে। প্রতি সিজনেই দেখা যাচ্ছে তারা ৫ থেকে ১০ শতাংশ দাম কমাচ্ছে। অনেক কারখানা কিন্ত লোকসান করতে করতে বন্ধ হয়ে গেছে।
বিজিএমইএ পরিচালক মোহাম্মদ নাসির বলেন, করোনার কারণে এ শিল্প একটা অনিশ্চয়তার দিকে যাচ্ছে। আমরা যে সব দেশে রপ্তানি করতাম। সেসব দেশ ক্ষতিগ্রস্ত, বিদ্যমান ক্রয়দেশগুলোর কী হবে? নতুন অর্ডারগুলোর কী হব? সামনে যে সিজন শুরু হবে তার কী হবে?
শ্রমিক নেতারা বলছেন, কর্মপরিবেশের উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু নানা আশ্বাসের পরও সুরক্ষিত হয়নি শ্রমিকদের অধিকার।
বাংলাদেশ সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি নাজমা পাগলী বলেন, পশ্চিমা ক্রেতারা, তাদের জায়গা থেকে জবাবদিহিতায় নেই। মালিকরা ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে না, বোঝাপড়াও করে না। এখন এই যে শ্রমিক ছাঁটাই হচ্ছে, জোরপূর্বক রিজাইন দেয়ানো হচ্ছে। এগুলো আবারও বেড়ে গেছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, উৎপাদন পর্যায়ে ব্যাপক বিনিয়োগ করার পরও উপযুক্ত দাম না পাওয়ার পেছনে ব্যর্থতা রয়েছে উদ্যোক্তাদেরও। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্বমন্দার আশঙ্কা। তাই আগামী দিনের বাজার ধরতে কৌশলী হওয়ার পরামর্শ তাদের।
উৎপাদন বাড়াতে যেমন বাড়াতে হবে প্রযুক্তির ব্যবহার তেমনি কাজে লাগাতে হবে শ্রমিক-মালিক সুম্পর্ককে। তাহলেই সহজ সমাধান মিলবে যে কোনো সংকটের- এমনটাই মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারের রানা প্লাজা ধসে পড়ে। প্রতিদিনের মতো কাজ চলাকালে ওইদিন সকাল ৯টার দিকে ভেঙে পড়ে ৮ তলা ভবনটি। ভবনের নিচে চাপা পড়ে সাড়ে চার হাজার শ্রমিক।
এ দুর্ঘটনায় সরকারি হিসাব মতে, ১ হাজার ১১২ জন শ্রমিক নিহত এবং দুই হাজারেরও বেশি আহত হয়। প্রাণহানির সংখ্যায়, যা বিশ্বের ইতিহাসে তৃতীয় ভয়াবহ শিল্প দুর্ঘটনা।
Tag: Featured
No comments: