Sponsor



Slider

বিশ্ব

জাতীয়

সাম্প্রতিক খবর


খেলাধুলা

বিনোদন

ফিচার

mujib

w

যাবতীয় খবর

জিওগ্রাফিক্যাল

ফেসবুকে মুজিবনগর খবর

» » » » সবুজ মাঠ পেরিয়ে টানা চতুর্থবার ক্ষমতায়




‘বারান্দায় দাঁড়ালেই দৃষ্টি চলে যায় সবুজ মাঠ পেরিয়ে রাস্তায়… আমি মাঠের এপারে কারাগারে বন্দি। সংসদের একটা বাড়িকে সাবজেল করা হয়েছে। আমি এপারে কারাগার ভবনে আর ওপারেই গণভবন।’ — লিখেছেন শেখ হাসিনা। তার সবুজ মাঠ পেরিয়ে বইয়ে। বর্ণনা করেছেন জেল জীবনের কথা। এক-এগারোয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে গ্রেফতার হয়েছিলেন তিনি। বন্দি ছিলেন সংসদ ভবন এলাকার এক ভবনে। যেটিকে সাবজেল হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। এই সাবজেল থেকে তিনি মুক্তি পান ২০০৮ সালের ১১ জুন। এরপর দলকে সংগঠিত করেন। দলে যারা মাইনাস ফর্মূলা চেয়েছেন, তাদেরকে সরিয়ে দেন পাশ থেকে। বঙ্গবন্ধু কন্যার নেতৃত্বেই সে বছর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যায় আওয়ামী লীগ। সেই ভোটে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়লাভ করে দলটি। আর শেখ হাসিনা ফেরেন সবুজ মাঠের পাশে গণভবনে। টানা ১৫ বছর ধরে আছেন সেখানে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ চব্বিশের ভোটেও জয়লাভ করল। এরমধ্য দিয়ে টানা চতুর্থবার ক্ষমতার মসনদে দলটি। আর আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা এবারও সংসদ নেতা হচ্ছেন। ফলে পঞ্চমবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসবেন তিনি। যা টানা চতুর্থবারের মতো। উপমহাদেশের ইতিহাসে যা বিরল। এখন পর্যন্ত টানা চার সংসদ নির্বাচনে জয় পেয়ে আর কারও প্রধানমন্ত্রী হওয়ার রেকর্ড উপমহাদেশে নেই। চব্বিশের ভোটে শেখ হাসিনার পাঁচ, আওয়ামী লীগের ছয়: দেশ স্বাধীনের ১৪ মাস পর তিয়াত্তরের মার্চে স্বাধীন বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম সংসদ নির্বাচন। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ ২৯৩ আসনে জয় পায় সেই ভোটে। এরপর দেশের রাজনীতিতে ঘটে নানা ঘটনা প্রবাহ। আশির দশকের শুরুতে দলের হাল ধরেন বঙ্গবন্ধুর বড় কন্যা শেখ হাসিনা। তবে আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় ফিরতে সময় লাগে ২১ বছর। ছিয়ানব্বইয়ের ১২ জুন অনুষ্ঠিত সপ্তম সংসদ নির্বাচনে ১৪৬টি আসনে জয়ী হয় নৌকার প্রার্থীরা। জাতীয় পার্টির সমর্থন নিয়ে সংসদ গঠন করে আওয়ামী লীগ। প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন শেখ হাসিনা। তার আগে দুইবার সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা হয়েছিলেন। প্রথমবার ’৮৬ সালে, পরেরবার ’৯১-এ। অষ্টম সংসদে আবার বিরোধী দলের আসনে বসে আওয়ামী লীগ। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের শেষের দিকে নানা ঘটনার পরিক্রমায় আসে এক-এগারো। সে সময় গ্রেফতার হন দেশের দুই রাজনৈতিক নেত্রী শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া। তারা বন্দি ছিলেন সংসদ ভবন এলাকার পাশাপাশি দুটি বাড়িতে। ২০০৮ সালে মুক্তি পান দুই নেত্রীই। এরপর যে যার দলের হাল ধরেন। তবে ক্ষমতার লড়াইয়ে এগিয়ে যান শেখ হাসিনা। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৩০ আসনে বিজয়ী হয়ে ক্ষমতায় ফেরে আওয়ামী লীগ। শেখ হাসিনা উঠেন গণভবনে। সেখানে ফিরে তার অভিব্যক্তি কী ছিল, তা লিখেছেন সবুজ মাঠ পেরিয়ে বইয়ে— ‘গণভবনে প্রথম সকাল। গতকাল যমুনা থেকে গণভবনে এসে উঠেছি। এখানে এসেই প্রথমে দক্ষিণের জানালা খুলে দাঁড়ালাম। সংসদ ভবনের যে বাড়িটায় আমাকে বন্দি করে রেখেছিল, সেটা দেখা যায় কি না! গাছের ফাঁক দিয়ে বাড়িটা দেখা যাচ্ছিল। আল্লাহ সবই পারেন। গণভবনের মাঠ, তারপর রাস্তা, পাশে লেক, তারপরই বিশাল খেলার মাঠ। ওই মাঠের পাশেই বাড়িটায় বন্দি ছিলাম। আর এখন সেই সবুজ মাঠ পেরিয়ে যে গণভবন, সেখানে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উঠেছি।’ নবম সংসদের মেয়াদকালেই আদালতের রায়ে বাতিল হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা। ফলে শেখ হাসিনা সরকারের অধীনে দশম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপি-জামায়াতসহ বিরোধী দলগুলো এই ভোট বর্জন করে। চৌদ্দের ৫ জানুয়ারি এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ১৪৭টি আসনে চলে ভোটগ্রহণ। কারণ, ভোটের আগেই ১৫৩টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পায় আওয়ামী লীগ ও এর শরিক দলগুলো। তাই এ নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। সবমিলিয়ে ওইবার ২৩৪টি আসনে বিজয়ী হয় নৌকা। একাদশ সংসদ নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হয় শেখ হাসিনা সরকারের অধীনে। নানা নাটকীয়তা ও আলোচনা শেষে ভোটে আসে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্ট। দীর্ঘদিন পর এই জোট দিয়ে রাজনীতির মাঠে বেশ আলোচনায় ফেরেন ড. কামাল হোসেন। তবে, নির্বাচনে ভরাডুবি হয় ঐক্যফ্রন্টের। কিন্তু তাদের পরাজয় ছাপিয়ে দেশে-বিদেশে আলোচনায় আসে এই ভোটের প্রক্রিয়া নিয়ে। সরকারবিরোধীরা অভিযোগ আনে, ভোটের আগের রাতে এবং দিনে ব্যালটে সিল মারার। প্রশ্নবিদ্ধ এই ভোট নিয়ে সমালোচনা থামেনি এখনও। এরপর থেকে বিএনপি জানিয়ে দেয়, আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে ভোটে যাবে না। দাবি তোলে, নির্বাচনের সময় নির্দলীয় সরকারব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে। একপর্যায়ে চব্বিশের ভোটকে কেন্দ্র করে একদফা দাবি ঘোষণা করে দলটি। যেখানে রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের পদত্যাগ এবং নির্দলীয় সরকারব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার মতো দাবি। বিএনপি এসবসহ নানা দাবি নিয়ে আন্দোলনের মাঠে রয়েছে। বিপরীতে সরকারও চব্বিশের ভোটের আয়োজন করে। ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হলো এই ভোট। যা বর্জন করতে জনগণকে আহ্বান জানায় বিএনপি, জামায়াতসহ সরকারবিরোধী দলগুলো। নির্বাচন কমিশনের হিসাব মতে, দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ৪০ শতাংশের মতো ভোট পড়েছে। বাংলাদেশে এ পর্যন্ত যতগুলো নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও অংশগ্রহণমূলক হয়েছে, সেগুলো অনুযায়ী ভোটের হার কমই বলা চলে। বিরোধীরা না আসায় এবারের ভোটে আওয়ামী লীগ জয়ী হচ্ছে, তা আগে থেকেই অনুমান করা যাচ্ছিল। সিইসিও তার ভাষণে বলেছেন, কাঙিক্ষত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত ২৯৮ আসনের মধ্যে ২২৪টিতে জয় পেয়েছে নৌকার প্রার্থীরা। তার মধ্যে ১৪ দলীয় জোটের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন নৌকায় চড়ে ভোটের বৈতরণী পার করেছেন। বগুড়া-৪ আসনে জাসদের রেজাউল করিম তানসেনও নৌকা নিয়ে জয় পেয়েছেন। শরিকদের জন্য আওয়ামী লীগের ছেড়ে দেয়া বাকি চার আসনে কুষ্টিয়া-২-এ হাসানুল হক ইনু (জাসদ), লক্ষ্মীপুর-৪-এ মোশাররফ হোসেন (জাসদ), রাজশাহী-২-এ ফজলে হোসেন বাদশা (ওয়ার্কার্স পার্টি) এবং জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান পিরোজপুর-২-এ নৌকা মার্কায় ভোট করেও হারের মুখ দেখেছেন। লাঙ্গল নিয়ে ভোটে পাশ করতে পেরেছেন ১১ জন। আসন জয়ের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের পরে কোনো দল হিসেবে যা দ্বিতীয়। এছাড়া, নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে ভোটে অংশ নিয়ে প্রথমবারের মতো কোনো আসনে জয় পেলো কল্যাণ পার্টির কোনো প্রার্থী। নির্বাচনে লড়া বাকি ২৩ দলের কেউই জয় পাননি। এবারের ভোটে ১ হাজার ৯৭১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন ৪৩৬ জন। তাদের মধ্যে ৬২ জন হেসেছেন। এখন পর্যন্ত যা কোনো সংসদ নির্বাচনে সর্বোচ্চ। বাকি ১ হাজার ৫৩৫ প্রার্থী হচ্ছে বিভিন্ন দলের। ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ করা হয়। নওগাঁ-২ আসনে এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর মৃত্যুতে সেখানে ভোট হয়নি। পুনরায় সেখানে তফসিল ঘোষণা করা হবে। তখন আরও প্রার্থী যুক্ত হতে পারে। এছাড়া, এক কেন্দ্রের অনিয়মে আটকে গেছে ময়মনসিংহ-৩ আসনের ফল। ফলাফলের সমীকরণ যখন এই, তখন তো স্পষ্টই ষষ্ঠবারের মতো ক্ষমতায় এলো আওয়ামী লীগ। আর শেখ হাসিনা পঞ্চমবারের মতো সরকারপ্রধান হতে যাচ্ছেন। যা টানা চারবারের মতো। তবে দ্বাদশসহ শেষ তিন নির্বাচন বিতর্ক এড়াতে পারেনি। যে তিন নির্বাচনেই নিরঙ্কুশ জয় পায় আওয়ামী লীগ। যদিও এসব নিয়ে পাল্টা বক্তব্য রয়েছে দলটির। কোনো সমালোচনা কানে না নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। আর শেখ হাসিনাও ছুটছেন তো, ছুটছেনই। এ যেন শেখ হাসিনার লেখা আরেক বইমাইলস টু গো বইয়ের অনুলিপি।






«
Next
Newer Post
»
Previous
Older Post

No comments:

Leave a Reply