Sponsor



Slider

বিশ্ব

জাতীয়

রাজনীতি


খেলাধুলা

বিনোদন

ফিচার


যাবতীয় খবর

জিওগ্রাফিক্যাল

ফেসবুকে মুজিবনগর খবর

» » » কৃষি অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে পদ্মা সেতু




স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধন হতে যাচ্ছে আগামী ২৫ জুন। এ নিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের মধ্যে সমানে বয়ে যাচ্ছে আবেগ, উচ্ছ্বাস, উত্তেজনার ঢেউ। যারা যুগের পর যুগ ধরে এই একটি সেতুর অভাবে সীমাহীন দূর্ভোগের শিকার হয়েছেন, তারা আজ আত্মপ্রত্যয়ী। অনান্য শ্রেণী-পেশার মতো কৃষক ও কৃষি পণ্যেও ব্যবসায়ীরা উচ্ছ্বসিত। কৃষি নির্ভর জেলাগুলোর কৃষিতে ‘‘পদ্মা সেতু’’র ব্যাপক প্রভাব পড়বে, তারা মনে করছেন কৃষি অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। ‘পদ্মা সেতু’ এখন এ অঞ্চলের মানুষের প্রধান আলোচ্য। আবাল, বৃদ্ধ, বণিতার এখন আলোচনা একটাই। হাটে-বাজারে, পাড়ায়, মহল্লায়, মাঠে-ঘাটে, পথে-প্রান্তরে, স্কুলে, কলেজে, অফিস-আদালত থেকে শুরু করে, গ্রামীণ সড়কের পাশের চায়ের দোকানেও সকল আলোচনাকে ছাপিয়ে প্রাধান্য পাচ্ছে এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘ স্বপ্নের পদ্মা সেতু। অনেক ষড়যন্ত্র আর প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে এ সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে লাখ-লাখ মানুষ ধন্যবাদ জানাচ্ছেন। অনেকেই চিন্তা করছেন- ভোরে রওনা দিয়ে অফিস আদালতের কাজ সেরে বাড়ি এসে রাতের খাবার খাওয়া যাবে এ সেতুর ফল হিসেবে। অফিস আদালতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরতরা ভোরে বাসে চেপে রাজধানীতে ঠিক সময়ে পৌঁছে যাবেন। অনুরূপ কৃষিপণ্য সঠিক বাজার পাবে। এ অঞ্চলের অনেক জেলার মানুষ প্রধানত কৃষি নির্ভর। ধান, মাছ ও বিভিন্ন জাতের সবজি চাষ এ অঞ্চলের মানুষের অর্থনীতির প্রধান উৎস। এ অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে নারিকেল ও সুপারি জন্মে। সুন্দরবন উপকূলের কিছু মানুষ মধু ও গোলপাতা সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করে। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বাগেরহাট জেলায় কৃষক পরিবারের সংখ্যা ২ লাখ ৪৪ হাজার ৩২৮টি। এ জেলায় চলতি অর্থ বছরে ২ লাখ ৮৭ হাজার ৪০০ টন সবজি উৎপাদিত হয়। যার সিংহ ভাগই ঢাকার বাজারে যায়। এ জেলার উৎপাদিত শাক-সবজি, মাছ, মুরগী, দুধ, ডিম এখন সরাসরি রাজধানী ঢাকাসহ দেশের শেষ প্রান্তে পৌঁছে যাবে মাত্র কয়েক ঘন্টার মধ্যে। দ্রুত পঁচনশীল পণ্যও এখন আর পঁচবে না। ১৫ টাকার লাউ ৩ টাকায় বেঁচতে হবে না কৃষকদের। চাষিরা এবার ন্যায্য মূল্য পাবেন। আসলে ‘পদ্মা সেতু’ আমাদের কৃষকের স্বচ্ছলতার প্রতীক। এ জেলা সাদা সোনা খ্যাত চিংড়ি চাষের জন্য বিখ্যাত। এই বাগদা চিংড়ির বিদেশ ছাড়াও দেশের বাজারে বাজারজাত করতে সহজ হবে বলে মনে করেন মৎস্য ব্যবসায়ীরা। মৎস্য বিভাগের তথ্য মতে, এখানে বাগদা ও গলদা মিলিয়ে প্রায় ৫০ হাজার চিংড়ি ঘের রয়েছে। বছরে কমপক্ষে ৪০ হাজার টন চিংড়ি ও ৬০ হাজার টন রুই, কাতলা, পাতারি, তেলাপিয়া, পুঁটি, ট্যাংড়া, পাঁচশে, শৈল, মাগুর,পাংগাশ, কই, শিংসহ বিভিন্ন প্রজাতির সাদা মাছ উৎপাদিত হয়। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মিলিয়ে বাগেরহাটের ৫ লক্ষাধিক মানুষ মৎস্য শিল্পের সঙ্গে জড়িত। ঘের মালিকরা জানান, সারাদেশে এ অঞ্চলের মাছের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সরাসরি ঢাকার বাজারে এই মাছ নিয়ে বিক্রি করতে পারেন না তারা। মাছ পাঠালে ফেরি ঘাটেই পঁচে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। পদ্মা সেতু চালু হলে তারা সরাসরি ঢাকায় মাছ বিক্রি করতে পারবে। এতে বেশি দামে মাছ বিক্রি করে পরিবহন খরচ বাদেও বছরে আরও অতিরিক্ত আয় করতে পারবে তারা। পদ্মা সেতু চালু হলে দ্রুত ও সহজে রাজধানীসহ সমগ্র বাংলাদেশে যাতায়াত করা যাবে। ফলে ফড়িয়া ও ব্যাপারী বা মধ্যসত্ত্বভোগীদের হাতে বন্দিদশা থেকে চাষিরা রেহাই পাবেন। বাজার ব্যবস্থা প্রসারিত হওয়ায় “আমার পণ্য, আমি বেচবো, যাচাই বাছাই করে বেচবো” এ সুযোগ চাষিদের জন্য উন্মুক্ত হবে। আক্ষরিক অর্থে দ্রুত এবং সহজে পণ্য পরিবহনের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় সকল শ্রেণীর কৃষক ও ব্যবসায়ীরা লাভবান হবেন। পদ্মা সেতু বাগেরহাটের, তথা দক্ষিণাঞ্চলের বিনিয়োগ ব্যবস্থার দ্বার খুলে দিয়েছে। সৃষ্টি হচ্ছে কর্মসংস্থান। পদ্মা সেতুকে ঘিরে এ অঞ্চলের মৎস্য, কৃষি, পর্যটন, অকাঠামোসহ সব খাতের প্রসার ঘটবে। এ সেতুকে ঘিরে এ অঞ্চলে মৎস্য চাষ বৃদ্ধি, মৎস্য ও কৃষিনির্ভর শিল্প স্থাপনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে একটি বিশাল জনগোষ্ঠী তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে পারবে বলে মনে করেন অনেকেই






«
Next
Newer Post
»
Previous
Older Post

No comments:

Leave a Reply