sponsor

sponsor

Slider

বিশ্ব

জাতীয়

রাজনীতি

খেলাধুলা

বিনোদন

ফিচার

যাবতীয় খবর

জিওগ্রাফিক্যাল

ফেসবুকে মুজিবনগর খবর

» » » মেহেরপুর আমঝুপি বীজ উৎপাদন খামারে সূর্যমুখীর বাগানে দর্শনার্থীর ভিড়




। একদিকে সূর্যমুখী ফুলের বাগান আরেক দিকে সরিষার ক্ষেত। চারিদিকে হলুদে একাকার। মাঝ দিয়ে মেঠো পথ। এ যেন চোখ ধাঁধানো মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য। এই দৃশ্যের সৌন্দর্য আরেকটু বাড়িয়েছে রাস্তার দুইদিকে নারকেল গাছের সারি। এমনই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখা মিলবে মেহেরপুর সদর উপজেলার আমঝুপি বীজ উৎপাদন ফার্মে। এমন অপরুপ সৌন্দর্য অবলোকন করতে প্রতিদিনই হাজারো দর্শনার্থী আসছে আমঝুপি ফার্মে। মেহেরপুর জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসা দর্শনার্থীদের ভিড় থাকে দিনের শুরু থেকেই। তবে পড়ন্ত বিকেলে এর আধিক্য বেশি লক্ষ্য করা যায়। প্রিয়জনকে সাথে নিয়ে জেলার বাইরে থেকেও আসছেন অনেকেই। স্মৃতিতে গেথে রাখার জন্য সেলফিও তুলছে সবাই। এছাড়াও ছবির সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দিতে সেখানে রয়েছে প্রফেশনাল ফটোগ্রাফারও। কিশোর কিশোরী থেকে শুরু করে বয়ষ্করাও আসছেন মনোরম দৃশ্যে চোখ বুলাতে। আমঝুপির মেয়ে তৌহিদা আব্দুল্লাহ ২৭ বছর আগে গিয়েছিলেন পাকিস্তানে। দীর্ঘ সময় পর দেশে এসে বেড়াতে এসেছেন আমঝুপি ফার্মে। সাথে ছিল ছেলে আব্দুল্লা ও মেয়ে আয়েশা। অসপষ্ট বাংলা আর উর্দু মিশিয়ে মেয়ে আয়েশা জানালেন, পাকিস্তানে এই ধরনের সূর্যমুখীর বাগান নেই। এটা খুবই সুন্দর দৃশ্য। আমার বেশ ভালো লাগছে। চুয়াডাঙ্গা ভালাইপুরের আব্দুর রাজ্জাক। পেশায় স্কুল শিক্ষক। দুই ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে বেড়াতে এসেছেন আমঝুপি ফার্মে। অনুভুতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন- সত্যিই অসাধারণ। সামাজিক যোগযাগ মাধ্যম ফেসবুকে আমঝুপি ফার্মের এই হলুদাবরণ দেখে নিজেরও ইচ্ছে হলো দেখার। তাই চলে এলাম পরিবার নিয়ে। গাংনীর তন্নি, রাসেল, তুহিন, আবিরও এসেছেন ফার্মে। স্মৃতিতে ধরে রাখতে ছবি তুলেছেন কয়েক’শ। তারা জানালেন এমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মেহেরপুরের আর কোথাও নেই। খুবই ভালো লাগছে। সকালে এসেছি, ভাবছি থাকবো সন্ধা পর্যন্ত। মেহেরপুর শহরের লিটন সরকার ও সুমনা সরকার এসেছেন এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে। এই দৃশ্যের প্রশংসা করে তিনি বলেন, আমি এর আগে এতো বড় সূর্যমুখীর বাগান দেখিনি। সেই সাথে পাশের সরিষার ক্ষেত সৌন্দর্যকে দ্বিগুণ করেছে। নিজের এলাকায় এতো সুন্দর দৃশ্য না দেখে কি আর থাকা যায়। তাই চলে এলাম পরিবার নিয়ে। এ বিষয়ে আমঝুপি বীজ উৎপাদন খামারের উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, প্রতি বছরই আমরা বীজ উৎপাদনের জন্য সূর্যমুখীর চাষ করে থাকি। এ বছরও ৬ বিঘা করা হয়েছে। প্রতিদিনই অনেক দর্শনার্থী আসছেন এই দৃশ্য দেখার জন্য। আমরা সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছি। তবে গাছের যেন ক্ষতি না হয় সেজন্য দর্শনার্থীদের কাছে আমাদের অনুরোধ থাকবে। মেহেরপুর সদর উপজেলা আমঝুপি ইউনিয়নের চাহিদা মেটানোর উদ্দেশ্যে সূর্যমুখীর চাষ করেছে মেহেরপুরের আমঝুপি বীজ উৎপাদন খামার। সেখানে বীজ উৎপাদনের জন্য ২১ বিঘা জমিতে চাষ হচ্ছে সূর্যমূখির। সূর্যমুখির ফুলে ভরে গেছে খামারের জমি। মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা সড়কের পাশে আমঝুপি বীজ উৎপাদন খামারে সূর্যমুখি ফুল দৃষ্টি কেড়েছে সব বয়সী মানুষের। দৃষ্টিকাড়া ফুলের মধ্যে কেউ সেলফি, কেউ স্বজন নিয়ে সকাল থেকে সন্ধ্যে পর্যন্ত ছবি তুলতে ভিড় করছে। কেউ যেন ফুল না ছেড়ে সেজন্য সেখানে লোকবল নিয়োগ করতে হয়েছে। খামারে চাষ করা সূর্যমূখি ফুলের ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হলে গত দিন পনের থেকে সেখানে উপচে পড়ছে মানুষের ভীড়। ২০ থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে বিভিন্ন যানবাহনে চড়ে ছুটে আসছে মানুষ। বিভিন্ন বয়সের মানুষকে সামলাতে বেগ পোহাতে হতে হচ্ছে খামারের লোকজনকে। অনেকেই গাছ ভেঙ্গে জমির মাঝে চলে যাচ্ছে ছবি তুলতে। তাতে গাছের ক্ষতি হলো কি না দেখছে না। ছবি তুলতে আসায সন্ধ্যা জানান, ‘ফেসবুকে ফুলের দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হয়ে ছবি তুলতে এসেছি।ফুলে-ফুলে ভরপুর এমন দৃশ্য আর আমঝুপি বীজ উৎপাদন খামারে স্বপরিবারে বিনোদনের একটি জায়গাও বটে। এখানে এসে সারাদিনের ক্লান্তি যেন ভুলে গেছি। আমঝুপি বীজ উৎপাদন খামারের কেয়ার টেকার আমিরুল ইসলাম জানান, ফুল ফোটার পর ফেসবুকে ভাইরাল হলে মানুষের ভীড় বাড়তে থাকে। কাউকে আটকানো যাচ্ছেনা। খামারের মুল গেটে তালা লাগানোর পর প্রাচির টপকে মানুষ ভেতরে প্রবেশ করছে। বাধ্য হয়ে গেট খুলে দিয়ে লাঠি হাতে নিয়ে প্রতিরোধ করাতে হচ্ছে। খামারের উপ-পরিচালক মামুনুর রশিদ জানান, ‘বীজের জন্য খামারে প্রতিবছরই কমবেশী সুর্যমূখীর চাষ করা হয়। এবার ২১ বিঘা জমিতে চাষ করা হয়েছে। পুরোমাঠ জুড়ে ফুলে ফুলে ভরে যাওয়াতে দৃষ্টিনন্দন পরিবেশ তৈরী হয়েছে। এখন সব শ্রেণির মানুষ ফটো তোলার জন্য ভীড় করছে। মানুষের উপস্থিতি ভালো লাগছে। কিন্তু কিছু নারী পুরুষ গাছ দুমড়ে-মুচড়ে ভেতরে গিয়ে ছবি তুলছে। যা ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ লোকবল দিয়েও জমির মাঝে যাওয়া ঠেকানো যাচ্ছেনা।






«
Next
Newer Post
»
Previous
Older Post

No comments:

Leave a Reply