sponsor

sponsor

Slider

বিশ্ব

জাতীয়

রাজনীতি

খেলাধুলা

বিনোদন

ফিচার

যাবতীয় খবর

জিওগ্রাফিক্যাল

ফেসবুকে মুজিবনগর খবর

» » » তাহলে কি চীন ও ভারত আবারও যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে?





তাহলে কি চীন ও ভারত আবারও যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে? তারেক শামসুর রেহমান চীন-ভারত গত ১৫ জুন হিমালয় অঞ্চলভুক্ত লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় ভারত-চীন সীমান্ত সংঘর্ষের পর প্রায় দু’সপ্তাহ পার হতে চলেছে; কিন্তু সেখানে এখনও উত্তেজনা আছে। মূল সমস্যার সমাধান হয়নি। দু’পক্ষই সেখানে সেনা সমাবেশ বাড়িয়েছে। স্যাটেলাইট ইমেজে তা ধরা পড়েছে। চীন সেখানে শত শত সামরিক যানবাহন সন্নিবেশ করেছে, অন্যদিকে ভারত জম্মু ও কাশ্মীরে যে সেনা জমায়েত করেছিল, তা লাদাখে সরিয়ে নিয়েছে। এর অর্থ হচ্ছে, দু’পক্ষ এখন মুখোমুখি। তাহলে কি চীন ও ভারত আবারও যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে? আরেকটি ১৯৬২ সালের যুদ্ধের কি পুনরাবৃত্তি ঘটবে? দু’পক্ষের মধ্যে কোর কমান্ডার পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু আলোচনা শতভাগ ফলপ্রসূ হয়েছে, তা বলা যাবে না। কারণ আলোচনার পরও দু’পক্ষই সেনা সমাবেশ ঘটিয়েছে। উভয় পক্ষই পরস্পরকে এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক ‘চাপে’ রাখছে। এটি যুদ্ধের একটি কৌশল। তবে চূড়ান্ত পর্যায়ে কোনো যুদ্ধ হবে না বলে আমার ধারণা। কারণ চীন ও ভারত জানে সম্ভাব্য এ ‘যুদ্ধের’ পরিণতি কী হতে পারে। তবে নিঃসন্দেহে গালওয়ান উপত্যকার এ ‘উত্তেজনা’ অনেক প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে : এক. ঐতিহাসিকভাবেই হিমালয় অঞ্চলভুক্ত গালওয়ান উপত্যকায় চিহ্নিত কোনো সীমান্ত নেই। ব্রিটিশরা যখন এ অঞ্চল ছেড়ে চলে যায়, তখন অন্যান্য অঞ্চলের ক্ষেত্রে সীমানা চিহ্নিতকরণ হলেও গালওয়ান উপত্যকার সীমানা চিহ্নিত হয়নি। চীন ও ভারত উভয়ই এ অঞ্চলটি তাদের বলে দাবি করে। গালওয়ান উপত্যকা অত্যন্ত দুর্গম একটি অঞ্চল, তাপমাত্রা থাকে মাইনাস ৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো। কোনো জনবসতি নেই এবং সেখানে বসবাস করাও একরকম অসম্ভব। তবে এর একটি স্ট্র্যাটেজিক গুরুত্ব রয়েছে। পুরো লাদাখ অঞ্চল একসময় ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের অন্তর্ভুক্ত ছিল। লাদাখের (৫৯১৪৬ বর্গকিলোমিটার এলাকা) এ স্ট্র্যাটেজিক অবস্থানকে বিবেচনা করেই ভারত সরকার গেল বছর সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন এনে লাদাখকে জম্মু ও কাশ্মীর থেকে আলাদা করে একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করে (৩১ অক্টোবর ২০১৯)। লাদাখের পূর্বে রয়েছে চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল তিব্বত, দক্ষিণে রয়েছে ভারতের হিমালয় রাজ্য, পশ্চিমে রয়েছে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গিলগিট-বাল্টিস্তান, আর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে রয়েছে চীনের জিনজিয়াং প্রদেশ। সিয়াচিন হিমবাহ ও চীনের আকসাই চীন এ অঞ্চলের মাঝেই অবস্থিত। এ লাদাখেই অবস্থিত কারগিল, আর কারগিলে ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষের কথা (১৯৯৯) অনেকেই স্মরণ করতে পারেন। লাদাখের গুরুত্ব এ কারণে যে, তিব্বত চীনের অধিভুক্ত হওয়ার (১৯৫০-৫১) পর সাম্প্রতিককালে সেখানে চীনবিরোধী অসন্তোষ বাড়ছে। ১৯৫৯ সালে তিব্বতের ধর্মগুরু দালাইলামা ভারতে আশ্রয় নেন এবং এখনও সেখানে আছেন। ভারতের হিমাচল প্রদেশের ধর্মশালায় একটি তিব্বতি নির্বাসিত সরকারের অস্তিত্বের খবরও আমরা জানি, যার প্রধান দালাইলামা স্বয়ং। ২০১৫ সালে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে সর্বসম্মতিক্রমে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছিল, যেখানে তিব্বতি নেতাদের সঙ্গে চীনের কেন্দ্রীয় প্রশাসনের আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল। আর অতি সম্প্রতি, গত মে মাসে, কংগ্রেসম্যান স্কট পেরি মার্কিন কংগ্রেসে একটি বিল (৬৯৪৮) উত্থাপন করেছেন, যেখানে তিব্বতকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। তাই সঙ্গত কারণেই লাদাখের স্ট্র্যাটেজিক গুরুত্ব বাড়ছে। তিব্বতের পাশাপাশি জিনজিয়াংয়ের অধিবাসী উইঘুর মুসলমানদের নিয়ে চীনের একটি ‘সমস্যা’ রয়েছে। উইঘুরে চীন মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে, এ ধরনের অভিযোগ তুলে মার্কিন কংগ্রেসে একটি আইনও পাস হয়েছে (Uyghur Human Rights Policy Act of 2020, Uyghur Human Rights Policy Act of 2019, S. 3744)। উইঘুরে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন এবং এ আন্দোলনের পেছনে বাইরের শক্তির মদদের ব্যাপারে চীন অবগত। ফলে এ অঞ্চলে কোনো শক্তি চীনবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডে যাতে জড়িত হতে না পারে, চীন সে ব্যাপারে সতর্ক। সিয়াচিন হিমবাহ নিয়ে (১০০০ বর্গমাইল) ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘর্ষের খবর (১৯৮৪) আমরা জানি। চীনের কাছেও এ হিমবাহের গুরুত্ব আছে। আকসাই চীনের একটি অংশ Shaksgam Valley একসময়ে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা পাকিস্তান চীনকে হস্তান্তর করে। আর ভারতের হিমাচল রাজ্যটি চীনের- এ দাবি থেকে চীন এখনও সরে আসেনি। দুই. গালওয়ান উপত্যকায় (১৪৭০০ বর্গমাইল) ভারতীয় কর্মকাণ্ডকে চীন তার নিরাপত্তার প্রতি হুমকিস্বরূপ বলে মনে করছে। গালওয়ান উপত্যকার সীমানা চিহ্নিতকরণ সংক্রান্ত ‘লাইন অফ কনট্রোলের’ পাশাপাশি ভারত ২৫৫ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সড়ক নির্মাণ শেষ করেছে। এ সড়কটি লাদাখের রাজধানী লেহ-এর সঙ্গে চীনা সীমান্তের কাছাকাছি দৌলতবেগ আলভি সামরিক বিমানঘাঁটিকে সংযুক্ত করেছে। এটি একটি দুর্গম এলাকা। আগে লেহ থেকে দৌলতবেগ আলভি সামরিক বিমানঘাঁটিতে পৌঁছাতে দু’দিন লাগত। এখন লাগে মাত্র ৬ ঘণ্টা। ভারতীয় সমরনায়কদের কাছে দৌলতবেগ আলভি বিমানঘাঁটির গুরুত্ব অনেক বেশি। এখান থেকে চীন নিয়ন্ত্রিত আকসাই চীনের, যা ভারত নিজের বলে দাবি করে, সীমান্ত মাত্র ৯ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। আর সিয়াচেন গ্লেসিয়ারের দূরত্ব মাত্র ৮ কিলোমিটার। এ বিমানঘাঁটিতে ভারত অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে। চীন কিংবা পাকিস্তানের সঙ্গে যে কোনো যুদ্ধে এ বিমানঘাঁটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তিন. এই পুরো এলাকাটি মোটামুটি তিন ভাগে বিভক্ত। বর্তমানে যেখানে উত্তেজনা বিরাজ করছে, তা পশ্চিম অংশ হিসেবে বিবেচিত। লাদাখ ও আকসাই চীনের অন্তর্ভুক্ত। মধ্যম অংশে অন্তর্ভুক্ত হিমাচল, উত্তরখন্ড রাজ্য ও তিব্বতের দক্ষিণ অংশের একটি অংশ। আর পূর্ব অংশের অন্তর্ভুক্ত দক্ষিণ তিব্বত ও পূর্ব ভারত। পুরো এ তিনটি অংশেই অতীতে একাধিকবার সংঘর্ষ হয়েছে। ১৯৬২ সালে চীন-ভারত বহুল আলোচিত যুদ্ধ হয়েছিল লাদাখ ও আকসাই চীনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে। ১৯৬৭ সালে সংঘর্ষ হয়েছিল সিকিমের নাথু লা ও চো লা গিরিপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে। ১৯৭৫ সালেও এখানে দু’পক্ষের মাঝে গুলিবিনিময় হয়েছে। আর ২০১৭ সালে দোকলামে একটি যুদ্ধের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল। দোকলামে ভারত ছিল তৃতীয় পক্ষ। দোকলামে সীমান্ত রয়েছে চীনের সঙ্গে ভুটানের। এ অঞ্চলে চীন সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নিলে ভারতীয় সেনাবাহিনী হস্তক্ষেপ করে। দোকলাম নিয়ে যুদ্ধ হয়নি বটে, তবে দীর্ঘদিন উত্তেজনা বজায় ছিল। এখানে বলা ভালো, ভারতের আপত্তির কারণে ভুটানে চীনের কোনো দূতাবাস নেই। চার. আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে লক্ষ করছেন, ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের কর্তৃত্বকে কেন্দ্র করে এক ধরনের স্নায়ুযুদ্ধের জন্ম হচ্ছে। এ অঞ্চল যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজির অংশ। যুক্তরাষ্ট্র এক ধরনের ‘কনটেনমেন্ট পলিসি’ নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ চীনকে ঘিরে ফেলা! এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে চীনকে ভেঙে ফেলা। স্নায়ুযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্র সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে এ নীতি অবলম্বন করেছিল। এবং ১৯৯১ সালে এসে সোভিয়েত ইউনিয়নকে ভেঙে ফেলতে সক্ষম হয়েছিল। এরপর থেকে বিশ্ব রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে কর্তৃত্ব করছে; কিন্তু সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে চীনের উত্থান মার্কিন একক কর্তৃত্বের প্রতি এক ধরনের চ্যালেঞ্জ। তাই চীনকে চাপে রাখা, চীনকে ঘিরে ফেলার একটি স্ট্র্যাটেজি যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে। অনেকেই QUAD (Quadrilateral Security Dialogue)-এর কথা স্মরণ করতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, জাপান ও ভারতকে নিয়ে ছটঅউ গঠিত। গত বেশ ক’বছর ধরে QUAD ভারত মহাসাগরে নৌ-সামরিক মহড়ায় অংশ নিয়ে আসছে। এ জোট চীনের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে একটি পক্ষ হিসেবে কাজ করতে পারে। এ ক্ষেত্রে আরও দুটো সামরিক কার্যক্রমের কথা আমরা উল্লেখ করতে পারি। ভারত অতি সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে একটি সামরিক চুক্তি করেছে। এই চুক্তি বলে প্রয়োজনে অস্ট্রেলিয়ার বিমানবাহিনী ভারতীয় বিমানঘাঁটি ব্যবহার করতে পারবে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও ভারতের এমন ধরনের চুক্তি রয়েছে। এ ধরনের চুক্তিকে চীন নিঃসন্দেহে তার জন্য একটি হুমকি হিসেবে দেখছে। পাঁচ. চীন যখন গালওয়ান উপত্যকা নিয়ে ভারতের সঙ্গে এক ধরনের সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে, তখন ২১ জুন চীনের সরকারি মুখপাত্র গ্লোবাল টাইমসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে মার্কিন ব্যাপক সামরিক উপস্থিতি সংঘর্ষের ঝুঁকি বৃদ্ধি করেছে বলে মন্তব্য করা হয়েছে। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ডের আওতায় রয়েছে ৩,৭৫,০০০ সদস্যের বিশাল বহর এবং আরও ৮৫,০০০ সদস্য রয়েছে, যাদের প্রয়োজনে নিয়োজিত করা সম্ভব। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর ৬০ শতাংশ যুদ্ধজাহাজ এ অঞ্চলে টহল কাজে নিয়োজিত। মোট মেরিন সদস্যদের মাঝে তিন ভাগের দু’ভাগ এ অঞ্চলে কর্মরত। দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে। দক্ষিণ চীন সাগরে চীন তার কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে। কিন্তু এ এলাকার স্ট্র্যাটেজিক গুরুত্ব থাকায় যুক্তরাষ্ট্র চীনের কর্তৃত্ব মানছে না। হংকং পরিস্থিতি, তাইওয়ানে মার্কিন অস্ত্র বিক্রি, কোভিড-১৯, বাণিজ্য যুদ্ধ ইত্যাদি বিষয় নিয়ে চীনের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে। এ ক্ষেত্রে গালওয়ান উপত্যকায় চীন-ভারত সংঘর্ষের পেছনে ভারতকে উসকে দেয়ার ব্যাপারে পরোক্ষভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটা ইন্ধন থাকতে পারে। মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ভারতের সঙ্গে তার সীমান্তবর্তী দেশগুলোর সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে। কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ জাতিসংঘে উত্থাপন করেছে পাকিস্তান। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে পুলওয়ামা সংকটের (আত্মঘাতী বোমা হামলায় ৪০ জন ভারতীয় আধাপুলিশ বাহিনীর সদস্যের মৃত্যু) পর থেকেই দু’দেশের সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না। আর গালওয়ান উপত্যকার ঘটনার পর ভারত ও পাকিস্তান উভয় দেশই ‘গুপ্তচরবৃত্তির’ অভিযোগে দূতাবাসের অর্ধেক স্টাফকে বহিষ্কার ও পাল্টা বহিষ্কার করেছে। দু’দেশের সম্পর্ক এখন সর্বনিু পর্যায়ে রয়েছে। ভুটান কৃষিকাজের জন্য ভারতের কৃষকদের পানি সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। নেপালের পার্লামেন্টে নতুন একটি ম্যাপ অনুমোদন করায় (কালাপানি ও লিপুলেখকে নিজেদের অন্তর্ভুক্ত করা, যা ভারত নিজেদের বলে দাবি করে) ভারতের সঙ্গে নেপালের সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে। শ্রীলংকার অভ্যন্তরীণ ঘটনায় ভারত হস্তক্ষেপ করছে- এমন অভিযোগ রয়েছে শ্রীলংকার। ভারতে বিতর্কিত নাগরিক আইন করে মুসলমানদের নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত করায় ও তাদের বাংলাদেশি হিসেবে চিহ্নিত করায় বাংলাদেশের তিনজন মন্ত্রী ভারত সফর বাতিল করেছিলেন (বিবিসি)। ভারত-চীন উত্তেজনার মাঝেও ২৫ জুন লালমনিরহাটে বিএসএফের গুলিতে এক বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। এসব ঘটনা প্রমাণ করে মোদির ‘নেইবারহুড ফার্স্ট পলিসি’ (পড়শিরাই আগে) ব্যর্থ হতে চলেছে। এই যখন পরিস্থিতি, তখন চীন দক্ষিণ এশিয়ায় তার বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে (আফগানিস্তান ২১০ মিলিয়ন, মিয়ানমার ২.৫২ বিলিয়ন, বাংলাদেশ ১৩.৮৭ বিলিয়ন, শ্রীলংকা ৩.১১ বিলিয়ন, নেপাল ১.৩৪ বিলিয়ন, মালদ্বীপ ৯৭০ মিলিয়ন, পাকিস্তান ১২.৯ বিলিয়ন। সূত্র : সাউথ এশিয়া জার্নাল, ২৩ জুন)। একইসঙ্গে চীন তিন পর্যায়ে বাংলাদেশের ৮ হাজারের ওপর পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধার (৯৭ শতাংশ) কথা ঘোষণা করেছে। দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতবিরোধী মনোভাব যখন বাড়ছে, তখন চীন ‘বন্ধুত্ব’ অর্জনের চেষ্টা আরও শক্তিশালী করছে। চীন-ভারত সম্পর্ক কোন পর্যায়ে যাবে, তা বলা যাচ্ছে না। তবে দীর্ঘ ১১ ঘণ্টা আলোচনার পর ভারত ও চীন গালওয়ান উপত্যকায় সেনা সরাতে সম্মত হয়েছে- এটাই প্লাস পয়েন্ট। এখন এটি কতটুকু কার্যকর হয়, সেটাই দেখার বিষয়। ড. তারেক শামসুর রেহমান : প্রফেসর ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক






«
Next
Newer Post
»
Previous
Older Post

No comments:

Leave a Reply