Sponsor



Slider

বিশ্ব

জাতীয়

রাজনীতি


খেলাধুলা

বিনোদন

ফিচার


যাবতীয় খবর

জিওগ্রাফিক্যাল

ফেসবুকে মুজিবনগর খবর

» » » দখলের কবলে মেহেরপুর মালোপাড়ায় অবস্থিত বলরাম হাঁড়ির আশ্রম




দখলের কবলে বলরাম হাঁড়ির আশ্রম

মেহেরপুর জেলা শহরের পশ্চিম কোল ঘেঁষে ভৈরব নদ। নদের পাড়ে শহরের মালোপাড়ায় অবস্থিত হাঁড়ি সম্প্রদায়ের প্রবক্তা সাধক বলরাম হাঁড়ির আশ্রমটি এখন অরক্ষিত। আশ্রমের প্রবেশের পথও দখল হয়ে গেছে। বছর তিনেক আগে আশ্রমটির টিনশেডের ঘরটি ভেঙে নতুন ভবন গড়ার কাজে হাত দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে আর্থিক সংকটে নির্মাণকাজ থেমে যায়। অপরদিকে আশ্রমের জমি দখল হয়ে গেছে। বলরাম আশ্রম কমিটির সভাপতি গোবিন্দ হালদার আশ্রম রক্ষণাবেক্ষণে অর্থ বরাদ্দ চেয়ে সরকারের কাছে দরখাস্ত করেছেন। তিনি জানান, নদের পাড়ের শান্ত পরিবেশের এই আশ্রমটির সংস্কার ও সংরক্ষণ দরকার। বলরাম কে : হিন্দু সম্প্রদায় নানা শ্রেণি-গোত্রে বিভাজিত। যুগে যুগে সনাতন ধর্মের মুনিঋষি ও পুরোহিতদের সংস্কারধর্মী মত ও বিশ্বাসের প্রচার এবং প্রসারের মাধ্যমে শ্রেণি-গোত্রের সৃষ্টি হয়েছে। বলরাম সম্প্রদায়ও এভাবে প্রতিষ্ঠা হয়। এই সম্প্রদায়ের প্রবক্তা বলরাম হাঁড়ি। তিনি লালন শাহ্রে সমসাময়িক একজন সাধক। বলরাম হাঁড়ি মেহেরপুর শহরের মালোপাড়ায় ১২১৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন। বলরাম হাঁড়ি জমিদার পদ্মলোচনের বাড়ির চৌকিদার ছিলেন। চুরির অপবাদে তিনি চাকরি ও সংসার ত্যাগ করে বৌদ্ধ ধর্মানুযায়ী যোগ সাধনায় লিপ্ত হন এবং বিভিন্ন তীর্থস্থান ভ্রমণ করেন। ব্যাপক ধর্ম-জ্ঞান অর্জন করেন এবং একটি সম্প্রদায় গড়ে তোলেন। এই সম্প্রদায়-ই বলরাম হাঁড়ি সম্প্রদায় নামে পরিচিত। চুরি অপবাদে সংসার ত্যাগী বলরাম পরবর্তী সময়ে মেহেরপুরে এসে শহরের কোল ঘেঁষে বয়ে যাওয়া ভৈরব নদের তীরে মালোপাড়ায় পুনঃ বসবাস এবং ধর্ম প্রচার করতে থাকেন। ১২৫৭ সালের ৩১ অগ্রহায়ণ তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর পর তারই ভক্তরা তার সমাধির ওপর একটি ১৬ হাত দৈর্ঘ্য ১২ হাত প্রস্থবিশিষ্ট কারুকার্য খচিত মার্বেল সমাধি গড়ে তোলেন। সেই সমাধিই এখন মন্দির। আশ্রমের জমির পরিমাণ ৩৬ শতক। বলরামের সমাধির পাশে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে তার সময়ের একটি নিমগাছ। আশ্রমের জমিতে এলাকার ভূমিহীণ ১৪টি পরিবার উড়ে এসে জুড়ে বসাতে এখন জমির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে মাত্র তিন শতক। বলরাম সম্পর্কে মেহেরপুরের সমাজ গবেষক ও সাংবাদিক তোজাম্মেল আযম তার ‘মেহেরপুর জেলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক মানুষ বলরামের দেওয়া ধর্মীয় আদর্শ বিশ্বাস করে। বলরামের শিষ্যরা তাকে শ্রীরাম চন্দ্রের অবতার বলে মনে করে এবং বলরাম তাদেরকে আভাসে এ কথায় বুঝিয়েছেন। তিনি (বলরাম) বলিতেন যে, ‘আমি আপন শরীর হইতে এই পৃথিবীর সৃষ্টি করিয়াছি। লোকে আমাকে নিচ হাঁড়ি বলিয়া জানে, কিন্তু আমি সাধারণ হাঁড়ি নই, হাড়ের সৃষ্টি করিয়াছি তাই আমি হাঁড়ি। তার মৃত্যুস্থানে এক মঠগৃহ এবং পরে সেখানে একটি আশ্রমও নির্মাণ করা হয়েছিল। সেসব বিলীন হয়ে গেছে। এই সম্প্রদায়ের লোকজন মুখে ‘জয় বলরাম’ ও ‘হাড়-হাড্ডি বলরাম’ উচ্চারণ করে থাকেন। প্রতি বছর এই আশ্রমে সম্প্রদায়ের মানুষ একবার তিন দিনের জন্য চৈত্র মাসে একত্রিত হয়ে ধর্ম সম্পর্কে আলোচনা ছাড়াও মেলা বসে’। মন্দিরের নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য ভক্ত হালদার জানান, দখল হয়ে যাওয়া জমি বিভিন্ন সময়ে উদ্ধারের জন্য জনপ্রতিনিধিদের কাছে ধর্ণা দেওয়া হয়েছে। যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে তখন সেই দলের একটি পক্ষ দখলদারদের উচ্ছেদে ভূমিকা রাখে। কিন্তু দলের প্রতিপক্ষরা তখন দখলদারদের পক্ষ নেওয়ার কারণেই উচ্ছেদ করা যায়নি। তিনি আরো জানান, মেহেরপুরের মালোপাড়া, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মুন্সীগঞ্জ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গে এই সম্প্রদায়ের বসবাস আছে। বলরাম সম্প্রদায়ের মতবাদ ও জীবনধারা জানতে মাঝে মধ্যে গবেষকরা মেহেরপুরে আসেন। ভারত ও বাংলাদেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস এই সমú্রদায়ের লোকজনের। অক্ষর জ্ঞানহীন সাধক বলরাম। লালন শাহের সমসাময়িক এই সাধকের জীবন দর্শন দেখতে পাওয়া যায় তার গানে। বলরামের গানে বাউল গানের সাদৃশ্য ছাড়াও মানুষ্যজীবন এবং মানবতার বাণী রয়েছে। বলরাম আশ্রমের সভাপতি গোবিন্দ হালদার বলেন, বছর তিন আগে সবার মিলিত উদ্যোগে একটি বিল্ডিং নির্মাণের কাজ শুরু করি। কিন্তু আর্থিক সংকটে কাজটি বন্ধ হয়ে যায়। বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করলে কেউ এগিয়ে আসেনি। গত বছর জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি এক টন চাল দেন। সেই টাকায় সমাধির আশ্রমটি সংস্কার করি।






«
Next
Newer Post
»
Previous
Older Post

No comments:

Leave a Reply