sponsor

sponsor

Slider

বিশ্ব

জাতীয়

রাজনীতি

খেলাধুলা

বিনোদন

ফিচার

যাবতীয় খবর

জিওগ্রাফিক্যাল

ফেসবুকে মুজিবনগর খবর

» » » অভিজিৎ হত্যা: কী ঘটেছিল সেদিন




অভিজিৎ হত্যা: কী ঘটেছিল সেদিন মুক্তমনা ব্লগার ও লেখক অভিজিৎ রায়কে হত্যা মামলায় ৫ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি ফারাবীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার পর ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে হত্যা করতেই জঙ্গিরা অভিজিৎকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে বলে পর্যবেক্ষণে জানান আদালত। এর আগে গত ৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমান রাষ্ট্র ও আসামি পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য ১৬ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন। যেদিন এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল সেদিন ঠিক কি হয়েছিল - ২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি, দিনটি ছিল বৃহস্পতিবার। তখন বইমেলা শেষের দিকে অনেকটা জমজমাট হয়ে উঠেছিল। এদিন অভিজিৎ সস্ত্রীক বইমেলা ঘুরে বের হয়ে সোহরাওয়ার্দি উদ্যানের গেট পার হতেই হঠাৎ পেছন থেকে অতর্কিত হামলার শিকার হন। ঘটনার সময় সোহরাওয়ার্দি উদ্যানের ভেতরেই ছিলেন মানবজমিন পত্রিকার ফটো সাংবাদিক জীবন আহমেদ। জীবন আহমেদ জানান, আচমকা কাউকে জোরে আঘাত করলে মানুষ যেরকম চিৎকার করে হঠাৎ সেরকমই প্রচণ্ড চিৎকার। তখনো আমি বুঝি নাই বড় কিছু ঘটেছে। কিন্তু আমি ঘটনা দেখতে সোহরাওয়ার্দি উদ্যানের ভেতর থেকে বাইরে আসলাম। কাছে গিয়ে ভীড় ঠেলে দাঁড়াতেই দেখি মাটিতে একজন পড়ে আছে, আরেকজন মহিলা পাশে মোটরসাইকেলের উপর পড়ে আছে। চারদিকে রক্ত। পাশে থেকে মানুষজন বলতেছিল, চাপাতি দিয়া কোপাইছে। আরো পড়ুন: সাজা পেয়েও হাসতে হাসতে বের হলেন ৪ আসামি জীবন জানান, ঘটনার আকস্মিকতায় তিনি হতবিহ্বল হয়ে পড়েন। কী করবেন বুঝে উঠতে পারছিলেন না। সকল মানুষ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছিল সব। একপর্যায়ে তিনি সিদ্ধান্ত নেন সাহায্য করার। তিনি জানান, আমি প্রথমে মহিলাকে ডাকলাম। তিনবার ডাকার পর তার চেতনা ফেরে। তিনি উপুড় হয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু চেতনা আসতেই যখন তিনি মাথা উঠিয়ে আমার দিকে ফিরলেন, আমি একটা শক খাইলাম। মুখে-শরীরে-হাতে ভয়াবহভাবে রক্ত লেগে আছে। পরে জীবন আহমেদ জানতে পারেন মহিলার নাম রাফিদা আহমেদ বন্যা। তিনি জানান, চেতনা ফেরার পর বন্যা প্রথমে বুঝতে পারেননি কী হয়েছে। পরে তাকে ঘটনাটি জানানো হলে তিনি চিৎকার করে অভিজিতের দিকে ছুটে যান। এরপর হাসপাতালে নিতে মানুষের সাহায্য চাইতে থাকেন বন্যা। কিন্তু কেউ এগিয়ে আসে নি। পরে জীবন আহমেদই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন বলে জানান তিনি জীবন আহমেদ জানান, বন্যা সিএনজিতে ওঠার পরই সিটে হেলান দেয়া অবস্থায় আবার জ্ঞান হারান। কিছুক্ষণ পর যখন জ্ঞান ফেরে কিন্তু তখন জীবন আহমেদকেও আর চিনতে পারছিলেন না। বরং তাকে হত্যাকারীদের সহযোগী ভাবছিলেন তিনি। জীবন আরো জানান, জ্ঞান ফিরতেই তিনি খুব উচ্চস্বরে বলতেছিলেন, আপনি কে? এখানে কেন? কী চান? তখন জীবন বলেন, আমি আপনাদের মেডিকেলে নিয়ে যাচ্ছি। বন্যা বলতে থাকেন, আমি তো আপনার কোন ক্ষতি করিনি। আমাদের কেন মারতেছেন? আপনার কত টাকা লাগবে? আমাদের ছেড়ে দেন ইত্যাদি। তিনি জানান, এরপরই বন্যা আবারো জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। একপর্যায়ে তাদের সিএনজি ঢাকা মেডিকেলে পৌঁছায়। সে রাতে হাসপাতালেই মারা যান অভিজিৎ। গুরুতর আহত বন্যা দীর্ঘ চিকিৎসার পর সেরে ওঠেন। এ ঘটনার পর ২৭ ফেব্রুয়ারি অভিজিতের বাবা বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অজয় রায় শাহবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। ২০১৯ সালের ১৩ মার্চ ঢাকা মহানগর হাকিম সরাফুজ্জামান আনসারীর আদালতে ছয়জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের পরিদর্শক মনিরুল ইসলাম। ১১ এপ্রিল ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমান ছয় আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) গ্রহণ করেন। ১ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমান। মামলায় ৩৪ জন সাক্ষীর মধ্যে বিভিন্ন সময় ২৮ জন সাক্ষ্য দেন। মামলার আসামিরা হলেন- মেজর (চাকরিচ্যুত) সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল হক ওরফে জিয়া, মোজাম্মেল হুসাইন ওরফে সায়মন (সাংগঠনিক নাম শাহরিয়ার), আবু সিদ্দিক সোহেল ওরফে সাকিব ওরফে সাজিদ ওরফে শাহাব, আকরাম হোসেন ওরফে আবির, মো. আরাফাত রহমান ও শফিউর রহমান ফারাবি। এদের মধ্যে মেজর (চাকরিচ্যুত) সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল হক ওরফে জিয়া ও আকরাম হোসেন ওরফে আবির শুরু থেকেই পলাতক।






«
Next
Newer Post
»
Previous
Older Post

No comments:

Leave a Reply