sponsor

sponsor

Slider

বিশ্ব

জাতীয়

রাজনীতি

খেলাধুলা

বিনোদন

ফিচার

যাবতীয় খবর

জিওগ্রাফিক্যাল

ফেসবুকে মুজিবনগর খবর

» » » ‘এক-দুই মিনিটের মধ্যেই সিনহাকে গুলি’, প্রতিটি সেকেন্ড জানতে চায় র‍্যাব




‘এক-দুই মিনিটের মধ্যেই সিনহাকে গুলি’, প্রতিটি সেকেন্ড জানতে চায় র‍্যাব অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদকে গুলি করার ঘটনাস্থল কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের শামলাপুর পুলিশ চেকপোস্টে আজ শুক্রবার আসামিদের নিয়ে যান র‍্যাবের তদন্তকারী কর্মকর্তারা। পরে সেখানে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল তোফায়েল মোস্তফা সরোয়ার। কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের শামলাপুর পুলিশ চেকপোস্টে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানকে গুলিবর্ষণের পুরো ঘটনাটি এক থেকে দুই মিনিটের মধ্যে ঘটেছে বলে মনে করছে মামলার তদন্তকারী সংস্থা র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।

আজ শুক্রবার সিনহা রাশেদ হত্যা মামলার আসামি টেকনাফ থানার বরখাস্তকৃত ওসি প্রদীপসহ তিন আসামিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের ঘটনাস্থলে নিয়ে যায় র‍্যাব। সেখানে তাঁদের প্রতিটি মুহূর্তের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ঘটনাস্থলে সেদিনের ঘটনাটি হুবহু উপস্থাপন করে দেখানোর মাধ্যমে প্রকৃত চিত্র দেখেছেন র‌্যাব কর্মকর্তারা। পরে বিকেলে র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল তোফায়েল মোস্তফা সরোয়ার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘পুরো ঘটনাটি এক-দু মিনিটের মধ্যে ঘটেছে। এ সময়ে গাড়ি চেক করা, গাড়িতে পরিচয় জানতে চাওয়া, তারপরে কোন অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে গুলিটা হয়েছিল... এই এক-দুই মিনিটের ঘটনাকে বের করতে হলে প্রতিটি সেকেন্ডকে আমাদের বিশ্লেষণ করতে হবে। প্রতিটি সেকেন্ড এখানে গুরুত্বপূর্ণ।’ ‘এই সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে কী এমন ঘটেছিল যে, সিনহা গুলিবিদ্ধ করা হয়েছিল। কিংবা লিয়াকত যেটা বলছে, (সিনহা) পিস্তল তাক করে ফেলেছিল। এক মিনিট, ত্রিশ সেকেন্ডের মধ্যে কী এমন হয়েছিল, (সিনহার) পিস্তল তাক করার মতো পরিস্থিতি হয়েছিল কি না। সেই-বা (লিয়াকত) কেন গুলি করেছিল। এ ব্যাপারে আমরা বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছি,’ যোগ করেন তোফায়েল। এ সময় গণমাধ্যমকর্মীরা কী ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে জানতে চাইলে কর্নেল তোফায়েল মোস্তফা সরোয়ার বলেন, ‘এটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ মামলা। তদন্তকারী কর্মকর্তা তাঁর তদন্তকাজের অংশ হিসেবে আসামিদের নিয়ে ঘটনাস্থলে আসছেন। এটি তদন্তকাজেরই অংশ। এ মুহূর্তে এটা বলা সমীচীন হবে না। এতে তদন্তকাজ ব্যাহত হতে পারে। তদন্তকাজটি এমনভাবে সম্পন্ন করা হবে, যাতে এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কোনো দোষী ব্যক্তি রক্ষা না পায় এবং নিরীহ লোক কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হন। ঘটনাটি যে দুই মিনিটের মধ্যে ঘটেছে, এর প্রতিটি সেকেন্ড আমরা গভীরভাবে অ্যানালাইসিস করছি।’ এ সময় র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ, র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার পরিচালক সারোয়ার বিন কাশেম ও র‌্যাব-১৫-এর অধিনায়ক আজিম আহমেদ, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা র‌্যাবের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) খায়রুল ইসলামসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন। গত ৩১ জুলাই রাত ১০টার দিকে টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর এপিবিএন চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। এ ঘটনায় নিহতের বোন শাহরিয়ার শারমিন ফেরদৌস বাদী হয়ে গত ৫ আগস্ট টেকনাফের সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ ৯ পুলিশ সদস্যকে আসামি করে আদালতে মামলা করেন। মামলাটির তদন্তভার দেওয়া হয়েছে র‌্যাবকে। ঘটনার দিক বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রটি যে রকম ছিল, আজকে সেভাবেই সাজানো হয়েছিল। ঘটনার সময় অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদের ব্যবহৃত গাড়িটির মতো একটি প্রাইভেটকার রাখা হয়েছিল ঘটনাস্থলে। মাত্র এক থেকে দুই মিনিটের মধ্যেই সেদিন ঘটনাটি কীভাবে সংঘটিত হয়েছিল, তা হুবহু দেখিয়েছেন ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা। তাঁদের ঘটনার বিবরণ খুব সূক্ষ্মভাবে প্রত্যক্ষ করছেন র‌্যাব কর্মকর্তারা। আলোচিত অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ নিহত হওয়ার ‘গোড়ার রহস্য’ জানতেই আসামিদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যান এ মামলা তদন্তকারী সংস্থা র‌্যাবের একটি দল। র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল তোফায়েল মোস্তফা সরোয়ারের নেতৃতে র‌্যাবের একটি দল আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সিনহা খুনের ঘটনাস্থল বাহারছড়া শামলাপুরে পৌঁছায়। দুপুর ২টা পর্যন্ত র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল তোফায়েল মোস্তফা সরোয়ার, র‌্যাবের আইন ও মিডিয়া উইং প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ এবং সিনহা হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা র‌্যাব-১৫-এর সহকারী পরিচালক সিনিয়র পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম ঘটনাস্থল আশপাশ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় স্থানীয় লোকজনের সঙ্গেও কথা বলেন র‌্যাব কর্মকর্তারা। তদন্তের অংশ হিসেবে দুপুর ২টায় কীভাবে সিনহা নিহত হয়েছিলেন, তার প্রকৃত চিত্র তুলে আনতে ঘটনার রেকি শুরু করেন কর্মকর্তারা। এজন্য একটি সাদা কার ব্যবহার করা হয়। আসামিদের বর্ণনামতে রেকি পরিচালনা করা হয়। বেলা সোয়া ৩টার দিকে রেকি সম্পন্ন হয়। রেকিতে ওই ঘটনার সঙ্গে মিল রেখে প্রথমে উপপরিদর্শক (এসআই) নন্দদুলালকে গাড়ি থেকে তাঁর ভূমিকার চিত্রধারণ, এরপর লিয়াকত আলী ও সর্বশেষ সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশের রেকি নেওয়া হয়। এ সময় তাঁদের বিভিন্ন প্রশ্ন করেন র‍্যাবের কর্মকর্তারা। মাত্র দুই মিনিটে কীভাবে সিনহা নিহতের ঘটনা ঘটেছিল, মূলত তারই একটি মহড়া এবং নানাভাবে বিশ্লেষণ। এর মাধ্যমে র‌্যাবের তদন্তকারী কর্মকর্তারা ঘটনার প্রতিটি সেকেন্ডকে নিয়ে বিশ্লেষণ করে দেখছেন কেন এবং কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছিল। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) র‍্যাব-১৫-এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম আসামিদের কাছ থেকে ঘটনার প্রকৃত চিত্র সম্পর্কে তথ্য নিয়েছেন। রিমান্ডে থাকা বরখাস্তকৃত টেকনাফ মডেল থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, বরখাস্তকৃত পরিদর্শক লিয়াকত আলী ও বরখাস্ত হওয়া এসআই নন্দদুলাল রক্ষিত ওই দিনের ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন র‌্যাবকে। আজ দুপুরে কয়েক ঘণ্টা ধরে চলে ঘটনার সাক্ষ্য গ্রহণ। হত্যা মামলার প্রধান তিন আসামি পৃথকভাবে র‌্যাবকে ঘটনা কীভাবে ঘটেছিল, তা বর্ণনা করেন।






«
Next
Newer Post
»
Previous
Older Post

No comments:

Leave a Reply