সামাজিক অগ্রগতির পাশাপাশি বাংলাদেশ এখন অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্ব দিচ্ছে : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোঃ শাহরিয়ার আলম বলেছেন, সামাজিক অগ্রগতির পাশাপাশি বাংলাদেশ এখন অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘রূপকল্প-২০২১ প্রকাশের পর থেকে গত সাড়ে আট বছর যাবৎ অর্থনীতিতে বৈচিত্র আনা এবং উৎপাদন ও সেবা খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বাংলাদেশ কাজ করে যাচ্ছে’। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত দেশে পরিনত করার ক্ষেত্রে এসএমই খাতের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আজ রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে “এমপ্লয়মেন্ট, ইক্যুইটি এ্যান্ড ডাইভারসিফিকেশন অব এসএমই’স ইন বাংলাদেশ : এক্সপিরিয়েন্স অব দ্যা জার্মান মডেল” শীর্ষক এক্সপার্ট গ্রুপের মিটিংয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্পমন্ত্রনালয়ের সচিব মুহাম্মদ আবদুল্লাহ। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকায় নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. টমাস প্রিনজ ও এফইএস বাংলাদেশ-এর আাবাসিক প্রতিনিধি ফ্রানজিসকা কর্ন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক ড. মমতাজ উদ্দিন আহমদের সঞ্চালনায় প্লেনারি সেশনে বক্তব্য রাখেন এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ শফিকুল ইসলাম, জার্মানির বার্লিন স্কুল অব ইকোনমিকস এ্যান্ড ল’-এর অধ্যাপক হ্যান্সজোয়ের্গ হের ও জেনেপ নেটেকোভেন, সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মুস্তাফিজুর রহমান এবং বাংলাদেশ কর্মচারি ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি সালাউদ্দিন কাশেম খান।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, দারিদ্র্য বিমোচন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বাংলাদেশের শিল্পনীতি-২০১৬ তে ‘এসএমই’ খাতের উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় (২০১৬-২০২০) এসএমই খাতের উন্নয়নে সরকার তিন পর্যায়ের একটি কৌশলের সুপারিশ করেছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এসএমই খাতের উন্নয়নে বাংলাদেশ জার্মান প্রযুক্তি স্থানান্তর ও দক্ষতা উন্নয়ন, বিনিয়োগ ও দেশটির অভিজ্ঞতা বিনিময় আশা করে।
জার্মান কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের নতুন পরিকল্পনার অংশ হিসাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক উপায়ে শিল্পসমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে আমরা বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অংশে একশটি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করছি। আমরা এখন হাইটেক পার্কের উন্নয়ন করছি।’
অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তাফিজুর রহমান ‘সামাজিক অগ্রগতি এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত’ উল্লেখ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পখাতের (এসএমই) শিল্প বান্ধব পরিবেশ, পর্যাপ্ত বিনিয়োগ, উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষত নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ, শিশুশ্রম বন্ধ, শ্রমিকদের আইনি অধিকারের উপর গুরুত্বারোপ করেন।
বেশিরভাগ এসএমই শিল্প রাজধানী বা শহরের বাইরে উল্লেখ করে তিনি এসএমই খাতের সাথে স্থানীয় সরকারের যোগসূত্র স্থাপনের ওপর জোর দেন।
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে ‘এসএমই’ খাত সহায়ক ভূমিকা রাখবে উল্লেখ করে তিনি বিদেশে এসএমই সামগ্রির বাজার সৃষ্টি ও রপ্তানি বৃদ্ধির প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।
