বেলুন নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে ‘পরিণতি’ ভোগ করবে যুক্তরাষ্ট্র: চীন
যুক্তরাষ্ট্রের ভূপাতিত করা চীনা বেলুন ঘিরে বিরোধ আরও বাড়াবাড়ি পর্যায়ে নিয়ে গেলে এর সব পরিণতি দেশটিকে ভোগ করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে চীন।
৪ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের আকাশসীমায় চীনা গোয়েন্দা বেলুন ভূপাতিত করে ওয়াশিংটন। ছবি: সংগৃহীত
রোববার (১৯ ফেব্রুয়ারি) চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ঘটনাটির সুযোগ নেয়ার পেছনে লেগে থাকলে বেইজিংও ব্যবস্থা নিতে পিছপা হবে না।
গত ৪ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের আকাশসীমায় চীনা গোয়েন্দা বেলুন ভূপাতিত করে ওয়াশিংটন। এটি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় নজরদারি করছিল বলে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে সন্দেহ করা হলেও বেইজিংয়ের দাবি, বেলুনটি তারা বেসামরিক কাজে ব্যবহার করছিল। দুর্ঘটনাক্রমে যুক্তরাষ্ট্রে চলে গেছে।
আরও পড়ুন: রাশিয়াকে মারণাস্ত্র সহায়তা দিতে পারে চীন: ওয়াশিংটন
শনিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) জার্মানির মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনের সঙ্গে চীনা শীর্ষ কূটনীতিবিদ ওয়াং ই’র বৈঠকের পর চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিবৃতি দিয়েছে।
এদিকে সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন রাশিয়াকে মারণাস্ত্র সহায়তা দিতে পারে বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র। পশ্চিমা বিশ্বের কাছে যাতে ধরা না পড়ে, সেজন্য যত দ্রুত সম্ভব চীন এ কাজটি করতে চায় বলে সতর্ক করেছে ওয়াশিংটন। সংশ্লিষ্ট মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা চীনের ‘বিরক্তিকর’ আচরণে এমন লক্ষণ দেখতে পেয়েছেন।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন এ বিষয়ে চীনা শীর্ষ কূটনীতিবিদ ওয়াং ই’র সঙ্গে আলোচনা করেছেন। জার্মানির মিউনিখ শহরে চলমান মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনের পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় এক বৈঠকেও তারা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন।
আরও পড়ুন: পরমাণু অস্ত্রে রাশিয়াকেও ছাড়াবে চীন, আতঙ্কে যুক্তরাষ্ট্র
এছাড়া মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসও মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে দেয়া ভাষণে মিত্র দেশগুলোকে চীনের পক্ষ থেকে রাশিয়াকে সহায়তা দেয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমরা উদ্বিগ্ন যে, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বেইজিং মস্কোর সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করেছে।’
কমলা হ্যারিস বলেছেন, ‘আগামীর দিকে তাকিয়ে আমরা বলতে পারি, রাশিয়াকে প্রাণঘাতী সহায়তা দেয়ার জন্য চীনের যেকোনো পদক্ষেপ কেবল রুশ আগ্রাসনকেই পুরস্কৃত করবে, হত্যা চালিয়ে যাওয়া এবং একটি নিয়মভিত্তিক বিশ্ব ব্যবস্থাকে আরও দুর্বল করবে।’

No comments: