কটেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টুয়েন্টি মিলিয়ে ইতিহাসের সর্বোচ্চ উইকেট-শিকারি পেসার গ্লেন ম্যাকগ্র্যা। ৯৪৯ উইকেট নিয়ে বোলারদের তালিকায় আছেন চারে। অস্ট্রেলিয়া তো বটেই, সারা বিশ্বের সর্বকালের সেরা বোলারদের একজন গ্লেন ডোনাল্ড ম্যাকগ্র্যা।
গ্লেন ম্যাকগ্র্যাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বিপদে পড়েছিলেন অ্যাডাম গিলক্রিস্ট। নেটে একের পর এক বাউন্সার সামলাতে হিমশিম খেতে হয়েছে তাকে। ঠোঁটে চিরচেনা খুনে হাসি ম্যাকগ্র্যার। এই হাসিতে কি লুকোনো, খুব ভালো করে জানেন গিলি। অস্ট্রেলিয়া জাতীয় দলে একসঙ্গে পথচলায় কতো কতো স্মৃতি। লাইন-লেন্থের মাপা ফাঁদে প্রতিপক্ষের কতো ব্যাটসম্যানকে আটকে ফেলেছেন, তা মনে আছে দু'জনেরই।
পরিসংখ্যানটাই দেখুন না! তিন ফরম্যাট মিলিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ম্যাকগ্র্যার উইকেট সংখ্যা ৯৪৯। সাড়ে ৯শ' কেনো হলো না, সে আফসোস আছে কি না, জানা নেই। তবে, এই তালিকায় ওয়াসিম, ওয়াকার, ওয়ালশ, ভাসদের টপকে যাওয়ার উচ্ছ্বাস যে আছে, সেটা নিশ্চিত।
ইতিহাসের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারির তালিকায় তিন স্পিনার মুরালিধরন, ওয়ার্ন আর কুম্বলের পরই আছেন ম্যাকগ্র্যা। আলাদা ফরম্যাট হিসেব করলে ঐ তিন স্পিনার ছাড়া টেস্টে একমাত্র পেসার
a>
হিসেবে ৫৬৩ উইকেট নেয়া ম্যাকগ্র্যাকে ছাড়িয়ে যেতে পেরেছেন ইংল্যান্ডের জিমি এন্ডারসন। ৩৮১ উইকেট নিয়ে ওয়ানডেতে অবস্থান ৭'এ।
ক্যারিয়ারের শুরুতেই নজর কেড়েছিলেন। মাইক আথারটন কিংবা হুইটনির মতো, ক্যারিবীয় কার্টলি অ্যামব্রোসের সঙ্গে তাকে তুলনা করতেন অনেকেই। ডেনিস লিলি যুগের পর এমন এক পেসারকে পেয়ে বন্দনায় মেতেছিলও অজিরা। সঙ্গে গোটা ক্রিকেট দুনিয়া।
আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন ম্যাকগ্র্যা। ২০০৭'এ অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের অন্যতম মূল নায়ক ছিলেন তিনি। ২৬ উইকেট নিয়ে হয়েছিলেন টুর্নামেন্ট সেরা। ২০১৯'এ মিচেল স্টার্কের ২৭ উইকেটের আগে বিশ্বকাপ ইতিহাসে এক আসরে এটিই ছিলও সর্বোচ্চ উইকেট শিকারের রেকর্ড।
মাঠের ম্যাকগ্র্যা সেরাদের একজন। মাঠের বাইরেও লড়াকু। স্তন ক্যান্সারের কারণে প্রথম স্ত্রী জেইনের মৃত্যুতেও ভেঙে পড়েননি। স্তন ক্যান্সার আক্রান্তদের সহায়তা ও সচেতনতা তৈরিতে প্রতিষ্ঠিত ম্যাকগ্র্যা ফাউন্ডেশনের কাজ ঠিকই চালিয়ে যাচ্ছেন।
No comments: