যশোরের বারীনগরে প্রায় তিন একর জায়গায় মৌসুমি সব্জি উৎপাদন করেন ওয়াহিদুজ্জামান মিলন। বছরের এই সময়টায়, অর্থাৎ শীতের সময়ে তার বিক্রি গত কয়েক বছর ধরেই বেশ ভালো।
এবারো ভালোই চলছিল।
কিন্তু গত কয়েকদিনের অবরোধে যেমন স্থানীয় বাজারে সব্জি বিক্রি করতে পারছেন না, তেমনি ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতেও নিজের উৎপাদিত পন্য পাঠাতে পারছেন না পরিবহনের বেড়ে যাওয়া ভাড়ার কারণে।
মিলন বলছেন, এই ক্ষতি একজন কৃষকের জন্য অপূরণীয়।
“ট্রাকের ভাড়া দ্বিগুণ তিনগুণ হয়ে গেছে। ডে’র গাড়ীতে চল্লিশ হাজার টাকা লাগলে নাইটে ষাট হাজার টাকা লাগছে কয়েকদিন ধরে। এছাড়া সব্জি এখানে বাজারে তুলতে পারছি না, আবার পাঠাতেও পারছিনা।”
“এই মৌসুমে ফুলকপি দশ বা পনের টাকা কেজি বিক্রি করা যায়, সেখানে এখন দুই কি তিন টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। আর বেগুন এখন পাঁচ টাকায় বিক্রি করছি, যেটা এই সময়ে অন্তত পনের বা বিশ টাকায় বিক্রি করা যায়।”
এই মৌসুমে ফুলকপি দশ বা পনের টাকা কেজি বিক্রি করা যায়, সেখানে এখন দুই কি তিন টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। আর বেগুন এখন পাঁচ টাকায় বিক্রি করছি, যেটা এই সময়ে অন্তত পনের বা বিশ টাকায় বিক্রি করা যায়।
ওয়াহিদুজ্জামান মিলন, সবজি চাষী
মি. মিলন বলছেন, তার এলাকার অন্যান্য ছোট কৃষকদের অবস্থা আরো খারাপ। কারণ, তাদের অনেকেই কয়েকজন মিলে একটি ট্রাক ভাড়া করে সব্জি পাঠাত ঢাকা ও অন্যান্য বিভাগীয় শহরগুলোতে। কিন্তু ট্রাকের ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় তা কুলিয়ে উঠতে পারছেন না তারা।
গত পাঁচদিন ধরে চলা অবরোধে মূলত সংকটে পড়েছে দেশের যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থা। অবরোধে ঢাকার মধ্যে যানবাহন চলাচল প্রায় স্বাভাবিক হয়ে এলেও, নিরাপত্তার কারণে গত কয়েকদিন ধরে পরিবহন মালিকরা মহাসড়কে গাড়ি চালানো বন্ধ রেখেছিলেন। তবে আজ থেকে সীমিত পরিসরে হলেও শুরু হয়েছে দূর পাল্লার যান চলাচল।
কিন্তু মালিকেরা অভিযোগ করছেন, অনেক ক্ষেত্রেই সরকার দূর পাল্লায় গাড়ি চালানোর জন্য চাপ প্রয়োগ করছে। এর আগে শুক্রবার বিকেলে বাস মালিকদের সঙ্গে বৈঠকে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান অবরোধে কোনো বাস ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার ক্ষতিপূরণ দেবে সরকার।
কিন্তু এতে ভরসা পাচ্ছেন না বাস মালিকেরা। বলছিলেন এ্যসোসিয়েশন অব বাস কোম্পানীজ এর সভাপতি রফিক হোসেন কাজল।
“ক্ষতিপূরণ সরকার আগেও দিয়েছে। কিন্তু তার হার অত্যন্ত কম। একটা লাক্সারী গাড়ির দাম এক থেকে দেড় কোটি টাকা, কিন্তু ক্ষতি হলে সরকার দেবে এক লাখ বা সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা। তারপর বিভিন্ন জায়গায় কমিশন দিতে হবে।”
অবরোধে ঢাকার রাস্তায় বাস। ছবি: ফোকাসবাংলা
No comments: