হিরোশিমায় বোমা পড়লো যেদিন, ভাগ্যক্রমে সেদিন অল্পের জন্য প্রাণ বেঁচেছিলেন মিচিকো ইউশিটসুকা। হিরোশিমায় সেদিন যে ভয়ংকর দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেছেন তিনি, বাকী জীবন তাকে এর ভার বহন করতে হয়েছে। সেই কাহিনি লিখেছেন তারই নাতনি জামাই কলিন ইন্স: ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্টের সেই সকালে মিচিকো ঘুম থেকে উঠতে দেরি করে ফেলেছিলেন। "আমার মনে আছে, আমি ভাবছিলাম যদি পরের ট্রেনটা ধরতে পারি, তাহলেও আমি সময়মতো কাজে পৌঁছাতে পারবো। কিন্তু আবার ভাবছিলাম, যদি আমি দৌড়ে স্টেশনে যেতে পারি, তাহলে হয়তো আগের ট্রেনটাই ধরতে পারবো।" সেদিনের ঘটনার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মিচিকো এই কথাগুলো লিখেছিলেন আরো বহু বছর পরে"আমি দৌড়ে ইয়োকোগাওয়া স্টেশনে পৌঁছালাম এবং লাফ দিয়ে সেই ট্রেনটিতে উঠতে পারলাম, যে ট্রেনটিতে চড়ে আমি প্রতিদিন কাজে যাই।"মিচিকো যে সেদিন এভাবে দৌড়ে ট্রেনটিতে উঠতে পেরেছিলেন, এটি তার জীবন বাঁচিয়ে দিয়েছিল। সময়মতো তিনি কর্মস্থলে পৌঁছে গিয়েছিলেন। হিরোশিমায় যখন বিশ্বের প্রথম পরমাণু বোমা বিস্ফোরিত হচ্ছে, তখন মিচিকো অনেক দূরে তার কারখানায় নিরাপদ আশ্রয়ে। বিশ্বে সেই প্রথম এবং শেষ কোন যুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছিল পরমাণু বোমা। "যদি আমি সেদিন আমার প্রতিদিনের নিয়মিত ট্রেনটি ধরতে না পারতাম, আমি হয়তো ইয়োকোগাওয়া স্টেশন এবং হিরোশিমা স্টেশনের মাঝামাঝি কোন জায়গায় মারা যেতাম", লিখেছিলেন তিনি। Short presentational grey line মিচিকো ইউশিটসুকার বয়স তখন ১৪। হিরোশিমা শহরের একেবারে কেন্দ্রে মেয়েদের এক স্কুলে পড়েন। যুদ্ধের কাজে সাহায্য করার জন্য এই স্কুলের মেয়েদেরও একদিন ডাক পড়লো। মিচিকো কাজ শুরু করলেন টয়ো কোগিও কারখানায়। এটি ছিল শহর কেন্দ্র থেকে আট কিলোমিটার পূর্বে। এই কারখানায় জাপানি সামরিক বাহিনীর জন্য সমরাস্ত্র তৈরি করা হতো। মিচিকো যে সেদিন দেরি করে ঘুম থেকে উঠেছিলেন, তার কারণ আলসেমি নয়। আসলে তিনি খুব বেশি ক্লান্ত ছিলেন। এর আগের দিন তাকে অনেক লম্বা সময় কারখানায় কাজ করতে হয়েছিল। যুদ্ধের কারণে জাপানে তখন ব্যাপক খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। মিচিকোও প্রায়শই খেয়ে-না খেয়ে থাকেন। আগের রাতে হিরোশিমার আকাশে চক্কর দিচ্ছিল মার্কিন বি-২০৯ বোমারু বিমান। বার বার শত্রু বিমানের সতর্কতা জানিয়ে সাইরেন বেজে উঠছিল। সকাল সাতটার দিকে শেষবার সাইরেন বাজলো, এবারেরটা 'অল ক্লিয়ার সাইরেন।' তার মানে বিপদ কেটে গেছে, আকাশে আর কোনো শত্রু বিমান নেই। কিন্তু হিরোশিমার ভাগ্যে কী ঘটতে চলেছে জানতেন না মিচিকো। 'ম্যানহাটান প্রজেক্টের' লোকজন ছাড়া কেউই আসলে জানতো না। 'ম্যানহাটান প্রজেক্ট' ছিল মার্কিন সরকারের এক অতি গোপন গবেষণা প্রকল্প। এরাই তৈরি করেছিল বিশ্বের প্রথম পরমাণু বোমা।এর কয়েক ঘন্টা আগে যুক্তরাষ্ট্রের মারিয়ানা আইল্যান্ডসের তিনিয়ান ঘাঁটি থেকে যাত্রা আকাশে উড়েছে ইনোলা গে। যে পরমাণু বোমাটি এই বিমানে বহন করা হচ্ছিল, মার্কিনীরা মজা করে তার দিয়েছিল 'লিটল বয়'। সকাল ঠিক ৮টা ১৫ মিনিটে হিরোশিমার ওপর ফেলা হলো বোমাটি। আনুমানিক ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষ সেদিন বোমা বিস্ফোরণের পর তাৎক্ষণিকভাবে বা পরবর্তী মাসগুলিতে মারা গিয়েছিল। মিচিকো সেদিন প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন। তাকে রক্ষা করেছিল হিজিয়ামা পর্বত। হিরোশিমা শহরের কেন্দ্র আর তার কারখানার মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে এটি। বোমা বিস্ফোরণের পর এই পাহাড়টি তাদের সুরক্ষা দিয়েছিল। বিস্ফোরণের পর আকাশে যে ধোঁয়ার কুন্ডলি দেখা যাচ্ছিল, হিজিয়ামা পর্বতের অপর পাশ থেকে তা দেখেছিলেন মিচিকো। এরপর যে হট্টগোল শুরু হলো, তার মধ্যে মিচিকো দৌড়ে গেলেন নাকায়ামাটোগের দিকে। এটি এক পাহাড়ি পথ। এই পথ চলে গেছে গিওনে তার এক আত্মীয়ের বাড়ির দিকে। সেই পথে মিচিকো দেখলেন, হাজার হাজার মানুষ ধ্বংস হয়ে যাওয়া হিরোশিমা থেকে পালাচ্ছে। মিচিকো লিখেছেন, "সব জায়গায় কেবল আহত মানুষ। আমি বহু মানুষের পুড়ে যাওয়া, গলিত দেহ পড়ে থাকতে দেখেছি। বিস্ফেরণের ধাক্কায় বাতাসের চাপে তাদের চোখ কোটর থেকে বেরিয়ে এসেছে। অনেকের দেহের ভেতরের প্রত্যঙ্গ শরীর থেকে বা মুখ দিয়ে বেরিয়ে এসেছে।" "আমি যখন হাঁটছি, কেউ একজন হঠাৎ আমার গোড়ালি ধরে টান দিল এবং মিনতি করতে থাকলো, তুমি কি আমাকে একটু পানি দিতে পার? আমি তার হাতটা ছাড়িয়ে দিলাম… এবং বললাম, আমি দুঃখিত, আমাকে মাফ করো! আমার খুব ভয় করছিল এবং আমি পালানোর জন্য দ্রুত হাঁটতে থাকলাম।"আমি আর আমার মা এরপর দশদিন ধরে হিরোশিমার চারদিক হেঁটে বেড়ালাম। আমরা আমার বড় ভাইকে খুঁজছিলাম। ও ছিল একজন সৈনিক। আমরা পরে আবিস্কার করি, ও মারা গিয়েছিল বিস্ফোরণের একেবারে কেন্দ্রে। … আমার ভাইয়ের দেহাবশেষ আমরা কোনদিনই খুঁজে পাইনি। " মিচিকো হয়তো প্রাণে বেঁচে গেলেন, কিন্তু এরপরই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তখনো যেসব ডাক্তার বেঁচে ছিলেন, মিচিকোর লক্ষণগুলো ততদিনে তারা আরও অনেকের মধ্যেই দেখেছেন। "আমার মধ্যে তেজস্ক্রিয় বিকীরণের লক্ষণ দেখা দিল... আমার মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়ছিল, নাক দিয়ে রক্ত পড়ছিল। আমার প্রচন্ড ডায়ারিয়া হলো। আমার চুল পড়তে শুরু করলো এবং আমার সারা শরীরে বেগুনি চাকা চাকা দাগ দেখা দিতে লাগলো", লিখেছেন মিচিকো। "এক পারিবারিক বন্ধুর বাড়ির বাইরের একটি ছাউনিতে আমাকে আলাদা করে রাখা হলো। আমি যেন জীবন আর মৃত্যুর মাঝে দুলছিলাম। আমার চারপাশে যারা ছিল, সবাই ভাবছিল, আমি মারা যাব। কিন্তু আমি অলৌকিকভাবে বেঁচে উঠলাম।" হিরোশিমা আর নাগাসাকিতে পরমাণু বোমার বিস্ফোরণের পরও কিন্তু যুদ্ধ থামলো না। যুদ্ধ থামাতে বড় ভূমিকা রাখে মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ, রাশিয়ার আসন্ন আক্রমণের হুমকি আর পটসড্যাম ঘোষণা- যাতে জাপানের আত্মসমর্পনের শর্ত বেঁধে দেয়া হয়েছিল। জাপানে সম্রাটের শাসন অব্যাহত রাখার অঙ্গীকারও এক্ষেত্রে কাজ করে। ১৫ আগস্ট সম্রাট হিরোহিতো যে আত্মসমর্পনের ঘোষণা দেন, সেটি রেডিওতে সম্প্রচার করা হয়। যখন তিনি ঘোষণা করেন যে জাপানকে অবশ্যই "অসহনীয় ভার সইতে হবে", তখন হিরোশিমার অনেক মানুষ বিস্ময়ে হতবুদ্ধি হয়ে পড়লেন। তাদের মনে প্রশ্ন, আমরা কি এই ভার এরই মধ্যে বহন করিনি?
Slider
দেশ
মেহেরপুর জেলা খবর
মেহেরপুর সদর উপজেলা
গাংনী উপজেলা
মুজিবনগর উপজেলা
ফিচার
খেলা
যাবতীয়
ছবি
ফেসবুকে মুজিবনগর খবর
Home
»
Education
»
lid news
»
others
»
world
» হিরোশিমার বোমা: যেদিন মিচিকো দৌড়ে ট্রেন ধরতে পারায় প্রাণে বেঁচেছিলেন
Mujibnagar Khabor's Admin
We are.., This is a short description in the author block about the author. You edit it by entering text in the "Biographical Info" field in the user admin panel.
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
Labels
- Advertisemen
- Advertisement
- Advertisementvideos
- Arts
- Education
- English News
- English News Featured
- English News lid news
- English News national
- English News news
- English Newsn
- Entertainment
- Featured
- games
- id news
- l
- l national
- li
- lid news
- lid news English News
- lid news others
- media
- national
- others
- pedia
- photos
- politics
- politics English News
- t
- videos
- w
- world
- Zilla News

No comments: