sponsor

sponsor

Slider

বিশ্ব

জাতীয়

রাজনীতি

খেলাধুলা

বিনোদন

ফিচার

যাবতীয় খবর

জিওগ্রাফিক্যাল

ফেসবুকে মুজিবনগর খবর

» » » ডিজিটাল যুগেও ১৩০ বছরের অ্যানালগ পদ্ধতিতে বেতন দিচ্ছে রেলওয়ে!




একদিকে দ্রুত গতির বুলেট ট্রেন চালানোর স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। অন্যদিকে এখনও রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতনের টাকা বস্তায় ভরে ট্রেনে করে ঘুরে ঘুরে স্টেশন থেকে স্টেশনে পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। রেলের উন্নয়নে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ বাড়লেও পরিবর্তন হয়নি ১৩০ বছর আগের বেতন পরিশোধ পদ্ধতির। দেশে এত ব্যাংক ব্যবস্থার সুবিধা ঘটলেও তারা এখনো পরে আছে সেই ব্রিটিশ আমলের নীতিমালায়। করোনাভাইরাস রোধে ২৬ মার্চ রেল চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হলেও, ঢাকার কমলাপুর স্টেশন থেকে একটি ট্রেন সিলেট স্টেশনে পৌঁছায়। ১৯ এপ্রিল বেসরকারি সংবাদ মাধ্যম সময় টেলিভিশনসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, লকডাউন ভেঙে রাজধানী কমলাপুর থেকে যাত্রী নিয়ে সিলেট যায় একটি ট্রেন। তখনই লকডাউনে ট্রেন যাত্রার আসল কারণ বেরিয়ে আসে। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোফাজ্জেল হোসেন সময় সংবাদকে জানান, ওটাকে সম্পূর্ণ ট্রেন বলা যায় না। ওইটা অসম্পূর্ণ ট্রেন ছিল ইঞ্জিনের সাথে ৪টি বগি নিয়ে ট্রেনটি রেলের কর্মচারীদের বেতন দিতেই সিলেট গিয়েছিল। মাঝপথের স্টেশনগুলোতে রেলের কিছু কর্মচারী উঠেছিল ট্রেনটিতে যাদের সবাই দায়িত্ব পালনের জন্যই জায়গা বদল করছিলেন। বিষয়গুলো নিয়ে জানতে চাইলে রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন সময় সংবাদকে বলেন, ‘লকডাউন ভেঙে ট্রেন যাত্রী পরিবহন করেছে এটা ঠিক নয়। রেলের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের বেতন দেয়ার ক্ষেত্রে বহুকাল থেকেই এ প্রথা চলে আসছে। শুধু সিলেটেই কর্মরত অন্তত ৩০০ কর্মচারীর ১ কোটি ২০ লাখ টাকা বেতন নিয়ে সেদিন ট্রেনটি সিলেটে গিয়েছিল।’ এ টাকার নিরাপত্তা দিতে সাথে বেশ কয়েকজন নিরাপত্তাকর্মী পাঠানো হয়েছিল বলে ট্রেনে অতিরিক্ত লোক মনে হয়েছে। মূলত ওই ট্রেনে যারা ছিলেন তারা সবাই রেলের কর্মচারী, সেখানে বাইরের কোনো লোক ছিল না। এরমধ্যে অবৈধভাবে যাত্রী ছিল না। অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় ব্যাপারটি তদন্ত করে দেখছে রেলওয়ে। ইতোমধ্যে সিলেট স্টেশনের কয়েকজন কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকার কারণে সাময়িকভাবে ব্যবস্থাও নেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। রেলওয়ের অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, ১৮৯০ সাল থেকেই এমনটা চলে আসছে। কর্মচারীদের বেতনের প্রক্রিয়াটি আধুনিকায়নের চেষ্টা চলছে বেশ ক’বছর ধরেই। কিন্তু সেটি এগোয়নি। ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের (ইএফটি) মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যাংককে বেতন স্থানান্তর কার্যক্রম এখনও চালু করা যায়নি। বিশ্বায়নের এই যুগে ২০২০ সালে এসেও ট্রেনে করে বেতনের টাকা পরিবহনের ঘটনায় বিস্মিত হয়েছেন অনেকেই। এ ব্যাপারে তথ্য প্রযুক্তিবিদ জাকারিয়া স্বপন বলেন, এখনও ট্রেনে করে বস্তা ভর্তি টাকা বয়ে নিয়ে হাতে হাতে বেতন দেয়ার ঘটনাটি হাস্যকর। ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে বেতন পরিশোধের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে মাত্র সাত দিন সময় লাগার কথা। এখনও বেতন দেয়ার এই পদ্ধতি চালু থাকা রেলের চরম উদাসিনতা। রেল অনেক ক্ষেত্রে এগোলেও মানসিকভাবে যে ব্রিটিশ আমলেই পড়ে আছে এই পদ্ধতি তারই প্রমাণ। রেল মন্ত্রণালয়ে সদ্য যোগ দেয়া অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবির মিলন জানান, শুধুমাত্র চট্টগ্রাম ডিভিশনে (পূর্বাঞ্চল) রেলের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন বর্তমানে নগদের পরিবর্তে ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। রেলের পূর্বাঞ্চল ফিন্যান্স অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস বিভাগ প্রায় ২ হাজার ৭০০ পেনশন গ্রহিতার মধ্যে চলতি মাসে ইএফটির মাধ্যমে পেনশন দিয়েছে। বাকি রয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ জন। তবে ৫ হাজার ৫০০ পেনশন গ্রহিতার ডাটা সংযুক্ত করা হয়েছে। সামনে তারাও ইএফটির মাধ্যমে পেনশন পেয়ে যাবেন। ডাটা সংযুক্তির কাজ এক বিশাল কর্মযজ্ঞ। ডিসেম্বরের মধ্যেই পূর্বাঞ্চলের অবশিষ্ট পেনশন গ্রহীতারা ইএফটির মাধ্যমে টাকা তুলতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। মাহবুব কবির মিলন বলেন, ঢাকা ও চট্টগ্রাম ডিভিশনে প্রায় ৮৪ জন কর্মকর্তার বেতন ইএফটির মাধ্যমে দেয়া হচ্ছে। বাকিদের ইএফটির কাজ দ্রুত শেষ হবে। ঢাকা ডিভিশনে কয়েকজন কর্মকর্তা ছাড়া সমগ্র পশ্চিমাঞ্চলের কর্মকর্তা কর্মচারীদেরও ইএফটি প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হয়নি। সকলের বেতন-ভাতা নগদে দেয়া হচ্ছে। এ জন্যই লকডাউনের মধ্যেও বিভিন্ন পয়েন্টে নগদ টাকা পৌঁছে দিতে দুই-চার বগির ট্রেন চালাতে হচ্ছে। রেলওয়ের দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীদের সংগঠনের কয়েকজন নেতার অভিযোগ, বেতন দেয়ার আদি পদ্ধতির কারণে হয়রানির শিকার হতে হয় তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের। যারা বেতনের এই নগদ টাকা কর্মচারীদের হাতে তুলে দেন অনেক সময় তারা একশ, দুইশ থেকে শুরু করে পাঁচশ টাকা পর্যন্ত নিজেদের পকেটে রেখে দেন। রেল বিভাগের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির অবসরপ্রাপ্তরাসহ রেলের অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী এখনও বেতন পান অ্যানালগ পদ্ধতিতে। ফলে আগের মাসের বেতন হাতে পেতে প্রায়ই পরের মাসের অর্ধেকেরও বেশি সময় পার হয়ে যায় বলেও অভিযোগ তাদের। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর এ নিয়ে অস্বস্তিতে পড়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। সমালোচনায় মুখর খোদ রেল কর্মকর্তারাই। এমন প্রেক্ষাপটে করোনাকালের এই সময়টিতে বিকাশ বা অন্য কোনো উপায়ে বেতন পরিশোধ করা যায় কি না সে ব্যাপারে ভাবা হচ্ছে বলে জানান রেলওয়ের মহাপরিচালক শামসুজ্জামান। তিনি বলেন, করোনা মহামারী কেটে যাওয়ার পর স্থায়ীভাবে বেতন ইএফটি প্রক্রিয়ায় দেয়ার জন্য কাজ চলছে। আপাতত আপদকালে আর হাতে হাতে বেতন না দিয়ে বিকাশ বা রকেটের মাধ্যমে দেয়ার চিন্তা করা হচ্ছে। শত বছরের পুরানো পদ্ধতি বাতিল করে শিগগিরই ইএফটি কার্যক্রম চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন রেলপথমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন। তিনি বলেন, ইএফটি চালু করার ব্যাপারটি রেলপথ মন্ত্রণালয়ের একার বিষয় না, এর সাথে অর্থমন্ত্রণালয়ও জড়িত। আমরা অর্থমন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ করছি, যাতে প্রক্রিয়াটি দ্রুত সম্পন্ন করা হয়। তিনি আরও জানান, কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন ইএফটি প্রক্রিয়ায় দেয়ায় কাজ অনেক আগেই শুরু হয়েছে সীমিত আকারে তা বাস্তবায়নও হয়েছে।






«
Next
Newer Post
»
Previous
Older Post

No comments:

Leave a Reply