নারী কনস্টেবল’র গাড়িতে মাদক পাচার করতেন স্বামী!
দামি ব্র্যান্ডের বিলাসবহুল জিপ গাড়ি। সামনের গ্লাসে ‘পুলিশ’ লেখা স্টিকার লাগানো। ভেতরে পুলিশ সদস্য না থাকলেও একটি আইডি কার্ড সব সময় থাকে গাড়িতে। সম্প্রতি সেই বিলাসবহুল গাড়িসহ নারী পুলিশ সদস্যের স্বামীকে ৪০ কেজি গাঁজাসহ র্যাব আটক হওয়ার পরই গাড়ি ব্যবহার করে মাদক ব্যবসার বিষয়টি প্রকাশ হয়।
বুধবার (৬ মে) বেলা ১১ টার দিকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার গাউছিয়া-কুড়িল সড়কের কাঞ্চন পৌরসভার পশ্চিম কালাদি জামে মসজিদ এলাক থেকে র্যাব-১ এর সিপিসি-৩, পূর্বাচল ক্যা¤প সদস্যরা কালো রঙের একটি বিলাসবহুল জিপসহ দুইজনকে আটক করে। তাদের কাছ থেকে ৪০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। ওই জিপ গাড়িতে পুলিশ লেখা স্টিকার ছিল। ভেতরে এক নারী পুলিশ সদস্যের আইডি কার্ডও পাওয়া যায়।
ঘটনার পরদিন গতকাল বৃহস্পতিবার (৭ মে) র্যাব-১ এর সিপিসি-৩, পূর্বাচল ক্যা¤প কমান্ডার মেজর আব্দুল্লাহ আল মেহেদী স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানানো হয়, আটককৃতরা মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত বলে জিজ্ঞাসাবাদের স্বীকার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে রূপগঞ্জ থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
গাঁজাসহ আটক দুজনের একজন হলেন- সদর উপজেলার ফতুল্লা থানাধিন হরিহরপাড়া আমতলা এলাকার বাসিন্দা বাহাউদ্দিন বাবুল (৩০)। তার সাথে ছিলেন গাড়ি চালক জামালপুরের ইলামপুর পশ্চিম কুলকান্দি জোদ্দারপাড়া এলাকার কোরবান আলীর ছেলে মো. মনির হোসাইন (২০)।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জিপ গাড়িটির মালিক আটককৃত বাহাউদ্দিন বাবুল একজন ফার্নিচার ব্যবসায়ী। তার স্ত্রী বিলকিস আক্তার মিতু ফতুল্লার হরিহরপাড়া এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা। ২০১১ সালে পুলিশ কনস্টেবল হিসেবে চাকরিতে যোগদান করেন মিতু। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের আইসিটি বিভাগে কর্মরত আছেন বলে রূপগঞ্জ থানার ওসি মাহমুদুল হাসান নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় সূত্র মতে, ফার্ণিচারের ব্যবসার আড়ালে মাদকের ব্যবসার সাথে জড়িয়ে পড়েন বাহাউদ্দিন বাবুল। স্ত্রী পুলিশ অফিসার হওয়ার সুবাদের এই প্রভাবটাও এক্ষেত্রে প্রয়োগ করেন তিনি। নিজস্ব গাড়িতে পুলিশ স্টিকার ব্যবহার করে মাদক পাচার করে থাকেন, যা ৬ মে র্যাব-১ এর হাতে বিষয়টি ধরা পড়ে ৪০ কেজি গাঁজাসহ আটকের পর। র্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে প্রাথমিকভাবে বাবুল মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন, সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমনটাই জানিয়েছেন র্যাব-১ এর সিপিসি-৩, পূর্বাচল ক্যা¤প কমান্ডার মেজর আব্দুল্লাহ আল মেহেদী।
এদিকে বিপুল পরিমাণের গাঁজাসহ আটকের পর স্বামীকে ছাড়ানোর জন্য ওই নারী পুলিশ সদস্য বিলকিস আক্তার মিতু সম্ভাব্য সব জায়গাতেই দৌঁড়ঝাঁপ করছেন বলে সূত্রে জানা গেছে । একদিকে নিজের চাকরি অন্যদিকে স্বামী, সম্মান ও সংসার উভয়দিক রক্ষা করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন তিনি। পাশাপাশি পুরো বিষয়টিকেই ধামাচাপা দিতে তৎপরতা চালাচ্ছেন বলেও খবর পাওয়া গেছে।
এ প্রসঙ্গে পুলিশ সদস্য বিলকিস আক্তার মিতু র্যাবের অভিযানে জব্দকৃত জিপ গাড়িটি তার ব্যক্তিগত গাড়ি বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের কাছে স্বীকার করলেও তিনি দাবি করেন, তার স্বামী বাহাউদ্দিন বাবুল মাদক ব্যবসায়ী নন। তিনি ফার্নিচারের ব্যবসা করেন। কিন্তু কীভাবে তিনি মাদক মামলায় জড়ালেন তা নিজেও জানেন না।
এ ব্যাপারে রূপগঞ্জ থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহমুদুল হাসান সময় নিউজকে বলেন, এ ঘটনায় র্যাব বাদি হয়ে থানায় মামলা করেছে। গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে ৪০ কেজি গাঁজা পাওয়া গেছে। মামলায় গ্রেফতারকৃত দুইজনকে আসামী করা হয়েছে। মাদকের ব্যাপারে আসামী বাহাউদ্দিন বাবুলকে আমার জিজ্ঞাবাবাদ করেছি। জড়িত থাকার কথা স্বীকারও করেছেন তিনি।
বাবুলের স্ত্রী পুলিশ সদস্য কিনা জানতে চাইলে ওসি মাহমুদুল হাসান সময়নিউজকে আরো বলেন, তার স্ত্রী বিলকিস আক্তার মিতু ডিএমপিতে কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত আছেন। বাবুলের মাদক ব্যবসার বিষয়টি তার স্ত্রী মিতু অবগত আছেন কিনা সে বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। স্বামী অপরাধের সাথে জড়িত থাকার বিষয় যদি স্ত্রী না জেনে থাকেন তাহলে স্ত্রী অপরাধী হবেন না। তবে যদি স্ত্রী বিষয়টি জেনে থাকেন বা স্বামীকে অপরাধমূলক কাজে সহায়তা করে থাকেন বলে প্রমান পাওয়া যায় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এই বিষয়টি নিশ্চিত হতে আমরা তাদের ব্যাপারে বিভিন্নভাবে খোঁজ খবর নেয়াসহ তদন্ত করে যাচ্ছি।
Tag: Advertisement others

No comments: