হিরোশিমার পর নাগাসাকিতে বোমা ফেলার পর ট্রুম্যান কি অনুতপ্ত হয়েছিলেন? দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ: জাপানের হিরোশিমা-নাগাসাকিতে তড়িঘড়ি করে পারমাণবিক বিষ্ফোরণ ঘটান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রুম্যান যুদ্ধের পরে ট্রুম্যান কখনো কোনো জনসভায় দাঁড়িয়ে ক্ষমা চাননি, কোনো আত্মজীবনীতে বলেননি, ‘ভুল করেছি।’ কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার ভাষা বদলাতে শুরু করে। পরমাণু অস্ত্র যখন আরো ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র যখন হাইড্রোজেন বোমা তৈরি করছে, তখন ট্রুম্যান শঙ্কিত কণ্ঠে বলেছিলেন, ‘এই জিনিসটা আমাদের নিয়ন্ত্রণে আনতেই হবে।’ ট্রুম্যান কি কখনো হিরোশিমা নিয়ে অনুতপ্ত ছিলেন? প্রশ্নটা যেন ৮০ বছর ধরে হাওয়ায় ভেসে থাকা এক দীর্ঘশ্বাস। ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট, সকাল আটটা বত্রিশ মিনিট। হিরোশিমার আকাশে সাদা আলোর বিস্ফোরণ। তারপর অন্ধকার। যুক্তরাষ্ট্রের বি-২৯ বোমারু বিমান যে বোমাটি ফেলা হয়েছিল, তার নাম ছিল ‘লিটল বয়’। যা মুহূর্তে হত্যা করেছিল লাখো মানুষকে। তিন দিন পর নাগাসাকির ভাগ্যে জোটে আরেক ধ্বংসযজ্ঞ। যুদ্ধ শেষ কিন্তু ইতিহাস শুরু হয় সেখানেই। যে মানুষটি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি এস. ট্রুম্যান তিনি তৎক্ষণাৎ বলেননি— ‘আমি অনুতপ্ত’। তিনি বরং বলেছিলেন, ‘আমরা যুদ্ধ শেষ করেছি। লাখো আমেরিকানের জীবন বাঁচানো গেছে।’ তার কণ্ঠে জয়ের আত্মবিশ্বাস ছিল। কিন্তু পরেও কি কোনোদিন তিনি অনুতপ্ত হয়েছিলেন? সেই প্রশ্নের উত্তর হয়তো লেখা ছিল তার ব্যক্তিগত ডায়েরির পাতায়। হিরোশিমার পর নাগাসাকিতে বোমা ফেলার পর ট্রুম্যান তার যুদ্ধমন্ত্রীকে আর বোমা না ফেলার নির্দেশ দেন। বলেন— ‘সব শিশুদের হত্যা করার ধারণা তার ভালো লাগেনি’। এই উদ্ধৃতিটি ট্রুম্যানের যুদ্ধমন্ত্রী হেনরি স্টিমসনকে পাঠানো নির্দেশনামূলক স্মারকে পাওয়া যায়। যা পরে ট্রুম্যান লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত হয়। বার্টন বার্নস্টেইনের এর গবেষণায় বিষয়টি বিস্তারিত উঠে আসে। নাগাসাকিতে দ্বিতীয় পারমাণবিক বোমা ফেলার দিন হ্যারি এস. ট্রুম্যান একটি ব্যক্তিগত চিঠি লেখেন সিনেটর রিচার্ড রাসেলকে। তখনো তিনি হিরোশিমার ধ্বংসযজ্ঞের পুরো বিবরণ পাননি। কিন্তু তার মনের ভেতর গভীর দ্বন্দ্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে সে চিঠিতে। তিনি লেখেন, ‘জাপান অত্যন্ত নিষ্ঠুর ও অসভ্য এক জাতি—তবু শুধু তারা পশুর মতো বলেই, আমাদেরও কি পশুর মতো আচরণ করা উচিত?’ তিনি স্বীকার করেন, একটি জাতির নেতাদের ‘হঠকারিতার’ কারণে পুরো জনপদের মানুষকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়া তার পক্ষে গ্রহণযোগ্য নয়। যুদ্ধ শেষ করতে হলে সামরিক কৌশল প্রয়োগ করতে হবে—এ সত্য মেনেও তিনি বলেন, ‘আমার লক্ষ্য যতটা সম্ভব আমেরিকান প্রাণ বাঁচানো, কিন্তু জাপানের নারী-শিশুদের প্রতিও আমার মানবিক অনুভূতি রয়েছে।’ যুদ্ধের পরে ট্রুম্যান কখনো কোনো জনসভায় দাঁড়িয়ে ক্ষমা চাননি, কোনো আত্মজীবনীতে বলেননি, ‘ভুল করেছি।’ কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার ভাষা বদলাতে শুরু করে। পরমাণু অস্ত্র যখন আরো ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র যখন হাইড্রোজেন বোমা তৈরি করছে, তখন ট্রুম্যান শঙ্কিত কণ্ঠে বলেছিলেন, ‘এই জিনিসটা আমাদের নিয়ন্ত্রণে আনতেই হবে।’ ১৯৫৩ সালে এক বন্ধুকে লেখা চিঠিতে ট্রুম্যান বলেন, ‘এত ভয়াবহ কিছু ব্যবহার করার নির্দেশ দেয়া যে কী ভীষণ ব্যাপার—তা বোঝাতে পারব না।’ তার কথায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে—কোনো অপ্রকাশ্য ভার যেন সারা শরীরে বয়ে বেড়াচ্ছিলেন তিনি। সে ভার ছিল ইতিহাসের কাছে অপরিচিত এক দায়বোধ। এখন পর্যন্ত পৃথিবীর ইতিহাসে সে ভার একমাত্র তারই কাঁধে। কারণ তিনি-ই ইতিহাসের একমাত্র ও নিংসঙ্গ মানুষ—যিনি যুদ্ধক্ষেত্রে পরমাণু বোমা ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন।
Slider
দেশ
মেহেরপুর জেলা খবর
মেহেরপুর সদর উপজেলা
গাংনী উপজেলা
মুজিবনগর উপজেলা
ফিচার
খেলা
যাবতীয়
ছবি
ফেসবুকে মুজিবনগর খবর
Home
»
English News
»
others
»
world
» জাপানের হিরোশিমার পর নাগাসাকিতে বোমা ফেলার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রুম্যান কি অনুতপ্ত হয়েছিলেন?
Mujibnagar Khabor's Admin
We are.., This is a short description in the author block about the author. You edit it by entering text in the "Biographical Info" field in the user admin panel.
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
Labels
- Advertisemen
- Advertisement
- Advertisementvideos
- Arts
- Education
- English News
- English News Featured
- English News lid news
- English News national
- English News news
- English Newsn
- Entertainment
- Featured
- games
- id news
- l
- l national
- li
- lid news
- lid news English News
- lid news others
- media
- national
- others
- pedia
- photos
- politics
- politics English News
- t
- videos
- w
- world
- Zilla News

No comments: