Sponsor



Slider

দেশ

মেহেরপুর জেলা খবর

মেহেরপুর সদর উপজেলা


গাংনী উপজেলা

মুজিবনগর উপজেলা

ফিচার

খেলা

যাবতীয়

ছবি

ফেসবুকে মুজিবনগর খবর

» » » » মেহেরপুরের পাট চাষিরা ন্যায্যদামের নিয়ে দুশ্চিন্তা বেড়েছে




সোনালি আঁশ পাট নিয়ে কয়েক বছর ধরে লোকসানে রয়েছেন মেহেরপুরের চাষিরা। উৎপাদন খরচ না ওঠা, মানহীন আঁশ পাওয়া ও বাজারে সঠিক দাম না মেলায় তাদের আগ্রহ কমেছে। ব্যবসায়ীরাও রপ্তানি নিয়ে লোকসানের আশঙ্কায় রয়েছেন। তবে জেলা পাট বিভাগ বলছে, সমস্যার সমাধানে তারা সার্বিক পরামর্শ দিচ্ছে। যাতে কৃষকরা বিগত ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর জেলায় পাটের বাম্পার ফলনের আশা করছে কৃষকরা। তবে উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় ন্যায্যদামের বিষয়টি নিয়ে দুশ্চিন্তা বেড়েছে। মুক্ত জলাশয়ের অভাবে ডোবা বা পুকুরে জাগ দেওয়ায় গুণগত মানও নষ্ট হচ্ছে। এতে আঁশের তারতম্য ও রঙের পার্থক্যের কারণে কৃষকরা বরাবরই কম দাম পাচ্ছেন। এ মৌসুমে প্রতি মণ পাট ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ সময় নদীতে জাগ দেওয়ার অনুমতি চান কৃষকরা। সদর উপজেলার উজলপুর গ্রামের কৃষক মুসলিম উদ্দিন বলেন, ‘প্রতিবছর পাট চাষ করি, কিন্তু লাভ ঘরে তুলতে পারি না। এ বছরও তিন বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি। ধান রোপণের আগের সময়টায় পাট করা হয় মূলত কাঠি পাওয়ার জন্য।’ কৃষক নেজামত উল্লাহ বলেন, ‘বিঘাপ্রতি ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার পাট বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু খরচ হয়েছে ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকা। নিজের জমি বলে শুধু শ্রমের দাম হাতে থাকছে। আমরা কখনোই ন্যায্যদাম পাই না। ব্যবসায়ীর হাতে গেলে তখন দাম বেড়ে যায়।’ মুজিবনগর ও গাংনী উপজেলার কৃষকরাও একই অভিযোগ তুলেছেন। তাদের ভাষায়, চলতি মৌসুমে বীজ, সার, কীটনাশক, তেল ও শ্রমিকের দাম দ্বিগুণ হয়েছে। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে গেলেও বাজারে ন্যায্যমূল্য মিলছে না। তারা অভিযোগ করেন, মানসম্মত পাট উৎপাদনে কৃষি বিভাগের উদাসীনতা দীর্ঘদিনের। অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, অন্যান্য জেলার তুলনায় মেহেরপুরের পাটের রং ও শক্তি দুটোই কম। ফলে মণপ্রতি পাট ৪০০ থেকে ৮০০ টাকা কম দামে বিক্রি করতে হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ী হেকমাতুল্লাহ বলেন, ‘এ অঞ্চলে ডোবা-নালায় কাদাপানিতে পাট জাগ দেওয়া হয়। ফরিদপুরে স্বচ্ছ পানিতে আঁশ সংগ্রহ করা হয়, তাই সেখানে পাট সোনালি রঙের হয়। আর মেহেরপুরে পাট কালচে রং ধারণ করে। প্রক্রিয়াজাতকরণের কারণেই মেহেরপুরের আঁশ দুর্বল হয়ে যায়। কৃষি বিভাগ মান উন্নয়নে কোনো ভ্রূক্ষেপ করছে না।’ পাশাপাশি রপ্তানি নিয়েও শঙ্কা আছে ব্যবসায়ীদের। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত কাঁচা পাট রপ্তানি বন্ধ করায় নতুন বাজার তৈরি না হলে লোকসানে পড়বেন বলে জানান ব্যবসায়ী গোলাম মাওলা। তার ভাষায়, ‘পাটকল মালিকদের সিন্ডিকেট দাম কমিয়ে দিতে পারে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন কৃষক থেকে ব্যবসায়ী- সবাই।’ মেহেরপুরে চারটি নদী থাকলেও পাট জাগ দিতে সেখানে অনুমতি মিলছে না। পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, নদীতে জাগ দিলে পানি দূষিত হয় ও পরিবেশ নষ্ট হয়। উপবিভাগীয় প্রকৌশলী শান্ত দত্ত বলেন, ‘আমরা কৃষকদের নদীতে পাট জাগ দিতে নিরুৎসাহিত করছি।’ তবে জেলা পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা আ ক ম হারুন জানিয়েছেন, ‘পাট জাগ দিতে নদী ব্যবহারে কোনো বাধা নেই। মুক্ত জলাশয়ের অভাবে রিবন রেটিং পদ্ধতি ব্যবহার করা যেতে পারে। কিন্তু এ পদ্ধতি কৃষকের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।’ সব মিলিয়ে মেহেরপুরে এ বছর পাটের ভালো ফলন হলেও উৎপাদন খরচ ও গুণগত মানের সংকট কাটিয়ে ওঠা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। কৃষকরা বলছেন, ন্যায্যদাম ও সঠিক প্রক্রিয়াজাতকরণ নিশ্চিত হলে সোনালি আঁশ আবারও কৃষকের ঘরে সোনালি স্বপ্ন বয়ে আনতে পারবে।মুজিবনগর খবরে নিউজ এর জন্য যোগা জোগ করুন : আসফারুল হাসান সুমন, উপদেষ্টা সম্পাদক ,মোবাইল:০১৭২২২২৬৬০৬, সাহেদুজ্জামান রিপন ,যুগ্মবার্তা সম্পাদক ,মোবাইল:০১৭২৩০০৪৩০০, অধ্যক্ষ মহসীন আলী আঙ্গুঁর ,সম্পাদক ও প্রকাশক, মুজিবনগর খবর ডট কম,মেহেরপুর।






«
Next
Newer Post
»
Previous
Older Post

No comments:

Leave a Reply