Sponsor



Slider

বিশ্ব

জাতীয়

রাজনীতি


খেলাধুলা

বিনোদন

ফিচার


যাবতীয় খবর

জিওগ্রাফিক্যাল

ফেসবুকে মুজিবনগর খবর

» » » » » ইসরাইলকে বর্ণবাদী রাষ্ট্র ঘোষণার আহ্বান




ইসরাইলকে বর্ণবাদী রাষ্ট্র ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। সেই সঙ্গে ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের উল্লেখযোগ্য অংশ ক্রমাগত দখল করায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশটির সরকার। বুধবার (২৭ জুলাই) রাজধানী প্রিটোরিয়ায় অনুষ্ঠিত আফ্রিকায় ফিলিস্তিনি মিশন ‘প্যালেস্টিনিয়ান হেডস অব মিশন ইন আফ্রিকা’র দ্বিতীয় শীর্ষ বৈঠকে দক্ষিণ আফ্রিকার আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা বিষয়ক মন্ত্রী নালেদি পান্ডর এ আহ্বান জানান। অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলের অবৈধ বসতির নিন্দা জানিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার এ রাজনীতিক বলেন, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে নতুন বসতি গড়ে তোলার মাধ্যম আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের ধৃষ্টতা দেখানো অব্যাহত রেখেছে তেল আবিব। গত শতকের একটা উল্লেখযোগ্য সময় ধরে বর্ণবাদী শাসন প্রত্যক্ষ করে দক্ষিণ আফ্রিকা। ১৯৪৮ সাল হতে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত শুধুমাত্র গাত্রবর্ণের ভিত্তিতে মানুষকে আলাদা করে বৈষম্যমূলক বর্ণবাদী শাসন চালিয়েছিল সংখ্যালঘু শ্বেতাঙ্গরা। বর্ণবাদের সেই ঘৃণ্য ইতিহাসের প্রতি ইঙ্গিত করে নালেদি পান্ডর বলেন, ফিলিস্তিনিদের বর্তমান অবস্থার সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদী নিপীড়ন ও নির্যাতনের নিজস্ব ইতিহাসের অভিজ্ঞতার মিল রয়েছে। আরও পড়ুন : ডিআর কঙ্গোয় জাতিসংঘবিরোধী বিক্ষোভে গুলি, নিহত ৫ তার ভাষায়, ‘নিপীড়িত দক্ষিণ আফ্রিকান হিসেবে, আমরা জাতিগত বৈষম্য, নিপীড়ন ও বঞ্চনার প্রভাবগুলো নিজেরাই অনুভব করেছি এবং ফিলিস্তিনিদের আরেকটি প্রজন্ম এখন সেই পরিস্থিতিতে থাকলেও আমরা তাদের পাশে দাঁড়াতে পারছি না।’ নালেদি পান্ডর বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকা মনে করে, ‘ইসরাইলকে একটি বর্ণবাদী রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্ণিত করা করা উচিত এবং দেশটি জাতিসংঘের সদস্য থাকার মতো প্রয়োজনীয় শর্তগুলো পূরণ করে কি না তা যাচাই করার জন্য জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ (ইউএনজিএ)-এর একটি কমিটি গঠন করা উচিত।’ ফিলিস্তিন ইস্যুতে ইসরাইলকে বর্ণবাদী রাষ্ট্র ঘোষণার দাবি ক্রমেই জোরদার হচ্ছে। শুধু তাই নয়, সম্প্রতি দেশটিকে সরাসরি বর্ণবাদী রাষ্ট্র বলে অভিহিত করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। ইসরাইল সকল নাগরিককে সমান চোখে দেখার দাবি করলেও সংস্থাটির এক রিপোর্টে বলা হয়, ইসরাইল নিজ দেশের মধ্যে ও অধিকৃত অঞ্চলগুলোতে থাকা ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে আলাদা আলাদা তথা বর্ণবাদী আচরণ করে। দেশটির আইন, নীতি ও আচরণে এই বর্ণবাদ ফুটে ওঠে। চলতি বছরের শুরুর দিকে প্রকাশিত অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ওই রিপোর্টে আরও বলা হয়, ইহুদি ধর্মাবলম্বী নাগরিকদের সুবিধার্তে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে নিপীড়ন ও আধিপত্যবাদী আচরণ করে ইসরাইল। আন্তর্জাতিক আইনে এ ধরনের আচরণ মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত। তবে বরাবরের মতোই অ্যামনেস্টির এমন দাবি অস্বীকার করে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ। দেশটির কর্মকর্তারা উল্টো অ্যামনেস্টির বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের অভিযোগ আনে। ইসরাইলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, অ্যামনেস্টি মিথ্যা, অসঙ্গতিপূর্ণ গল্প ও ইসরাইলবিরোধী কিছু সংস্থার অপ্রমাণিত কিছু দাবির প্রেক্ষিতে এই রিপোর্ট তৈরি করেছে। ইসরাইলের নাগরিক মাত্র ৯৪ লাখ। এর ২০ শতাংশেরও বেশি নাগরিক আরব মুসলিম। তারা অনেকেই এখনও নিজেদের ফিলিস্তিনি বলে পরিচয় দিয়ে থাকেন। এছাড়া পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে আরও প্রায় ৩০ লাখ ফিলিস্তিনি বাস করেন। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে জয়ের মধ্যদিয়ে এই অঞ্চলের উপরে নিয়ন্ত্রণ স্থাপন করে ইসরাইল। তবে ফিলিস্তিনের আরেকটি অংশ গাজা উপত্যকায় বাস করেন আরও প্রায় ২০ লাখ ফিলিস্তিনি। ২০০৫ সালে গাজার উপর থেকে নিয়ন্ত্রণ তুলে নেয় ইসরাইল। যদিও জাতিসংঘ এখনও গাজাকে অধিকৃত অঞ্চল হিসেবেই বিবেচনা করে। অধিকৃত হলেও পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিদের রয়েছে আলাদা সরকার ব্যবস্থা। অপরদিকে গাজা শাসন করে সশস্ত্র ইসলামপন্থী গোষ্ঠী হামাস। আরও পড়ুন : পৃথিবীর প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা এক মুসলিম নারী অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে প্রায় ১৪০টি ইসরাইলি বসতি রয়েছে। যেখানে ৬ লাখের বেশি ইহুদি বাস করেন। আন্তর্জাতিক আইনে এই বসতিগুলোকে অবৈধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যদিও ইসরাইল এ দাবি মানতে নারাজ। ইসরাইলের আইনে সকল নাগরিককে সমান অধিকার দেয়ার কথা রয়েছে। ধর্ম কিংবা বর্ণের ভিত্তিতে সুযোগ সুবিধার কোনো তারতম্যের কথা লেখা নেই এতে। কিন্তু অ্যামনেস্টির রিপোর্ট মতে, এখনও ইসরাইল ফিলিস্তিনিদের ইহুদিদের থেকে ‘নিচু শ্রেণির’ বিবেচনা করে। এই পৃথকীকরণ প্রক্রিয়া পুরোপুরি পদ্ধতিগত। এর ফলে ইসরাইলের অভ্যন্তরে ও এর অধিকৃত অঞ্চলে ফিলিস্তিনিরা ইহুদিদের সমান অধিকার পাওয়া থেকে বঞ্চিত। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের উপরে নিপীড়ন ও নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে ইসরাইল।






«
Next
Newer Post
»
Previous
Older Post

No comments:

Leave a Reply