Sponsor



Slider

বিশ্ব

জাতীয়

রাজনীতি


খেলাধুলা

বিনোদন

ফিচার


যাবতীয় খবর

জিওগ্রাফিক্যাল

ফেসবুকে মুজিবনগর খবর

» » » » » আমিরাতে কেমন হবে মোহাম্মদ বিন জায়েদের নেতৃত্ব?




আমিরাতে কেমন হবে মোহাম্মদ বিন জায়েদের নেতৃত্ব? আবুধাবির শাসক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) প্রেসিডেন্ট শেখ খলিফা বিন জায়েদ আল-নাহিয়ান মারা গেছেন। ৭৩ বছর বয়সে শুক্রবার তিনি পরলোকগমন করেন। এরপর দেশটির প্রেসিডেন্ট হয়েছেন তার ভাই মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল-নাহিয়ান। পশ্চিমা বিশ্বে এমবিজেড নামে পরিচিত নতুন শাসকের অধীন পারস্য উপসাগরীয় দেশটি কীভাবে চলবে, বিশ্লেষকেরা সেই ব্যাখ্যা দেওয়ারই চেষ্টা করেছেন। ১৯৪৮ সালে জন্ম নেওয়া শেখ খলিফা আবুধাবির প্রধানমন্ত্রী হন ১৯৬৯ সালে। তার দুবছর আগে ১৯৭১ সালে ব্রিটিশদের কাছ থেকে স্বাধীনতা পায় সংযুক্ত আরব আমিরাত। তার বাবা ও আমিরাতের প্রতিষ্ঠাতা শেখ জায়েদ বিন সুলতান আল-নাহিয়ান দেশটির প্রথম প্রেসিডেন্ট।

