Sponsor



Slider

বিশ্ব

জাতীয়

রাজনীতি


খেলাধুলা

বিনোদন

ফিচার


যাবতীয় খবর

জিওগ্রাফিক্যাল

ফেসবুকে মুজিবনগর খবর

» » » » » রাশিয়ার গ্যাস বন্ধ হলে জার্মানির কী হবে?




গ্যাসের দাম রুবলে (রুশ মুদ্রা) পরিশোধ না করলে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেবে রাশিয়া। এ নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোতে বিশেষ করে ইউরোপজুড়ে শঙ্কা বাড়ছে। ক্রমবর্ধমান এই শঙ্কার মুখে গ্যাস সরবরাহ নিয়ে একটি জরুরি পরিকল্পনা প্রস্তুত করেছে জার্মান সরকার। ইতোমধ্যে এর প্রথম ধাপের সূচনাও করেছে। পাশাপাশি নাগরিকদের জ্বালানির ব্যবহার কমানোর আহ্বান জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। রাশিয়া থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে ইউরোপের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটি যে ঝুকির মুখে পড়বে তারই পূর্ব-প্রস্তুতি হিসাবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ইউক্রেনে সামরিক অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় পশ্চিমা দেশগুলোর নির্বিচার নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষিতে গ্যাস বিক্রির ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান নিয়েছে রাশিয়া। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন গত সপ্তাহেই এক ঘোষণায় বলেছেন, অবন্ধুসুলভ দেশগুলোর কাছে প্রাকৃতিক গ্যাস বিক্রির ক্ষেত্রে শুধুমাত্র রুবলই গ্রহণ করবে তার দেশ। ডলার কিংবা অন্য কোনো মুদ্রা নয়।‌ পুতিন আরও বলেন, 'অবন্ধুসুলভ দেশগুলোকে' অবশ্যই ৩১ মার্চ থেকে রুশ মুদ্রা রুবলে গ্যাস কিনতে হবে। এই সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরকার, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও গ্যাজপ্রমব্যাংককে নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি। ‌'অবন্ধুসুলভ দেশ' বলতে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোসহ পশ্চিমা দেশগুলোকেই বুঝিয়েছেন পুতিন। ইউক্রেন অভিযান শুরুর পর থেকেই মস্কোর ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত রেখেছে এই দেশগুলো। পুতিনের এই ঘোষণাকে রুবলের দর বৃদ্ধির একটা চেষ্টা হিসাবে দেখা হচ্ছে। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেন অভিযান শুরুর পরপরই পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞার জেরে ডলার ও অন্যান্য মুদ্রার বিপরীতে রুবলের দর অনেকটাই পড়ে গেছে। পরিমাণের দিক বিশ্বের সবচেয়ে বড় গ্যাস রফতানিকারক দেশ রাশিয়া। আর এই গ্যাসের সবচেয়ে বড় ক্রেতা ইউরোপ। ২০২১ সালে মহাদেশটির মোট গ্যাস আমদানির অর্ধেকই হয়েছে রাশিয়া থেকে। আর একই সময়ে ইউরোপের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ জার্মানির মোট আমদানির ৫৫ শতাংশই পূরণ হয়েছে রুশ গ্যাসে। তবে চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে জার্মানির গ্যাস আমদানি প্রায় ৪০ শতাংশ কমে গেছে। আমদানির পরিমাণ আরও কমাতে চাইছে বার্লিন। দেশটির অর্থমন্ত্রী রবার্ট হেবেক বলেছেন, গ্যাস নিয়ে রাশিয়া নির্ভরতা থেকে মুক্তি চায় তার দেশ। তবে ২০২৪ সালের আগ পর্যন্ত সেটা সম্ভব হবে না জানিয়েছেন তিনি। গ্যাস নিয়ে জার্মান সরকারের জরুরি অবস্থার সিদ্ধান্ত বিষয়ে যা জানা দরকার ইস্যুটা আসলে কি? রাশিয়া গত সপ্তাহে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবারের (৩১ মার্চ) মধ্যে তারা নতুন একটি নিয়ম চালু করবে। যার ফলে ‌'অবন্ধুসুলভ দেশগুলো'কে গ্যাস ক্রয়ের মূল্য রুশ মুদ্রা তথা রুবলে পরিশোধ করতে হবে। বর্তমানে পশ্চিমের বেশিরভাগ দেশ হয় ইউরোতে না হয় মার্কিন ডলারে পরিশোধ করছে। জার্মানি অবশ্য ইতোমধ্যে রুবলে গ্যাস কেনার দাবি নাকচ করে দিয়েছে। সোমবার এক বিবৃতিতে জার্মান অর্থমন্ত্রী রবার্ট হেবেক বলেন, রুবলে রুশ গ্যাস কেনার যে দাবি মস্কো জানিয়েছে, জি৭ভুক্ত দেশগুলো তা প্রত্যাখান করছে। তিনি আরও বলেন, 'রুবলে অর্থ প্রদান অগ্রহণযোগ্য। এটি বিদ্যমান চুক্তির একতরফা ও স্পষ্ট লঙ্ঘন। এ বিষয়ে জি৭ভুক্ত দেশগুলোর একমত।' জার্মানি