Sponsor



Slider

বিশ্ব

জাতীয়

রাজনীতি


খেলাধুলা

বিনোদন

ফিচার


যাবতীয় খবর

জিওগ্রাফিক্যাল

ফেসবুকে মুজিবনগর খবর

» » » » রাশিয়ার পক্ষ নেওয়ায় ইমরানকে সরাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র?




পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান গত সপ্তাহে একটি জনসভায় পশ্চিমা নেতাদের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক কথা বলেছিলেন। পাঞ্জাবের সেই জনসভায় ইমরান খান বলেছিলেন, পশ্চিমারা পাকিস্তানকে তাদের ‘গোলাম’ বানিয়ে রেখেছিল। তারা ধরে নিয়েছে, তারা যা বলবে আমরা তাই করব। কিছুদিন আগে পাকিস্তানের পার্লামেন্টে ইমরানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনে শতাধিক বিরোধী সদস্য। ইমরানকে ক্ষমতাচ্যুত করতে বিরোধীদের করা সেই ছক সফলভাবে পার্লামেন্টে পাস হয়েছে। আগামী ২৫ মার্চ (শুক্রবার) অনাস্থা ভোট অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রীর বিরোধীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ‘খানবিরোধী’ জোটে শামিল হয়েছেন। এই মুহূর্তে নিজেদের ভেদাভেদও ভুলে গেছেন তারা। ইমরানের বিরুদ্ধে তারা খারাপ শাসন, অর্থনীতি অক্ষমতা ও সেনা সংস্থার সমর্থন হারিয়েছেন। ইমরান এখন তার রাজনৈতিক জীবনের লড়াইয়ে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। এজন্য তিনি এখন নতুন কৌশলও গ্রহণ করেছেন। সেটি হলো, তিনি পশ্চিমাদের আঘাত করেই যাবেন। তার আশা, তিনি এ লড়াইয়ে জয়ী হবেন। সেক্ষেত্রে তার দলের ভাবমূর্তি কমলেও কমতে পারে। সম্প্রতি তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ২২ দেশের কূটনীতিকদের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছেন। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ইউক্রেনে হামলার জেরে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিন্দা জানানো থেকে বিরত থেকেছেন। ইমরান বর্তমানে রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ার দিকেই মন দিচ্ছে। এতে নিঃসন্দেহে পশ্চিমাদের অবমাননা করা হয়েছে। রাশিয়া যেদিন (২৪ ফেব্রুয়ারি) ইউক্রেনে অভিযান শুরু করে সেদিন মস্কো গিয়ে ইমরান খান বলেন, ‘এটি খুব উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্ত।’ অভিযানের ঘটনায় তিনি সামান্য উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। আরও পড়ুন: পাকিস্তানিরা ইমরান খানকে চান কি না এসব ঘটনার কারণে ইমরান খানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও মন্ত্রীরা বলছেন, পশ্চিমা শক্তির ষড়যন্ত্র হিসেবে ইমরানের বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোট আনা হয়েছে। ইউক্রেন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা ও ন্যাটোকে সমর্থন না জানানোর কারণেই তার পতনের ডাক দেওয়া হয়েছে। এতে শামিল হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্সি এজেন্সিও (সিআইএ)। এ সপ্তাহে পাকিস্তানের মানবাধিকার মন্ত্রী শিরিন মাজারি বিরোধীদের অভিযুক্ত করে এক টুইট বার্তায় জানিয়েছিলেন, ধ্বংসাত্মক এই খেলার পেছনে বহিঃশক্তি রয়েছে। পরে অবশ্য তিনি টুইটটি সরিয়ে ফেলেন। গত সোমবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশি সংবাদ সম্মেলনে জানান, তিনি গোয়েন্দা তথ্য থেকে জানতে পেরেছেন, পশ্চিমা শক্তির মদদে ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোটের মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এরচেয়ে আমার কাছে বেশি তথ্য আছে। প্রধানমন্ত্রীর সংকেত পেলেই আমি সেসব তথ্য প্রকাশ করব। এশিয়া প্রোগ্রামের উপ-পরিচালক ও উইলসন সেন্টারের দক্ষিণ এশিয়ার জ্যেষ্ঠ সহযোগী মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, পশ্চিমা বিরোধিতার কারণে ইমরানের জন্য ‘ইতিবাচক রাজনৈতিক বোধ’ তৈরি হয়েছে। এতে তার সমর্থন আরও বেশি জোরদার হবে। যারা পশ্চিমাদের বিশ্বাস করে না; বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র তাদেরকে পাশে পাবেন ইমরান। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পাকিস্তানিদের চরম মূল্য দিতে হয়েছিল। কুগেলম্যান বলেন, ইমরান যদি ক্ষমতা হারান তাহলে তিনি পশ্চিমাদের দোষারোপ করতে পারবেন। তিনি জনগণকে দেখাতে পারেন, তার বিরুদ্ধে বাইরের শক্তি কাজ করছে। আর যদি অনাস্থা ভোটে ঠিকে যান তাহলে তিনি বোঝাতে পারেন, তিনি পশ্চিমাচেষ্টাকে ব্যর্থ করেছেন। সেক্ষেত্রে তার দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পথ পাকাপোক্ত হবে। আরও পড়ুন: মহাবিপদে ইমরান খান, ছেড়ে যাচ্ছেন শরিকেরা পশ্চিমাবিরোধী অবস্থান- ইমরানের টিকে থাকার জন্য সত্যিই হুমকি। যদি তিনি অনাস্থা ভোটে টিকে যান তাহলে তিনিই হবেন পাকিস্তানের কোনো প্রধানমন্ত্রী যিনি তার পূর্ণ মেয়াদে ক্ষমতায় টিকে থাকতে পেরেছেন। তবে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী দেশটির সরকারের মতো অনেক ক্ষমতা রাখে। ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রীর গদিতে আসা ইমরানের পেছনে দেশটির সেনাদের জড়িত থাকার কথা শোনা যায়। কিন্তু দেশটির সামরিক বাহিনী সেই দায় বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন। সম্প্রতি ইমরান খান ও সামরিক বাহিনীর দৃশ্যমান দূরত্ব দেখা দিয়েছে। মনে করা হচ্ছে, তিনি আর সামরিক বাহিনীর সমর্থন নিয়ে অনাস্থা ভোটে কোনো সুবিধা পাবেন না। পার্লামেন্টে ইমরানের দল সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও বিরোধীদের দাবি, তার দলের অন্তত ২০ জন সদস্য অনাস্থা ভোট দেবেন। যদি সরকার দলের ২০ সদস্য ইমরানের বিরুদ্ধে সত্যিই অবস্থান নেন তাহলে ইমরানের পতন নিশ্চিত। এমনকী ইমরানের মিত্ররাও বলছেন, তার পরাজয় ঘটবে। ইমরানের পরাজয় নাকি জয় তা জানতে হলে আগামী ২৫ মার্চ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।






«
Next
Newer Post
»
Previous
Older Post

No comments:

Leave a Reply