২০০৪ সালের নভেম্বরে বাবার উত্তরসূরি হিসেবে আমিরাতের দ্বিতীয় প্রেসিডেন্ট হন শেখ খলিফা। সংযুক্ত আরব আমিরাতের সবচেয়ে বড় ও ধনী আমিরাত আবুধাাবির শাসক হিসেবে উত্তরাধিকার সূত্রে তিনিই উপসাগরীয় দেশটির প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তার মৃত্যুর পর দেশটিতে চল্লিশ দিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারাও শোক ও সমাবেদনা জানাচ্ছেন। শেখ খলিফাকে একজন সত্যিকারের অংশীদার ও বন্ধু আখ্যা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এ সময়ে দুই সরকার ও জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে আরও জোরদার করার অঙ্গীকার করেন তিনি। আর রাশিয়ার সঙ্গে আমিরাতের আরও গঠনমূলক সহযোগিতা ও সম্পর্ক জোরদার করতে শেখ খলিফার কৃতিত্ব স্বীকার করেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। পারস্য উপসাগর থেকে শুরু করে ওমান উপসাগর পর্যন্ত সাতটি আধা-স্বায়ত্তশাসিত আমিরাত মিলে সংযুক্ত আরব আমিরাত। প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেশটির সর্বাধিক ক্ষমতা ছিল তার হাতেই। আমিরাতের অধিকাংশ অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত ও সামাজিক উন্নয়ন ঘটেছে শেখ খলিফার অধীনে। অনেক ক্ষেত্রে পুরো কৃতিত্বই দেওয়া হচ্ছে তাকে। তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস নির্ভর অর্থনীতিটি তার নেতৃত্বে তড়িৎ গতিতে সমৃদ্ধি অর্জন করে। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গণে প্রভাব বিস্তারেও তার ভূমিকা মেনে নিতে হবে। প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার অল্প সময় পরেই ইত্তিহাদ এয়ারওয়েজ প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দেন তিনি। ২০০৮ থেকে ২০০৯ সালে বৈশ্বিক মন্দার সঙ্গে দুবাইয়ের অর্থনীতিও পড়তে শুরু করেছিল। কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে দুবাইকে কোটি কোটি ডলার তহবিল দিয়ে বিরূপ পরিস্থিতি থেকে উঠে আসতে সহায়তা করেন। ফলশ্রুতিতে ২০১০ সালের জানুয়ারিতে দুবাই টাওয়ারের নাম বুর্জ দুবাই থেকে বদলে বুর্জ খলিফা করা হয়েছে। এমোরি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেলো কোর্টনি ফ্রিয়ারের মতে, রাজস্ব নীতি ও আবুধাবিকে একটি টেকসই আমিরাতের জায়গায় নিয়ে যেতে তার ভূমিকা অনস্বীকার্য। এছাড়া বিভিন্ন আমিরাতের মধ্যে যাতে ফেডারেল সিস্টেম বা কেন্দ্রীয় শাসন ব্যবস্থা সক্রিয় থাকে, তাও তাকে নিশ্চিত করতে হয়েছে। এই গবেষক বলেন, সম্পদ, জনসংখ্যা ও আয়তনে সব আমিরাত এক না। মন্দার সময় দুবাইকে আর্থিক সংকট থেকে উতরে দেন তিনি। এতে দেশটির ঐক্য সরকার ব্যবস্থার প্রতি তার অঙ্গীকারের প্রতিফলন ঘটেছে। ক্ষমতাকে কেন্দ্রীভূত করা ২০১৪ সালে শেখ খলিফার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হলে দেশের হাল ধরেন মোহাম্মদ বিন জায়েদ। তারও দশকখানেক আগেই তিনি সিংহাসনের (ক্রাউন প্রিন্স) উত্তরসূরি হন। স্ট্রোক করার পর থেকে শেখ খলিফাকে জনসমক্ষে খুব একটা দেখা যায়নি। অসুস্থ হয়ে পড়লেও তিনি ডিক্রি জারি অব্যাহত রাখেন। শনিবার (১৪ মে) আবুধাবির শাসক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট হলেন এমবিজেড। যদিও ২০১৪ সাল থেকে তিনি মূলত দেশটির কার্যত শাসকের ভূমিকা রাখেন। তার শাসনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন আসবে বলে মনে করা হচ্ছে না। তবে শেখ খলিফার পরলোকগমনে আনুষ্ঠানিক প্রজন্মগত পরিবর্তন ঘটবে। এমবিজেডের কর্তৃত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে যা শুরু হয়েছে। ক্রাউন প্রিন্স হওয়ার আগে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান ছিলেন মোহাম্মদ বিন জায়েদ। তিনি যে দেশটির শাসক হবেন, সেই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল তখনই। আরও পড়ুন: সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মারা গেছেন কোর্টনি ফ্রিয়ার বলেন, জল্পনা-কল্পনা চলছে যে রাজনৈতিক ক্ষমতা ক্রমাগত কেন্দ্রীভূত করতে যাচ্ছে আবুধাবি। এই প্রবণতা যে চলছে, যা ২০১৪ সালেই আমি বলেছিলাম। বনি ফাতিমার অধীন ক্ষমতা আরও কেন্দ্রীভূত হতে যাচ্ছে। অর্থাৎ ফেডারেল ব্যবস্থায় ক্ষমতাকে আরও বিকেন্দ্রীকরণ না-করে এককেন্দ্রিক করে ফেলবে আবুধাবি। শেখ জায়েদের তৃতীয় স্ত্রী ফাতিমা বিনতে মুবারক আল-কাতিবির ছয় সন্তান। তাদেরকে বনি ফাতিমা বলে ডাকা হয়। ছয়জনের মধ্যে প্রথম মোহাম্মদ বিন জায়েদ। আবুধাবির ফার্স্ট লেডি হিসেবে পরিচিত ফাতিমার এই সন্তানকে শৈশব থেকেই শাসন ক্ষমতা পরিচালনার উপযোগী করে গড়ে তোলা হয়েছে। আবুধাবির ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করা হচ্ছে বলে মনে করেন কিংস কলেজ লন্ডনের স্কুল অব সিকিউরিটি স্টাডিজের সহযোগী অধ্যাপক অ্যান্দ্রিয়াস ক্রিইগ। তিনি বলেন, এমবিজেড এখন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্ট হয়েছেন। এটি খুবই পরিষ্কার যে আমিরাতের বাদশাহ পরিবার হতে যাচ্ছে আল-নাহিয়ান। এতে আবুধাবির ক্ষমতা আরও একীভূত হবে। অর্থাৎ প্রভাবশালী এই আমিরাতটি এখন ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু হতে যাচ্ছে। এতে ফেডারেল ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। পঞ্চাশ বছর আগের তুলনায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের কেন্দ্রীয় শাসন ব্যবস্থা আরও নাজুক হয়ে যেতে পারে। ভবিষ্যতে এমবিজেডের স্থলাভিষিক্ত কে হবেন, তাও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে থাকছে। সবার জিজ্ঞাসা—আমিরাতের সিংহাসনের পরবর্তী উত্তরসূরি হবেন কে? মূল কথা, আবুধাবিতে কী পরিমাণ ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হতে যাচ্ছে, নতুন ক্রাউন প্রিন্স নিয়োগ দেওয়ার পরেই তা জানা যাবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখন পর্যন্ত সম্ভাব্য দুজন প্রতিদ্বন্দ্বী পাওয়া গেছে। একজন আবুধাবির নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও আবুধাবি নির্বাহী অফিসের প্রধান শেখ খালিদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল-নাহিয়ান। তার পদের অধীন দেশের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দাসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা রয়েছে। দ্বিতীয়জন হলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা তাহনাউন বিন জায়েদ আল-নাহিয়ান। সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ তার অধীন। তারা দুজনেই বেশ প্রভাবশালী। সংযুক্ত আরব আমিরাতের উল্লেখযোগ্য নেটওয়ার্কগুলোতে অবাধ প্রবেশ আছে তাদের। নেতৃত্ব পেতে বছরখানেকেরও বেশি সময় ধরে দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে অভ্যন্তরীণ লড়াই চলছে। যদিও বিষয়টি এতোটা প্রকাশ্যে আসছে না। আন্দ্রিয়াস ক্রিইগ বলেন, ক্রাউন প্রিন্স হওয়ার প্রক্রিয়ায় অনেক বেশি সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছেন তাহনাউন। তার সম্ভাবনাও বেশি। আবুধাবিতে তার নেটওয়ার্ক ও ক্ষমতা বিবেচনায় নিলে তাকে এগিয়ে রাখা যায়। তিনি আরও জানান, এখন প্রশ্ন হচ্ছে এমবিজেড কতদিন দেশ শাসন করবেন: দুই দশক হতে পারে। সেই সময়ে তাহনাউনের বয়সও অনেক বেড়ে যাবে। এতে পরবর্তী ক্রাউন প্রিন্স হিসেবে বিশেষভাবে খালিদকে গড়ে তোলা হতে পারে। কারণ তাহনাউনের চেয়ে তিনি বছর দশেক ছোট। এতে আগামী ২০ বছর পর আমিরাতের প্রেসিডেন্ট ও আবুধাবির শাসক হিসেবে যথাযথভাবেই দায়িত্ব নেতে পারবেন খালিদ। স্থিতিশীলতায় অগ্রাধিকার সিংহাসনের উত্তরসূরি কে হচ্ছেন, তড়িঘড়ি করে তার নাম ঘোষণা করতে যাচ্ছে না আমিরাত। ক্ষমতাগ্রহণ প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই মুহূর্তে ক্রাউন প্রিন্সের নাম ঘোষণা অপ্রয়োজনীয়। আবুধাবি নেতৃবৃন্দের জন্য এখন সবচেয়ে বেশি দরকার স্থিতিশীলতা ও সংহতি বজায় রাখা। প্রশ্ন হলো, শেখ খলিফার মৃত্যুর পর কীভাবে আবুধাবি, দুবাই ও অন্য পাঁচটি আমিরাত পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত থাকবে। নতুন প্রেসিডেন্ট যদি সংযুক্ত আরব আমিরাতকে একটি একক রাষ্ট্রে পরিণত করতে চান, তখন সেটা কীভাবে চলবে? এখন পর্যন্ত আমিরাত একটি সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে নিজের অস্তিত্বকে টিকিয়ে রেখেছে। মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশগুলোর একটি আমিরাত। অতীতে দেশটিকে অনেক বড় বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে। এমবিজেডের প্রেসিডেন্ট হওয়ার মধ্য দিয়ে যে বিষয়টি সবার সামনে চলে আসবে, তা হলো, কীভাবে এই ইউনিয়ন ক্ষমতার চর্চা করবে? অর্থাৎ সংযুক্ত আরব আমিরাত যদি একটি ইউনিয়ন রাষ্ট্র হয়ে যাবে, তাহলে কীভাবে দেশটির শাসন ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে? বিশ্লেষকেরা বলেন, শেখ খলিফার ইন্তেকালের মধ্য দিয়ে প্রথম প্রজন্মের নেতৃত্ব শেষ হয়েছে। এখন নতুন প্রজন্মের নতুন অঙ্গীকার। যদি সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ব্যক্তিশাসিত একটি নেটওয়ার্ক হিসেবে দেখা হয়, তবে তাতে ইউনিয়ন কিংবা একক রাষ্ট্র হওয়ার ঘটনা খুব একটা এগোবে না। আগের মতোই সাত আমিরাতের একটি নেটওয়ার্ক হিসেবে থেকে যাবে।






«
Next
Newer Post
»
Previous
Older Post

No comments:

Leave a Reply