ছাড়াও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ফ্রান্সও রুবলে গ্যাস কেনার রাশিয়া দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রো বলেছেন, ‌’মস্কোর সঙ্গে যে চুক্তি রয়েছে এই প্রস্তাব সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।' জার্মানিতে রাশিয়ার গ্যাসের সবচেয়ে বড় ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে ইউনিপার, আরডব্লিউ ও এনবিডব্লিউ। গ্যাস আমদানির জন্য রাশিয়ার সঙ্গে তাদের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি রয়েছে। তবে রাশিয়া থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে এই কোম্পানিগুলো কিভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করবে বা কোনো প্রস্তুতি নিয়েছে কিনা তা এখনও জানা যায়নি। জার্মানির গ্যাসের মজুদ দ্রুতই ফুরিয়ে আসছে। অর্থমন্ত্রী হেবেক স্বীকার করে বলেছেন, এই মুহূর্তে তাদের মজুদ ক্ষমতার মাত্র ২৫ শতাংশ পূর্ণ রয়েছে। বার্লিনের জরুরি পরিকল্পনার মূলে যা আছে ‌'ইমার্জেন্সি গ্যাস প্লান' নামে একটি জরুরি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে জার্মানি। এই পরিকল্পনায় সংকট সমাধানের তিনটি পর্যায় উল্লেখ রয়েছে। সেই সঙ্গে গ্যাস সংরক্ষণ, সরবরাহ নিশ্চিত ও বাসাবাড়িতে পর্যাপ্ত গ্যাস নিশ্চিত করার বিভিন্ন উপায় বিশদভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ‌গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় টান পড়লে ’প্রাথমিক সতর্কতা’ জারি করা হবে যা ইতোমধ্যে জারি করেছে জার্মান সরকার। বুধবার এক বিবৃতিতে জার্মান অর্থমন্ত্রী হেবেক বলেন, ‌'আমরা এখন এমন একটা পরিস্থিতিতে এসে দাঁড়িয়েছি যেখানে আমাকে পরিস্কারভাবে বলতে হচ্ছে, আমরা যদি এক কিলোওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে পারি, সেটাই আমাদের জন্য কাজে দেবে।' আরও পড়ুন : রুশ-ইউক্রেনের ইস্তানবুল বৈঠকে ‘সফলতা আসেনি’ পরিকল্পনার দ্বিতীয় পর্যায় হচ্ছে ‌'অ্যালার্ম' তথা জরুরি সতর্কতা। যখন দেখা যাবে গ্যাস সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে কিংবা উচ্চ চাহিদার ফলে গ্যাসের স্বাভাবিক ভারসাম্যে চাপ পড়ছে অথচ রাষ্ট্রের পূর্ণ হস্তক্ষেপ ছাড়াই সমস্যা সমাধান করা যাচ্ছে তখন এই দ্বিতীয় পর্যায় ঘোষণা করা হবে। সেক্ষেত্রে গ্যাস সরবরাহ ঠিক রাখতে স্থানীয় কোম্পানিগুলোর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দরকার হবে। তৃতীয় পর্যায় হচ্ছে ‌'ইমার্জেন্সি' তথা সরাসরি জরুরি অবস্থা ঘোষণা। যখন বাজারভিত্তিক পদক্ষেপগুলোও গ্যাস ঘাটতির সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ হবে তখনই তৃতীয় পর্যায় ঘোষণা করা হবে। এই পর্যায়ে অবশিষ্ট গ্যাস কিভাবে সরবরাহ বা ব্যবহার করা হবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে রাষ্ট্রের গ্যাস নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রক সংস্থা বুন্দেসনেটজ্যাগেনচুর। এক্ষেত্রে দেশের হাসপাতাল ও বাসাবাড়িগুলোতে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে গ্যাস সরবরাহ করা হবে। এমন পরিস্থিতির বিষয়ে হেবেক বলেন, ‌‌'আমরা তেমন পরিস্থিতিতে পড়িনি। আর সেই পরিস্থিতিতে পড়তেও চাই না।' কি প্রভাব পড়বে? জার্মানি যদি শেষ পর্যন্ত জরুরি পরিস্থিতিতে পড়ে এবং এর মধ্যে পর্যাপ্ত গ্যাসের মজুদ নিশ্চিত করতে না পারে, তাহলে সবার আগে দেশটির যে খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে সেটা হচ্ছে শিল্প। গ্যাসের মোট চাহিদার এক চতুর্থাংশই ব্যবহার হয় এই খাতে। যেমনটা বলছেন, জার্মান জ্বালানি কোম্পানি ই.অনের প্রধান নির্বাহী লিওনার্ড বার্নবোম। তিনি বলেন, ‌’এর মানে শিল্প উৎপাদন মুখ থুবড়ে পড়বে। যার ফলে ভেঙে পড়বে পুরো সবরাবহ ব্যবস্থা।‘ সম্ভাব্য গ্যাস সংকটের ক্ষেত্রে শিল্পের আগে আবাসিক এলাকা ও হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলো গ্যাস প্রাপ্তিতে অগ্রাধিকার পাবে। ফলে এই জায়গাগুলোতে সবশেষে প্রভাব পড়বে।






«
Next
Newer Post
»
Previous
Older Post

No comments:

Leave a Reply