Sponsor



Slider

দেশ

মেহেরপুর জেলা খবর

মেহেরপুর সদর উপজেলা


গাংনী উপজেলা

মুজিবনগর উপজেলা

ফিচার

খেলা

যাবতীয়

ছবি

ফেসবুকে মুজিবনগর খবর

» » » » » কানের ময়লা কি আদৌ ‘আবর্জনা’? ইয়ার ওয়াক্স কখন বার করবেন, কখন করবেন না?




:কানের ময়লা কি আদৌ ‘আবর্জনা’? ইয়ার ওয়াক্স কখন বার করবেন, কখন করবেন না? কানে জমে থাকা ময়লা ঠিক কী জিনিস? অনেকেই বিষয়টি স্পষ্ট করে জানেন না। কানের ময়লা বা ইয়ার ওয়াক্স নিয়ে মানুষের মধ্যে সঠিক ধারণার যথেষ্ট অভাব রয়েছে। অনেকে মনে করেন এটি শুধুই অপ্রয়োজনীয় ময়লা, যা যত দ্রুত সম্ভব সরিয়ে ফেলা উচিত। কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে, এই ময়লার আসল নাম সিরুমেন। এই সিরুমেন আসলে কানের জন্য এক ধরনের প্রাকৃতিক সুরক্ষা ব্যবস্থা। কানের ভেতরে থাকা বিভিন্ন গ্রন্থি থেকে নানা রকমের প্রাকৃতিক তেল ও ঘাম নির্গত হয়, যার সঙ্গে মিশে যায় ধুলোবালি, মৃত কোষ ও মাইক্রোব। সেই মিশ্রণই হলো কানের ময়লা। এটি একদিকে কানের ভেতরের চামড়াকে আর্দ্র রাখে, অন্যদিকে জীবাণু, ধুলো, এমনকি পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকেও কানের ভিতরের অংশকে রক্ষা করে। অর্থাৎ কানের ময়লা পুরোপুরি ক্ষতিকর নয়, বরং আমাদের শরীরের প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অংশ। তবে সমস্যা দেখা দেয় যখন এই ময়লা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি জমে যায়। সাধারণত শরীর নিজেই অতিরিক্ত ময়লা বাইরে বের করে দেয়। অদ্ভুত শোনালেও হাঁটার সময়, কথা বলার সময় বা চোয়াল নাড়ালে ময়লা নিজে থেকেই বাইরে বেরিয়ে যায়। কিন্তু কখনও কখনও ময়লা শক্ত হয়ে কানের ছিদ্র আটকে দেয়। এতে শ্রবণশক্তি সমস্যা, কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ হওয়া, মাথা ঘোরা বা কান ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। অনেকেই অভ্যাসবশত কটন বাড দিয়ে কান পরিষ্কার করেন। চিকিৎসকরা বারবার সতর্ক করেছেন, এটি মোটেই উচিত কাজ নয়। বরং এই অভ্যাস উল্টো বিপদ ডেকে আনে। কটন বাড দিয়ে খোঁচালে ময়লা আরও ভেতরে চলে যেতে পারে। এতে শ্রবণনালী ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, এমনকি কানের পর্দা ফেটে যাওয়ারও ঝুঁকিও থাকে। তাহলে কানের ময়লা কীভাবে সুরক্ষিতভাবে সরানো যায়? প্রথমত, যদি কানে অস্বস্তি না হয় বা শ্রবণে সমস্যা না দেখা দেয়, তবে ময়লা সরানোর প্রয়োজন নেই। এটি নিজে নিজেই বেরিয়ে আসে। দ্বিতীয়ত, কারও যদি কানে চাপ অনুভূত হয় বা শ্রবণশক্তি কমে যায়, তবে বাড়িতে খোঁচাখুঁচি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে যাওয়াই নিরাপদ। তৃতীয়ত, চিকিৎসকের পরামর্শে বিশেষ ইয়ার ড্রপ ব্যবহার করা যেতে পারে। এই ড্রপ ময়লাকে নরম করে, ফলে সহজে বেরিয়ে আসে। চতুর্থত, কখনও কখনও ডাক্তাররা সাকশন বা স্যালাইন দিয়ে কানের ময়লা পরিষ্কার করেন। এটি সম্পূর্ণ সুরক্ষিত এবং ব্যথাহীন পদ্ধতি। এখানে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। সবার কানে সমান হারে ময়লা জমে না। কারও কানে শুষ্ক ধরনের ময়লা হয়, আবার কারও কানে তেলতেলে ময়লা। জেনেটিক কারণে এমন ভিন্নতা দেখা যায়। তাই কান পরিষ্কার নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তার প্রয়োজন নেই। বরং ভুল পদ্ধতিতে কান খোঁচাখুঁচি করলে ক্ষতির আশঙ্কা বেশি। চিকিৎসকরা বলেন, “কান না খোঁচানোই কান ভাল রাখার সবচেয়ে ভাল উপায়।” অতএব, কানের ময়লা কোনও ‘অপ্রয়োজনীয় আবর্জনা’ নয়, বরং এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। সঠিক যত্ন নিলে এটি আমাদের শ্রবণশক্তিকে সুরক্ষিত রাখে। আর সমস্যা হলে নিজে চেষ্টা না করে বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। গ্রন্থনা:অধ্যক্ষ মহসীন আলী আঙ্গুঁর ,সম্পাদক ও প্রকাশক, মুজিবনগর খবর ডট কম,মেহেরপুর।






«
Next
Newer Post
»
Previous
Older Post

No comments:

Leave a Reply