উত্তরমেরুর সবচেয়ে বড় ওজোনস্তরের গর্ত অবশেষে বন্ধ
বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসের মধ্যেই বরফে ঢাকা উত্তর মেরুর আকাশে ওজোনস্তরে ১০ লাখ বর্গ কিলোমিটারের একটি বিশাল গর্ত তৈরি হয়েছিলে। প্রায় একমাস পর একক বৃহত্তম ওজোন গর্ত অবশেষে বন্ধ হয়ে গেছে। এমন তথ্য জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপারনিকাস এটমোস্ফিয়ার মনিটরিং সার্ভিসের (সিএএমএস) গবেষকরা।
তবে সম্প্রতি ইইউ’র পক্ষ থেকে কপারনিকাস অ্যাটমসফিয়ার মনিটরিং সার্ভিস (সিএএমএস) ও কপারনিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস (সি৩এস) নিশ্চিত করেছে যে, আশঙ্কা সৃষ্টিকারী এই গর্তটি নিজে থেকেই মিলিয়ে গেছে।
সিএএমএস গবেষকরা গত ২৩ এপ্রিল টুইট করে জানিয়েছেন, ‘অকল্পনীয়ভাবে ২০২০ সালের উত্তর গোলার্ধের ওজোন গর্তটি শেষ হয়ে গেছে।
এদিকে, পৃথিবীর বায়ু মণ্ডলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ওজোনস্তরের গর্ত হওয়ায় ভয়াবহ আশঙ্কার মধ্যে পড়ে গিয়েছিলেন আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা। কারণ এই গর্তের ফলে হুমকীর মুখে পড়তো পৃথিবীবাসী। তবে সেই গর্ত নিজে থেকেই আবার সারিয়ে তুলেছে পৃথিবী।
লাইভ সাইন্সের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, গেল মার্চ মাসের শেষের দিকে ওজোনস্তরটির গর্ত পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের দিকে ছিল। যা সূর্য থেকে আসা আলোক রশ্মির ফলে পৃথিবীতে প্রাণের সঞ্চার হয়। তবে এই আলোর সঙ্গে সেখান থেকে অতি বেগুনি রশ্মিসহ আরো অনেক ক্ষতিকর পদার্থও পৃথিবীতে চলে আসে, যা মানব জাতিসহ অন্যান্য প্রাণীর জন্যও মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। এই বাতাসগুলি, পোলার ঘূর্ণি হিসাবে পরিচিত, শীতল বাতাসের একটি বৃত্তাকার খাঁচা তৈরি করেছিল যা এই অঞ্চলে উচ্চ-উচ্চতার মেঘের গঠনের দিকে পরিচালিত করে।
ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার (ইএসএ) এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মেঘগুলো ক্লোরিন এবং ব্রোমিনের মতো মানবসৃষ্ট উত্পাদিত দূষণগুলোর সঙ্গে যোগ হয়ে ক্ষতি করে।
ইএসএ গবেষকরা বলেছেন, দক্ষিণ মেরুতে যখন প্রতিটি শরতে একটি বৃহত ওজোন গর্ত হয়, তখন উত্তর গোলার্ধে এই গর্তগুলি তৈরি হতে দেয় এমন পরিস্থিতি অনেক বিরল, উত্তরমেরুর ওজোন গর্তটি কেবলমাত্র এ বছরই চালু হয়েছিল কারণ শীতল বাতাসটি সাধারণত অঞ্চলের চেয়ে অনেক বেশি সময় ধরে কেন্দ্রীভূত ছিল।
জার্মান এয়ারস্পেস সেন্টারের একজন বায়ুমণ্ডলীয় বিজ্ঞানী বলেন, উত্তরমেরুর ওজোন গর্তগুলোর মতো কোনো নতুন ট্রেন্ডকে উপস্থাপন করে কিনা তা বলার মতো খুব কম তথ্য আছে। তবে উত্তর মেরুর উপরের অঞ্চলে ফিরে যাওয়ার জন্য ওজোন সমৃদ্ধ বায়ুর জন্য একটি পথ তৈরি করা হয়েছে। আমার দৃষ্টিকোণ থেকে এই প্রথম উত্তরমেরুর একটি সত্য ওজোন গর্ত সম্পর্কে কথা বলতে পারেন।
তিনি আরো বলেন, ক্ষতিকর আলোক রশ্মিগুলোকে শোষণ করে নেয় ওজোন স্তর, এছাড়া শুষে নেয় বিষাক্ত কার্বন-ডাই-অক্সাইডও। এর মাধ্যমে পৃথিবীকে ও পৃথিবীর সব প্রাণকে রক্ষা করে এটি। এ কারণে পৃথিবীর বায়ু মণ্ডলের স্তর সমূহের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলা হয় ওজোনস্তরকে।
ইতিমধ্যে, প্রায় চার দশক ধরে বিদ্যমান বার্ষিক উত্তরমেরু ওজোন গর্তটি অদূর ভবিষ্যতের জন্য নির্দশন হয়ে থাকবে।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার ২০১৮ সালের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, দুই হাজার সালের পর থেকে দক্ষিণ ওজোন গর্তটি প্রায় দশক ১% থেকে ৩% হ্রাস পাচ্ছে। তবে পুরোপুরি নিরাময় হতে সময় লাগবে ২০৫০ সাল। গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের কারণে উষ্ণ উত্তরমেরুর তাপমাত্রা গর্তটির আপাত সংকোচনের জন্য আংশিকভাবে দায়ী। একারণে ১৯৮৭ সালে ওজোন-অপসারণকারী দূষণকারীদের উপর বিশ্বব্যাপী নিষেধাজ্ঞা জারি করে।
সূত্র: লাইভ সাইন্স

No comments: