Sponsor



Slider

বিশ্ব

জাতীয়

রাজনীতি


খেলাধুলা

বিনোদন

ফিচার


যাবতীয় খবর

জিওগ্রাফিক্যাল

ফেসবুকে মুজিবনগর খবর

» » » » বেনজেমার হ্যাটট্রিকে রিয়ালের জাদুকরী রাত, বিদায় পিএসজির




বেনজেমার হ্যাটট্রিকে রিয়ালের জাদুকরী রাত, বিদায় পিএসজির

এবারেও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতা হলো না পিএসজির। মেসির মাদ্রিদ প্রত্যাবর্তনের দিনে বেনজেমার হ্যাটট্রিকে বিদায় ঘণ্টা বেজে গেলো প্যারিস সেন্ট জার্মেইর। প্রথমার্ধে বেনজেমার গোলে এগিয়ে গিয়েও দ্বিতীয়ার্ধে বেনজেমার দূর্দান্ত হ্যাটট্রিকে ৩-১ গোলে জয় পায় স্বাগিতক রিয়াল মাদ্রিদ। দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ অ্যাগ্রিগেটে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে রিয়াল মাদ্রিদ। মেসির মাদ্রিদ আগমন তাতে কাটলো দুঃস্বপ্নের মত। মাদ্রিদে বুধবার (৯ মার্চ) রিয়াল মাদ্রিদ নেমেছিলো আন্ডারডগ হয়ে। নিজেদের মাঠ থেকে বিদায়ের শঙ্কায় কাঁপছিলি লস ব্লাঙ্কোসরা। কারণ সাম্প্রতিক রেকর্ড বলছে, প্রথম লেগে পিছিয়ে থেকে সর্বশেষ ১০ আসরে মাত্র ১ বার পরের রাউন্ডের টিকেট পেয়েছিলো চ্যাম্পিয়ন্স লিগের রেকর্ড বারের চ্যাম্পিয়নরা। আজও শঙ্কাই যেন সত্যিতে পরিণত হচ্ছিলো। প্রথমার্ধে একের পর এক আক্রমণ করেও গোলের দেখা না পাওয়া মাদ্রিদ উল্টো গোল খেয়ে বসে প্রথমার্ধের ৩৬ মিনিটের মাথায়। নেইমারের এক বুদ্ধিদীপ্ত পাস ধরে মাঝমাঠ থেকে স্প্রিন্টে মাদ্রিদের ডিফেন্ডারদের কাটিয়ে চমৎকার গোল করেন এমবাপ্পে। কেন তাকে এই মুহূর্তের অন্যতম সেরা ফুটবলার ধরা হয় তার প্রমাণ যেন এই গোল। মাদ্রিদ সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ এই ম্যাচের পর এমবাপ্পেকে আর যে কিছুতেই ছাড়তে চাইবেন না তা বলাই যায়। আরও পড়ুন:মাদ্রিদে আজ মেসি, বার্সা সমর্থকদের কি পুড়ছে হৃদয়? অবশ্য পিএসজি গোল পেতে পারতো আরো আগেই। ২১ মিনিটের সময় বল নিয়ে রিয়ালের ডি বক্সে ঢুকে পড়েছিলেন পিএসজির ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড নেইমার। দুই ডিফেন্ডারের ফাঁক গলে তিনি যে শটটি নিলেন তা অবশ্য সহজেই আটকে দেন রিয়াল মাদ্রিদের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। গোলের সুযোগ পেয়েছিলো রিয়াল মাদ্রিদও। ২৪ মিনিটে বেনজেমা যে শটটি নিয়েছিলেন তা যদি গোল হতো তবে এই মৌসুমেরই অন্যতম সেরা গোল হত সেটি। ডি বক্সের বাহির থেকে গোল লক্ষ্য করে বাঁকানো শট নিয়েছিলেন বেনজেমা। তাতে পিএসজি গোলরক্ষক দোনারুম্মা পরাজিত হলেও বল গোলপোস্ট ঘেঁষে চলে যায় মাঠের বাহিরে। খেলার ৩০ মিনিটে দেখা গেল মেসি - নেইমার যুগলবন্দী। বল পেয়ে ডি বক্সে ঢুকে পড়ে নেইমার বল বাড়ান অরক্ষিত মেসিকে।মেসিও বল নিয়ন্ত্রণে নেন। তার সামনে শুধুই গোলরক্ষক কোর্তোয়া।কিন্তু দুরূহ কোন থেকে নেওয়া মেসির শট গোলরক্ষক কোর্তোয়াকে পাশ কাটিয়ে গেলেও গোললাইন থেকে বল ক্লিয়ার করে রিয়ালকে বাচান নাচে হার্নান্দেজ। খেলার ৩৬ ও ৩৭ মিনিটে টানা দুইবার গোল বঞ্চিত হন বেনজেমা। ৩৬ মিনিটে বেনজেমার হেড অল্পের জন্য গোলপোস্টের বাহিরে চলে গেলেও, ৩৭ মিনিটে লাফিয়ে হেড ঠেকান পিএসজি গোলরক্ষক দোনারুম্মা। খেলার ৩৮ মিনিটে বের্নাব্যু স্তব্ধ করে দিয়ে এগিয়ে যায় পিএসজি। নেইমারের পাস থেকে গোল করেন এমবাপ্পে। আরও পড়ুন:নিজের মাঠে নির্ভার ম্যানসিটি, মিরাকলের আশায় লিসবন খেলায় ১-০ লিড নিয়ে বিরতিতে যায় পিএসজি। ততক্ষণে রিয়ালের জন্য কঠিন হয়ে গেছে সমীকরণ।দুই লেগ মিলিয়ে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়া মাদ্রিদকে পরের রাউন্ডে গেলে দিতে হবে ৩ গোল! তাদের হাতে সময় তখন দ্বিতীয়ার্ধের সেই ৪৫ মিনিট। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালাতে থাকে রিয়াল মাদ্রিদ। একের পর এক আক্রমণে নাস্তানাবুদ করতে থাকে পিএসজির রক্ষণভাগকে। পিএসজিও সুযোগ বুঝে আক্রমণে যায়। ৬১ মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায় রিয়াল মাদ্রিদ। মাঝমাঠ থেকে ভেরাত্তি ব্যাকপাস দেন গোলরক্ষক দোনারুম্মাকে। দোনারুম্মার ধীর নড়াচড়া সুযোগ করে দেয় সুযোগসন্ধানী বেনজেমাকে। প্রেসিং করে বল কেড়ে নেন বেনজেমা। বল বাড়ান তার আক্রমণের সঙ্গী ভিনিসিয়াসকে। ভিনিসিয়াসও নিঃস্বার্থভাবে ফিরতি পাস দেন বেনজেমাকে। ৬ গজি বক্সের ভিতর থেকে গোল করতে বেগ পেতে হয় নি মাদ্রিদের নাম্বার নাইনকে। গোলের পর পিএসজির খেলোয়াড়দের পক্ষ থেকে কিছুটা প্রতিবাদ এলো। বল কেড়ে নিতে নাকি দোনারুম্মাকে ফাউল করেছেন বিগবেঞ্জ। অবশ্য তাতে কাজ হলো না। উল্টা হলুদ কার্ড দেখলেন পিএসজি গোলরক্ষক। খেলায় সমতা এনে রিয়াল আরো মরিয়া আক্রমণ চালাতে থাকে। পিএসজির রক্ষণভাগ রিয়ালের আক্রমণে খেই হারিয়ে ফেলে।একের পর এক ভুল করতে থাকে পিএসজি ডিফেন্ডাররা। আরও পড়ুন:আরব ইতিহাস ঐতিহ্যের মিশেলে বিশ্বকাপের স্টেডিয়াম ৬৪ মিনিটে আবার গোলের সুযোগ পায় মাদ্রিদের দলটি। এবারো বেনজেমা। তার নেওয়া হেডটি অল্পের জন্য গোলপোস্ট ঘেঁষে চলে যায়। বেনজেমা এদিন সবটুকু আলো নিজের দিকে কেড়ে নিয়েছেন। রোনালদো যাওয়ার পর থেকে রিয়ালকে টানা বেনজেমা আছেন ফর্মের তুঙ্গে। এ মৌসুমে গোল করায় শীর্ষ পাঁচ লিগে তার চেয়ে এগিয়ে কেবল বায়ার্নের রবার্তো লেভানদোভস্কি।৩০ গোল বেনজেমার। ২৭ গোল নিয়ে বেনজেমার পরের স্থানে লিভারপুলের মোহামেদ সালাহ। ৭৬ মিনিটে উল্লাসে ভাসে মাদ্রিদ সমর্থকেরা। বেনজেমার দ্বিতীয় গোলে দুই লেগ মিলে সমতায় চলে আসে রিয়াল মাদ্রিদ। এই গোলের বড় ক্রেডিট অবশ্য রিয়ালের 'এলএম টেন' লুকা মদ্রিচের। এক বারের ব্যালন ডি'অর জয়ী মদ্রিচ বয়সকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বল নিয়ে যে দৌঁড়টি দিলেন আজ তা দেখে মুগ্ধ হতে বাধ্য তার চরম সমালোচকও। বিদ্যুৎ বেগে দৌঁড়ে মদ্রিচ বাম প্রান্তে বল পাস দেন ভিনিসিয়াসকে। তারপর আবার পিএসজির ডি বক্সের মাথায় এসে ভিনিসিয়াসের কাছ থেকে বল বুঝে নেন। ততক্ষণে জায়গায় পৌঁছে গেছেন বেনজেমা। অফসাইড ট্রাপ ভেঙে গোল করেন বেনজেমা। ম্যাচে এগিয়ে গিয়ে রিয়াল মাদ্রিদের খুব বেশি সময় লাগে নি জয় নিশ্চিত করতে। মাত্র ২ মিনিট পরেই আবার গোল করেন বেনজেমা। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউটে হ্যাটট্রিক নিশ্চিত করেন এই ফ্রেঞ্চম্যান। সবটুকু আলো কেড়ে নিয়ে আজকের ম্যাচের নায়ক হন তিনিই। আরও পড়ুন:পিএসজি মালিকের ২৮ মাস কারাদণ্ড, বিপাকে মেসিরা বেনজেমা ডি বক্সে ঢুকে কাটব্যাক করেন ভিনিসিয়াসের উদ্দেশ্যে। জটলার মাঝে বল পিএসজির ডিফেন্ডার মার্কুইনহোর পায়ে লেগে চলে যায় ফাঁকায় দাঁড়ানো বেনজেমার পায়ে। বলটা ঠেলে গোলে ঢুকিয়ে দিয়েই হ্যাটট্রিক সম্পন্ন করেন এই ফ্রেঞ্চম্যান।অ্যাগ্রিগেটে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় রিয়াল মাদ্রিদ। বের্নাব্যুতে তখন উল্লাসে কান পাতা দায়! ৯০ মিনিটে ফ্রি কিক পায় পিএসজি। রিয়াল মিডফিল্ডার কামাভিঙ্গা ফেলে দেন পিএসজির ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার নেইমারকে। পিএসজির হয়ে প্রথমবারের মত মাদ্রিদের মাঠে নামা মেসি ফ্রি কিকটি কাজে লাগাতে পারেননি। তার ফ্রি কিক গোলপোস্টের একটু উপর দিয়ে মাঠের বাহিরে চলে যায়। খেলায় অতিরিক্ত হিসেবে চার মিনিট সময় দেন রেফারি। তবে তাতে ফলাফলে কেন পরিবর্তন আসে নি। শেষ বাজি বাজান মাত্রই কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে ওঠে সান্তিয়াগো বের্নাব্যু। মেসি-নেইমার-এমবাপ্পেদের মুখে তখন রাজ্যের অন্ধকার। দিনের অন্য ম্যাচটিতে গোলশূণ্য ড্র হয়েছে। ম্যানচেস্টার সিটির মাঠ ইত্তেহাদ স্টেডিয়ামে স্বাগতিকদের বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্র করেছে স্পোর্টিং লিসবন। তাতে প্রথম লেগের ৫-০ অ্যাগ্রিগেটে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেছে ইংলিশ লিগের চ্যাম্পিয়ন দলটি।






«
Next
Newer Post
»
Previous
Older Post

No comments:

Leave a Reply