আদালতের অনুমতি না নিয়ে বিদেশে যাওয়ায় বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
আজ (বৃহস্পতিবার) জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আদালতে হাজির না হওয়ায় এ আবেদন করে দুদক। তবে এ ব্যাপারে কোনো আদেশ দেননি। চিকিৎসার জন্য বর্তমানে লন্ডনে অবস্থান করছেন খালেদা জিয়া।
রাজধানীর বকশিবাজারে স্থাপিত ঢাকার ৫নং বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামানের আদালতে এ দুই মামলার বিচারকাজ চলছে। আজ (বৃহস্পতিবার) অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার আত্মপক্ষ সমর্থনের দিন ধার্য ছিল।
খালেদা জিয়া আদালতে হাজির না হওয়ায় দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেন। অপরদিকে খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লা মিয়া ও জিয়াউদ্দিন জিয়া বিএনপির চেয়ারপারসন চিকিৎসার জন্য বিদেশে গিয়েছেন বলে মেডিকেল সার্টিফিকেট জমা দেন। শুনানি শেষে ২৪ জুলাই নতুন দিন ধার্য করেন আদালত।
এছাড়া জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপপরিচালক হারুন আর রশীদকে জেরা করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী। তার জেরা শেষ না হওয়ায় পরবর্তী জেরার জন্য নতুন দিন ধার্য করেন আদালত। অন্যদিকে, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্যও একই দিন ধার্য করেছেন আদালত।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া, তার ছেলে তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ মামলায় ২০০৯ সালের ৫ আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র দেয়া হয়।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন, মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।
আর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগ অপর মামলাটি হয়। ২০১১ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় এ মামলা করেন দুদকের সহকারী পরিচালক হারুন অর রশিদ। খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দেয় দুদক।
এ মামলার অপর আসামিরা হলেন, খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছের তখনকার সহকারী একান্ত সচিব জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।#
