সুইজারল্যান্ডের সানফ্লিউরন হিমবাহের বরফের ‘বিছানা’ থেকে ৭৫ বছর পর উদ্ধার দম্পতির দেহ
পঁচাত্তর বছর আগে হারিয়ে গিয়েছিলেন এই দম্পতি, একসঙ্গে। তারপর কোনও খোঁজ মেলেনি আর। কোথায় হারালেন, কীভাবে হারিয়ে গেলেন, তার কোনও উত্তরও মেলেনি তখন। তারপর তো একদিন প্রতীক্ষাও শেষ হয়ে যায়। আচমকাই যেন ইতিহাসের পাতা থেকে উঠে এলেন তাঁরা।
আল্পসের হিমবাহের খাঁজে মিলল মার্সেলিন ডুমউলিন ও ফ্র্যাঙ্কেইন ডুমউলিনের দেহ। এই দম্পতি ৭৫ বছর আগে, ১৯৪২ সালে নিখোঁজ হয়ে যান গোরুর দুধ আনতে গিয়ে। তারা সুইজারল্যান্ডের ভালাই ক্যান্টনের বাসিন্দা ছিলেন। সম্প্রতি তাদের দেহ উদ্ধার করেন এক স্থানীয় বাসিন্দা। পাশাপাশি যেন শুয়ে আছেন দু’জনে। পরনে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ের পোশাক। তাঁদের দেহের পাশেই মিলেছে তাদের পরিচয়পত্র। তাও অবিকৃত। দেহদুটিকে আবিষ্কার হল সুইজারল্যান্ডের সানফ্লিউরন হিমবাহের মধ্যে। ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ৮,৬০০ ফুট উচ্চতায়। মার্সেলিন জুতো তৈরি করতেন। ফ্র্যাঙ্কেইন ছিলেন শিক্ষিকা। পোষা গরুদের চরাতে গিয়ে হিমবাহ ধসে চাপা পড়ে যান দুজনেই। দিনটা ছিল ১৯৪২ সালের ১৫ই অাগষ্ট। তার পর আর ফিরে আসেননি কেউই।
সেই হিমবাহই এতগুলো বছর ধরে সংরক্ষণ করেছে তাদের দেহ। স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে খবর তাদের জামা-কাপড়, পরিচয়পত্র দেখে শনাক্তকরণ হয়। পরিবারও তাদের শনাক্ত করতে পেরেছে। এখনও মৃতদেহের ডিএনএ পরীক্ষা হয়নি। তবে ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া গিয়েছে ব্যাগ, ঘড়ি, বইও। সেসব সামগ্রী পাঠানো হয়েছে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য। তবে এই দেহ উদ্ধারে আঘাত পায়নি তাদের পরিবার।বরং তাঁরা বলছেন এবার পূর্ণ সম্মানে শেষকৃত্য হবে এই দম্পতির।
