Sponsor



Slider

দেশ

মেহেরপুর জেলা খবর

মেহেরপুর সদর উপজেলা


গাংনী উপজেলা

মুজিবনগর উপজেলা

ফিচার

খেলা

যাবতীয়

ছবি

ফেসবুকে মুজিবনগর খবর

» » » অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত এক অদ্ভুত হ্রদ, যার নাম হিলিয়ার হ্রদ।




অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত এক অদ্ভুত হ্রদ, যার নাম হিলিয়ার হ্রদ। এর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, এর পানি বছরের পর বছর ধরে গোলাপী রঙের থাকে। আকাশ থেকে দেখলে মনে হয় যেন এটি প্রকৃতির এক বিশাল ক্যানভাসে আঁকা কোনো ছবি। হ্রদের চারদিকে ঘন সবুজ গাছপালা, আর তার পরেই রয়েছে নীল সমুদ্রের পানি। এই তিনটি রঙের সংমিশ্রণ এক অসাধারণ দৃশ্য তৈরি করে, যা পর্যটকদের মুগ্ধ করে। ​এই হ্রদটি প্রথম আবিষ্কার করেন ১৮০২ সালে, ব্রিটিশ অভিযাত্রী ম্যাথিউ ফ্লিন্ডার্স। তিনি তার ডায়েরিতে এই হ্রদের গোলাপী রঙের কথা লিখেছিলেন, যা সে সময় অনেকের কাছেই অবিশ্বাস্য মনে হয়েছিল। ​বিজ্ঞানীরা দীর্ঘকাল ধরে এই রহস্যের কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা করছিলেন। প্রথম দিকে ধারণা করা হতো, হ্রদের তলদেশে থাকা বিশেষ ধরনের শেওলা বা খনিজ পদার্থের কারণে এমনটা হয়। অবশেষে, আধুনিক গবেষণায় এর আসল কারণটি জানা যায়: ​ ⏭️ ডানালিয়েলা স্যালিনা (Dunaliella Salina) নামের অণুজীব: এটি এক ধরনের মাইক্রো-শ্যাওলা, যা লবণাক্ত পানিতে খুব ভালো জন্মায়। এরা প্রচুর পরিমাণে বিটা-ক্যারোটিন (beta-carotene) তৈরি করে, যা গাজরেও পাওয়া যায়। এই বিটা-ক্যারোটিনের কারণেই হ্রদের পানি গোলাপী দেখায়। ​⏭️ হালোব্যাকটেরিয়া (Halobacteria) নামের অণুজীব: হ্রদের লবণাক্ত পরিবেশে বেঁচে থাকা কিছু বিশেষ ব্যাকটেরিয়াও এই রঙ তৈরি করতে সাহায্য করে। এই অণুজীবগুলোও গোলাপী বা লাল রঙের রঞ্জক পদার্থ তৈরি করে। ​⏭️ লবণের উচ্চ ঘনত্ব: হ্রদের পানির লবণাক্ততা এতটাই বেশি যে, এই অণুজীবগুলো সহজেই এখানে বংশবৃদ্ধি করতে পারে, যা অন্যান্য হ্রদে সম্ভব হয় না। হ্রদের তলদেশে থাকা এক ধরনের লবণ-শোষক ব্যাকটেরিয়াও এর জন্য আংশিকভাবে দায়ী। ​সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই হ্রদের পানি তুলে বোতলে ভরলে তার রঙও গোলাপীই থাকে। এটি প্রমাণ করে যে, এই রঙ কোনো আলোর প্রতিফলনের কারণে নয়, বরং এর ভেতরের অণুজীবের কারণে সৃষ্ট। ​হিলিয়ার হ্রদ প্রকৃতির এক অসাধারণ শিল্পকর্ম, যা বিজ্ঞান ও সৌন্দর্যের এক বিরল সংমিশ্রণ।






«
Next
Newer Post
»
Previous
Older Post

No comments:

Leave a Reply