সরকার মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, সারা পৃথিবীর মধ্যে বাংলাদেশও করোনার ঝুঁকিতে রয়েছে। কিন্তু সরকারের তাতে কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। আজকে রাস্তাঘাট খুলে দেওয়া হয়েছে, যানবাহন চলছে, গার্মেন্টস খুলে দেওয়া হয়েছে। হাজার হাজার লোক কাজে যাচ্ছে। এতে অনেক মানুষ করোনায় আক্রান্ত হবে। তাদের না থাকবে চিকিৎসা, না থাকবে বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা। মৃত্যুর দিকে মানুষকে ঠেলে দিচ্ছে সরকার। এই সরকার এই রকম পরিস্থিতির মধ্যে দেশ পরিচালনা করছে। এই পরিচালনা হচ্ছে ধ্বংসের পরিচালনা, পরিচালনা হচ্ছে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার পরিচালনা।’
আজ শুক্রবার গাজীপুর মহানগর যুবদলের উদ্যোগে টঙ্গী বাজার এলাকায় ত্রাণ বিতরণের সময় রুহুল কবির রিজভী এসব কথা বলেন।
আজকে ভয়ংকর পরিস্থিতিতে যখন সংক্রমণের মাত্রা বাংলাদেশে বৃদ্ধি পেয়েছে, গ্রামে-গঞ্জে ছড়িয়ে পড়ছে তখন সরকার সব খুলে দিয়েছে বলে উল্লেখ করেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, ‘সরকারের কাছে অর্থনীতি আগে, বড় বড় ব্যবসায়ীর স্বার্থ আগে। মানুষের জীবন চলে যাচ্ছে এটা বড় কথা নয়।’
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘করোনায় আক্রান্ত হয়ে মানুষের লাশ রাস্তাঘাটে পড়ে থাকছে। টেস্ট করার কোনো উপায় নেই। পর্যাপ্ত মেডিকেল সহায়তা নেই। এইটা সরকার খেয়াল করছে না। এটার কোনো গুরুত্ব দিচ্ছে না সরকার। মানুষের জীবন তাদের কাছে বড় নয়, তাদের কাছে টাকা অনেক বড় কথা। যে খাদ্য ছিল তা দিয়ে দু-তিন মাস গরিব মানুষকে চালাতে পারতাম। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সেনাবাহিনীকে দিয়ে যারা গার্মেন্টসে কাজ করে, দিন আনে দিন খায়, রিকশাচালক তাদের সবাইকে দিতে পারতাম। সরকার ঐদিকে যায়নি। সরকারের কথা হচ্ছে মানুষ মরুক আমার যায় আসে না। আমার হাতে টাকা থাকলেই বড় বিষয়।’
বিএনপি নিজেদের টাকায় ১৩ লাখ পরিবারকে সহায়তা দিয়েছে উল্লেখ করে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘আমরা সরকারে নেই, আমরা সরকারের জুলুমের মধ্যে আছি। আমাদের অনেক ছাত্রদল, যুবদল নেতাকে গ্রেপ্তার করছে। কেন তারা মানুষকে ত্রাণ দিচ্ছে? আর তারা জনগণের টাকা কেনা ত্রাণ চুরি করছে।
ত্রাণ বিতরণের সময় উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সরকার জাবেদ আহমেদ, গাজীপুর মহানগর যুবদলের সভাপতি প্রভাষক বশির উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন ভাট, সাংগঠনিক সম্পাদক আতাউর রহমান, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আরিফ হোসেন হাওলাদার প্রমুখ।
No comments: