Sponsor



Slider

বিশ্ব

জাতীয়

রাজনীতি


খেলাধুলা

বিনোদন

ফিচার


যাবতীয় খবর

জিওগ্রাফিক্যাল

ফেসবুকে মুজিবনগর খবর

» » » » ভারতে সেনা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন, তুমুল বিক্ষোভ




ভারতে সেনা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন, তুমুল বিক্ষোভ

ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে তুমুল বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুন) টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন সেনাবাহিনীতে যোগদানেচ্ছু তরুণরা। সহিংস বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় বিহার রাজ্যে। রাজ্যের বহু স্থানে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করা হয়েছে। একটি স্থানে রেলের একটি বগিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পুলিশের বরাত দিয়ে এ খবর দিয়েছে এনডিটিভি। ভারতের সেনাবাহিনীর বর্তমান সদস্য সংখ্যা ১৩ লাখ ৮০ হাজার। করোনা মহামারির কারণে ভারতে সেনাবাহিনীর নিয়োগ অনেক দিন ধরেই বন্ধ রয়েছে। প্রায় দুই বছর পর গত মঙ্গলবার (১৪ জুন) নতুন করে সেনা নিয়োগের ঘোষণা দেয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার। তবে নিয়োগ প্রক্রিয়া বা নীতিমালায় বেশ পরিবর্তন আনা হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন মতে, এদিন সেনাবাহিনীতে জনবল নিয়োগ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। এরপর সেনাবাহিনীর উপপ্রধান বিএস রাজু জানান, প্রথম পর্যায়ে সারা দেশ থেকে ৪০ হাজার তরুণকে নিয়োগ দেওয়া হবে। আরও পড়ুন: এখনো রাষ্ট্রপতি প্রার্থী চূড়ান্ত করেনি ভারতের বিরোধী দলগুলো এরপর তাদের ৬ মাসের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। প্রাথমিক প্রশিক্ষণের পর তারা সাড়ে তিন বছর কাজ করবে। ৪ বছর পর তাদের মধ্য থেকে যাদেরকে বাহিনীর জন্য যোগ্য ও উপযুক্ত মনে করা হবে, শুধু তাদের আবারও প্রশিক্ষণ দেয়া হবে ও স্থায়ীভাবে নিয়োগ করা হবে। সেনা নিয়োগের নতুন এ প্রক্রিয়াকে বলা হচ্ছে ‘অগ্নিপথ প্রকল্প’। এ প্রক্রিয়ায় সেনাবাহিনীর সদস্যদের গড় বয়স কমিয়ে আনা হয়েছে। কমিয়ে আনা হয়েছে পেনশন ও অন্যান্য খরচও। প্রকল্পের আওতায় সাড়ে ১৭ থেকে ২১ বছরের তরুণ-তরুণীরা চার বছরের জন্য মাসিক ৩০-৪৫ হাজার টাকার চুক্তিতে সশস্ত্র বাহিনীর তিন শাখায় (স্থল, নৌ এবং বায়ুসেনা) যোগ দিতে পারবেন। তাদেরকে বলা হবে ‘অগ্নিবীর’। সেনাবাহিনীতে শূন্যপদ ও যোগ্যতার ভিত্তিতে চতুর্থ বছরের শেষে নির্দিষ্ট ওই ব্যাচের সর্বাধিক ২৫ শতাংশ ‘অগ্নিবীর’কে পূর্ণ সেনা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। বাকিদের ১১ থেকে ১২ লাখ রুপি হাতে দিয়ে অবসরে পাঠানো হবে। এদেন জন্য কোনো পেনশন সুবিধা থাকবে না। সেনাবাহিনীতে প্রচলিত বেতন ও পেনশনের খরচ কমানো ও সাশ্রয় হওয়া অর্থ দিয়ে অত্যাধুনিক অস্ত্র কেনাই নতুন নিয়োগ পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এর আগে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীতে আলাদাভাবে সদস্য নিয়োগ করা হতো। পুরনো প্রক্রিয়ায় ১৬ বছর ৬ মাস থেকে ২১ বছর বয়সী তরুণেরা সর্বোচ্চ ১৫ বছরের জন্য নিয়োগ পেতেন। চাকরীর মেয়াদ শেষে অবসর নেওয়ার পর তারা পেনশনও পেতেন। আরও পড়ুন: নূপুর শর্মা বিতর্কের মধ্যেই ১ লাখ ৯২ হাজার কেজি গোবর কুয়েতে! সেনাবাহিনীতে সরাসরি নিয়োগের পথ থেকে সরে এসে এ ধরনের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আপত্তি তুলেছেন অনেকেই। তবে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, অগ্নিপথ প্রকল্পের মাধ্যমে যোগ্য ব্যক্তিরাই সেনাবাহিনীতে কাজ করার সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে এটি অনেক হিসেবেই সাশ্রয়ী। কিন্তু এ পদ্ধতিটিকে জটিল আখ্যা দিয়ে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন নিয়োগপ্রার্থীরা। নতুন নীতিমালা ঘোষণার পরদিনই বিক্ষোভ-প্রতিবাদ শুরু হয় পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য বিহারে। রাজ্যের পুলিশের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেছেন, রাজ্যের গয়া, পাটনা, মুজাফফপুরসহপ্রায় এক ডজন স্থানে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ হয়েছে। বিক্ষোভের দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবার বক্সার, নওয়াদা, ছপরা, বেগুসরাই, আরা, মুঙ্গের ও জেহানাবাদের মতো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ। বিক্ষোভ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে স্লোগান উঠেছে। এদিন রেলের পাশাপাশি অবরোধ করা হয়েছে জাতীয় সড়ক। টায়ার জ্বালানো, পাথর ছোড়া, গাড়ি ও ট্রেন ভাঙচুরের মতো ঘটনাও ঘটেছে। ছপরায় ট্রেনেও আগুন ধরানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার সরকারের পুলিশ বাধা দিতে গেলে বাধে সংঘর্ষ। লাঠি ও কাঁদানে গ্যাসে কয়েক জন বিক্ষোভকারীর আহত হয়েছে। আরও পড়ুন: প্রথমবার ভারতে বেসরকারি ট্রেন চলছে বৃহস্পতিবার বিহারের জেহানাবাদ জেলায় বিক্ষোভ করছিলেন কয়েকশ তরুণ। তাদের মধ্যে এক যুবকের প্রশ্ন, মাত্র চার বছর চাকরি করার পর আমরা কোথায় যাবো? চার বছর চাকরি করার পর আমরা তো গৃহহীন হয়ে পড়ব। এজন্যই আমরা রাস্তায় নেমেছি। সেনা নিয়োগের নতুন নীতিমালার সমালোচনা করেছেন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসহ বেশ কিছু মহল। এর যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সমালোচকরা বলছেন, মাত্র ৪ বছরের মেয়াদ সেনাদের মনোবলকে বিঘ্নিত করবে এবং তারা কম ঝুঁকি নেবেন। অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল বিএস ধানোয়া এক টুইটার বার্তায় সুপারিশ করেছেন, নতুন নিয়োগ নীতিমালার বিপরীতে আমার ২টি সুপারিশ আছে। প্রথমত, নতুন সেনাদের মেয়াদ কমপক্ষে ৭ বছরে উন্নীত করা হোক। দ্বিতীয়ত, কমপক্ষে ৫০ শতাংশ সেনাকে তাদের চাকরির মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ দেয়া হোক।






«
Next
Newer Post
»
Previous
Older Post

No comments:

Leave a Reply