sponsor

sponsor

Slider

বিশ্ব

জাতীয়

রাজনীতি

খেলাধুলা

বিনোদন

ফিচার

যাবতীয় খবর

জিওগ্রাফিক্যাল

ফেসবুকে মুজিবনগর খবর

» » » » ‘প্রত্যেক উইঘুর মুসলমান প্রিয়জনের সঙ্গে পুনরায় একত্রিত হবে’




প্রত্যেক উইঘুর মুসলমান প্রিয়জনের সঙ্গে পুনরায় একত্রিত হবে’

চীনের জিনজিয়ান থেকে স্ত্রী-সন্তানকে মুক্ত করতে তিন বছর লড়াই করেছেন এক উইঘুর মুসলিম। দীর্ঘ অপেক্ষা শেষে প্রিয়জনকে কাছে পেয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক সাদ্দাম আবদুস সালাম সিডনিতে স্ত্রী নাদিলা উমায়ের এবং তিন বছর বয়সী সন্তান লুৎফির দেখা পান। কূটনৈতিক সমঝোতার ভিত্তিতে পরিবারটিকে জিনজিয়ান ছাড়ার অনুমতি দেয় চীন। চীনা উইঘুর মুসলিম সংখ্যালঘু কমিউনিটির সদস্য উমায়ের। মুক্তি পাওয়ার আগ পর্যন্ত জিনজিয়ানে গৃহবন্দি ছিলেন তিনি। সিডনি বিমানবন্দরে স্ত্রী-সন্তানের সঙ্গে সাক্ষাতের একটি আবেগময় ছবি শুক্রবার সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করেন আবদুস সালাম। ২০১৭ সালে তার শিশু সন্তানের জন্ম হয়। তাকে প্রথমবারের মতো কাছে পেয়েছেন আবদুস সালাম। টুইটে তিনি বলেন, ধন্যবাদ অস্ট্রেলিয়া। ধন্যবাদ সবাইকে। তিন বছরের বিচ্ছিন্নতার গল্প প্রায় এক দশক ধরে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করছেন আবদুস সালাম। ২০১৬ সালে তখনকার মেয়েবন্ধু উমায়েরকে বিয়ে করার জন্য চীন যান তিনি। বিয়ের পর কাজের জন্য ২০১৭ সালে অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে আসেন আবদুস সালাম। উমায়ের স্পাউস ভিসা পাওয়ার জন্য চীনে অপেক্ষা করছিলেন। ওই বছরই সন্তানের জন্ম দেন উমায়ের। চীনের যাওয়ার জন্য আবদুস সালাম ভিসা চাইলে তা প্রত্যাখ্যান করে চীনা সরকার। সন্তান জন্ম দেওয়ার কিছুদিন পরই উমায়েরকে আটক করে চীনা কর্তৃপক্ষ। দুই সপ্তাহ পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বাজেয়াপ্ত করা হয় তার পাসপোর্ট। করা হয় গৃহবন্দি। আবদুস সালামের আবেদনের প্রেক্ষিতে লুৎফিকে স্বীকৃতি দেয় অস্ট্রেলিয়া। উমায়ের অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক নন। তা সত্ত্বেও গেল দু’বছরে বেশ কয়েকবার চীনের কাছে তাদের মুক্তি দেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আহ্বান জানায় অস্ট্রেলিয়া। ফেব্রুয়ারিতে চীনা কর্তৃপক্ষ জানায়, চীনের আইন, ওই দম্পতির বিয়েকে স্বীকৃতি দেয় না। উমায়ের নিজের ইচ্ছায় চীনে বসবাস করছেন। অস্ট্রেলিয়ার একটি টিভি অনুষ্ঠানে চীনা এক কর্মকর্তা এ দাবি করেন। তারপরই, আবদুস সালাম একটি ভিডিও টুইটারে পোস্ট করেন। যেখানে উমায়েরকে বলতে দেখা যায়, ‘আমি চীন ত্যাগ করতে চাই, আমার স্বামীর সঙ্গে থাকতে চাই।’ উমায়েরের এ ভিডিওতে সময়, তারিখ সবই উল্লেখ করেন আবদুস সালাম। যে খবর শোনার জন্য আবদুস সালাম-নাদিলা উমায়ের দম্পতি অপেক্ষা করছিলেন তা জানতে তাদের আরও ছয় মাস অপেক্ষা করতে হয়। বিবিসিকে তাদের আইনজীবী মিচেল ব্র্যাডলি জানান, চীন থেকে তাদের অস্ট্রেলিয়ায় আসার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে তা গেলো দু’মাস আগে জানতে পারি। ৪৮ ঘণ্টা বিমানভ্রমণ শেষে সিডনিতে স্ত্রী সন্তানেকে কাছে পান আবদুস সালাম। সাংহাই, হংকং, পোর্ট মোরেসবি থেকে ব্রিসবেন, সবশেষে সিডনিতে পৌঁছান উমায়ের এবং লুৎফি। অবিশ্বাস্য এ কাজের জন্য অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ জানান আবদুস সালাম। পাশে থাকার জন্য আইনজীবী এবং গণমাধ্যমের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। ‘সত্যিই এদিন পাবো কল্পনায়ও বিশ্বাস করতে পারিনি। আন্তরিকভাবে সবাইকে ধন্যবাদ জানাই, যারা আমাদের একত্রিত করতে কঠোর পরিশ্রম করেছেন। প্রত্যেক উইঘুর তার প্রিয়জন, পরিবারের সঙ্গে পুনরায় একত্রিত হবে, এ স্বপ্ন দেখি আমি। বলেন আবদুস সালাম। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর নিন্দা মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, বন্দিশালায় উইঘুরসহ ১০ লাখ মুসলমানকে আটকে রেখেছে চীন। যদিও চীন এ দাবি অস্বীকার করছে। বেইজিং বলছে, তারা সন্ত্রাসবাদ এবং ধর্মীয় উগ্রবাদ মোকাবিলা করছে। ওইসব শিবিরে বন্দিদের রাজনৈতিক পুনঃশিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। অক্টোবরে অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় কয়েকটি দেশসহ ৩৯টি রাষ্ট্র জাতিসংঘে একটি বিবৃতি পাঠায়। সেখানে জিনজিয়ানের বন্দিশালায় মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তারা। বলা হয়, ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের বহু তথ্য প্রমাণ রয়েছে। বিবৃতিতে সুনিদিষ্ট কয়েকটি বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। তার মধ্যে ধর্মীয় স্বাধীনতা, মুক্তভাবে চলাফেরা, মত প্রকাশ এবং উইঘুরদের সংস্কৃতির চর্চা হুমকিতে বলে উল্লেখ করা হয়। ৩৯ দেশের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, উইঘুরসহ সংখ্যালঘু মুসলমানদের ব্যাপকভাবে নজরদারি করা হচ্ছে। জোরপূর্ব শ্রমে বাধ্য করা হচ্ছে, বন্ধ্যাকরণের মাধ্যমে জন্মনিয়ন্ত্রণ করছে বলেও তথ্য প্রমাণ রয়েছে।






«
Next
Newer Post
»
Previous
Older Post

No comments:

Leave a Reply